📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 আরাফার দিন ৯ই যিলহজ্জ

📄 আরাফার দিন ৯ই যিলহজ্জ


আরাফার দিন সূর্যোদয় হলে আরাফার দিকে রওয়ানা করবে। যোহর ও আসর কসর করবে এবং যোহরের সময় একসাথে পড়বে। হাজি সাহেবদের জন্য মুস্তাহাব হল আরাফার পাহাড়ের পিছনে ক্বিবলার দিকে ফিরে অবস্থান করা। কারণ, নবীজি এখানেই অবস্থান করেছিলেন। যথাসাধ্য বেশি বেশি যিকির, দোয়া ও ইসতিগফার করতে থাকবে। সওয়ার অবস্থায় হোক বা পদাতিক অবস্থায়, স্থির অবস্থায় হোক বা চলমান অবস্থায়, বসে হোক বা শুয়ে সর্বাবস্থায় এসব কাজে নিজেকে লাগিয়ে রাখবে। তবে হাদিসে যেসব দোয়ার কথা বর্ণিত আছে, সেগুলো পড়া উত্তম। কারণ, নবীজি ইরশাদ করেছেন—

'সর্বোত্তম দোয়া হল আরাফার দিনের দোয়া; আর আমি ও আমার পূর্বেকার নবীরা যা বলেছেন, তার মধ্যে সর্বোত্তম হল— لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ ، لَا شَرِيكَ لَه ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ' [সুনানে তিরমিযি]

আরাফার দিন হল একটি মহান দিন। এই দিনে আল্লাহ জাহান্নাম হতে যতজনকে মুক্তি দেন, অন্য কোনো দিনে ততটা দেন না। আর এই দিনে শয়তানকে যতটা ক্ষুদ্র ও লাঞ্ছিত দেখা যায়, অন্য কোনো দিনে ততটা দেখা যায় না। কারণ, এই দিনে শয়তান বান্দাদের ওপর আল্লাহর রহমতরাজি নাযিল হতে দেখে। তাই হাজিদের উচিত, যতটা পারা যায়, কান্নাকাটি করা, বিনয় প্রকাশ করা এবং দোয়া করা।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করবে। সূর্যাস্তের পূর্বে সেখান থেকে ফেরা জায়েয হবে না। যদি কেউ বেরিয়ে যায়, তা হলে আরাফায় আবার ফিরে যেতে হবে, যেন সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থাকা যায়। ফিরে না গেলে একটি ফিদয়া জবাই করতে হবে। কারণ, একটি ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরাফায় অবস্থানের সময় শুরু হয় আরাফার দিনের যোহরের সময় থেকে। দশ তারিখের ফজরের সময় হওয়া পর্যন্ত তা বাকি থাকে। কেউ যদি দিনের বেলায় সেখানে অবস্থান করে, তাকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। আর কেউ যদি সামান্য সময়ের জন্য হলেও রাতে অবস্থান করে, তার হজ্জ শুদ্ধ হবে। কারণ, নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'কেউ যদি রাতে আরাফায় অবস্থান করে, সে হজ্জ পেল।' [দারাকুতনি, তিরমিযি]

আরাফায় অবস্থান করা হজ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুকন। নবীজি ইরশাদ করেছেন, 'হজ্জ হল আরাফা।' [বুখারি, মুসলিম]

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 আরাফা হতে মুযদালিফায় গমন এবং সেখানে রাত্রি যাপন

📄 আরাফা হতে মুযদালিফায় গমন এবং সেখানে রাত্রি যাপন


সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফা হতে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। কারণ, নবীজি সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করেছিলেন। আর যখন তিনি আরাফা ত্যাগ করেছিলেন, তখন তার উটকে লাগাম পরানো হয়েছিল, যার ফলে সেটার মাথা জিনের পাদানি পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। আর তিনি ডান হাত দিয়ে ইশারা করছিলেন; বলছিলেন, 'লোকেরা! স্থির হও! স্থির হও!' [সহিহ মুসলিম]

রাস্তায় চলার সময় বেশি বেশি তালবিয়া ও ইসতিগফার পড়তে থাকবে। মুযদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও ইশা একসাথে পড়বে। ইশার সালাতে কসর করবে। উভয় সালাতের জন্য আযান একটি হবে। আর প্রত্যেক সালাতের জন্য একটি করে মোট দুটি ইকামত হবে। তা পড়বে সেখানে পৌঁছার সাথে সাথে, বিলম্ব না করে। যদি অর্ধরাতের আগেই সেখানে পৌঁছনো না যায়, তা হলে ওয়াক্ত পেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পথেই মাগরিব ও ইশা পড়ে নেবে।

এরপর রাত্রে সেখানেই থাকবে। ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথেই ফজরের সালাত পড়ে নেবে। এরপর আলোকিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দোয়া করতে থাকবে। এরপর সূর্যোদয়ের পূর্বেই মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবে।

যদি কেউ দুর্বল হয়, যেমন নারী, শিশু ইত্যাদি, তা হলে তার জন্য রাতের অর্ধেক পেরিয়ে গেলেই মুযদালিফা হতে রওয়ানা হওয়া জায়েয আছে। ফজর পর্যন্ত অপেক্ষা করা তার জন্য জরুরি নয়। তদ্রূপ এ ধরনের দুর্বলদের সাথে কোনো অভিভাবক থাকলে তার জন্যও দুর্বলদের সাথে অর্ধরাতের পর মুযদালিফা হতে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়া জায়েয আছে। তবে শক্তি-সামর্থ্যবান, যাদের সাথে এ ধরনের কোনো দুর্বল নেই, তাদের জন্য ফজরের সময় পর্যন্ত থাকাটাই সমীচীন। ফজরের সালাতের পর তারা সেখান থেকে রওয়ানা হবে। আর সালাতের পর বেশি বেশি দোয়া ও যিকির করতে থাকবে, চারদিক আলোকিত হওয়া পর্যন্ত। এরপর মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবে, এবং চলার পথে অধিক হারে তালবিয়া পড়তে থাকবে।

মুযদালিফায় রাত্রিযাপন হজ্জের একটি ওয়াজিব। অর্ধরাতের আগে যে সেখানে পৌঁছয়, তার জন্য তা ত্যাগ করা জায়েয হবে না। অর্ধেক রাত পেরিয়ে যাওয়ার পর সেখানে পৌঁছলে সেখানে সামান্য সময় অবস্থান করলেও চলবে। তবে উত্তম হল, ফজরের সালাত পড়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা। যাদের উযর আছে, তাদের জন্য রাত্রে মুযদালিফায় অবস্থান না করার অনুমতি আছে। যেমন এমন পীড়িত ব্যক্তি, যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 দশ তারিখ [কুরবানির দিন, ঈদের দিন]

📄 দশ তারিখ [কুরবানির দিন, ঈদের দিন]


সূর্যোদয়ের ক্ষণিক পূর্বে মুযদালিফা হতে মিনার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। আর মিনায় পৌঁছার পূর্বে পথ থেকেই জিমারের জন্য পাথরকণা সংগ্রহ করে নেবে। এটাই উত্তম। আর যদি মুযদালিফা বা মিনা থেকে সংগ্রহ করে, তা হলেও জায়েয হবে। পাথরকণাগুলো নখের সমান হবে। মানে, ছোলাবুট থেকে সামান্য বড় হবে।

প্রথমে জামরায়ে আকাবায় যাবে। এটাকে জামরায়ে কুবরাও বলা হয়। একটা একটা করে সাতটা পাথরকণা নিক্ষেপ করবে। আর তা করবে সূর্যোদয়ের পর। মাগরিবের সময় থাকা পর্যন্ত তা করা যায়। যদি রাতে নিক্ষেপ করে, তা হলেও জায়েয হবে। এগারো তারিখ ফজরের সময় এর ওয়াক্ত শেষ হয়।

জামরার জন্য যে হাউজ বানানো আছে, পাথরকণা সেখানে পড়া চাই, পরে সেখানে স্থির থাকুক বা না থাকুক। স্থির না থাকলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। তাই হাজি সাহেবদের জন্য জরুরি হল সঠিকভাবে জামরার হাউজে পাথরকণা নিক্ষেপ করা। যে খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে, সেটাতে মারার কোনো অর্থ নেই। এই খুঁটি রাখা হয়েছে চিহ্ন হিসেবে, পাথরকণা মারার জন্য নয়। কাজেই কেউ যদি খুঁটিতে পাথরকণা নিক্ষেপ করে, আর তা হাউজে না পড়ে অন্যত্র চলে যায়, তা হলে জায়েয হবে না। আর যদি খুঁটিতে আঘাতের পর হাউজে পড়ে, পরবর্তীতে সেখানে থাকুক বা না থাকুক, তার পাথরকণা নিক্ষেপ শুদ্ধ হবে।

দুর্বলরা মুযদালিফার রাতের অর্ধেকের পর রমিয়ে জিমার করবে। দুর্বলরা ছাড়া অন্যরাও যদি করে, তা হলে আদায় হয়ে যাবে। তবে তা অনুত্তম হবে। মিনা পৌঁছার পর রমিয়ে জিমারের আগে কিছু না করা সুন্নাত। কারণ, এটি মিনার সম্মানার্থে হচ্ছে। প্রত্যেক বার নিক্ষেপের সময় তাকবির বলা মুস্তাহাব। বলবে— اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجًّا مَبْرُوْرًا وَ ذَنْبًا مَغْفُوْرًا হে আল্লাহ! হজ্জটিকে কবুল করো এবং গোনাহ মাফ করো। [মুসনাদে আহমদ]

কুরবানির দিন জামরায়ে আক্বাবা ছাড়া অন্য কোনো রমি করবে না। ক্বিরান ও তামাতু' হজ্জকারী রমি করার পর হাদি জবাই করবে। সেখান থেকে নিজেও খাবে, দানও করবে। জবাইয়ের সময় থাকে ১৩ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আর রাতেও জবাই করা যাবে। তবে ঈদের দিন রমিয়ে জিমারের পর পরই জবাই করা উত্তম। কারণ, নবীজি এরূপ করেছেন। হাজির যদি হাদি কেনার সামর্থ্য না থাকে, তা হলে হজ্জের সময় তিন দিন সওম রাখবে। সে-দিনগুলো ১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ হওয়া উত্তম। আর নিজ শহরে এসে সাত দিন সওম রাখবে।

এরপর মাথা মুণ্ডন করবে বা চুল ছাঁটাই করবে। তবে মুণ্ডন করাই উত্তম। আল্লাহ ইরশাদ করেন— مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ 'যারা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করে বা চুল ছাঁটাই করে।' [সূরা ফাতাহ : আয়াত ২৭]

আর নবীজি ﷺ হলককারীদের জন্য তিন বার দোয়া করেছেন, এবং চুল ছাঁটাইকারীদের জন্য এক বার দোয়া করেছেন। আর চুল ছাঁটাই করার সময় পুরো মাথার চুলই ছাঁটাই করতে হবে। কিছু অংশের করলে হবে না। কারণ, আয়াতে হলক ও কসর করার ব্যাপারে পুরো মাথার কথা বলা হয়েছে। টাকমাথা, যার মাথায় চুল নেই, সে তার মাথার ওপর ক্ষুর চালাবে। নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন, 'তোমাদেরকে কোনো কাজের আদেশ করলে যতটা পারো পালন করো।' [সহিহ বুখারি, মুসলিম]

মহিলারা তাদের চুলের আগার দিক থেকে এক আঙ্গুল পরিমাণ কাটবে। যদি বেণী বাঁধা না থাকে, পুরো চুল একত্রিত করে চারদিক থেকে কেটে দেবে। রমি ও হলক বা কসরের পর মুহরিমের জন্য সুগন্ধ, পোশাক ইত্যাদি ব্যবহার জায়েয হবে, তবে নারী নয়। এটা হল প্রথম হালাল হওয়া, যার ফলে তার জন্য স্ত্রী ছাড়া সবকিছু জায়েয হবে।

এরপর তাওয়াফে ইফাযা করার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে এবং হারামের দিকে যাবে। আল্লাহ ইরশাদ করেন— ثُمَّ لْيَقْضُوا تَفَثَهُمْ وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ 'এরপর তারা যেন তাদের দেহের ময়লা দূর করে, এবং তাদের মান্নত পূর্ণ করে, এবং এই প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে।' [সূরায়ে হজ্জ : আয়াত ২৯]

আয়েশা রাযি. বলেন, 'হালাল হওয়ার জন্য আমি রাসুল ﷺ-কে বাইতুল্লাহর তাওয়াফের আগে সুগন্ধ লাগিয়ে দিতাম।' এই তাওয়াফের পর হজ্জের সা'য়ি করবে। আর এই তাওয়াফের পর হাজির জন্য ইহরামের কারণে যা কিছু হারাম হয়েছিল, সব হালাল হবে, এমনকি স্ত্রীও। এটাকে বলা হয় দ্বিতীয় বার হালাল হওয়া, বা পূর্ণরূপে হালাল হওয়া।

উত্তম হল, রমি, হলক বা কসর এবং তাওয়াফে ইফাযা, এই তিনটি কাজ ধারাবাহিকভাবে আদায় করা। তবে যদি আগ-পর করা হয়, তা হলেও কোনো ক্ষতি নেই। এই তিনটি কাজের দুটি করলেই প্রথম বার হালাল হবে। আর কাজ-তিনটি করার পর দ্বিতীয় বার হালাল হবে। তাই কাজ-তিনটি আদায় করার পরই তার জন্য সবকিছু জায়েয হবে। হজ্জের তাওয়াফ ও সা'য়ির নিয়ম উমরার তাওয়াফ ও সা'য়ির মত, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 তাশরিকের দিনগুলো [১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ]

📄 তাশরিকের দিনগুলো [১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ]


ঈদের দিন তাওয়াফে ইফাযার পর মিনা ফিরে যাবে। রাত্রি অবশ্যই সেখানে যাপন করতে হবে। কারণ, নবীজি কাউকে মক্কায় থাকার অনুমতি দেননি। শুধু আব্বাস রাযি.-কে লোকদের পানি পান করানোর স্বার্থে অনুমতি দিয়েছিলেন। [ইবনে মাজা]

তাই তিন রাত মিনায় অবস্থান করবে [একাদশ তারিখের রাত (দশ তারিখ দিবাগত রাত), দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ তারিখের রাত]। এই তিন রাত সেখানে অবস্থান করবে, যদি তাড়া না থাকে। আর তাড়া থাকলে দু' রাত অবস্থান করবে। মিনায় সালাত কসর করবে। তবে জমা' বাইনাস্সালাতাইন করবে না, অর্থাৎ একই ওয়াক্তে দু' ওয়াক্তের সালাত পড়বে না। বরং প্রত্যেক সালাত নিজ নিজ ওয়াক্তে আদায় করবে।

তাশরিকের তিন দিনই সূর্য ঢলে যাওয়ার [যোহরের আযানের] পর রমিয়ে জিমার করবে। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, 'আমরা অপেক্ষা করতাম। সূর্য হেলে পড়লে আমরা রমি করতাম।' [সহিহ বুখারি]

হাদিস শরিফে نَتَحَيَّنُ শব্দ এসেছে। যার অর্থ হল, আমরা সূর্যের দিকে লক্ষ রাখতাম। যোহরের সময় হলে আমরা রমি করতাম। তা ছাড়া নবীজি ইরশাদ করেছেন, 'আমার থেকে তোমাদের হজ্জের আহকাম শিখে নাও।' [সহিহ মুসলিম]

এগারো তারিখ ও এর পরের দিনগুলোয় রমির সময় শুরু হবে সূর্য ঢলে পড়ার পর। এর আগে রমি করলে শুদ্ধও হবে না, রমির দায়িত্বও আদায় হবে না। সালাত যেমন সময়ের আগে পড়লে তা আদায় হয় না, তেমনি রমিও সময়ের আগে করলে আদায় হয় না। [সমকালীন কোনো কোনো আলেম অবশ্য এ ব্যাপারে অবকাশ রেখেছেন।] মুতাকাদ্দেমিনদের কেউ কেউ তাশরিকের দিনগুলোয় দ্বিপ্রহরের আগে রমি করার অবকাশ রেখেছেন। কারণ, নবীজি দ্বিপ্রহরের পর রমি করেছেন বটে, কিন্তু এর আগে রমি করতে নিষেধ করেননি। আর হজ্জের মধ্যে কোনো কাজ আগ বা পর হওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, 'করো। ক্ষতি নেই।' আর দ্বিপ্রহরের আগে রমি করার অনুমতি থাকলে লোকদের জন্য সহজ হয়, বিশেষ করে এই প্রচণ্ড ভিড়ের সময়। আর আগে ইবনে উমর রাযি.-র যে হাদিসটি উল্লেখ হয়েছে, তা হল একটি আমলের বর্ণনা। তবে উত্তম হল রাসুল যে বলেছেন, 'আমার থেকে তোমরা তোমাদের হজ্জের আহকাম শিখে নাও', সেটার ওপর আমল করা। আর রাসুল দ্বিপ্রহরের পরই রমি করেছেন।

রমির সময় প্রথমে নিক্ষেপ করবে ছোটটা, এরপর মেঝোটা, এবং এরপর বড়টা। প্রত্যেক জমরার জন্য সাতটি পাথর। প্রতিটি পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবির বলবে। সুন্নাত নিয়ম হল, ছোটটিতে রমি করে একটু আগে বাড়বে এবং সেটাকে বাম পাশে রাখবে। এরপর ক্বিবলার দিকে ফিরবে। হাত তুলে দীর্ঘ সময় দোয়া করবে। মাঝেরটাতে রমি করার পর সামনে এগোবে, এবং সেটাকে ডান দিকে রাখবে। ক্বিবলার দিকে ফিরে হাত তুলে দীর্ঘ সময় দোয়া করবে। আর জামরায়ে-কুবরার মধ্যে পাথর নিক্ষেপের পর সেখানে দাঁড়িয়ে দোয়া করবে না। কারণ, নবীজি এমনই করেছেন। [সহিহ বুখারি]

রোগাক্রান্ত বা বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী বা দুর্বল মহিলারা রমি করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে কাউকে প্রতিনিধি বানাতে পারবেন। আর প্রতিনিধি প্রতিটি জামরাতে প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে সাতটি পাথরকণা নিক্ষেপ করবে। এরপর যার প্রতিনিধিত্ব করছে, তার পক্ষ থেকে সাতটি পাথরকণা নিক্ষেপ করবে।

১২ তারিখে রমি করার পর হাজি ইচ্ছা করলে মিনা থেকে চলে যেতে পারে। তবে যেতে হবে সূর্যাস্তের পূর্বে। আর চাইলে রাত্রি যাপন করে ১৩ তারিখে দ্বিপ্রহরের পর রমি করে আসবে। এটাই উত্তম। আল্লাহ্ ইরশাদ করেন— ۞ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ ۚ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ لِمَنِ اتَّقَى ۗ 'আর যে দুদিনের মধ্যে জলদি করে চলে যায়, তার কোনো গোনাহ হবে না। আর যে বিলম্ব করে, তারও কোনো গোনাহ হবে না, যে আল্লাহকে ভয় করে, তার জন্য।' [সূরা বাকারা : আয়াত: ২০৩]

আর যদি ১২ তারিখে মিনা হতে রওয়ানা হতে হতে সূর্যাস্ত হয়ে যায়, তা হলে তাকে বিলম্ব করতে হবে। রাত্রিও যাপন করতে হবে, এবং ১৩ তারিখের রমিও করতে হবে।

হজ্জ শেষ করার পর কেউ যদি নিজ শহরে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করে বা অন্য কোথাও সফর করার ইচ্ছা করে, তা হলে সফর করার পূর্বে তাকে বিদা'য়ি তাওয়াফ করতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px