📄 ইহরামের অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ
ইহরামের কারণে যেসব কাজ নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে, যেগুলো থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব। এমন কাজ নয়টি—
১. বিনা উযরে দেহের যে-কোনো স্থান থেকে চুল বা পশম দূর করা, কেটে হোক বা উপড়ে হোক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— وَلَا تَحْلِقُوا رُءُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ আর তোমাদের মাথা ততক্ষণ পর্যন্ত মুণ্ডন করবে না, যতক্ষণ না কোরবানি[-র পশু] যথাস্থানে পৌঁছে যায়। [সূরা বাকারা : আয়াত ১৯৬]
২. নখ কাটা। তবে উপড়ে গেলে প্রয়োজনে তা ফেলে দেওয়া যাবে।
৩. পুরুষের জন্য পোশাক দ্বারা, যেমন পাগড়ি, টুপি ইত্যাদি দ্বারা, মাথা ঢাকা। তবে যদি ছাতা ব্যবহার করে, বা গাছের ছায়ায় বসে বা গাড়ির হুডের নীচে বসে, তা হলে ক্ষতি নেই।
৪. সেলাই করা জামা-পাজামা পরিধান করা। তদ্রূপ মোজাজাতীয় কোনো কিছু পরিধান করা। মুহরিম সম্বন্ধে নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন—
মুহরিম ব্যক্তি জামা পরবে না, পাগড়ি পরবে না, বুরনুস [হুডবিশিষ্ট একধরনের ঢিলা কোট] পরবে না, পাজামা পরবে না, এমন পোশাক পরিধান করবে না, যাতে লাল বা জাফরানি রঙের মিশ্রণ রয়েছে, এবং মোজা পরবে না। [বুখারি, মুসলিম]
মহিলারা সবধরনের পোশাক পরিধান করবে, তবে নিকাব ও বোরকা পরিধান করবে না। [তা হল এমন পোশাক, যা দিয়ে মহিলা তার মুখমণ্ডল ঢাকে, এবং তাতে চোখের ওপর দুটি ছিদ্র থাকে।] বরং ওড়না বা চাদর দিয়ে সে তার মুখ ঢেকে রাখবে। আর সে মোজা পরিধান করবে না। নবীজি ইরশাদ করেছেন— ইহরামকারিনী মহিলা নিকাব ব্যবহার করবে না এবং মোজা পরিধান করবে না। [বুখারি]
৫. সুগন্ধ ব্যবহার করা। মুহরিম ব্যক্তির জন্য তার পোশাকে বা দেহে সুগন্ধ ব্যবহার করা হারাম। কারণ, মুহরিম ব্যক্তি সম্বন্ধে নবীজি বলেছেন—
'তাকে সুগন্ধ লাগিয়ো না।' [মুসলিম]
তদ্রূপ ইচ্ছাকৃতভাবে সুগন্ধের ঘ্রাণ নেবে না।
৬. স্থলভাগের প্রাণী শিকার করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا
আর তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে স্থলভাগের শিকার, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা ইহরামে থাক। [মায়েদা : আয়াত ৯৬]
৭. নিজে বিবাহ করা বা অন্যকে বিবাহ করানো। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'মুহরিম ব্যক্তি নিজেও বিবাহ করবে না, অন্যকেও বিবাহ করাবে না।' [মুসলিম]
৮. সঙ্গম করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন— فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ
আর এ মাসগুলোয় যে হজ্জ ফরজ করল, [অর্থাৎ হজ্জ করার নিয়্যত করল] সে রফছ করবে না। [সূরা বাকারা: আয়াত ১৯৭]
আর এই আয়াতে رَفَثَ শব্দের অর্থ সম্বন্ধে ইবনে আব্বাস বলেন, 'এর অর্থ হল সঙ্গম।'
কাজেই যে ব্যক্তি প্রথম হালাল হওয়ার আগে সঙ্গম করবে, তার হজ্জ ফাসেদ হয়ে যাবে। তার জন্য চলমান হজ্জও পূর্ণ করতে হবে, এবং পরবর্তী বছর কাজাও আদায় করতে হবে। আর তার একটি পশুও জবাই করতে হবে। আর যদি প্রথম হালালের পর হয়, তা হলে হজ্জ আদায় হয়ে যাবে। তবে তাকে একটি বকরি জবাই করতে হবে।
৯. মহিলার সাথে মেলামেশা করা। অর্থাৎ কামনা সহকারে স্পর্শ করা, চুম্বন করা ইত্যাদি।
হজ্জ পালনকারীর জন্য এসব নিষিদ্ধ কাজ থেকে দূরে থাকা জরুরি, যেন হজ্জে কোনোরূপ ত্রুটি না আসে। কারও থেকে নিষিদ্ধ কাজগুলোর কোনোটা ঘটে গেলে সেটার হুকুম কী, ফিদয়া দিতে হবে কি হবে না, সেটা দীর্ঘ আলোচনাসাপেক্ষ। এখানে সে আলোচনার সুযোগ নেই। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তা আলেমদের থেকে জেনে নিতে হবে।
পরিশেষে, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আমাদের ইবাদত কবুল করেন, আমাদেরকে যেন পুরোপুরি সুন্নাত অনুসারে চলার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ-ই সবচেয়ে ভাল জানেন।
وَ صَلَّى اللهُ وَ سَلَّمَ وَبَارَكَ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ওَّآلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ
সমাপ্ত