📘 শোনো হে যুবক > 📄 তথ্যপ্রযুক্তি ও অশুভ গণমাধ্যম

📄 তথ্যপ্রযুক্তি ও অশুভ গণমাধ্যম


কারণ: ৪
তথ্যপ্রযুক্তি ও অশুভ গণমাধ্যম
তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান এ যুগ অনেক গুরুতর। যদি জাতির মানসিকতা পরিবর্তনের দুটি দিক থেকে থাকে, তাহলে তার একটি হলো ইসলামী প্রতিপালন। আর দ্বিতীয়টি হলো তথ্যপ্রযুক্তি ও গণমাধ্যম।
তথ্যপ্রযুক্তি সরাসরি জাতির দুয়ারে বার্তা পৌঁছে দেয়। বিশেষত যুবসমাজ এর মাধ্যমে খুব বেশি প্রভাবিত হয়। আমি পশ্চিমা বা দূর প্রাচ্যের তথ্যপ্রযুক্তির কথা বলছি না। আমি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর তথ্যপ্রযুক্তির কথা বলছি।
আহ, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর তথ্যপ্রযুক্তির কী দুরবস্থা!!
মুসলিম দেশগুলোতে অঢেল অর্থ-সম্পদ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বেহায়াপনা-অশ্লীলতা ও চরিত্র-বিধ্বংসী কাজে ব্যয় করা হয়।
একদল মানুষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মুসলিম যুবসমাজের চরিত্র বিনষ্টকরণের পেছনে অঢেল সম্পদ ব্যয় করছে। এদের কারণে আজ টেলিভিশন, ভিডিও ক্লিপ, চলচ্চিত্র ইত্যাদি ঈমানবিধ্বংসী বস্তুর আবিষ্কার হয়েছে। যা একসময় আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না যে, আমাদের মাঝে এগুলোর অনুপ্রবেশ ঘটবে। সিনেমা, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট তো দূরের কথা।
আরেক দল মানুষ ইসলাম, মুসলমান ও ধর্মপ্রিয় মানুষদের নিয়ে ঠাট্টা-উপহাসে লিপ্ত। তারা মজবুতভাবে দ্বীন পালনকারীদের সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হিসেবে প্রচার করে। তারা বিশ্ববাসীর সামনে মুসলমানদেরকে জঙ্গি হিসেবে পরিচিত করে সবাইকে আতঙ্কিত করে রাখে- ফলে মুসলিম নাম শুনলেই অনেকে সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।
তৃতীয় আরেক দল ইসলামকে স্বচ্ছ শান্তির ধর্ম হিসেবে চিত্রায়িত করতে গিয়ে এ কথা বোঝায় যে, ইসলামে যুদ্ধ-জিহাদ প্রতিবাদ বলতে কিছুই নেই। যেন মুসলমানদের কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের সম্মানহানি হলে, অধিকার ক্ষুণ্ণ হলেও যেন তারা চুপচাপ নীরবতা পালন করবে।
চতুর্থ আরেকদল ইসলামের সোনালি ইতিহাসকে বিকৃত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করে। তারা বলে, ইসলাম কেবল বিপদাপদ ও কষ্ট-ক্লেশের ধর্ম। মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনো ঘটনা নেই, যা নিয়ে মুসলমানরা গর্ব করতে পারে। তারা কোনো মুসলমানের প্রশংসা করতে চাইলে একদিকে প্রশংসা করে, অন্যদিকে নিন্দা করে। রাজাকে সম্মান করলে প্রজাদের কষ্ট দেয়।
আরেকদল লোক মুসলিম নেতার সকল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে। আর ভেতরে ভেতরে যথাসাধ্য (বরং সাধ্যাতীত) নেফাকী করে। যাতে নেতা স্বস্থানে নিজেকে সঠিক জ্ঞান করে। আর প্রজা-সাধারণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখে।
এমন অসংখ্য চক্রান্তের কথা আপনি সংবাদ-মাধ্যমগুলোতে হরহামেশা দেখতে পাবেন। এদের সবার ইচ্ছা এক ও অভিন্ন- যেকোনো উপায়ে ইসলামকে ধ্বংস করা। যুবসমাজকে ইসলামবিদ্বেষী করে গড়ে তোলা। তাদের অন্তরে হতাশার বাণী নিক্ষেপ করা। যুবসমাজের মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলা। লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!!
তবে ইসলামবিদ্বেষীদের শত চক্রান্ত সত্ত্বেও তাদের ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যুবসমাজ ও অভিভাবকমণ্ডলীকে সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
এই ষড়যন্ত্র পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত, এমনকি জন্মের বহু পূর্ব থেকে আজ অবধি তারা ইসলাম ও মুসলিম মহামনীষীদের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচার চালিয়ে ইসলামকে কলুষিত করার প্রয়াস চালিয়েছে। তদুপরি এ সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম যুবসমাজ যুগে যুগে সফল মোকাবেলা করেছে। তারা এদের ষড়যন্ত্রে প্রভাবিত হয়নি বরং উল্টো তাদের ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালিয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যার তুলনায় যদিও তারা সংখ্যায় খুবই নগণ্য।
যদি এ সকল ফেতনা ও অপপ্রচার ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য পরীক্ষা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা জানেন, কারা এই ফেতনায় নিপতিত হয়ে ধ্বংস হবে, আর কারা এর সফল প্রতিবাদ করবে।
যুবসমাজের উচিত, আল্লাহ ও তার কিতাব কুরআনকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা এবং যাবতীয় ঈমানবিধ্বংসী বিষয়াদি পরিত্যাগ করা। পারলে এগুলোর বিরোধিতা করা। আমি বলছি না, তথ্যপ্রযুক্তিকে পরিত্যাগ করতে হবে। বলছি, এর ক্ষতিকারক দিক থেকে নিজেদের বাঁচাতে হবে। আমাদের কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হবে। প্রযুক্তির মোকাবেলা প্রযুক্তি দিয়ে করতে হবে। এসএমএস, মেইল ব্যবহারে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। সংবাদপত্র প্রকাশেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ইন্টারনেট যদি কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে কোনো বাধা নেই। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক ব্যাংক পরিচালনা করা সম্ভব হলে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সাবধান যেন ঈমান-আমলের কোনো ক্ষতি না হয়!! আর হ্যাঁ এসবের কারণে কেউ যেন দুনিয়ালোভী না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।
শুধু এভাবেই নয়, বিধর্মী ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা আরও অনেক উপায়ে করা যেতে পারে। তবে এ কথা বাস্তব, এসবের পেছনে পড়ে কেউ যদি বিপথগামী হয়, তাহলে কেয়ামতের দিন এই বলে রেহাই পাবে না যে, গুনাহ খুব সহজ ছিল, তাই করে ফেলেছি।
হে মুসলিম যুবসমাজ, উল্লিখিত চারটি কারণে আজ যুবসমাজ বিপথগামী-
১. ইসলামী প্রতিপালননীতি বর্জন
২. যোগ্য আদর্শবান ব্যক্তির অভাব
৩. হতাশা
৪. তথ্যপ্রযুক্তি ও অশুভ মিডিয়া।
এই চারটি কারণে আজ যুবসমাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে এতকিছুর পরও যদি মুসলমানরা আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে তাহলে এগুলো তাদের মাঝে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারবে না।
إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا. (الحج)
'নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের রক্ষা করেন।'
আল্লাহ রব্বুল আলামীন মুসলিম যুবসমাজকে সৎপথে চলার এবং সর্বদা কল্যাণকর কাজের তৌফিক দান করুন। আমীন।

টিকাঃ
সূরা হজ্ব (২২): ৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00