📘 শোনো হে যুবক > 📄 কিশোর যায়েদ ইবনে সাবেত রা.

📄 কিশোর যায়েদ ইবনে সাবেত রা.


পড়ে দেখুন, মহান শিশু হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. এর স্বপ্নের গল্প, যার বয়স ছিল মাত্র তেরো। তখনো তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হননি। অবয়ব আকৃতিতে ছিলেন অতি ক্ষুদ্রকায়।
কিন্তু সুবহানাল্লাহ! ক্ষুদ্রকায় ও অল্প বয়সের হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর চিন্তায় তিনি সর্বদা চিন্তিত থাকতেন।
একদিনের ঘটনা- ছোট্ট শিশু যায়েদ হঠাৎ একদিন শুনলেন মুসলিম বাহিনী মুশরিকদের মুখোমুখি হবার উদ্দেশ্যে বদর অভিমুখে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সংবাদ শুনে শিশু যায়েদের ছোট্ট হৃদয়ে ধর্মীয় চেতনাবোধ তীব্রাকার ধারণ করে। তিনি তলোয়ার হাতে তুলে নিলেন। তলোয়ারটি আকারে তার চেয়েও লম্বা ছিল!! মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদানের অভিপ্রায়ে রওনা হলো ছোট্ট এই শিশুটি।
আন্তরিকতার সাথেই সে জিহাদ করতে প্রস্তুত হয়েছিলো!! তার বুদ্ধিমত্তা জিহাদকে ধারণ করেছিল। সেই সাথে এ পথে শত্রুর মুখোমুখি হতে হবে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সাহায্য করতে হবে। কষ্ট, পরিশ্রম করতে ও যখম হতে হবে। এ কথা জেনেই সে বেরিয়েছিল।
উচ্চাভিলাষী ছোট্ট শিশুটি মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য মুজাহিদদের পাশাপাশি তাকেও অভ্যর্থনা জানান। কিন্তু তার শারীরিক গঠন ক্ষুদ্রাকায় ও অল্প বয়স দেখে রাসুল সা. তার ক্ষতির আশঙ্কা করেন। তাকে ফিরিয়ে দেন। বাহিনীতে যোগদানের অনুমতি তাকে দিলেন না।
এটা ছিল হযরত যায়েদ ইবনে সাবেতের জন্য বাস্তবেই বড় কষ্টের। তিনি তা মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি তার মা 'আন নাওয়ার বিনতে মালিক' রা.-এর কাছে গিয়ে যুদ্ধে যোগদান করতে না পারার দুঃখে কাঁদতে শুরু করেন। ক্রন্দনরত অবস্থায় মায়ের কাছে এসে বলতে থাকেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে অংশ নিতে বারণ করেছেন। কিন্তু বুদ্ধিমতী দয়ালু অভিভাবক মা সন্তান যায়েদ ইবনে সাবেতের ক্ষমতা ও অনুভূতির কথা তো জানেন। তিনি তাকে বললেন, চিন্তা কোরো না বাবা! তুমি অন্য পন্থায় ইসলামের খেদমত করতে পার। তলোয়ারে জিহাদ করতে না পারো কলম ও ভাষাজ্ঞান দিয়ে তো জিহাদ করতে পারো।
দয়ালু মা আননাওয়ার বিনতে মালেক সন্তান যায়েদের দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে পরিবর্তন ঘটান- যেমন আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করি- যে, আমলের ক্ষেত্র অনেক সুপ্রশস্ত। তা ছাড়া সবার ক্ষমতা ও সামর্থ্য একরকম নয়। একেকজনের ক্ষমতা ও সামর্থ্য একেক রকম হয়ে থাকে। সামর্থ্য ও ক্ষমতায় মানুষ বৈচিত্র্যময়। কেউ একটি কাজ করতে না পারলে তার জন্য অন্যত্র সুযোগ আছে। প্রত্যেকের জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেওয়া হয়, যে কাজের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুদ্ধিমতী মা আবেগপ্রবণ ছেলেকে বললেন, তুমি তো লেখাপড়ায় খুব ভালো। আজকাল লেখাপড়ায় ভালো ছেলে পাওয়া যায় না বললেই চলে। তুমি তো অনেকগুলো সূরা ভালোভাবে মুখস্থ করেছ। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবো। আমরা দেখবো, কীভাবে এই প্রতিভাকে ইসলামের খেদমতে ব্যয় করা যায়?
দেখুন চিন্তাশক্তির প্রখরতা, চেষ্টার একনিষ্ঠতা ও দৃষ্টির গভীরতা!!
ঠিকই কয়েকদিন পর সে তার গোত্রের কয়েকজন মানুষের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন। তাদের সবার চাওয়া কোনো না-কোনোভাবে যায়েদকে ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে নিয়োজিত করা।
তারা বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমাদের আদরের সন্তান যায়েদ ইবনে সাবেত কুরআনের সতেরোটি সূরা মুখস্থ করেছে। সে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে, ঠিক যেভাবে কুরআন আপনার অন্তরে নাযিল হয়েছে। এ ছাড়াও সে খুব মেধাবী, ভালো লিখতে-পড়তে জানে। তার খুব ইচ্ছা, আপনার সান্নিধ্যে থাকা ও নৈকট্য লাভ করা। আপনি চাইলে তার মুখ থেকেই শুনুন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রা. এর দিকে মনোনিবেশ করলেন। তার মুখস্থশক্তি ও প্রতিভার পরীক্ষা নিলেন। মুখস্থশক্তির ঊর্ধ্বে তার যে প্রতিভা সেটার মূল্যায়ন করলেন। তার বয়সকে ছোট মনে করলেন না। তাকে ছোট চোখেও দেখলেন না; বরং তার কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করলেন, যা বর্তমান যুগে তাদের কাছেই প্রত্যাশা করা হয় যারা শিক্ষা-দীক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন- হে যায়েদ, তুমি আমার জন্য ইহুদীদের ভাষা শেখো। কারণ, আমি যা বলি (ঠিকমত তারা তা লিখছে কি না?) তাতে আমি তাদের বিশ্বাস করতে পারি না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রা. কে একটি অপরিচিত ভাষা- তৎকালে যার রাজনৈতিক প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য- শেখার নির্দেশ দিলেন। কারণ, মুসলমান ও ইহুদীদের মধ্যকার যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এর প্রয়োজন ছিল সীমাহীন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বড় দায়িত্ব যায়েদ রা. এর কাঁধে অর্পণ করলেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন তেরো বছরের বালক!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়। যায়েদ রা. খুব অল্প সময়ে হিব্রু ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি হিব্রু ভাষায় অনর্গল কথা বলা ও লেখার যোগ্যতা অর্জন করেন।
কিছুদিন পর তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরিয়াক ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। তৎকালে সিরিয়াক ভাষা ছিল অতি উচ্চাঙ্গের একটি ভাষা। যায়েদ রা. এই ভাষায়ও পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এভাবেই যায়েদ রা. মুসলিম রাষ্ট্রের দোভাষী ও মুখপাত্রে পরিণত হন। মুসলিম অমুসলিম দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চিঠিপত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে স্থায়ী অংশগ্রহণকারীতে পরিণত হন।
আর এর সবকিছুই হয়েছে মাত্র তেরো বছর বয়সে।
পাঠক, দেখেছেন, যুবকের সম্ভাব্যতা!?
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশ্বস্ত মনে করেন। তার প্রতি আস্থা রাখেন। চিঠিপত্র, কূটনৈতিক আলোচনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে আমানতদার মনে করেন। ঐশী বানী সংরক্ষণে আস্থাভাজন মনে করে তাকে ওহী লিপিবদ্ধকরণের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর থেকে একসাথে অনেক আয়াত নাযিল হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদকে রা. ডেকে বলতেন, যায়েদ, লেখো। আর যায়েদ রা. তা লিখে রাখতেন। এভাবে তিনি ওহী লিপিবদ্ধকারী সাহাবীতে পরিণত হন।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। মুসলমানগণ ভয়াবহ বিপদ আঁচ করলেন। যখন তারা কুরআনের কোনো একটি আয়াত বা একাধিক আয়াত হারিয়ে ফেলতেন, তখন তাদের পেরেশানির কোনো অন্ত থাকত না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় কুরআন একটি কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে তারা কুরআনের কিয়দংশ বা কমপক্ষে নাযিলের বিন্যাস হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করলেন।
হযরত ওমর রা. খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবু বকর রা. কে কুরআন একটি কিতাবাকারে সংকলনের পরামর্শ দেন। দীর্ঘ পর্যালোচনা ও পরামর্শের পর হযরত আবু বকর রা. হযরত ওমর রা. এর পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু একটি বড় সমস্যা থেকেই যায়। সেটি হলো এই মহান দায়িত্ব কে পালন করবে? আবু বকর রা. যায়েদ ইবনে সাবেতের চেয়ে এ কাজের অধিক যোগ্য কাউকে মনে করলেন না। কারণ, এই কাজটি অত্যন্ত বিপজ্জনক দায়িত্ব। আর যায়েদ রা. একসাথে ভাষাজ্ঞানে পণ্ডিত ও ওহী লিপিবদ্ধকারী। তিনি কুরআনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। তিনি জানেন, কোন আয়াত কোথায় কীভাবে কোন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। তিনি কুরআন নাযিলের বিন্যাস জানেন। পূর্বাপর আয়াতের সঙ্গে যে কোন আয়াতের মিল সম্পর্কে তার জ্ঞান পর্যাপ্ত। এসব গুণাবলির বিচারে খলীফাতুল মুসলিমীন তাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন।
এভাবেই হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. মুসলিম উম্মাহর এই মহান খেদমতের আঞ্জামদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন। অথচ তখন তার বয়স ছিল মাত্র একুশ বা বাইশ বছর। অর্থাৎ বর্তমান যুগের ভার্সিটির লেখাপড়া এখনো শেষ হয়নি এমন ছাত্রের সময়বয়সী। এই বয়সে তার কাঁধে যে গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা একদল বিজ্ঞ পণ্ডিত ও শিক্ষকদের কাঁধে অর্পিত হওয়ার কথা। তা ছাড়া তখনো বিশিষ্ট বয়োবৃদ্ধ সাহাবীদের সুবিশাল জামাত জীবিত ছিলেন। তথাপি যুবক ও ছোট হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার কারণে তাকে এই গুরুগম্ভীর কাজে অগ্রগণ্য মনে করা হয়েছে।
হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. বলেন- فوالله لو كلفوني نقل جبل من الجبال لكان أهْوَنُ علي مما أمروني به من جمع القرآن. (رواه الإمام أحمد)
'আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে কোনো পাহাড় স্থানান্তরের নির্দেশ দিতো, তা আমার জন্য কুরআন সংকলনের চেয়ে অধিক সহজ মনে হতো।'[7]
এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়েও হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. সফলতার স্বাক্ষর রাখেন, যা করতে একপ্রজন্ম আলেমের প্রয়োজন। সত্যিই যুবকের ক্ষমতা ও প্রতিভা অকল্পনীয়!!

টিকাঃ
৭. মুসনাদে আহমদ: ২১১৩৫

📘 শোনো হে যুবক > 📄 হযরত মু‘আয ইবনে আমর ইবনে জামুহ রা. ও মু‘আওয়াজ ইবনে আফরা রা. এর বীরত্ব

📄 হযরত মু‘আয ইবনে আমর ইবনে জামুহ রা. ও মু‘আওয়াজ ইবনে আফরা রা. এর বীরত্ব


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 শোনো হে যুবক > 📄 উসামা ইবনে যায়েদ রা.

📄 উসামা ইবনে যায়েদ রা.


ইসলামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের আরেক যুবকের বীরত্বের গল্প শুনুন...
আমরা অধিকাংশই তার মহান ব্যক্তিত্বের কথা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার বিজ্ঞতাসূলভ নেতৃত্ব দেখে জানতে পেরেছি। তবে এ যুদ্ধেই সর্বপ্রথম তার বীরত্ব প্রকাশ পায়নি। ইতিহাসের পাতায় তার বীরত্বগাথা এরও পূর্বে অঙ্কিত হয়েছে। তিনি হলেন হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা.।
রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পূর্বে তিনি অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইসলামী ইতিহাসে তার অবদান স্বীকৃত ও অনস্বীকার্য।
উদাহরণস্বরূপ সপ্তম হিজরীতে সংঘটিত সারিয়ায়ে গালেব ইবনে আবদুল্লাহ রা.। তখন হযরত উসামা রা.-এর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। তা ছাড়া মক্কা বিজয়, হুনাইনের যুদ্ধসহ অন্যান্য যুদ্ধ তো আছেই।
হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. ছিলেন সর্বজনবরিত ও শ্রদ্ধেয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সাহাবায়ে কেরাম যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে ভয় পেতেন, অথবা কোন কিছু চাইতে ভয় পেতেন, তখন হযরত উসামা রা. কে সে বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আলোচনা করার আবেদন করতেন। অথচ তিনি বয়সের দিক থেকে ছিলেন অনেক ছোট। সে সময় তার বয়স ছিল সর্বোচ্চ ১৫ বছর। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার অবস্থান ও জ্ঞান-গরিমার কারণে এ ধরনের বিষয়ে তাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো।
শুধু এ কারণেই নয়, বরং এর চাইতে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে তাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। সেটি কী?
হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. পঞ্চম হিজরীতে সংঘটিত মুরাইসি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মর্মস্পর্শী ইফকের ঘটনা (মা আয়েশা রা. সম্পর্কে অপবাদ রটানোর ঘটনা।) এই যুদ্ধে সংঘটিত হয়।
একদল নিন্দুক মা আয়েশা রা. সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ রটায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন? কঠিন সময় পার করছিলেন তিনি। সরাসরি ওহী নাযিল হতেও দেরি হচ্ছিল (একমাস পর ওহী নাযিল হয়)। চারদিকে যে গুজব ছড়ছিল তাতে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন, পরিস্থিতি একেবারেই সঙ্কটজনক হয়ে পড়ে। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জ্ঞানী-গুণী সাহাবাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে চাইলেন। সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি কতিপয় জ্ঞানী-গুণী সাহাবীর কাছে এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য পরামর্শ গ্রহণ করবেন। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কার কাছে পরামর্শ চাইবেন? তিনি মাত্র দু'জনের কাছে পরামর্শ চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
একজন হলেন হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা.
অন্যজন হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রা.।
সে সময় হযরত উসামা রা. এর বয়স ছিল মাত্র বারো বছর!
এ বয়সের বালকের পক্ষে তো ঘটনাটি বোঝারই কথা না- কেউ কেউ এমন ধারণাও করতে পারেন। ঘটনার বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ও নেপথ্য কি হতে পরে- তার বোঝার কথা না। এ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান তো অনেক কঠিন ও দুরূহ বিষয়!! কিন্তু জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারো বছরের ছোট্ট বালক উসামার মাঝে সেই যোগ্যতা ও প্রতিভা অবলোকন করেন, যার মাধ্যমে সে এমন কঠিন বিষয়ে সুচিন্তিত পরামর্শ প্রদান করতে সক্ষম।
ভেবে দেখুন, পরামর্শপ্রার্থী কে? সৃষ্টির সেরা, দুনিয়া-আখেরাতের সরদার, মানবজাতির সেরা জ্ঞানী, নিষ্পাপ জনাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এটি হযরত উসামা রা. এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। বরং এটি বিশ্বের যুব সমাজের শ্রেষ্ঠতম গুণ। কোনো একজন যুবকের চিন্তা-ফিকির ও বিচার-বুদ্ধির জগতে এই উঁচু স্তরে উপনীত হওয়া গোটা যুবসমাজের জন্য বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করে দেয়, তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও শক্তির বিকাশে সুবিধা গ্রহণের পথ দেখায়। আল্লাহপ্রদত্ত গুণাবলির ওপর পড়ে থাকা আস্তরণ সরিয়ে দেয়।
আলোচিত বিষয়টি ছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পূর্বে এক আশ্চর্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর তা হলো, উসামা ইবনে যায়েদ রা. কে সেনাপতি বানিয়ে সিরিয়াতে রোমানদের বিরুদ্ধে বিশাল এক মুসলিম বাহিনী প্রেরণ করেন। তখন হযরত উসামার বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছর। বাস্তবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই সিদ্ধান্ত ছিল আশ্চর্যকর! এ বিষয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা দরকার।
উসামা ইবনে যায়েদ রা. এই যুদ্ধে একদল বালককে পরিচালনা করেননি কিংবা একদল সাধারণ লোক যাদের রণকৌশল জানা নেই তাদের নেতৃত্ব দেননি; তিনি এই যুদ্ধে এক বিশাল আকৃতির রণশাস্ত্রে পারদর্শী শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীকে পরিচালনা করেছেন। যারা সার্বিক দিক থেকে ছিলেন অগ্রগামী। যুদ্ধ, সামরিক-পরিকল্পনা, ঈমান ও ইসলামে অগ্রগামী, বিচক্ষণতা ও মান-মর্যাদার দিক থেকে তারা তৎকালের শ্রেষ্ঠ দল ছিলেন। সেই দলকে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন আঠারো বছর বয়সের নওজোয়ান হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা.।
আসুন বিষয়টা নিয়ে একটু গভীর পর্যালোচনা করি। তখন কি মদিনায় হযরত উসামা রা. এর চেয়ে অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন কোন নেতা ছিলেন না?
উত্তর সুস্পষ্ট! নিশ্চয়ই তখন মদিনা মুনাওয়ারায় এমন বহু মানুষ ছিলেন যারা হযরত উসামার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞ। আবু উবাইদা ইবনুল জাব্বাহ, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, খালেদ ইবনে ওয়ালিদ, কা'কা' ইবনে আমর, শুরাহবিল ইবনে হাসানা, মুসান্না ইবনে হারেসা, আমর ইবনে আস প্রমুখ বিখ্যাত সাহাবায়ে কেরাম তখন মদিনায় ছিলেন।
তাহলে কেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বাদ দিয়ে যুদ্ধের পতাকা হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. এর হাতে তুলে দিলেন? কেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় সাহাবীর ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও বিশাল বাহিনীর সেনাপতি হিসেবে হযরত উসামাকে নির্বাচন করলেন?!
ইশারা সুস্পষ্ট। উদ্দেশ্য মহৎ।
যুবসমাজের ক্ষমতা, শক্তি, সামর্থ্য, মেধা ও প্রতিভাকে উম্মাহর সামনে তুলে ধরার মহৎ লক্ষ্যেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সিদ্ধান্ত নেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিপ্রায় ছিল এ কথা বোঝানো যে, একজন আঠারো বছরের যুবকের মাঝেও একদল বিচক্ষণ, বিজ্ঞ, বীর বাহাদুর পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা বিদ্যমান থাকে।
এর মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নতুন প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তোলার এবং যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করার নীতিমালা বর্ণনা করেছেন। যদি প্রধান সেনাপতি জীবনভর সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন, অন্যদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ না দেন, তবে তা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য মহা ক্ষতির কারণ। পক্ষান্তরে যদি কেউ যুবসমাজকে ছোটবেলা থেকেই প্রশাসন ও নেতৃত্ব বিষয়ে শিক্ষাদান করে, তাহলে যুবসমাজের জীবন হবে স্বর্ণোজ্জ্বল, পূর্ববর্তীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই যুবসমাজ হবে প্রতিষ্ঠিত ও অপ্রতিরোধ্য। শুধু বর্তমান নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও হবে তারা কল্যাণকর।
উল্লেখ্য, হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম বাহিনী কোন শরীরচর্চা, আনন্দ-বিনোদন, কিংবা স্বাভাবিক কোনো যুদ্ধ জয় করতে যাচ্ছে না, বরং তারা তৎকালীন পৃথিবীর পরাশক্তি রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বের হয়েছে। রোমানরা তখন কূটনীতিতেও বিশ্বসেরা জাতি ছিল। আর যাদের ছিল স্বর্ণোজ্জ্বল অতীত ও অসংখ্য যুদ্ধজয়ের অভিজ্ঞতা।
আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন-
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাতে যুদ্ধের পতাকা তুলে দিয়ে মুসলিম জাতিকে কোনো অবস্থাতেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালোভাবে জানতেন, এই যুবক পূর্ণ সফলতার সাথে এই গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিতে সক্ষম হবে। উপরন্তু কতিপয় সাহাবী তার হাতে পতাকা তুলে দেওয়াতে কিছুটা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করার পরও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমাদের অন্তরে উক্ত বিষয়টি গেঁথে দেয়। যে বিষয়টি বহু গুণীজন মুরব্বিদের কাছে অস্পষ্ট থাকে। তা হলো 'যুবসমাজের ক্ষমতা অপরিসীম'।
যুবক উসামা ইবনে যায়েদ রা. মাত্র কয়েক বছরে নেতৃত্ব ও পরিচালনাশাস্ত্র, যুদ্ধ ও রণশাস্ত্র এবং ফিকাহশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তাই তো তিনি এই মহান গুরুদায়িত্ব সফলভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়েছেন।
পাঠকবৃন্দ! হযরত উসামা রা. বর্তমান যুবসমাজের ন্যায় রাজকীয় জীবনযাপন করতেন? তাও না। তিনি আজকের যুবক সম্প্রদায়ের মতো এত উন্নত পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করেননি। তিনি বর্তমান যুবসমাজের মতো এত উন্নত জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন না।
তিনি ছিলেন সহজ সরল প্রকৃতির। সাধারণ বাবার একজন সাধারণ সন্তান। তার বাবা ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কৃতদাস যায়েদ ইবনে হারেসা রা.। যিনি বেচাকেনা হতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বাধীন করেছিলেন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, উসামা রা. ছিলেন সহায়-সম্বলহীন অসহায়-দরিদ্র। তিনি কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তি, রাজা-বাদশা বা আমির-উমারার আদরের সন্তান ছিলেন না।
উসামা সুঠাম সুদর্শন যুবকও ছিলেন না। না চেহারা-অবয়ব, না শারীরিক গঠন-কোনো দিক থেকেই তিনি সুদর্শন ছিলেন না। এতে এ কথা সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, প্রকৃত সফলতা বংশ, সম্পদ বা শারীরিক অবয়বে নিহিত নয়; বরং তা নিহিত থাকে দ্বীন-ধর্ম, জ্ঞান-গরিমা, যোগ্যতা ও প্রতিভার মাঝে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসামার শানে যথাযথ বলেছেন- যা প্রত্যেক মুসলিম যুবকের জন্য গর্বের বস্তু। ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেন-
أن رسول الله (ص) بعث بعثا وأمر عليهم أسامة بن زيد فطعن الناس في إمارته فقام رسول الله (ص) فقال : إن تطعنوا في إمارته ، فقد كنتم تطعنون في إمارة أبيه من قبل وأيم الله إن كان لخليقاً للإمارة وإن كان لمن أحب الناس إلى وإن هذا لمن أحب الناس إلي بعده. (متفق عليه)
'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল সৈন্য পাঠালেন। উসামা ইবনে যায়েদকে তাদের সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। কতিপয় লোক তার নেতৃত্বকে অস্বীকার করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন- 'যদি তোমরা তার নেতৃত্বে ছিদ্রান্বেষণ করো, তবে মনে রাখবে তোমরা ইতিপূর্বে তার বাবার নেতৃত্বেও ছিদ্রান্বেষণ করেছিলে! আল্লাহর শপথ! যদি সে বাস্তবে নেতৃত্বের যোগ্য হয়ে থাকে, তাহলে সে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।'[8]
আহ! যুবসমাজ কত বেশি মর্যাদাবান! যদি তারা বুঝত! আহ! সমাজ ও জাতি উন্নতি-অগ্রগতির চরম শিখরে উত্তীর্ণ হতো যদি যুবসমাজ তাদের সাধ্যমতো প্রচেষ্টা করত এবং সাধ্যমতো উত্তম কাজে নিজেদের নিয়োজিত করত। হযরত উসামা ইবনে যায়েদ রা. এর মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে বহু উপদেশ।
আমার মন চাচ্ছে, ইসলামের স্বর্ণযুগের যুবসমাজের অবদান ও কীর্তি সবিস্তারে আলোচনা করি। কিন্তু এতে আলোচনার কলেবর দীর্ঘ হয়ে যাবে। তা ছাড়া যুবসমাজের যাবতীয় কীর্তি সবিস্তারে আলোচনা করাও এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য নয়। এখানে আমি উদাহরণস্বরূপ কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেছি মাত্র। আগ্রহী পাঠকদের প্রতি বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থসমূহ হতে মুসআব ইবনে উমাইর, সামুরা ইবনে জুনদুব, জা'ফর ইবনে আবু তালেব, আস'আদ ইবনে যুরারা, মু'আজ ইবনে জাবাল, সা'দ ইবনে মু'আজ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর, আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস, বারা ইবনে আজেব, যায়েদ ইবনে আরকাম প্রমুখ সাহাবা আজমাঈন [রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আলাইহিম আজমাঈন]-এর জীবনী পাঠের আবেদন রইল। আল্লাহ তা'আলা তাদের মতো যুবক-শ্রেণি যুগে যুগে সৃষ্টি করুন- আমীন।

টিকাঃ
৮. বুখারী: ৪১৯৯

📘 শোনো হে যুবক > 📄 কেন এই ব্যবধান?

📄 কেন এই ব্যবধান?


একটু বিরতি নিয়ে আত্মজিজ্ঞাসা করা দরকার। গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।
বর্তমান যুবসমাজ ও পূর্বেকার যুবসমাজের মাঝে কেন এই বিশাল ব্যবধান বিরাজমান? কেন তাদের সম্ভাবনা, শক্তি ও সৃজনের মাঝে বিপুল ফারাক? আজকের যুবসমাজ কোন আদর্শে আদর্শবান? আর তাদের কোন আদর্শে আদর্শবান হওয়া কাম্য ছিল?
জাতির ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতার মাঝে কেন আজ এত ব্যবধান? এ কথা নিশ্চিত, শুধু যুবসমাজের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। ভুল শুধু যুবক- শ্রেণিরই নয়, বরং আজকের সমাজের এই অধঃপতন সর্বশ্রেণির সমন্বিত ভুলের মাশুল। এ এক মহাবিপর্যয়। এতো মুসলিম উম্মাহর অধঃপতন। এই বিপর্যয় ও অধঃপতনই আজ আমাদের এই অবস্থার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ফলে বর্তমান যুবসমাজ ও তৎকালীন যুবসমাজের মাঝে বিরাট ব্যবধান বিরাজ করছে।
দীর্ঘ অধ্যয়ন ও গবেষণার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, এই অধঃপতনের অনেক কারণ রয়েছে। এর জন্য প্রয়োজন আরো গভীর গবেষণা ও পর্যালোচনা। প্রয়োজন নির্বিঘ্ন প্রচেষ্টা ও একনিষ্ঠ সাধনা এবং এই অবস্থা থেকে উত্তরণের বাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। অন্যথায় নির্ঘাত সীমাহীন দুঃখ ও অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। যে জাতির যুবক-শ্রেণি ধ্বংসের কবলে পতিত হয়েছে, সে জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।
তাই আমরা অকার্যকর চিন্তা-ভাবনা ও অনর্থক গল্পগুজবে সময় না কাটিয়ে একটি সমাধানমূলক কার্যকরী আলোচনার অবতারণা করার প্রচেষ্টা করছি, যার ফলাফল হবে স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী এবং যা দুই প্রান্তের যুবসমাজের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনবে, শুধু তা-ই নয়, বরং চিরতরে এই ব্যবধান মিটিয়ে দেবে- ইনশাআল্লাহ।
এ পর্যায়ে আমি কতিপয় কারণ ও তার প্রতিকার উল্লেখ করছি। আমাদের উচিত, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা এবং তা বাস্তবায়নে সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00