📄 নওজোয়ান আরকাম ইবনে আবিল আরকাম মাখযুমী রা. এর কীর্তি
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আরকাম ইবনে আবিল আরকাম আলমাখযুমী রা.। যার নামের মাঝে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রয়েছে বহু উপদেশ। যিনি মক্কায় নিজ বাড়িতে পূর্ণ তেরো বছর ইসলামী দাওয়াতের স্থান দিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন মাখযুম গোত্রের সদস্য। হাশেম গোত্রের সঙ্গে যাদের বিরোধিতা সর্বদা লেগেই থাকত। সেই হাশেমী গোত্রের নবীকে তিনি নিজ বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এতে তিনি স্বগোত্র ও সাথী-সঙ্গীদের পক্ষ থেকে চরম কষ্ট সহ্য করেছিলেন। ভুলে গেলে চলবে না, মাখযুম গোত্রের সর্দার ছিল আবু জেহেল। মক্কায় যার নির্মমতা-নিষ্ঠুরতা ও অহংকারের কথা কারও অজানা ছিলনা। সে হলো মুসলিম জাতির ফেরাউন। যদি তার গোত্রের কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তার সাহাবীদেরকে তার ঘরে আসতে দেখত, তাহলে তার কেয়ামত ঘটে যেত। তার ওপর দিয়ে বয়ে যেত অত্যাচারের স্টিম রোলার। হযরত যায়েদ আরকাম ইবনে আবিল আরকাম রা. ইসলামের খাতিরে এই বিপদকে গ্রহণ করেছেন। নিজেকে উৎস্বর্গ করেছেন।
জানেন ইসলামগ্রহণের সময় এই মহান সাহাবীর বয়স কত ছিল? মাত্র ষোলো বছর!! কল্পনা করা যায়?!
📄 কিশোর আলী ইবনে আবু তালেব রা.
পাঠক, আপনি কি জানেন হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রা. কে? তিনি সেই শিশু যার বয়স ছিল দশ বছর। মাত্র দশ বছর!! এই বয়সেই তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাতায়াত করতেন। কুরআনের বাণী শুনতেন। সুবহানাল্লাহ!!
এতে চিন্তার বিরাট খোরাক লুকিয়ে আছে। একটু চিন্তা করে দেখেছেন কি? দেখুন মাত্র দশ বছরের শিশু, যার শরীয়তের বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা নেই, সে এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় আয়ত্ত করেছে, যা বহু মাশায়েখের বুদ্ধিতে ধরে না! তিনি একত্ববাদের চিন্তা, নবুওয়াত ও রেসালাতের চিন্তা, ওহী ও ফেরেশতাদের চিন্তা, কেয়ামত দিবসে পুনরুত্থানের চিন্তা, জান্নাত-জাহান্নামের চিন্তা, ঈমান- আমলের চিন্তা, আল্লাহর জন্য জীবন, আল্লাহর জন্য মরণের চিন্তা উপলব্ধি করেছিলেন।
মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি এসব সূক্ষ্ম বিষয় আয়ত্ত করেছিলেন!!
আরেকটু ভেবে দেখুন, এই ছোট্ট শিশুর সময়জ্ঞান ও অবস্থাজ্ঞানও ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ। তিনি জানতেন কীভাবে ইসলামের বিষয়টি নিকটাত্মীয়দের কাছে গোপন করা যায়, কীভাবে গোপনে দারুল আরকামে যাওয়া যায়, কীভাবে গোপনে নামায আদায় করতে হয়, মানুষের আড়ালে কীভাবে কুরআন তেলাওয়াত করা যায়?!!
এই ছোট্ট শিশুর বিবেক-বুদ্ধি আমাদের কল্পনাজগতের চেয়েও অনেক প্রশস্ত ছিল।
কতিপয় বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক ও মুরব্বি সামান্য কঠিন বিষয় হলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান, না জানি সন্তানের জন্য অধিক চাপের কারণ হয়ে যায় কি না? তারা সন্তানদের কঠিন বিষয় চাপিয়ে দিতে নারাজ- মনে করেন, এতে মস্তিষ্ক-বিভ্রাট ঘটতে পারে! ফলে তারা অতি সাধারণ বিষয় সন্তানদের পাঠ করান। কিছু অন্তসারশূন্য গল্পের বই, কার্টুন ভিডিও, কম্পিউটার গেমস, খেলোয়ার ও শিল্পীদের নাম জানাকেই যথেষ্ট মনে করেন। এতে যে সন্তানদের বিরাট ক্ষতিসাধিত হয়, তা তারা উপলব্ধি করতে পারেন না!! শিশুদের প্রতিভা ও সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
শুধুমাত্র হযরত আলী রা.-ই একমাত্র উদাহরণ নন, বরং এমন বিচক্ষণ শিশুর উপমা ইসলামের ইতিহাসে ভরপুর। তারা এতো বিপুলসংখ্যক যে, তাদের সবার নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয়। সাহাবী তনয় প্রত্যেক শিশুরই এমন মেধা ও বিচক্ষণতা ছিল, যা তাদের মুখস্থশক্তি, মেধার প্রখরতা, গভীর বুদ্ধিমত্তা ও উজ্জ্বল অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণ বহন করে।
📄 কিশোর যায়েদ ইবনে সাবেত রা.
পড়ে দেখুন, মহান শিশু হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. এর স্বপ্নের গল্প, যার বয়স ছিল মাত্র তেরো। তখনো তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হননি। অবয়ব আকৃতিতে ছিলেন অতি ক্ষুদ্রকায়।
কিন্তু সুবহানাল্লাহ! ক্ষুদ্রকায় ও অল্প বয়সের হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম উম্মাহর চিন্তায় তিনি সর্বদা চিন্তিত থাকতেন।
একদিনের ঘটনা- ছোট্ট শিশু যায়েদ হঠাৎ একদিন শুনলেন মুসলিম বাহিনী মুশরিকদের মুখোমুখি হবার উদ্দেশ্যে বদর অভিমুখে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সংবাদ শুনে শিশু যায়েদের ছোট্ট হৃদয়ে ধর্মীয় চেতনাবোধ তীব্রাকার ধারণ করে। তিনি তলোয়ার হাতে তুলে নিলেন। তলোয়ারটি আকারে তার চেয়েও লম্বা ছিল!! মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদানের অভিপ্রায়ে রওনা হলো ছোট্ট এই শিশুটি।
আন্তরিকতার সাথেই সে জিহাদ করতে প্রস্তুত হয়েছিলো!! তার বুদ্ধিমত্তা জিহাদকে ধারণ করেছিল। সেই সাথে এ পথে শত্রুর মুখোমুখি হতে হবে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সাহায্য করতে হবে। কষ্ট, পরিশ্রম করতে ও যখম হতে হবে। এ কথা জেনেই সে বেরিয়েছিল।
উচ্চাভিলাষী ছোট্ট শিশুটি মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য মুজাহিদদের পাশাপাশি তাকেও অভ্যর্থনা জানান। কিন্তু তার শারীরিক গঠন ক্ষুদ্রাকায় ও অল্প বয়স দেখে রাসুল সা. তার ক্ষতির আশঙ্কা করেন। তাকে ফিরিয়ে দেন। বাহিনীতে যোগদানের অনুমতি তাকে দিলেন না।
এটা ছিল হযরত যায়েদ ইবনে সাবেতের জন্য বাস্তবেই বড় কষ্টের। তিনি তা মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি তার মা 'আন নাওয়ার বিনতে মালিক' রা.-এর কাছে গিয়ে যুদ্ধে যোগদান করতে না পারার দুঃখে কাঁদতে শুরু করেন। ক্রন্দনরত অবস্থায় মায়ের কাছে এসে বলতে থাকেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে অংশ নিতে বারণ করেছেন। কিন্তু বুদ্ধিমতী দয়ালু অভিভাবক মা সন্তান যায়েদ ইবনে সাবেতের ক্ষমতা ও অনুভূতির কথা তো জানেন। তিনি তাকে বললেন, চিন্তা কোরো না বাবা! তুমি অন্য পন্থায় ইসলামের খেদমত করতে পার। তলোয়ারে জিহাদ করতে না পারো কলম ও ভাষাজ্ঞান দিয়ে তো জিহাদ করতে পারো।
দয়ালু মা আননাওয়ার বিনতে মালেক সন্তান যায়েদের দৃষ্টিভঙ্গির মাঝে পরিবর্তন ঘটান- যেমন আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করি- যে, আমলের ক্ষেত্র অনেক সুপ্রশস্ত। তা ছাড়া সবার ক্ষমতা ও সামর্থ্য একরকম নয়। একেকজনের ক্ষমতা ও সামর্থ্য একেক রকম হয়ে থাকে। সামর্থ্য ও ক্ষমতায় মানুষ বৈচিত্র্যময়। কেউ একটি কাজ করতে না পারলে তার জন্য অন্যত্র সুযোগ আছে। প্রত্যেকের জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেওয়া হয়, যে কাজের জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
বুদ্ধিমতী মা আবেগপ্রবণ ছেলেকে বললেন, তুমি তো লেখাপড়ায় খুব ভালো। আজকাল লেখাপড়ায় ভালো ছেলে পাওয়া যায় না বললেই চলে। তুমি তো অনেকগুলো সূরা ভালোভাবে মুখস্থ করেছ। আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যাবো। আমরা দেখবো, কীভাবে এই প্রতিভাকে ইসলামের খেদমতে ব্যয় করা যায়?
দেখুন চিন্তাশক্তির প্রখরতা, চেষ্টার একনিষ্ঠতা ও দৃষ্টির গভীরতা!!
ঠিকই কয়েকদিন পর সে তার গোত্রের কয়েকজন মানুষের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হলেন। তাদের সবার চাওয়া কোনো না-কোনোভাবে যায়েদকে ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে নিয়োজিত করা।
তারা বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমাদের আদরের সন্তান যায়েদ ইবনে সাবেত কুরআনের সতেরোটি সূরা মুখস্থ করেছে। সে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করে, ঠিক যেভাবে কুরআন আপনার অন্তরে নাযিল হয়েছে। এ ছাড়াও সে খুব মেধাবী, ভালো লিখতে-পড়তে জানে। তার খুব ইচ্ছা, আপনার সান্নিধ্যে থাকা ও নৈকট্য লাভ করা। আপনি চাইলে তার মুখ থেকেই শুনুন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রা. এর দিকে মনোনিবেশ করলেন। তার মুখস্থশক্তি ও প্রতিভার পরীক্ষা নিলেন। মুখস্থশক্তির ঊর্ধ্বে তার যে প্রতিভা সেটার মূল্যায়ন করলেন। তার বয়সকে ছোট মনে করলেন না। তাকে ছোট চোখেও দেখলেন না; বরং তার কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করলেন, যা বর্তমান যুগে তাদের কাছেই প্রত্যাশা করা হয় যারা শিক্ষা-দীক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন- হে যায়েদ, তুমি আমার জন্য ইহুদীদের ভাষা শেখো। কারণ, আমি যা বলি (ঠিকমত তারা তা লিখছে কি না?) তাতে আমি তাদের বিশ্বাস করতে পারি না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদ রা. কে একটি অপরিচিত ভাষা- তৎকালে যার রাজনৈতিক প্রয়োজন ছিল অনস্বীকার্য- শেখার নির্দেশ দিলেন। কারণ, মুসলমান ও ইহুদীদের মধ্যকার যুদ্ধ ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এর প্রয়োজন ছিল সীমাহীন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত বড় দায়িত্ব যায়েদ রা. এর কাঁধে অর্পণ করলেন, অথচ তিনি ছিলেন একজন তেরো বছরের বালক!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়। যায়েদ রা. খুব অল্প সময়ে হিব্রু ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি হিব্রু ভাষায় অনর্গল কথা বলা ও লেখার যোগ্যতা অর্জন করেন।
কিছুদিন পর তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরিয়াক ভাষা শেখার নির্দেশ দেন। তৎকালে সিরিয়াক ভাষা ছিল অতি উচ্চাঙ্গের একটি ভাষা। যায়েদ রা. এই ভাষায়ও পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। এভাবেই যায়েদ রা. মুসলিম রাষ্ট্রের দোভাষী ও মুখপাত্রে পরিণত হন। মুসলিম অমুসলিম দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চিঠিপত্র লেনদেনের ক্ষেত্রে স্থায়ী অংশগ্রহণকারীতে পরিণত হন।
আর এর সবকিছুই হয়েছে মাত্র তেরো বছর বয়সে।
পাঠক, দেখেছেন, যুবকের সম্ভাব্যতা!?
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিশ্বস্ত মনে করেন। তার প্রতি আস্থা রাখেন। চিঠিপত্র, কূটনৈতিক আলোচনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাকে আমানতদার মনে করেন। ঐশী বানী সংরক্ষণে আস্থাভাজন মনে করে তাকে ওহী লিপিবদ্ধকরণের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর থেকে একসাথে অনেক আয়াত নাযিল হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়েদকে রা. ডেকে বলতেন, যায়েদ, লেখো। আর যায়েদ রা. তা লিখে রাখতেন। এভাবে তিনি ওহী লিপিবদ্ধকারী সাহাবীতে পরিণত হন।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন। মুসলমানগণ ভয়াবহ বিপদ আঁচ করলেন। যখন তারা কুরআনের কোনো একটি আয়াত বা একাধিক আয়াত হারিয়ে ফেলতেন, তখন তাদের পেরেশানির কোনো অন্ত থাকত না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবদ্দশায় কুরআন একটি কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে তারা কুরআনের কিয়দংশ বা কমপক্ষে নাযিলের বিন্যাস হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা করলেন।
হযরত ওমর রা. খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আবু বকর রা. কে কুরআন একটি কিতাবাকারে সংকলনের পরামর্শ দেন। দীর্ঘ পর্যালোচনা ও পরামর্শের পর হযরত আবু বকর রা. হযরত ওমর রা. এর পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু একটি বড় সমস্যা থেকেই যায়। সেটি হলো এই মহান দায়িত্ব কে পালন করবে? আবু বকর রা. যায়েদ ইবনে সাবেতের চেয়ে এ কাজের অধিক যোগ্য কাউকে মনে করলেন না। কারণ, এই কাজটি অত্যন্ত বিপজ্জনক দায়িত্ব। আর যায়েদ রা. একসাথে ভাষাজ্ঞানে পণ্ডিত ও ওহী লিপিবদ্ধকারী। তিনি কুরআনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। তিনি জানেন, কোন আয়াত কোথায় কীভাবে কোন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে। তিনি কুরআন নাযিলের বিন্যাস জানেন। পূর্বাপর আয়াতের সঙ্গে যে কোন আয়াতের মিল সম্পর্কে তার জ্ঞান পর্যাপ্ত। এসব গুণাবলির বিচারে খলীফাতুল মুসলিমীন তাকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন।
এভাবেই হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. মুসলিম উম্মাহর এই মহান খেদমতের আঞ্জামদাতা হিসেবে নির্বাচিত হন। অথচ তখন তার বয়স ছিল মাত্র একুশ বা বাইশ বছর। অর্থাৎ বর্তমান যুগের ভার্সিটির লেখাপড়া এখনো শেষ হয়নি এমন ছাত্রের সময়বয়সী। এই বয়সে তার কাঁধে যে গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা একদল বিজ্ঞ পণ্ডিত ও শিক্ষকদের কাঁধে অর্পিত হওয়ার কথা। তা ছাড়া তখনো বিশিষ্ট বয়োবৃদ্ধ সাহাবীদের সুবিশাল জামাত জীবিত ছিলেন। তথাপি যুবক ও ছোট হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার কারণে তাকে এই গুরুগম্ভীর কাজে অগ্রগণ্য মনে করা হয়েছে।
হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. বলেন- فوالله لو كلفوني نقل جبل من الجبال لكان أهْوَنُ علي مما أمروني به من جمع القرآن. (رواه الإمام أحمد)
'আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমাকে কোনো পাহাড় স্থানান্তরের নির্দেশ দিতো, তা আমার জন্য কুরআন সংকলনের চেয়ে অধিক সহজ মনে হতো।'[7]
এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়েও হযরত যায়েদ ইবনে সাবেত রা. সফলতার স্বাক্ষর রাখেন, যা করতে একপ্রজন্ম আলেমের প্রয়োজন। সত্যিই যুবকের ক্ষমতা ও প্রতিভা অকল্পনীয়!!
টিকাঃ
৭. মুসনাদে আহমদ: ২১১৩৫
📄 হযরত মু‘আয ইবনে আমর ইবনে জামুহ রা. ও মু‘আওয়াজ ইবনে আফরা রা. এর বীরত্ব
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।