📄 হজ্জ তিন প্রকার
তামাতু' : হজ্জে তামাতু'র মধ্যে হজ্জের মাসে [শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জের দশ দিন] প্রথমে উমরার নিয়্যত করবে। উমরা আদায় করার পর ইহরামের পোশাক খুলে ফেলবে, এবং হালাল হবে। এরপর যখন হজ্জের সময় হবে, তখন হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে।
ইফরাদ: ইফরাদ হল মিকাত থেকে শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধা। হজ্জের আহকাম শেষ করা পর্যন্ত ইহরামের ওপর থাকবে।
ক্বিরান: উমরা ও হজ্জ, দুটোর জন্য একসাথে ইহরাম বাঁধা। অথবা প্রথমে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধা, এরপর উমরার তাওয়াফ শুরু করার আগেই তার সাথে হজ্জ মিলিয়ে নেওয়া। অর্থাৎ মিকাতের মধ্যে অথবা উমরার তাওয়াফ শুরু করার আগে উমরা ও হজ্জ দুটোরই নিয়্যত করবে। আর দুটোর জন্য তাওয়াফ ও সা'য়ি করবে।
হজ্জে ক্বিরান ও হজ্জে তামাত্তু' পালনকারী যদি মসজিদে হারামের অধিবাসী না হয়, তা হলে একটি হাদি জবাই করবে।
এই তিন ধরনের হজ্জের মধ্যে সর্বোত্তম হল হজ্জে তামাতু'। এ ব্যাপারে অনেক প্রমাণ আছে। বিস্তারিত আলোচনার দিকে না গিয়ে সেগুলো আমি সামনে ব্যাখ্যা করব।
উমরার সময় এ বলে ইহরাম বাঁধবে : لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً। আর যদি হজ্জের ইহরাম হয়, তা হলে বলবে : الَبَّيْكَ اللَّهُمَّ حَبًّا
ইহরামের জন্য দু' রাকআত সালাত পড়তে হবে, এমন কোনো বিধান নেই। তবে যদি ফরজ সালাতের পর ইহরাম বাঁধে, তা হলে উত্তম। কারণ, নবীজি এরূপ করেছেন। [সহিহ মুসলিম]
আকাশপথে যাওয়ার সময় মিকাত বরাবর গেলেই ইহরাম বাঁধবে।
যদি কেউ পীড়াগ্রস্ত হয়, বা তার কঠিন কোনো উষর থাকে, যার কারণে হজ্জ বা উমরা পূর্ণ করার ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করে, তা হলে নিয়্যতের শব্দ বলার পর বলবে— إِنْ حَبَسَنِي حَابِسٌ فَمَحَلَّيْ حَيْثُ حَبَسَنِي মানে, কোনো বাধা এলে, যেখানে বাধা আসবে, সেটাই আমার হালাল হওয়ার জায়গা। এ কথা বলার লাভ হল, যদি কোনো বাধা এসে দাঁড়ায়, তা হলে কোনো ফিদয়া ছাড়াই উমরা থেকে হালাল হতে পারবে।