📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সত্তর বছর সালাত ফউত হয়নি!

📄 সত্তর বছর সালাত ফউত হয়নি!


সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ যদি কখনও জামাআতে সালাত পড়তে না পারতেন, তিনি ক্রন্দন করতেন।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব-র চল্লিশ বছর এমন অতিবাহিত হয়েছে যে, যখন সালাতের আযান হত, তিনি মসজিদেই থাকতেন।

ইমাম আ'মাশ-র প্রায় সত্তর বছর এমন কেটেছে যে, এর মধ্যে তার তাকবিরে-উলা ছোটেনি।

সুলাইমান মুকাদ্দেসি-কে জামাআতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তার বয়স প্রায় নব্বই। তিনি বললেন, 'দু' ওয়াক্ত সালাত ছাড়া কখনও আমি ফরজ সালাত একাকী পড়িনি। ওই দু' ওয়াক্তের ব্যাপারে আমার মনে হয়, যেন আমি ওই সালাত পড়িইনি।'

হাতেমে আসাম্ম বলেন, 'একবার আমি জামাআত পাইনি। এতে একমাত্র আবু ইসহাক বুখারিই আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। অথচ আমার কোনো সন্তান মারা গেলে দশ হাজারের বেশি লোক আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত।'

রবি' বিন খাইসাম রহ.-র দেহ সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে গিয়েছিল। পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দু' ব্যক্তির ওপর ভর করে তাকে মসজিদে নেওয়া হত। সঙ্গীরা জিজ্ঞাসা করতেন, 'আবু ইয়াজিদ! আল্লাহ তোমার জন্য অবকাশ রেখেছেন। ঘরেই যদি সালাত পড়ে নিতে...।' তিনি বলতেন, 'আমি শুনতে পাই, মুআয্যিন ডাকছেন— حَيَّ عَلَى الْفَلَاح [কল্যাণের দিকে দৌড়ে এসো!] তোমাদের কেউ যদি কল্যাণের দিকে যাওয়ার আহ্বান শোনে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে সাড়া দেওয়া চাই।'

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 মৃত্যুর বিছানায়

📄 মৃত্যুর বিছানায়


বিশিষ্ট আবেদ ও জাহেদ আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস-র মৃত্যুর সময় তার যন্ত্রণা বেড়ে গিয়েছিল। তিনি যখন দ্রুত শ্বাস নিতে লাগলেন, তা দেখে তার মেয়ে কাঁদতে লাগলেন। তিনি বললেন, ‘বেটি, কেঁদো না! এ ঘরেই আমি চার হাজার বার কুরআন খতম করেছি। সবক’টা খতমই করেছি এই পরিস্থিতির জন্য।’

আমের বিন আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর। মৃত্যুশয্যায় শায়িত। শেষ ক’টি শ্বাস গণনা করছেন। পাশে বসে পরিবারের লোকজন কাঁদছে। মৃত্যুর ওপারে যাওয়ার উপক্রম করছেন এমন সময় তিনি আযান শুনতে পেলেন। মাগরিবের আযান দিয়েছেন মুআয্যিন। পাশে উপবিষ্ট লোকদের তিনি বললেন, ‘আমার দু’ হাত ধরো।’ তারা বললেন, ‘কোথায় যাবেন?’ তিনি বললেন, ‘মসজিদে।’ তারা বললেন, ‘এই অবস্থায়!’ তিনি বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! সালাতের ডাক শুনতে পাব, আর তাতে সাড়া দেব না? আমার হাত ধরো!’ তারা তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলেন। ইমামের সাথে এক রাকআত পড়লেন। এরপর সেজদার মধ্যেই বিদায় হলেন। হ্যাঁ! সেজদারত অবস্থায়ই তার মৃত্যু হল।

আব্দুর রহমান বিন আসওয়াদের মৃত্যুক্ষণ। তিনি কাঁদছেন। জিজ্ঞাসা করা হল, ‘কান্নার কারণ কী? আপনি ...। আপনি ...।’ অর্থাৎ সালাত-ইবাদত-বিনয়-যুহদে তো আপনি অনন্য। তিনি বললেন, ‘খোদার কসম! আমি আমার সালাত-সিয়ামের ওপর আক্ষেপ করে কাঁদছি। এরপর তিনি তেলাওয়াত করতে লাগলেন। আর এই অবস্থায়ই তার মৃত্যু হল।’

ইয়াজিদ রাক্কাশি তার মৃত্যুর সময় এ বলে কাঁদতে লাগলেন, 'ইয়াজিদ! তুমি মারা গেলে তোমার জন্য সালাত পড়বে কে? তোমার জন্য সিয়াম রাখবে কে? কে তোমার গোনাহ মাফের দরখাস্ত করবে? এরপর তিনি কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।'

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সাত হাজার দেরহাম ... জেল হতে খালাস!!

📄 সাত হাজার দেরহাম ... জেল হতে খালাস!!


ঘটনাটি তারিখে বাগদাদ কিতাবে বর্ণিত আছে। এক দরিদ্র ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন মুবারক-র নিকট এল। জানাল, সে ঋণগ্রস্ত। অনুরোধ করল, তিনি যেন ঋণটা আদায় করে দেন। একটি চিঠি লিখে তিনি তার হাতে দিলেন এবং তাকে তার মুনশির নিকট যেতে বললেন। লোকটি চিঠিটি নিয়ে তার নিকট গেল। মুনশি চিঠিটি পড়ল। এরপর ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করল, 'কত টাকা ঋণ আদায়ের কথা তুমি তাকে বলেছিলে?' সে বলল, 'সাতশ' দেরহাম।' মুনশি তার নিকট একটি চিঠি লিখল, 'লোকটা আপনার নিকট সাতশ' দেরহামের কথা বলেছে। আর আপনি সাত হাজার দেরহামের কথা লিখেছেন। এভাবে অল্পদিনেই সব মাল শেষ হয়ে যাবে।'

আব্দুল্লাহ বিন মুবারক লিখে পাঠালেন, 'মাল যদি শেষ হয়ে যায়, তা হলে জীবনও তো শেষ হয়ে যাবে। কাজেই আমার কলম যা লিখেছে, তা-ই আদায় করো।'

আব্দুল্লাহ বিন মুবারক প্রায়ই রিক্কা যেতেন। একটি সরাইখানায় অবস্থান করতেন। এক যুবক এসে তার সেবা করত। তার প্রয়োজন মেটাত। তার থেকে হাদিস শুনত।

একবার তিনি রিক্কায় এলেন। কিন্তু যুবকটিকে দেখতে পেলেন না। জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন, সে বন্দী। অনেক ঋণী হয়ে পড়েছে সে। তাই তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলেন, 'ঋণের পরিমাণ কত?' লোকেরা জানাল, 'দশ হাজার দেরহাম।' আব্দুল্লাহ বিন মুবারক পাওনাদারকে খোঁজ করতে লাগলেন। খুঁজতে খুঁজতে একসময় তাকে পেয়েও গেলেন। তিনি রাতে তাকে ডেকে আনলেন। দশ হাজার দেরহাম তাকে দিয়ে বললেন, 'সে যেন এটা কাউকে না জানায়, যত দিন তিনি বেঁচে থাকেন।' আর বললেন, 'ভোর হলে তাকে মুক্ত করে দেবে।' এরপর আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রাতেই রিক্কা ত্যাগ করলেন।

যুবকটি কয়েদখানা থেকে মুক্ত হলে তাকে জানানো হল, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক এসেছিলেন। তোমার খোঁজ করেছিলেন। যুবক তার পিছনে পিছনে ছুটল। রিক্কা হতে দু'-তিন মনযিল দূরে গিয়ে তার সাক্ষাৎ পেল। আব্দুল্লাহ বিন মুবারক জিজ্ঞাসা করলেন, 'যুবক! কোথায় ছিলে? সরাইখানায় দেখিনি।' যুবক বলল, 'ঋণের কারণে কয়েদ ছিলাম।' তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'মুক্তি পেলে কীভাবে?' সে বলল, 'একব্যক্তি এসে ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে। তাকে চিনতে পারিনি।' আব্দুল্লাহ বিন মুবারক বললেন, 'আল্লাহ যে তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, তার জন্য তার শোকর করো।' এরপর তিনি তার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে

📄 তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে


রামাদানের সিয়াম ফরজ। আল্লাহ ইরশাদ করেন—
'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।' [সূরা বাকারা: আয়াত: ১৮৩]

নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন—
'ইসলামের বুনিয়াদ হল পাঁচটি... রামাদানের সিয়াম।' [সহিহ বুখারি]

সিয়ামের ফজিলত:
কিয়ামতের দিন সওম সিয়াম পালনকারীর জন্য সুপারিশ করবে। বলবে—
'হে প্রভু! তাকে আমি দিনের বেলায় খাবার ও প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করো।' [মুসনাদে আহমাদ]

'সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ [যা উপোস থাকার কারণে হয়] আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধ থেকেও অধিক সুগন্ধযুক্ত।' [সহিহ মুসলিম]

'যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় থাকাকালে এক দিন সিয়াম রাখে, আল্লাহ তাকে এর ফলে জাহান্নামের আগুন থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখেন।' [সহিহ মুসলিম]

'জান্নাতে একটি দরজা আছে। সেটার নাম রাইয়্যান। সেখান দিয়ে শুধু সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে, অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তারা প্রবেশ করলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ফলে আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না।' [সহিহ বুখারি]

রামাদান মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাস হতেও উত্তম।

'আর রামাদান মাস এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।' [সহিহ বুখারি]

রামাদান মাসের সিয়াম দশ মাসের সিয়ামের সমান।

'যে ব্যক্তি রামাদানে ঈমান সহকারে সওয়াবের নিয়্যতে সিয়াম রাখবে, তার অতীতের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।' [সহিহ বুখারি]

'প্রত্যেক ইফতারের সময় আল্লাহ জাহান্নাম হতে অনেককে মুক্ত করে দেন।' [মুসনাদে আহমাদ]

যে ব্যক্তি কোনো উযর ছাড়া রামাদানের একটি সিয়াম ভঙ্গ করল, সে বিরাট কবিরা গোনাহ করল। রাসুল যখন বিভিন্ন পাপে পাপীদের শাস্তিসম্পর্কিত স্বপ্নের আলোচনা করছিলেন, তখন বলেছিলেন—
'আমি যখন পাহাড়ের মধ্যখানে গেলাম, তখন বিকট চিৎকার শুনতে পেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম, 'এটা কিসের আওয়াজ?' তারা বলল, 'এটা হল জাহান্নামিদের চিৎকার'। এরপর আমাকে নিয়ে রওয়ানা হল। সেখানে একটি দল দেখতে পেলাম, যাদের হাঁটু বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের চোয়াল ছেঁড়া; সেখান থেকে রক্ত বয়ে পড়ছে। আমি বললাম, 'এরা কারা?' বলল, 'এরা হল সে-সব লোক, যারা সময়ের আগেই ইফতার করেছে। অর্থাৎ এরা সিয়াম পালন করত না'।' [ইবনে খুযাইমা]

ফন্ট সাইজ
15px
17px