📘 শোনো হে যুবক > 📄 সবাইকে ছাড়িয়ে যান

📄 সবাইকে ছাড়িয়ে যান


উপদেশ: ৪
সবাইকে ছাড়িয়ে যান
অধিকাংশ যুবকের ধারণা হলো দ্বীনদার হওয়া, ইসলামকে আঁকড়ে ধরার অর্থ হলো, মসজিদে ই'তিকাফ করা, সর্বদা কুরআন তেলাওয়াত করা, নামায পড়া ও যিকির-আযকার করা। এই মনোভাবের ফলে তারা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। পড়াশোনাকে জীবনের নগণ্য কাজ মনে করে। কারণ, তারা মনে করে, জান্নাতের পথ হলো, শরয়ী ইলমের পথ। অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান জান্নাতের পথ নয়।
তাদের এই ধারণা স্পষ্টই ভুল ও ভ্রান্ত।
পড়ালেখায় অন্যদের ছাড়িয়ে যাওয়া ইসলামেরই বিষয়- ইসলাম ভিন্ন কোনো বিষয় নয়। ইসলাম এই পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে না। এটি ইসলামেরই একটি অঙ্গ।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও আধুনিক-আবিষ্কারের দিক থেকে বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত- এক. উন্নত বিশ্ব দুই. অনুন্নত বিশ্ব।
যে জাতির সূচনা হয়েছিলো 'ইকুরা'-এর মাধ্যমে, সে জাতি দুর্বল ও অনুন্নত জাতিতে পরিণত হবে- এ কথা মেনে নেওয়া যায় না।
এমন ছাত্রদের দেখে আমি খুব কষ্ট পাই, যারা নামায-কালাম, কুরআন তেলাওয়াত তথা ইবাদতমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে, কিন্তু শ্রেণিকক্ষে অমনোযোগী। পরীক্ষায় টেনেটুনে পাশ করলেও মাঝে মাঝে ফেল করে। বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন শেষে দেখা যায়, তার সহপাঠীরা বড় বড় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয় আর সে সবার থেকে পিছিয়ে থাকে।
এটা কি দ্বীনের শিক্ষা?! এটা কি ইসলামের শিক্ষা?! ইসলাম সম্পূর্ণ এর বিপরীত।
ইসলাম এমন এক ধর্ম, যা সর্বদা প্রত্যেক বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার আহ্বান করে। প্রত্যেক কাজে আস্থা অর্জন করতে বলে।
হে যুবক যুবতী ভাই ও বোনেরা, এই জাতির উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করলে, এ জাতির মর্যাদা উঁচু করতে চাইলে পড়ালেখায় পূর্ণ মনোযোগী হতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। যেন আপনাদের কল্যাণে জাতি এ কথা বলতে বাধ্য হয়, আমরা নিছক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষক চাই না। আমরা চাই আলেম-ডাক্তার, ধার্মিক-ইঞ্জিনিয়ার, আলেম-শিক্ষক ইত্যাদি।
মনে রাখবেন, যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আপনি এ জাতির উন্নতি কামনা করেন, তবে তা নিঃসন্দেহে ইবাদত বলে গণ্য হবে। আল্লাহ তা'আলা মুসলিম যুবসমাজকে সর্বত্র শ্রেষ্ঠত্বের আসন দান করুন। জ্ঞান- বিজ্ঞানের সকল শাখায় তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00