📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সিয়ামের কিছু আহকাম

📄 সিয়ামের কিছু আহকাম


কিছু সিয়াম অবিচ্ছিন্নভাবে পালন করতে হয়। যেমন রামাদানের সিয়াম, ভুল হত্যার কাফ্ফারার সিয়াম, এবং দিনের বেলায় স্ত্রীসহবাসের সিয়াম।

কিছু সিয়াম অবিচ্ছিন্নভাবে পালন করা জরুরি নয়। যেমন রামাদানের কাজা সিয়াম, কসমের কাফ্ফারার সিয়াম।

শুক্রবার একদিন সিয়াম পালন করতে নবীজি নিষেধ করেছেন। [সহিহ বুখারি]

দুই ঈদের দুই দিন এবং তাশরিকের দিনগুলোয় [১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্জ] সওম রাখা হারাম। কারণ, এগুলো হল কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন, পান করার দিন এবং আল্লাহ -র যিকিরের দিন। তবে হজ্জ পালনরত ব্যক্তি যদি হাদি [কুরবানীর পশু] না পায়, তা হলে মিনায় সওম রাখতে পারবে।

রামাদানের চাঁদ দেখা দ্বারা বা শা'বান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়া দ্বারা রামাদান সাব্যস্ত হবে।

বোধশক্তিসম্পন্ন, মুকিম, সামর্থ্যবান এবং বাধা [যেমন হায়েয নিফাস] হতে মুক্ত প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর সওম রাখা ফরজ। নিম্নে বর্ণিত তিনটি বিষয়ের একটি পাওয়া গেলে প্রাপ্তবয়স্ক হবে–
স্বপ্নদোষের কারণে বা অন্য কোনোভাবে বীর্যপাত হলে; নিম্নাঙ্গে পশম উঠলে; পনেরো বছর পূর্ণ হলে। মেয়েদের ব্যাপারে আরেকটি বিষয়ও আছে— হায়েয। হায়েয হলেও প্রাপ্তবয়স্কা হবে এবং তার ওপর সওম ওয়াজিব হবে।

সন্তানের বয়স সাত বছর হলে তাকে সওম রাখার নির্দেশ দেবে, যদি তার সওম রাখার শক্তি থাকে। তার সওমের সওয়াব সে-ও পাবে, তার পিতামাতাও পাবে।
রুবাই' বিনতে মুআওব্বেয বলেন, 'আমরা আমাদের বাচ্চাদের সওম রাখাতাম। তাদের জন্য তুলা দিয়ে খেলনা বানিয়ে রাখতাম। খাওয়ার জন্য কাঁদলে সেটা দিতাম। এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত।' [সহিহ বুখারি]

দিনের বেলা কোনো কাফের যদি মুসলমান হয়, বা কেউ প্রাপ্তবয়স্ক হয় বা উন্মাদের জ্ঞান ফিরে আসে, তা হলে তাদের জন্য বাকি দিন সওম পালনকারীর মত থাকা ওয়াজিব। কারণ, এখন তাদের ওপর সওম ওয়াজিব হয়েছে। আগের যেসব সওম বাদ গেছে, সেগুলোর কাজা আদায় করতে হবে না। অবশ্য যেদিনে ওয়াজিব হয়েছে, সেদিনের কাজা আদায় করলে ভাল।

উন্মাদের ওপর শরিয়তের হুকুম প্রযোজ্য নয়। কোনো ব্যক্তি যদি কখনও উন্মাদ থাকে, আর কখনও সজ্ঞান থাকে, তা হলে সজ্ঞান থাকার সময় সওম রাখা ওয়াজিব, উন্মাদ থাকার সময় ওয়াজিব নয়। যদি দিনের বেলা উন্মাদনা দেখা দেয়, তা হলে সওম বাতিল হবে না, যেমন রোগ ইত্যাদির কারণে অচেতন হয়ে পড়লে সওম বাতিল হয় না। কারণ, সওমের নিয়্যত করার সময় সে সজ্ঞান ছিল। মৃগীরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হুকুমও তদ্রূপ।

রামাদান মাসে কেউ মারা গেলে অবশিষ্ট সওমের ব্যাপারে তার ওপর বা তার অভিভাবকদের ওপর কিছুই ওয়াজিব হবে না।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 মুসাফিরের সওম

📄 মুসাফিরের সওম


মুসাফিরের জন্য সওম না রাখা জায়েয আছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন—
'যে রোগাক্রান্ত থাকবে বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোয় সওম পালন করবে।' [সূরায়ে বাকারা: আয়াত ১৮৫]

কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে সফরে সওম না রাখার অনুমতি আছে—
১. সফর [শরিয়তের পরিভাষা অনুযায়ী ৮০ কি.মি. দূরে সফর করার উদ্দেশ্যে] হতে হবে। [মাসআলাটি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে।]
২. শহরের সীমানা পেরিয়ে যেতে হবে। কাজেই শহর ত্যাগ করার আগে সওম না রাখার অনুমতি থাকবে না।

বিমানযোগে ভ্রমণ করলে বিমান শূন্যে ওঠার পর শহরের সীমানা পেরিয়ে গেলে এ অনুমতি থাকবে। বিমানবন্দর শহরের বাইরে হলে সেখানে সওম না রাখার অনুমতি থাকবে। আর যদি বিমানবন্দর শহরের মধ্যে হয় বা তৎসংলগ্ন হয়, তা হলে সওম ভাঙবে না। কারণ, সে শহরে আছে বলেই ধরে নেওয়া হবে।

সওম না রাখার কৌশল হিসেবে সফর হতে পারবে না।

মুসাফির ব্যক্তি সওম রাখার সামর্থ্য রাখুক বা না রাখুক, সওম তার জন্য কষ্টকর হোক বা না হোক, সর্বাবস্থায়ই তার জন্য সওম না রাখার অনুমতি আছে।

কোনো ব্যক্তি সূর্যাস্তের পর ইফতার করল। এরপর যখন বিমান শূন্যে উঠল, তখন সূর্য দেখা গেল, তা হলে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে না। কারণ, যে ইবাদত সে সম্পন্ন করে ফেলেছে, তা পুনরায় আদায় করতে হবে না।

সূর্যাস্তের পূর্বে যদি বিমান শূন্যে ওঠে, এবং ওই দিনের সওম পূর্ণ করার ইচ্ছা থাকে, তা হলে সূর্যাস্তের পরই ইফতার করবে, চাই সিয়াম পালনকারী যেখানেই থাকুক। সূর্যকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিমানকে মাটিতে নামিয়ে আনা জায়েয হবে না। কারণ, এটি একটি কৌশল বা বাহানা। তবে কোনো সুবিধার জন্য যদি বিমান অবতরণ করে, আর সেখান থেকে সূর্য দেখা না যায়, তা হলে ইফতার করবে। [ফতোয়ায়ে শায়খ ইবনে বায]

যে ব্যক্তি কোনো শহরে গিয়ে চার দিনের বেশি থাকার নিয়্যত করেছে, তার ওপর সওম ওয়াজিব। [মাসআলাটি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ আছে।] কাজেই যে ব্যক্তি পড়ালেখার জন্য কয়েক মাস বা কয়েক বছরের জন্য দেশের বাইরে থাকে, সে মুকিমের হুকুমে। তাকে সওমও রাখতে হবে, এবং সালাতও পুরো পড়তে হবে।

কোনো মুসাফির যদি সওম না রাখা অবস্থায় নিজের শহর ব্যতীত অন্য শহরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করে, তা হলে তাকে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে না। হ্যাঁ, যদি চার দিনের অধিক সময় থাকার নিয়্যত করে, তা হলে পানাহার থেকে বিরত থেকে সওম পালন করবে। কারণ, সে তখন মুকিমের হুকুমে।

যাদের বেশি বেশি সফর করতে হয়, যেমন দূতাবাসের কর্মচারি, টেক্সিড্রাইভার, বিমানের পাইলট, যদি তাদের সফর প্রাত্যহিক হয়, তা হলে তাদের জন্য সওম ভাঙার অনুমতি আছে। সে-ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কাজা করবে।

কোনো মুসাফির যদি সওম না রাখা অবস্থায় দিনের বেলা নিজ শহরে ফিরে আসে, তাকে বাকি দিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে কি না এ নিয়ে মতপার্থক্য আছে। সতর্কতার দাবি হল, পবিত্র মাসের সম্মানার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকা। আর সেটার কাজা আদায় করতে হবে।

কোনো ব্যক্তি নিজ শহরে সওম শুরু করল। এরপর মাসের শেষদিকে অন্য কোনো শহরে গেল। ওই শহরবাসীরা তার এক দিন আগে বা এক দিন পর সওম রেখেছে। তা হলে সে তাদেরই সাথে সওম রাখবে এবং ঈদ করবে, যদিও সওম ত্রিশ দিন হতে এক দিন বেশি হয়। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'সওম হল সেদিন, যেদিন তোমরা সওম রাখ, এবং ইফতার [সওম না রাখা] হল সেদিন, যেদিন তোমরা ইফতার কর।' [তিরমিযি, দারকুতনি]

আর যদি সওম ঊনত্রিশ দিন থেকে একদিন কম হয়, তা হলে ঈদের পর তা পূর্ণ করতে হবে। কারণ, হিজরি মাস ঊনত্রিশ দিনের কম হয় না। [ইবনে বায]

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 হিদায়াত

📄 হিদায়াত


তাবুত্তাওয়াবীনে ইবনে কুদামা আব্দুল ওয়াহেদ বিন যায়দ থেকে বর্ণনা করেন, আমি একটি নৌকায় ছিলাম। ঝড়ো হাওয়া আমাদের একটি দ্বীপে নিয়ে গেল। সেখানে এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম, মূর্তির পূজা করছে। তাকে বললাম, 'তুমি কিসের পূজা কর?' সে মূর্তির দিকে ইশারা করল। আমরা বললাম, 'আমাদের নৌকায় এমন ব্যক্তি আছে, যে এরূপ মূর্তি বানাতে পারে। আর এটা উপাসনাযোগ্য প্রভুও নয়।'

সে বলল, 'তা হলে তোমরা কার উপাসনা কর?'
আমরা বললাম, 'আল্লাহর।'
সে বলল, 'আল্লাহ কী?'
আমরা বললাম, 'তিনি সে সত্তা, আকাশে যার সিংহাসন, জমিনে তার রাজত্ব, মৃত ও জীবিতদের ওপর তার হুকুম চলে।'
সে বলল, 'এটা তোমরা কীভাবে জানলে?'
আমরা বললাম, 'ওই বাদশাহ আমাদের নিকট একজন দয়ালু রাসুল পাঠিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে এসব জানিয়েছেন।'
সে বলল, 'রাসুলের কী হয়েছে?'
আমরা বললাম, 'তিনি রিসালতের দায়িত্ব আদায় করেছেন। এরপর আল্লাহ তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন।'
সে বলল, 'তোমাদের নিকট কি তিনি এর কোনো নিদর্শন রেখে যাননি?'
আমরা বললাম, 'রেখে গেছেন। ওই বাদশাহর কিতাব রেখে গেছেন।' সে বলল, 'ওই কিতাবটি আমাকে দেখাও। তা অবশ্যই সুন্দর একটি কিতাব হবে।'

আমরা তার নিকট কুরআন নিয়ে এলাম। সে বলল, 'আমি এটা পড়তে পারি না।' আমরা তাকে কুরআনের একটি সূরা পড়ে শোনালাম। আমরা পড়ছিলাম, আর সে কাঁদছিল। এভাবে সূরা শেষ করলাম।

সে বলল, 'এ কালাম যার, তার নাফরমানি করা ঠিক হবে না। এরপর সে ঈমান আনল।'

তাকে আমরা সাথে করে নিলাম। শরিয়তের আহকাম শেখালাম। কুরআনের কিছু সূরা শেখালাম। সঙ্গে করে নৌকায় নিয়ে নিলাম। সফর শুরু হল। রাত গভীর হলে আমরা ঘুমাতে গেলাম। সে আমাদের জিজ্ঞাসা করল, 'আরে ভাই! তোমরা আমাকে যে উপাস্যের কথা বলেছ, রাত গভীর হলে তিনি কি ঘুমান?'

আমরা বললাম, 'না, হে আল্লাহর বান্দা! তিনি মহান, চিরস্থায়ী; তিনি ঘুমান না।'

সে বলল, 'তা হলে নিকৃষ্ট বান্দা তোমরা! তোমরা ঘুমাচ্ছ, অথচ তোমাদের প্রভু ঘুমান না।'

এ কথা বলে আমাদের ছেড়ে সে ইবাদতে লেগে গেল।

আমরা আমাদের শহরে পৌঁছলে সঙ্গীদের বললাম, 'এ তো নতুন মুসলমান হয়েছে। আর শহরটাও তার অপরিচিত।' কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তাকে দিলাম।

সে বলল, 'এসব কী?'
আমরা বললাম, 'এগুলো তুমি তোমার প্রয়োজনে ব্যয় কোরো!'

সে বলে উঠল, لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ আমি সমুদ্রের একটি দ্বীপে থেকে মূর্তির পূজা করেছি। তিনি তখন আমাকে বরবাদ করেননি। আর যখন আমি তাকে চিনতে পেরেছি, তখন কি তিনি আমাকে বরবাদ হতে দেবেন? এ কথা বলে নিজেই নিজের উপার্জনে লেগে গেল। পরবর্তীতে সে মস্ত বড় এক নেককার ব্যক্তি হল।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 পীড়িত ব্যক্তির সওম

📄 পীড়িত ব্যক্তির সওম


পীড়াগ্রস্ত ব্যক্তি, যার জন্য সওম রাখা কষ্টকর, তার জন্য সওম না রাখা জায়েয আছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন—
'যে রোগাক্রান্ত থাকবে বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোয় সওম পালন করবে।' [সূরায়ে বাকারা: আয়াত ১৮৫]

সামান্য রোগ, যেমন সর্দি, মাথাব্যথা, এগুলোর কারণে সওম ভাঙা জায়েয হবে না।

যদি সওম রাখলে রোগ বৃদ্ধি পায়, বা নিরাময় হতে বিলম্ব হয়, বা দিনের বেলায় ঔষধ খেতে হয়, তা হলে সওম না রাখা জায়েয আছে। বরং সওম রাখা মাকরূহ। আল্লাহ ইরশাদ করেন—
'আল্লাহ তোমাদের ওপর সহজ করতে চান; তোমাদের ওপর কঠিন করতে চান না।' [সূরায়ে বাকারা: আয়াত ১৮৫]

সওম রাখলে যদি কেউ অচেতন হয়ে পড়ে, পুরো দিন সওম রাখা না যায়, তা হলে সওম ভঙ্গ করবে এবং পরবর্তীতে কাজা করবে।

যদি সওমেরত অবস্থায় দিন শুরু হয়, কিন্তু সিয়াম পালনকারী দিনের বেলা অচেতন হয়ে পড়ে, আর সূর্যাস্তের পূর্বে বা পরে হুঁশ ফিরে আসে, তা হলে তার সওম শুদ্ধ হবে, যদি এর মধ্যে সে পানাহার না করে থাকে।

কেউ যদি অচেতন হয়ে পড়ে, বা তাকে কোনো কারণে অনুভূতিনাশক ঔষধ দেওয়া হয়, এবং সে অসাড় হয়ে পড়ে, তা যদি তিন দিন বা তিন দিনের কম হয়, তা হলে এ দিনগুলোর সওম কাজা করবে, ঠিক ঘুমিয়ে থাকা ব্যক্তির মত। আর যদি তিন দিনের অধিক হয়, তা হলে সেগুলোর কাজা আদায় করতে হবে না, ঠিক উন্মাদনার কারণে অজ্ঞান ব্যক্তির মত। [ইবনে বায]

যে রোগের নিরাময় হওয়ার আশা করা যায়, তার নিরাময় হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। সওম রাখা কষ্টকর হলে সওম রাখবে না; পরে কাজা করে নেবে।

আর পুরাতন রোগের রোগী, যার সুস্থতা লাভের আশা নেই, বা যে বয়োবৃদ্ধ, সওম রাখতে বা কাজা করতে সক্ষম নয়, তার প্রতিটি সওমের জন্য শহরের প্রচলিত খাবার থেকে আধা ছা' করে দান করবে।

যে রোগী রামাদানের কিছু সওম ভেঙেছে, এবং সুস্থ হয়ে কাজা রাখার আশায় আছে, এরপর জানতে পেরেছে, তার রোগ দীর্ঘস্থায়ী, এবং সে কখনও কাজা রাখতে পারবে না, প্রতিটি কাজা সওমের জন্য সে একজন মিসকিনকে খাওয়াবে।

যে ব্যক্তি আরোগ্যযোগ্য রোগে সুস্থ হওয়ার আশাবাদী ছিল, কিন্তু কাজা আদায় করার সময় পাওয়ার আগেই মারা গেছে, তার ওপর বা অভিভাবকদের ওপর কোনো কিছুই ওয়াজিব হবে না। যেমন পঁচিশে রামাদানে কারও অস্ত্রোপচার হল; আর কাজা করার নিয়্যতে বাকি দিনগুলো সওম রাখল না। ত্রিশে রামাদান সে মারা গেল। তা হলে তার পরিবারের লোকদের ওপর তার পক্ষ থেকে মিসকিনকে খাওয়ানো আবশ্যক হবে না।

কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে সওম ভঙ্গ করল। এরপর সুস্থ হল। কাজা রাখার সুযোগ পেল। কিন্তু কাজা রাখল না। অলসতা করল। এরপর মারা গেল। তা হলে তার সম্পদ থেকে প্রতিটি সওমের জন্য এক মিসকিনের খাবার দান করতে হবে। তার আত্মীয়দের কেউ যদি তার পক্ষ থেকে দান করে দেয়, তা হলে আরও ভাল। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'কেউ যদি মারা যায়, আর তার ওপর সওম থাকে, তা হলে তার ওলি [অভিভাবক] তার পক্ষ থেকে সওম রাখবে।' [সহিহ বুখারি, মুসলিম]

যেমন, রামাদানের পঁচিশ তারিখে কারও অস্ত্রোপচার হল। ত্রিশ তারিখে সে সুস্থ হল। কিন্তু কাজা রাখতে অলসতা করল। এরপর যিলহজ্জ মাসে সে মারা গেল। তা হলে তার পরিবারের লোকজন তার পক্ষ থেকে সওম রাখবে বা খাবার খাওয়াবে।

কোনো ব্যক্তি রোগাক্রান্ত ছিল। তার রোগ স্থায়ী ধরে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সে সওম রাখেনি, বরং তার পক্ষ থেকে মিসকিনকে খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসাশাস্ত্রে উন্নতি ঘটল। তার রোগের ঔষধ আবিষ্কার হল। তা ব্যবহার করে সে সুস্থতা লাভ করল। তা হলে আগের সওমগুলো তার কাজা করতে হবে না। কারণ, তখন তার যা করণীয় ছিল, সে তা করেছে। [আল্লাজনাতুদ্দায়েমা]

প্রচণ্ড ক্ষুধা বা তৃষ্ণার কারণে ভয় হল, পানাহার না করলে মারাই যাবে। তা হলে সে সওম ভঙ্গ করবে এবং পরবর্তীতে কাজা রাখবে।

সহনীয় পর্যায়ের ক্ষুধা-তৃষ্ণা হলে বা ক্লান্তি অনুভব হলে বা রোগ হওয়ার কল্পনা হলে সওম ভাঙ্গা জায়েয হবে না।

যারা কঠোর পরিশ্রম করে, যেমন কামার, কাঠুরে বা সড়ক-কর্মচারি, এদের জন্য সওম ভঙ্গ করা জায়েয হবে না। যদি সওম তাদের ক্ষতি করে এবং দিনের বেলা তাদের মৃত্যুর আশঙ্কা হয়, তা হলে তারা তাদের কষ্ট লাঘব করার পরিমাণ পানি বা খাবার খাবে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আর কিছুই খেতে পারবে না। আর পরবর্তীতে কাজা রাখবে। এরূপ কঠোর পরিশ্রম যাদের করতে হয়, তাদের জন্য রাতের শিফটে কাজ করার ব্যবস্থা করা চাই।

ছাত্রদের পরীক্ষার অজুহাতে সওম ভঙ্গ করা জায়েয হবে না।

মিসকিনকে দুভাবে খাওয়ানো যেতে পারে— মাসের শেষে একই দিনে ত্রিশজন মিসকিনকে খাওয়ানো যেতে পারে, আবার প্রতিদিন একজনকে খাওয়ানো যেতে পারে।

অতিশয় বয়োবৃদ্ধ ও সওম রাখতে অক্ষম ব্যক্তি, দৈহিক দুর্বলতার কারণে যার জন্য সওম রাখা কষ্টকর, তার জন্য সওম রাখা জরুরি নয়। প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনতে খাওয়াবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px