📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 ইহরামের আগের মুস্তাহাব

📄 ইহরামের আগের মুস্তাহাব


এক. গোসল করা। পরিচ্ছন্নতা অর্জনের জন্য এবং দুর্গন্ধ দূর করার জন্য গোসল করবে। এ কারণে ঋতুমতী ও নিফাস অবস্থায় আছে, এমন নারীর জন্যও তা মুস্তাহাব। কারণ, নবীজি আসমা বিনতে উমাইস-কে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ তিনি তখন নিফাস অবস্থায় ছিলেন। [সহিহ মুসলিম]

আর আয়েশা রাযি.-কে হজ্জের ইহরামের জন্য গোসলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন তিনি ঋতুমতী ছিলেন।

দুই. অতিরিক্ত চুল দূর করা। যেমন গোঁফ কাটা, বগলের নীচের ও নাভির নীচের পশম দূর করা।

তিন. দেহে সুগন্ধ লাগানো। আয়েশা রাযি. বলেন, ইহরাম বাঁধার পূর্বে ইহরামের জন্য এবং তাওয়াফ করার পূর্বে হালাল হওয়ার জন্য আমি রাসুল ﷺ-কে সুগন্ধ লাগিয়ে দিতাম। [সহিহ বুখারি, মুসলিম]

চার. সাধারণ পোশাক খুলে সাদা ও পরিষ্কার ইজার ও চাদর পরিধান করবে। তবে সাদা না হলেও জায়েয হবে।

মহিলাদের জন্য পোশাকের ক্ষেত্রে কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই। তাদের আবৃত করে, এমন যে কোনো পোশাকই তারা পরিধান করতে পারবে। তবে তাতে সৌন্দর্যপ্রদর্শন বা পুরুষের সাদৃশ্য থাকতে পারবে না। আর পোশাকের রঙের ব্যাপারেও কোনো শর্ত নেই। তবে নেকাব [যা দিয়ে মুখ ঢেকে ও চোখ খুলে রাখা হয়] ব্যবহার করতে পারবে না। তদ্রূপ হাতমোজাও ব্যবহার করবে না। নবীজি ইরশাদ করেছেন— মুহরিমা মহিলা নিকাবও ব্যবহার করবে না, মোজাও ব্যবহার করবে না। [সহিহ বুখারি]

তবে তারা নিকাব ছাড়া অন্য কোনো কিছু দিয়ে পরপুরুষ থেকে তাদের চেহারা ঢেকে রাখবে। যেমন একটুকরো কাপড় মুখের সামনে ঝুলিয়ে দেবে। আসমা বিনতে আবু বকর রাযি. বলেন, 'ইহরামের সময় আমরা পুরুষদের থেকে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম।' [হাকেম। তিনি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।]

এরপর মনে মনে উমরার নিয়্যত করবে। আর যা নিয়্যত করবে, তা উচ্চারণ করবে; বলবে— اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ بِالْعُمْرَةِ

সওয়ারির ওপর [গাড়ি ইত্যাদির ওপর] ভালভাবে বসার পর নিয়্যত উচ্চারণ করা উত্তম। আর যদি হজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, তা হলে যে প্রকারের হজ্জ করবে, সে অনুসারে তালবিয়া পড়বে।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 হজ্জ তিন প্রকার

📄 হজ্জ তিন প্রকার


তামাতু' : হজ্জে তামাতু'র মধ্যে হজ্জের মাসে [শাওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্জের দশ দিন] প্রথমে উমরার নিয়্যত করবে। উমরা আদায় করার পর ইহরামের পোশাক খুলে ফেলবে, এবং হালাল হবে। এরপর যখন হজ্জের সময় হবে, তখন হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে।

ইফরাদ: ইফরাদ হল মিকাত থেকে শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধা। হজ্জের আহকাম শেষ করা পর্যন্ত ইহরামের ওপর থাকবে।

ক্বিরান: উমরা ও হজ্জ, দুটোর জন্য একসাথে ইহরাম বাঁধা। অথবা প্রথমে উমরার জন্য ইহরাম বাঁধা, এরপর উমরার তাওয়াফ শুরু করার আগেই তার সাথে হজ্জ মিলিয়ে নেওয়া। অর্থাৎ মিকাতের মধ্যে অথবা উমরার তাওয়াফ শুরু করার আগে উমরা ও হজ্জ দুটোরই নিয়্যত করবে। আর দুটোর জন্য তাওয়াফ ও সা'য়ি করবে।

হজ্জে ক্বিরান ও হজ্জে তামাত্তু' পালনকারী যদি মসজিদে হারামের অধিবাসী না হয়, তা হলে একটি হাদি জবাই করবে।

এই তিন ধরনের হজ্জের মধ্যে সর্বোত্তম হল হজ্জে তামাতু'। এ ব্যাপারে অনেক প্রমাণ আছে। বিস্তারিত আলোচনার দিকে না গিয়ে সেগুলো আমি সামনে ব্যাখ্যা করব।

উমরার সময় এ বলে ইহরাম বাঁধবে : لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً। আর যদি হজ্জের ইহরাম হয়, তা হলে বলবে : الَبَّيْكَ اللَّهُمَّ حَبًّا

ইহরামের জন্য দু' রাকআত সালাত পড়তে হবে, এমন কোনো বিধান নেই। তবে যদি ফরজ সালাতের পর ইহরাম বাঁধে, তা হলে উত্তম। কারণ, নবীজি এরূপ করেছেন। [সহিহ মুসলিম]

আকাশপথে যাওয়ার সময় মিকাত বরাবর গেলেই ইহরাম বাঁধবে।

যদি কেউ পীড়াগ্রস্ত হয়, বা তার কঠিন কোনো উষর থাকে, যার কারণে হজ্জ বা উমরা পূর্ণ করার ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করে, তা হলে নিয়্যতের শব্দ বলার পর বলবে— إِنْ حَبَسَنِي حَابِسٌ فَمَحَلَّيْ حَيْثُ حَبَسَنِي মানে, কোনো বাধা এলে, যেখানে বাধা আসবে, সেটাই আমার হালাল হওয়ার জায়গা। এ কথা বলার লাভ হল, যদি কোনো বাধা এসে দাঁড়ায়, তা হলে কোনো ফিদয়া ছাড়াই উমরা থেকে হালাল হতে পারবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px