📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত আদায়ের পদ্ধতি

📄 ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত আদায়ের পদ্ধতি


বছরশেষে হিসাব করবে, তার নিকট যে পণ্য আছে, সেগুলো বিক্রয় করলে কত পাওয়া যাবে। ওই পরিমাণ মূল্যের যাকাত আদায় করবে। যেমন, কারও দোকানে কিছু পণ্য আছে [সে-পণ্য খাদ্য, বস্ত্র, গাড়ি, আসবাবপত্র, যা-ই হোক], আর সেগুলোর ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। দেখতে হবে, এখন এগুলোর বাজারমূল্য কত। ওই মূল্যের যাকাত আদায় করতে হবে। যদি মূল্য এক হাজার রিয়াল হয়, তা হলে শতকরা আড়াই ভাগ হারে পঁচিশ রিয়াল যাকাত আদায় করবে।

বছরের মধ্যখানে যা বৃদ্ধি পাবে, মূলধনের বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে সেটারও বছর পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেবে।

উদাহরণ- ১
বছরের শুরুতে কেউ দোকান খুলল, এবং সেখানে এক হাজার রিয়ালের পণ্য রাখল। পুরো বছর বেচাকেনা করল। বছরশেষে দেখল, দোকানে যা আছে, সেগুলোর মূল্য হল পনেরো শ' রিয়াল। এখন পনেরো শ' রিয়ালের যাকাত আদায় করবে।

উদাহরণ- ২
একব্যক্তির ঔষধের দোকান আছে। বছর শেষ হলে যাকাত আদায় করতে হবে। যাকাত আদায়ের সময় সেগুলোর বর্তমান মূল্য ধরে নিয়ে যাকাত আদায় করবে, ক্রয়মূল্য ধরে নয়।

যেসব বস্তু বিক্রয়ের জন্য নয়, সেগুলোর যাকাত দিতে হবে না। যেমন দোকানের জিনিসপত্র, টেলিফোন, ফ্রিজ, গাড়ি, রুটি বানানোর উপকরণ। এগুলোর যাকাত দিতে হবে না। ব্যবসায়ী তার বিক্রয়ের পণ্যগুলোর মূল্য নির্ধারণ করে সেগুলোর ওপর শতকরা আড়াই ভাগ হারে যাকাত আদায় করবে। পণ্যের যাকাত পণ্য থেকে দেবে না। বরং সেটার মূল্য ধরে নেবে। কারণ, এর দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে মূল্য। তবে যদি পণ্য দিয়েই যাকাত আদায় করে, এবং যাকে যাকাত দেবে, তারও এটার দরকার হয়, তা হলে জায়েয হবে।

জমিজমা, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদিতে যাকাত নেই। তবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখলে যাকাত দিতে হবে। যদি সংগ্রহ বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়, তা হলে যাকাত দিতে হবে না। নবীজি ইরশাদ করেছেন— لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ صَدَقَةٌ فِي عَبْدِهِ وَلَا فِي فَرَسِهِ মুসলমানের গোলাম বা ঘোড়ায় যাকাত নেই। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

তবে জমিন, বাড়ি বা গাড়ি যদি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয়, তা হলে বছর পূর্ণ হলে যাকাত দিতে হবে। আর বছর শুরু হবে তখন থেকে, যখন এগুলো বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কারও কোনো জমিন আছে, আর সে তা বিক্রয়ের চিন্তাভাবনা করছে, কিন্তু বিক্রয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এরূপ ক্ষেত্রে যাকাত দিতে হবে না। তদ্রূপ কেউ কোনো জমিন কিনল। আর দীর্ঘ দিন পর বিক্রয় করারও ইচ্ছা আছে। কিন্তু এখনই বিক্রয় করছে না, বা বিক্রয় করার প্রস্তাব দেয়নি, বা সেটা দামাদামিও করা হয়নি। তা হলে যাকাত দিতে হবে না। যখন বিক্রয়ের প্রস্তাব দেবে, তখনই যাকাত দেবে।

কারও ওপর যাকাত ওয়াজিব হল। কিন্তু যাকাত আদায়ের আগেই তার মৃত্যু হয়ে গেল। তা হলে তার পরিত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে যাকাত আদায় করতে হবে। মৃত্যুর কারণে যাকাত রহিত হয়ে যাবে না।

যেসব প্রাসাদ বা ঘরবাড়ি কিংবা জায়গাজমিন ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নয়, সেগুলোর ভাড়ার ওপর বছর পেরিয়ে গেলে যাকাত দিতে হবে, সেই ঘরবাড়ি বা জায়গাজমির যাকাত দিতে হবে না। তদ্রূপ প্রাইভেট গাড়ি ও টেক্সির মূল্যের ওপর যাকাত আসবে না, যদি সেগুলো বিক্রয়ের জন্য না হয়, বরং নিজের ব্যবহারের জন্য হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px