📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 ঈদের সালাতের দলিল

📄 ঈদের সালাতের দলিল


আল্লাহ ইরশাদ করেন— فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر ‘তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করো, এবং কুরবানি করো।’ [সূরা কাউসার: ২] অর্থাৎ ঈদের সালাত পড়ো। এরপর তোমার কুরবানির পশু জবাই করো।

নবীজি সর্বপ্রথম ঈদুল ফিতরের সালাত পড়েন দ্বিতীয় হিজরিতে। এরপর থেকে আমৃত্যু তিনি ঈদের সালাত আদায় করেন, কখনও বাদ দেননি।

শহরের নিকটবর্তী মাঠে ঈদের সালাত সুন্নাত। কারণ, নবীজি মদিনা প্রবেশের মুখে যে মাঠ রয়েছে, সেখানে ঈদের সালাত পড়তেন। তবে মক্কা এই হুকুমের ব্যতিক্রম। সেখানে মসজিদে হারামেই ঈদের সালাত পড়বে। ঈদের সালাত পড়ার জন্য মাঠে এসে ঈদের সালাত ব্যতীত অন্য কোনো সালাত পড়বে না।

সূর্যোদয়ের ১৫ মিনিট পরই ঈদের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর তা সূর্য ঢলে যাওয়া [যোহরের ওয়াক্ত হওয়া] পর্যন্ত বাকি থাকে। ঈদুল আজহার সালাত তাড়াতাড়ি পড়ে নেওয়া সুন্নাত। এতে সালাত শেষ করে মানুষ কুরবানি করতে পারবে। আর ঈদুল ফিতরের সালাত বিলম্ব করা সুন্নাত। তা হলে ঈদ আসার আগেই প্রত্যেকে নিজ নিজ ফিতরা আদায় করে আসার যথেষ্ট সময় পাবে।

ঈদুল ফিতরের সালাতে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ঈদুল আজহার দিন সালাতের আগে কিছু না খাওয়া সুন্নাত। কারণ, নবীজি ঈদুল ফিতরের দিনে কিছু না খেয়ে বের হতেন না। আর ঈদুল আজহার দিনে সালাতের আগে কিছু খেতেন না। [মুসনাদে আহমাদ]

ঈদের সালাতের জন্য সাজগোজ করা সুন্নাত। নবীজি-এর একজোড়া পোশাক ছিল, যেগুলো তিনি দুই ঈদ ও জুম'আর দিন পরিধান করতেন। ইবনে আব্বাস ঈদের দিন তার সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরিধান করতেন।

ঈদের সালাত দু' রাকআত। খুতবার আগে পড়তে হবে। এই সালাতে আযান-ইকামত নেই। হাদিসে আছে— كَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخُلَفَاؤُهُ يُصَلُّوْنَ الْعِيدَيْنِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ নবীজি ও খুলাফায়ে রাশেদিন খুতবার আগে ঈদের সালাত পড়তেন। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

ঈদের সালাতের পর খুতবা পড়া সুন্নাত। আর তা মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি

📄 ঈদের সালাত আদায়ের পদ্ধতি


প্রথমে তাকবিরে-তাহরিমা বাঁধবে। এরপর সানা পড়বে। এরপর ছয় তাকবির বলবে।³⁰ এখানে তাকবিরে তাহরিমা সালাতের রুকন। বাকি তাকবিরগুলো সুন্নাত।³¹ এরপর সূরায়ে ফাতিহা পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকআতে ক্বিরাআতের আগে পাঁচটি তাকবির বলবে।³² প্রত্যেক তাকবিরের সাথে হাত উঠাবে। কারণ, নবীজি প্রত্যেক তাকবিরের সাথে হাত উঠাতেন। ইবনে কাইয়্যেম বলেন, প্রতি দু' তাকবিরের মাঝে নবীজি সামান্য বিরতি দিতেন। এ সময় কোনো দোয়া পড়েছেন বলে বর্ণিত নেই।

ক্বিরাআত শুরু করার পর কেউ যদি সালাতে শরিক হয়, তা হলে সে শুধু তাকবিরে তাহরিমার একটি তাকবির বলবে।³³

ঈদের সালাত দু' রাকআত। এই সালাতের ক্বিরাআত উচ্চ স্বরে পড়বে। নবীজি প্রথম রাকআতে সূরায়ে আ'লা এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরায়ে গাশিয়াহ পড়তেন। [মুসনাদে আহমাদ] অথবা প্রথম রাকআতে সূরায়ে ক্বাফ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরায়ে কামার পড়বে। [সহিহ মুসলিম]

সালাত শেষ করার পর দুটি খুতবা পাঠ করবে। দুটোর মাঝখানে বসবে। এরপর লোকজন চলে যাবে। এই সালাতের পর কোনো সালাত নেই।

ঈদের সালাতে মেয়েদের আসা মুস্তাহাব।

যে ব্যক্তি ঈদের সালাত মোটেই পায়নি বা কিছুটা পায়নি, সে দু' রাকআত কাজা আদায় করবে।³⁴ এবং তাকবির সহকারে আদায় করবে। এসে যদি দেখতে পায়, ইমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছেন, তা হলে খুতবা শোনার জন্য বসে পড়বে। খুতবা শেষ হলে সালাত পড়ে নেবে। কাজা একাকীও পড়া যাবে; আবার জামাআতের সাথেও পড়া যাবে।

টিকাঃ
৩০. হানাফী আলেমদের মতে, তিন তাকবির বলবে।
৩১. হানাফী আলেমদের মতে, ওয়াজিব।
৩২. হানাফী আলেমদের মতে, দ্বিতীয় রাকআতে রুকুর আগে অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলবে।
৩৩. হানাফী আলেমদের মতে, ঈদের তাকবিরও বলতে হবে।
৩৪. হানাফী আলেমদের মতে, ঈদের সালাতের কাজা নেই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px