📄 ইসলামে যৌবনকালের মর্যাদা ও গুরুত্ব
ইসলামধর্মে যৌবনকালের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামী ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন, মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে যত বড় বড় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা তৎকালীন যুবসমাজের হাতেই হয়েছে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি পূর্ব-নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা, যা বারংবার পুনরাবৃত্ত হয়।
চলুন একটু ইসলামী ইতিহাসের দিকে তাকাই...
ওহী নাজিলের শুরুরদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন?
কাদের ইসলামের অনুসারী বানানো হয়েছিল?
ইসলামের আমানত কাদের প্রতি ন্যস্ত করা হয়েছিল?
গোটা মক্কা নগরীর জীবন যাত্রা পরিবর্তনের দায়িত্ব কাদের হাতে দেওয়া হয়েছিল?
গোটা বিশ্ববাসীর জীবন পরিবর্তনের দায়িত্ব শুধু তৎকালের জন্য নয়, বরং কেয়ামত পর্যন্ত কাদেরকে দেওয়া হয়েছিল?
কারা ইসলামের অগ্রগামী দল? কারা ইসলামের অগ্রগামী সৈনিক?
কারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম? যাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ. (متفق عليه)
'সর্বোত্তম মানুষ আমার যুগের মানুষেরা। এরপর পরবর্তী যুগের মানুষেরা। তারপর পরবর্তী যুগের মানুষেরা।'[6]
হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
কারা মক্কার কাফের মুশরিকদের মোকাবেলা করেছিল?
কারা আরব উপদ্বীপের মূর্তির পূজার বিরোধিতা করেছিল?
কারা রোম-পারস্যের দুর্গগুলোকে ভেঙে খানখান করে দিয়েছিল? কারা কিসরা-কায়সারের (খসরু-সীজার) প্রাসাদে কম্পন সৃষ্টি করেছিল? কারা শিরকের সমুদ্রে স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটেছিল? হে যুবকসম্প্রদায়, তারা কারা? তাদের পরিচয় কী? ইতিহাস পাঠ করে দেখো। সীরাত অধ্যয়ন করো। নিম্নোক্ত উদাহরণগুলো পড়ে দেখো-
টিকাঃ
৬. বুখারী: ২৬৫২
📄 তরুণ যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.
ইসলামের অন্যতম যোদ্ধা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিশিষ্ট সাহাবী, দুঃসাহসী সৈনিক, বীর-বাহাদুর, ইসলামী দাওয়াতের অন্যতম স্তম্ভ হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম রা.। ইসলাম গ্রহণের সময় এই মহামনীষীর বয়স কত ছিল? তখন তার বয়স ছিল মাত্র পনেরো বছর!! অর্থাৎ আমাদের বর্তমান সময় অনুযায়ী সর্বোচ্চ নবম বা একাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রের বয়সের।
আজকের একজন মাধ্যমিক বা উচ্চ-মাধ্যমিক পড়ুয়া ছাত্র কি সেই চিন্তা-ভাবনা করে, সেই স্বপ্ন দেখে, সেই আশা ব্যক্ত করে ও সেই রকম আমল করে, যেমন হযরত যুবাইর ইবনে আওয়ام রা. সেই বয়সে চিন্তা-ভাবনা করতেন, স্বপ্ন দেখতেন, আশা ব্যক্ত করতেন ও আমল করতেন? নিশ্চয় এখানে কোন গলদ আছে।
তাই ভাবা দরকার। নিজেদের হিসাব-নিকাশ ও আত্মসমালোচনার জন্য একটু ভাবা দরকার।
কেন আজ মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক এমনকি ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্রের মেধায় সে সকল বস্তু স্থান পায় না, যা দেশ-জাতি নির্বিশেষে গোটা বিশ্বের জন্য কল্যাণকর? কেবল কতিপয় অশ্লীল সিনেমা, ধ্বংসাত্মক গান-বাজনা, জীবন-বিধ্বংসী বিনোদন ছাড়া তাদের মাথায় অন্য কিছু জায়গা পায় না? কেন তারা টেলিভিশন, ভিডিওগেম ও ইন্টারনেটের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকে? কেন তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলিয়ার্ড হলে ও নীলনদের তীরে সময় নষ্ট করে? অথচ সামান্য সময় দ্বীন, ইলম, দাওয়াত, মহৎ উদ্দেশ্য বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করে না? এ বিষয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করা দরকার!!
📄 যুবক তলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা.
মক্কায় বেড়ে ওঠা মুসলিম জামাতের অন্যতম প্রধান খুঁটি, আল্লাহর পথের অন্যতম দায়ী, বীর যোদ্ধা- যার ক্ষমতা, দক্ষতা, সাহসীকতা ও অগ্রসরতার সাক্ষ্য ইতিহাসে পাওয়া যায়- দু'-হাত উজার করে যারা আল্লাহর পথে দান করেছিলেন তাদের উপমা তিনি, যাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'তলহাতুল খায়ের [কল্যাণময়ী তলহা] বলে সম্বোধন করেছিলেন, তিনি হলেন হযরত তলহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা.।
এই মহান সাহাবী মাত্র ষোলো বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন!!
📄 যুবক সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.
হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. বিশিষ্ট মহান সাহাবী। তিনি একক ব্যক্তি, যার শানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের পিতা-মাতা উৎসর্গের ঘোষণা দিয়েছেন। ওহুদের যুদ্ধে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সম্বোধন করে বলেছিলেন-
ارْمِ سَعْدِ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي. (رواه الترمذي)
'সা'দ, নিক্ষেপ করো। তোমার প্রতি আমার বাবা-মা উৎসর্গিত হোক।' হাদীসটি ইমাম তিরমিযী রহ. হযরত আলী ইবনে আবি তালেব রা.-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
ইসলামগ্রহণের সময় এই মহান সাহাবীর বয়স কত ছিল? তার বয়স হয়েছিলো মাত্র সতেরো বছর!!