📄 প্রতিনিধিত্বের [বদলি হজ্জের] আহকাম
কেউ যদি নিজে হজ্জ করতে অপারগ হয়, তবে আর্থিকভাবে হজ্জ করার সক্ষমতা থাকে, যেমন অশীতিপর বৃদ্ধ বা স্থায়ীভাবে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার আশা করা যায় না, তা হলে তার জন্য জরুরি হল, তার নিজের শহর থেকে হোক বা অন্য কোনো শহর থেকে হোক, কাউকে তার প্রতিনিধি বানিয়ে হজ্জ ও উমরা করানো। কারণ, নবীজি-র নিকট এক মহিলা এসে বলল, 'আমার পিতার হজ্জ ফরজ হয়েছে। অথচ তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ। সওয়ারের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করব?' তিনি বললেন, 'তার পক্ষ থেকে তুমি হজ্জ আদায় করো।' [সহিহ বুখারি, মুসলিম]
যিনি প্রতিনিধি হবেন, তার আগে হজ্জ আদায় করা থাকতে হবে। নবীজি একব্যক্তিকে এ বলে তালবিয়া পড়তে শুনলেন— لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ 'শুবরুমার পক্ষ থেকে তালবিয়া পড়ছি।'
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি নিজের হজ্জ আদায় করেছ?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'আগে নিজের হজ্জ আদায় করো; এরপর শুবরুমার হজ্জ আদায় কোরো।' [বায়হাকি]
প্রতিনিধিকে এ পরিমাণ মাল দিতে হবে, যেন সফরে আসা-যাওয়ার পথে তার কোনো কষ্ট না হয়। আর প্রতিনিধিরও নিয়্যত এই হওয়া চাই যে, সে তার মুসলমান ভায়ের উপকার করছে। তা হলে এই হজ্জটি আল্লাহর জন্য হবে, দুনিয়ার জন্য নয়। যার প্রতিনিধি হয়ে হজ্জ আদায় করছে, তার পক্ষ থেকেই ইহরামের নিয়্যত করবে এবং তার পক্ষ থেকেই তালবিয়া পাঠ করবে। আর আহকাম পালনের সময় মনে মনে তার পক্ষ থেকে আদায়ের নিয়্যত থাকলেই হবে, তার নাম উচ্চারণ করার দরকার নেই।
মুসলমান ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়ের পক্ষ থেকেই হজ্জ আদায় করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে মায়েরটা আগে করবে। সদাচরণের ক্ষেত্রে মায়ের অধিকার বেশি।
কারও ওপর হজ্জ ফরজ হল। কিন্তু হজ্জ আদায় করার আগেই সে মারা গেল। তা হলে তার পরিত্যাজ্য সম্পত্তি হতে তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করাতে হবে। এক নারী নবীজি-র দরবারে এসে আরজ করল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা হজ্জ আদায় করার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আদায় করার আগেই মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করব?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ; তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করো। ভেবে দেখেছ যদি তোমার মায়ের ওপর ঋণ থাকত, তুমি কি তা আদায় করতে না? আল্লাহর ঋণ আদায় করো। কথা রক্ষার আল্লাহই সবচেয়ে বেশি হকদার।' [সহিহ বুখারি]