📄 যুবক তলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা.
মক্কায় বেড়ে ওঠা মুসলিম জামাতের অন্যতম প্রধান খুঁটি, আল্লাহর পথের অন্যতম দায়ী, বীর যোদ্ধা- যার ক্ষমতা, দক্ষতা, সাহসীকতা ও অগ্রসরতার সাক্ষ্য ইতিহাসে পাওয়া যায়- দু'-হাত উজার করে যারা আল্লাহর পথে দান করেছিলেন তাদের উপমা তিনি, যাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'তলহাতুল খায়ের [কল্যাণময়ী তলহা] বলে সম্বোধন করেছিলেন, তিনি হলেন হযরত তলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা.।
এই মহান সাহাবী মাত্র ষোলো বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন!!
📄 যুবক সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.
হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. বিশিষ্ট মহান সাহাবী। তিনি একক ব্যক্তি, যার শানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পিতা-মাতা উৎসর্গের ঘোষণা দিয়েছেন। ওহুদের যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন-
ارْمِ سَعْدِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي. (رواه الترمذي)
'সা'দ, নিক্ষেপ করো। তোমার প্রতি আমার বাবা-মা উৎসর্গিত হোক।' হাদীসটি ইমাম তিরমিযী রহ. হযরত আলী ইবনে আবি তালেব রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইসলামগ্রহণের সময় এই মহান সাহাবীর বয়স কত ছিল? তার বয়স হয়েছিলো মাত্র সতেরো বছর!!
📄 নওজোয়ান আরকাম ইবনে আবিল আরকাম মাখযুমী রা. এর কীর্তি
বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আরকাম ইবনে আবিল আরকাম আলমাখযুমী রা.। যার নামের মাঝে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য রয়েছে বহু উপদেশ। যিনি মক্কায় নিজ বাড়িতে পূর্ণ তেরো বছর ইসলামী দাওয়াতের স্থান দিয়েছিলেন।
তিনি ছিলেন মাখযুম গোত্রের সদস্য। হাশেম গোত্রের সঙ্গে যাদের বিরোধিতা সর্বদা লেগেই থাকত। সেই হাশেমী গোত্রের নবীকে তিনি নিজ বাড়িতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এতে তিনি স্বগোত্র ও সাথী-সঙ্গীদের পক্ষ থেকে চরম কষ্ট সহ্য করেছিলেন। ভুলে গেলে চলবে না, মাখযুম গোত্রের সর্দার ছিল আবু জেহেল। মক্কায় যার নির্মমতা-নিষ্ঠুরতা ও অহংকারের কথা কারও অজানা ছিলনা। সে হলো মুসলিম জাতির ফেরাউন। যদি তার গোত্রের কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তার সাহাবীদেরকে তার ঘরে আসতে দেখত, তাহলে তার কেয়ামত ঘটে যেত। তার ওপর দিয়ে বয়ে যেত অত্যাচারের স্টিম রোলার। হযরত যায়েদ আরকাম ইবনে আবিল আরকাম রা. ইসলামের খাতিরে এই বিপদকে গ্রহণ করেছেন। নিজেকে উৎস্বর্গ করেছেন।
জানেন ইসলামগ্রহণের সময় এই মহান সাহাবীর বয়স কত ছিল? মাত্র ষোলো বছর!! কল্পনা করা যায়?!
📄 কিশোর আলী ইবনে আবু তালেব রা.
পাঠক, আপনি কি জানেন হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রা. কে? তিনি সেই শিশু যার বয়স ছিল দশ বছর। মাত্র দশ বছর!! এই বয়সেই তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যাতায়াত করতেন। কুরআনের বাণী শুনতেন। সুবহানাল্লাহ!!
এতে চিন্তার বিরাট খোরাক লুকিয়ে আছে। একটু চিন্তা করে দেখেছেন কি? দেখুন মাত্র দশ বছরের শিশু, যার শরীয়তের বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা নেই, সে এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় আয়ত্ত করেছে, যা বহু মাশায়েখের বুদ্ধিতে ধরে না! তিনি একত্ববাদের চিন্তা, নবুওয়াত ও রেসালাতের চিন্তা, ওহী ও ফেরেশতাদের চিন্তা, কেয়ামত দিবসে পুনরুত্থানের চিন্তা, জান্নাত-জাহান্নামের চিন্তা, ঈমান- আমলের চিন্তা, আল্লাহর জন্য জীবন, আল্লাহর জন্য মরণের চিন্তা উপলব্ধি করেছিলেন।
মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি এসব সূক্ষ্ম বিষয় আয়ত্ত করেছিলেন!!
আরেকটু ভেবে দেখুন, এই ছোট্ট শিশুর সময়জ্ঞান ও অবস্থাজ্ঞানও ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণ। তিনি জানতেন কীভাবে ইসলামের বিষয়টি নিকটাত্মীয়দের কাছে গোপন করা যায়, কীভাবে গোপনে দারুল আরকামে যাওয়া যায়, কীভাবে গোপনে নামায আদায় করতে হয়, মানুষের আড়ালে কীভাবে কুরআন তেলাওয়াত করা যায়?!!
এই ছোট্ট শিশুর বিবেক-বুদ্ধি আমাদের কল্পনাজগতের চেয়েও অনেক প্রশস্ত ছিল।
কতিপয় বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক ও মুরব্বি সামান্য কঠিন বিষয় হলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান, না জানি সন্তানের জন্য অধিক চাপের কারণ হয়ে যায় কি না? তারা সন্তানদের কঠিন বিষয় চাপিয়ে দিতে নারাজ- মনে করেন, এতে মস্তিষ্ক-বিভ্রাট ঘটতে পারে! ফলে তারা অতি সাধারণ বিষয় সন্তানদের পাঠ করান। কিছু অন্তসারশূন্য গল্পের বই, কার্টুন ভিডিও, কম্পিউটার গেমস, খেলোয়ার ও শিল্পীদের নাম জানাকেই যথেষ্ট মনে করেন। এতে যে সন্তানদের বিরাট ক্ষতিসাধিত হয়, তা তারা উপলব্ধি করতে পারেন না!! শিশুদের প্রতিভা ও সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
শুধুমাত্র হযরত আলী রা.-ই একমাত্র উদাহরণ নন, বরং এমন বিচক্ষণ শিশুর উপমা ইসলামের ইতিহাসে ভরপুর। তারা এতো বিপুলসংখ্যক যে, তাদের সবার নাম উল্লেখ করা সম্ভব নয়। সাহাবী তনয় প্রত্যেক শিশুরই এমন মেধা ও বিচক্ষণতা ছিল, যা তাদের মুখস্থশক্তি, মেধার প্রখরতা, গভীর বুদ্ধিমত্তা ও উজ্জ্বল অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণ বহন করে।