📄 হৃদয় নিংড়ানো উপদেশ
হে মুসলমান যুবক-যুবতী ভাই ও বোনেরা, যদি আপনাদের মাঝে দুনিয়া-আখেরাতে সফল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে থাকে, তাহলে এই আগ্রহকে দৃঢ় সংকল্পে পরিণত করতে হবে। এরপর অবিরাম কাজ করে যেতে হবে।
সফলতার পথ এত মসৃণ নয়। এ পথ তারই জন্য মসৃণ, আল্লাহ তা'আলা যার জন্য মসৃণ করে দেন। এ পথ তারই জন্য সহজ, আল্লাহ তা'আলা যার জন্য সহজ করে দেন। আল্লাহ তা'আলা সবার অন্তরের খবর রাখেন। তিনি জানেন, কারা ফেতনাবাজ, আর কারা কল্যাণকামী। আল্লাহ তা'আলা সূরা গাফেরে বলেন-
يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ. (الغافر)
'তিনি চোখের খেয়ানত ও অন্তর যা গোপন করে, তাও জানেন।[31]
যদি আপনারা সত্যিকার অর্থে এ জাতির উন্নতি চান, তাদের হারিয়ে যাওয়া গৌরব যদি ফিরিয়ে আনতে চান, যদি লাঞ্ছনা আর অবমাননাকর জীবনের ইতি ঘটাতে চান, তাহলে এখন থেকেই শুরু করুন।
আর দেরি নয়। আর কালক্ষেপণ নয়। এখনই সময়। সব বাধা পেরিয়ে আপনাদেরই আগামীর সুন্দর সফল ভবিষ্যৎ গড়ার শপথ করতে হবে। শুরু করুন। আল্লাহ তা'আলা রহমতের দ্বার খুলে দেবেন- ইনশাআল্লাহ।
এখন আমি আপনাদের অতি সংক্ষেপে দশটি উপদেশ প্রদান করব। প্রত্যেকটি উপদেশ এক একটি কিতাব হতে পারে। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। বক্ষমাণ কিতাবটি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার উপযুক্ত স্থান নয়। এগুলো নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করার আশা রইল।
টিকাঃ
* সূরা গাফের (80): ১৯
📄 শেষ কথা
আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, প্রায় সব বৃদ্ধই যৌবনকালে এই উপদেশগুলো আমলের উদ্দেশ্যে শুনতে চাইতেন। কিন্তু আজ তাদের হাতে আর সময় নেই। আজ তাদের যৌবন শেষ। আজ আপনি এসব কথা শুনছেন। এখন আপনার শোনার ও আমল করার সময় আছে। তাই বলছি, ওই দিন আসার পূর্বেই আমল করুন, যেদিন আপনি পুরোনো দিন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবেন, কিন্তু তা আর কোনোদিনও ফেরত আসবে না।
আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এমন অনেক নেয়ামত দান করেছেন, যা অন্যদের দান করেননি। আপনাকে শারীরিক শক্তি দান করেছেন, প্রখর মেধা দিয়েছেন, দৃঢ়-সংকল্প গ্রহণের তৌফিক দিয়েছেন, কোমল অন্তর এবং সুস্থ-সুন্দর অবয়র ও শারীরিক সৌম্য দান করেছেন।
আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যুগ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করেছেন। যুগকে অধঃপতন থেকে উন্নয়নের সোপানে ফিরিয়ে আনা, খারাপ থেকে ভালো পথে নিয়ে আসা ও দুর্বল থেকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব আজ আপনার।
আপনাকে আল্লাহ তা'আলা উক্ত কাজের জন্য নির্বাচন করেছেন। সুতরাং আপনি সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হবেন না। সমাজকে আপনার আদর্শে প্রভাবিত করুন। পরিবেশ-সমাজ কোনো কিছুকে আপনার পথে প্রতিবন্ধক ভাববেন না।
আল্লাহ তা'আলা আপনাকে সমাজ পরিবর্তনের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সমাজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য নয়।
আল্লাহ গোটা বিশ্বকে আপনার আদর্শে আদর্শবান করার জন্য সৃষ্টি করেছেন; আপনার পথ থেকে অন্যদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়।
আল্লাহ আপনাকে যমিনবাসীর প্রতি দয়া প্রদর্শন, তাদের কল্যাণ সাধন এবং পৃথিবী আবাসযোগ্য করার জন্য সৃষ্টি করেছেন।
কাজেই আপনি এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে অর্থহীন বিনোদন ও গল্পগুজবে সময় নষ্ট করবেন না।
আপনি হবেন আলোর মিনার। আপনাকে দেখে পথভোলা মানুষ পথ খুঁজে পাবে। আপনি হবেন সেই সুরাইয়া তারকা, যাকে দেখে মাঝ-সমুদ্রের মাঝি দিক ফিরে পাবে। আপনি হবেন সেই মহামানব, যার দ্বারা অধঃপতিত সমাজ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আপনার দ্বারা বিশ্বমানবতা দুনিয়া আখেরাতের সফলতা ফিরে পাবে।
যখন খুব অস্থিরতায় ভুগবেন, নিজেকে দুর্বল মনে হবে, সহায় সম্বলহীন মনে হবে, তখন মনে করবেন, আল্লাহ রব্বুল আলামীনই আপনার জন্য যথেষ্ট।[46] তিনি নিজ কুদরতে ও অন্য মুসলমানদের মাধ্যমে আপনাকে শক্তিশালী করবেন। আপনি শুধু আল্লাহর বিধানকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং মুসলমানদের পাশে থাকুন।
আল্লাহর কাজ করুন। আর দৃষ্টি রাখুন জান্নাতের দিকে। আর আপনার সামনে পথ খুলে গেলে গভীর রজনীর অশ্রু বিসর্জনে আমি অধমকে ভুলবেন না। হয়তো আপনার ও আপনাদের দু'আয় আল্লাহ আমাকে রহম করবেন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের নেয়ামত দান করবেন।
এতক্ষণ যা বললাম, তা কখনো ভুলে যাবেন না। আমি আমার বিষয় আল্লাহর হাতে সোপর্দ করছি। আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন।
সমাপ্ত
টিকাঃ
46. حسبنا الله ونعم الوكيل، نعم المولى ونعم النصير