📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 জামায়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত

📄 জামায়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত


নবীজি ইরশাদ করেছেন— صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَةٌ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً একাকী সালাত আদায় করা থেকে জামাআতের সালাতের সওয়াব সাতাশ গুণ বেশি। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— إِنَّ أَثْقَلَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ ، وَصَلَاةُ الْفَجْرِ ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْرًا মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে ভারী সালাত হল ইশার সালাত ও ফজরের সালাত। ওই দুই সালাতে কী সওয়াব আছে, তা যদি তারা জানত, তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

ইবনে আব্বাস রাযি.-কে একব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল, যে রাত জেগে নফল পড়ে এবং দিনের বেলায় সওম রাখে, কিন্তু জামাআতে আসে না। তিনি বললেন, 'সে জাহান্নামে যাবে।'

তবে কোনো উযর থাকলে জামাআতে আসার হুকুম রহিত হয়ে যায়।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 ওদের ঘর তো পুড়েই যাচ্ছিল!

📄 ওদের ঘর তো পুড়েই যাচ্ছিল!


সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'সে-সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি ইচ্ছে করেছি, কিছু জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেব, আর তা সংগ্রহ করা হবে। এরপর সালাতের নির্দেশ দেব, আর তার জন্য আযান দেওয়া হবে। এরপর একজনকে নির্দেশ দেব, সে লোকদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করবে। এরপর আমি [যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি] ওই লোকদের নিকট যাব এবং তাদের সামনেই তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেব। সে-সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! তাদের কেউ যদি জানতে পারত যে, [মসজিদে এলে তারা গোশত ছাড়ানো] একটি মোটা হাড় পাবে, বা দুটি সুন্দর খুর পাবে, তা হলে অবশ্যই ইশার সালাতে উপস্থিত হত।'

এতে ইবনে উম্মে মাকতুম দাঁড়ালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি অন্ধ। ঘরও অনেক দূর। আমাকে আনার মতও কেউ নেই। আমার কি বাড়িতে সালাত পড়ার অনুমতি আছে?' তিনি জিজ্ঞাসা করলেন—
'তুমি কি আযান শুনতে পাও?'

তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তা হলে সালাতে এসো।'

তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমার ও মসজিদের মধ্যে খেজুরবাগান আছে, গাছ-গাছাড়ি আছে। আর আমাকে ধরে আনার মত কেউ নেই।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তুমি কি ইক্বামত শুনতে পাও?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তা হলে উপস্থিত হও।'

তাকে বাড়িতে সালাত পড়ার অনুমতি দেননি।

সহিহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ হতে বর্ণিত আছে, 'যে ব্যক্তির এই বিষয়টি ভাল লাগে যে, আগামীকাল মুসলমান অবস্থায় সে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, তা হলে সে যেন যেসব সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, সেগুলোর হেফাজত করে। কারণ, আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য সুনানে-হুদার বিধান দিয়েছেন। আর এগুলো সুনানে-হুদা। জামাআত লঙ্ঘন করে যদি তোমরা ঘরে সালাত পড়, তা হলে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত তরক করলে। আর যদি তোমাদের নবীর সুন্নাত তরক কর, তা হলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের যুগে দেখেছি, প্রকাশ্য মুনাফিক ছাড়া কেউ জামাআত লঙ্ঘন করত না। এমনও হত যে, মানুষ দু'জনের কাঁধে ভর করে এসে সালাতের কাতারে দাঁড়াত।'

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 মুসাফিরের সালাত

📄 মুসাফিরের সালাত


মুসাফির ব্যক্তি চার রাকআতবিশিষ্ট সালাত দু' রাকআত আদায় করবে। আল্লাহ ইরশাদ করেন—
'তোমরা যখন সফরে বের হবে, তখন সালাত কসর করলে তোমাদের কোনো পাপ হবে না।' [সূরা নিসা: ১০১]

যদি কেউ বারবারও সফর করতে থাকে, তা হলেও সে সালাত কসর করবে। যেমন বার্তাবাহক, ট্যাক্সিড্রাইভার।

মুসাফিরের জন্য যোহর ও আসর একসাথে এবং মাগরিব ও ইশা একসাথে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয।²⁶ যে মুসাফিরের জন্য কসর করা জায়েয, তার জন্য দু' সালাত এক ওয়াক্তে পড়াও জায়েয। তবে প্রয়োজন না হলে একত্রে না পড়াই উত্তম।

কেউ যদি সফরের নিয়্যত করে, কিন্তু তখনও নিজ বসতি বা শহর ত্যাগ করেনি, আর এরই মধ্যে সালাতের সময় উপস্থিত হয়, তা হলে সে সফরের সালাত পড়বে না। তার জন্য কসর করা জায়েয হবে না। কারণ, বসতি বা শহর ত্যাগ করার পরই কসরের হুকুম জারি হয়। আর কেউ যদি গাড়ি চড়ে সফর শুরু করে এবং শহরের বাইরে সালাত আদায় করে, তা হলে সে কসর পড়বে।

যদি কেউ বিমানে সফর করে এবং বিমানবন্দর শহরের বাইরে থাকে, আর যদি তার টিকেট বা বুকিং নিশ্চিত [ওকে] থাকে, তা হলে কসর পড়বে। আর যদি তা না হয়, তা হলে কসর পড়বে না। কারণ, তার সফর অনিশ্চিত।

সালাত পড়ার সময় কসর পড়ার কথা মনে উপস্থিত করার দরকার নেই, যেমন সফর না করার সময় পুরো সালাত পড়ার কথা মনে উপস্থিত করতে হয় না।

মুসাফির মুক্তাদি যদি পুরো সালাত পড়ার নিয়্যত করে, আর তার ইমাম কসর পড়ে, তা হলে মুক্তাদিও কসর পড়বে, যদি দুজনেই মুসাফির হয়।

যদি মুসাফির মুক্তাদি কসর পড়ার নিয়্যত করে, আর তার ইমাম পুরো সালাত পড়ে, তা হলে ইমামের অনুসরণে তাকেও পুরো সালাত পড়তে হবে।

মুসাফির যদি সালাত শুরু করে, এবং কসরের নিয়্যত করতে ভুলে যায়, তা হলে সে কসরই করবে, চাই সে ইমাম হোক বা মুক্তাদি।

ইমাম মুকিম না কি মুসাফির, তা যদি মুসাফিরের জানা না থাকে, তা হলে ইমাম যা পড়ে, তাকে তা-ই আদায় করতে হবে।

যদি সালাত শুরু করার সময় পুরো সালাত পড়ার নিয়্যত করে, কিন্তু সালাতের মধ্যে স্মরণ হয় যে, সে মুসাফির, তা হলে সে কসরই পড়বে, চাই সে মুকিম হোক বা মুসাফির। কারণ, মুসাফিরের প্রকৃত সালাত হল কসর।

যদি সালাতের শুরুতে কসরের নিয়্যত করে, এবং দ্বিতীয় রাকআতে বসার পর ভুলে উঠে দাঁড়ায়, তা হলে সে ফিরে আসবে এবং সেজদায়ে সাহু করবে।

মুসাফির ব্যক্তি যখন তার উদ্দিষ্ট শহরে পৌঁছবে, সে একা থাকুক বা তার আরও সফরসঙ্গী থাকুক, মুকিম থাকার মতই মসজিদে সালাত পড়বে। সফরের কারণে এতে কোনোরূপ শিথিলতা আসবে না। কারণ, মসজিদে সালাত পড়া-সম্পর্কিত হাদিসে সফরের অবস্থাকে বাদ দেওয়া হয়নি। যেমন ইরশাদ হচ্ছে—
'যে ব্যক্তি আযান শুনল, এরপরও মসজিদে এল না, তার সালাত [পূর্ণাঙ্গ] হবে না। তবে কোনো উযর থাকলে ভিন্ন কথা।' [সুনানে ইবনে মাজাহ]

ইমাম যদি পূর্ণ সালাত আদায় করে, তার পিছনে ইক্তিদা করে মুসাফিরের জন্য কসর করা জায়েয হবে না, চাই সালাতের শুরুতেই ইক্তিদা করুক বা শেষদিকে। হাদিসে আছে—
'ইমাম করা হয়েছে তার ইক্তিদা করার জন্য।' [বুখারি ও মুসলিম]

অনেক মুসাফির চার রাকআতবিশিষ্ট সালাতের শেষ দু' রাকআতে ইমামের ইক্তিদা করে। আর ওই দু' রাকআত পড়েই সালাত শেষ করে। এটা জায়েয নয়। বরং মুকিম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে পুরো সালাত পড়তে হবে।

যদি ইক্তিদা করার সময় ইমামকে মুসাফির মনে করে থাকে, এবং শেষ দু' রাকআতে তাকে পেয়ে থাকে, এবং ওই দু' রাকআত আদায় করার পর জানতে পারে যে, ইমাম হলেন মুকিম, তা হলে তাকে পুরো সালাত পড়তে হবে এবং শেষে সেজদায়ে সাহু করতে হবে।

যদি মুসাফির ব্যক্তি মাগরিবের সালাত না পড়ে থাকে, এবং ইশার সালাত আদায়কারী মুসাফির ইমামের পিছনে ইক্তিদা করে, তা হলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে তৃতীয় রাকআত আদায় করবে। আর যদি ইমাম মুকিম হন, [যিনি ইশার সালাত চার রাকআত আদায় করছেন,] তা হলে মুক্তাদি তিন রাকআত আদায় করে বসে ইমামের সালাম ফেরানোর অপেক্ষা করবে এবং তারই সাথে সালাম ফেরাবে।

আর যদি মুসাফির ব্যক্তি ইশার সালাত দু' রাকআত পড়ার নিয়্যত করে, আর ইমাম মাগরিবের সালাত পড়ে, তা হলে মুক্তাদি ইশার নিয়্যতে সালাতে শরিক হবে। আর ইমাম সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে চতুর্থ রাকআত আদায় করবে। দু' রাকআত পড়ে সালাত শেষ করা তার জন্য জায়েয হবে না।

টিকাঃ
২৬. হানাফী আলেমদের মতে এরূপ করার কোনো সুযোগ নেই।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সত্তর বছর সালাত ফউত হয়নি!

📄 সত্তর বছর সালাত ফউত হয়নি!


সাঈদ বিন আব্দুল আজিজ যদি কখনও জামাআতে সালাত পড়তে না পারতেন, তিনি ক্রন্দন করতেন।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যেব-র চল্লিশ বছর এমন অতিবাহিত হয়েছে যে, যখন সালাতের আযান হত, তিনি মসজিদেই থাকতেন।

ইমাম আ'মাশ-র প্রায় সত্তর বছর এমন কেটেছে যে, এর মধ্যে তার তাকবিরে-উলা ছোটেনি।

সুলাইমান মুকাদ্দেসি-কে জামাআতের সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তার বয়স প্রায় নব্বই। তিনি বললেন, 'দু' ওয়াক্ত সালাত ছাড়া কখনও আমি ফরজ সালাত একাকী পড়িনি। ওই দু' ওয়াক্তের ব্যাপারে আমার মনে হয়, যেন আমি ওই সালাত পড়িইনি।'

হাতেমে আসাম্ম বলেন, 'একবার আমি জামাআত পাইনি। এতে একমাত্র আবু ইসহাক বুখারিই আমাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। অথচ আমার কোনো সন্তান মারা গেলে দশ হাজারের বেশি লোক আমাকে সান্ত্বনা দিতে আসত।'

রবি' বিন খাইসাম রহ.-র দেহ সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে গিয়েছিল। পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দু' ব্যক্তির ওপর ভর করে তাকে মসজিদে নেওয়া হত। সঙ্গীরা জিজ্ঞাসা করতেন, 'আবু ইয়াজিদ! আল্লাহ তোমার জন্য অবকাশ রেখেছেন। ঘরেই যদি সালাত পড়ে নিতে...।' তিনি বলতেন, 'আমি শুনতে পাই, মুআয্যিন ডাকছেন— حَيَّ عَلَى الْفَلَاح [কল্যাণের দিকে দৌড়ে এসো!] তোমাদের কেউ যদি কল্যাণের দিকে যাওয়ার আহ্বান শোনে, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে সাড়া দেওয়া চাই।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px