📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 অপ্রাপ্তবয়স্কদের হজ্জ

📄 অপ্রাপ্তবয়স্কদের হজ্জ


অপ্রাপ্তবয়স্করা যদি হজ্জ বা উমরা আদায় করে, তা হলে তা শুদ্ধ হবে এবং নফল হিসেবে গণ্য হবে। কারণ, এক মহিলা নবীজি-র নিকট একটি শিশু নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'এর কি হজ্জ হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ; সওয়াব তুমি পাবে।' [সহিহ মুসলিম]

এ কথার ওপর সবাই একমত যে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে যদি কেউ হজ্জ করে নেয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও তার হজ্জ করতে হবে, যদি হজ্জ ফরজ হওয়ার কারণ পাওয়া যায়। আগের হজ্জ তার জন্য যথেষ্ট হবে না। উমরার ব্যাপারও তদ্রূপ।

তার ইহরাম বাঁধার নিয়ম হল, যদি তার বোধ-জ্ঞান না হয়ে থাকে, ইহরামের মর্ম না বোঝে, তা হলে তার পক্ষ হতে তার অভিভাবক ইহরাম বাঁধবে, তার পক্ষ থেকে নিয়্যত করবে। নিষিদ্ধ কাজ থেকে তাকে দূরে রাখবে; তাকে বহন করে তাওয়াফ ও সা'য়ি করবে। আরাফা, মুযদালিফা ও মিনায় তাকে সাথে রাখবে। তার পক্ষ থেকে রমি করবে।

আর যদি তার বোধশক্তি থেকে থাকে, তা হলে অভিভবাকের অনুমতিক্রমে সে নিজেই ইহরাম বাঁধবে। হজ্জের যেসব আহকাম পালন করতে পারে, করবে; আর যেগুলো পারবে না, সেগুলোর মধ্য হতে যেগুলোতে প্রতিনিধিত্ব চলে, সেগুলো তার অভিভাবক পালন করবে। যেমন রমিয়ে জিমার। তদ্রূপ সে চলতে অক্ষম হলে অভিভাবক তাকে সওয়ার করিয়ে বা বহন করে তাওয়াফ ও সা'য়ি করবে।

আর যেগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকা নিজেই করতে পারে, চাই তার বোধশক্তি থাকুক বা না থাকুক, সেগুলো নিজেই করবে। যেমন আরাফায় অবস্থান; মুযদালিফায় রাত্রি যাপন। অন্য কেউ করলে আদায় হবে না। কারণ, এসব ক্ষেত্রে অন্য কাউকে প্রতিনিধি বানানোর প্রয়োজন নেই। আর বড়দের জন্য হজ্জের মধ্যে যেসব বিষয় নিষিদ্ধ, ছোটদের জন্যও সেসব নিষিদ্ধ।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 নারীদের কিছু আহকাম

📄 নারীদের কিছু আহকাম


নারীদের জন্য মাহরাম ব্যতীত সফর করা জায়েয নেই, চাই হজ্জের সফর হোক বা অন্য কোনো সফর। নবীজি ইরশাদ করেছেন— 'কোনো মহিলা মাহরাম ছাড়া সফর করবে না, এবং মাহরাম সাথে না নিয়ে কোনো পুরুষ তার নিকট যাবে না।' [মুসনাদে আহমদ]

মাহরাম হল : স্বামী, বা এমন পুরুষ, যার সাথে বিবাহ কোনো অবস্থাতেই কখনও জায়েয নেই, সব সময়ের জন্য হারাম, চাই নসবের দিক থেকে হারাম হোক, যেমন তার ভাই, পিতা, চাচা, ভায়ের ছেলে এবং মামা, চাই বৈধ কোনো কারণে হারাম হোক, যেমন দুধভাই, চাই বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে হোক, যেমন মায়ের স্বামী, স্বামীর ছেলে। সফরকালে মাহরামের খরচ তাকেই বহন করতে হবে। তাই তার ওপর হজ্জ ওয়াজিব হওয়ার জন্য তার নিজের ও মাহরামের আসা-যাওয়ার ব্যয়ভার বহনের সামর্থ্য থাকতে হবে।

ইহরামের আগে কোনো মহিলার যদি হায়েয বা নিফাস শুরু হয়, এরপর সে ইহরাম বাঁধে, কিংবা পবিত্র থাকা অবস্থায় ইহরাম বাঁধে, এরপর তার হায়েয বা নিফাস শুরু হয়, তা হলে সে ইহরামের ওপরই থাকবে। হাজিরা যেসব কাজ করে, যেমন আরাফায় অবস্থান, মুযদালিফায় রাত্রি যাপন, রমিয়ে জিমার, মিনায় রাত্রি যাপন, সেসব করতে থাকবে। তবে পবিত্র হওয়ার আগে তাওয়াফ বা সা'য়ি করবে না। যদি পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করে, এবং তাওয়াফের পর হায়েয শুরু হয়, তা হলে সাফা-মারওয়ার সা'য়ি করবে। হায়েযের কারণে তা নিষিদ্ধ হবে না। কারণ, সা'য়ির জন্য পবিত্র থাকা শর্ত নয়। আর হজ্জের সময় হায়েয বন্ধ থাকার ঔষধ খেলে তা জায়েয হবে।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 প্রতিনিধিত্বের [বদলি হজ্জের] আহকাম

📄 প্রতিনিধিত্বের [বদলি হজ্জের] আহকাম


কেউ যদি নিজে হজ্জ করতে অপারগ হয়, তবে আর্থিকভাবে হজ্জ করার সক্ষমতা থাকে, যেমন অশীতিপর বৃদ্ধ বা স্থায়ীভাবে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার আশা করা যায় না, তা হলে তার জন্য জরুরি হল, তার নিজের শহর থেকে হোক বা অন্য কোনো শহর থেকে হোক, কাউকে তার প্রতিনিধি বানিয়ে হজ্জ ও উমরা করানো। কারণ, নবীজি-র নিকট এক মহিলা এসে বলল, 'আমার পিতার হজ্জ ফরজ হয়েছে। অথচ তিনি অশীতিপর বৃদ্ধ। সওয়ারের ওপর স্থির থাকতে পারেন না। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করব?' তিনি বললেন, 'তার পক্ষ থেকে তুমি হজ্জ আদায় করো।' [সহিহ বুখারি, মুসলিম]

যিনি প্রতিনিধি হবেন, তার আগে হজ্জ আদায় করা থাকতে হবে। নবীজি একব্যক্তিকে এ বলে তালবিয়া পড়তে শুনলেন— لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ 'শুবরুমার পক্ষ থেকে তালবিয়া পড়ছি।'

তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি নিজের হজ্জ আদায় করেছ?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'আগে নিজের হজ্জ আদায় করো; এরপর শুবরুমার হজ্জ আদায় কোরো।' [বায়হাকি]

প্রতিনিধিকে এ পরিমাণ মাল দিতে হবে, যেন সফরে আসা-যাওয়ার পথে তার কোনো কষ্ট না হয়। আর প্রতিনিধিরও নিয়্যত এই হওয়া চাই যে, সে তার মুসলমান ভায়ের উপকার করছে। তা হলে এই হজ্জটি আল্লাহর জন্য হবে, দুনিয়ার জন্য নয়। যার প্রতিনিধি হয়ে হজ্জ আদায় করছে, তার পক্ষ থেকেই ইহরামের নিয়্যত করবে এবং তার পক্ষ থেকেই তালবিয়া পাঠ করবে। আর আহকাম পালনের সময় মনে মনে তার পক্ষ থেকে আদায়ের নিয়্যত থাকলেই হবে, তার নাম উচ্চারণ করার দরকার নেই।

মুসলমান ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়ের পক্ষ থেকেই হজ্জ আদায় করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে মায়েরটা আগে করবে। সদাচরণের ক্ষেত্রে মায়ের অধিকার বেশি।

কারও ওপর হজ্জ ফরজ হল। কিন্তু হজ্জ আদায় করার আগেই সে মারা গেল। তা হলে তার পরিত্যাজ্য সম্পত্তি হতে তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করাতে হবে। এক নারী নবীজি-র দরবারে এসে আরজ করল, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা হজ্জ আদায় করার মান্নত করেছিলেন। কিন্তু আদায় করার আগেই মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করব?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ; তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করো। ভেবে দেখেছ যদি তোমার মায়ের ওপর ঋণ থাকত, তুমি কি তা আদায় করতে না? আল্লাহর ঋণ আদায় করো। কথা রক্ষার আল্লাহই সবচেয়ে বেশি হকদার।' [সহিহ বুখারি]

ফন্ট সাইজ
15px
17px