📄 নফল সালাত
নফল সালাতের মধ্যে উত্তম হল রাতের সালাত। দিনের নফল থেকে রাতের নফল শ্রেষ্ঠ।
নবীজি ইরশাদ করেছেন— أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوْبَةِ الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল মধ্যরাতের সালাত। [হাদিসটি আসহাবুসুনান বর্ণনা করেছেন।]
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— فِي اللَّيْلِ سَاعَةٌ لا يُوَافِقُهَا عَبْدُ مُسْلِمُ يَدْعُو اللَّهَ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ রাতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যে-মুহূর্তে কোনো মুসলমান বান্দা আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।
তিনি আরও বলেছেন— عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ ، فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ ، وَهُوَ قُرْبَةٌ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ ، وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ ، وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ তোমরা অবশ্যই কিয়ামুল্লাইল [রাত জেগে সালাত আদায়] করবে। কারণ, এটা তোমাদের আগেকার নেককারদের রীতি। এর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়, পাপ মোচন হয়, এবং গোনাহর কাজে বাধা হয়। [মুসনাদে হাকেম]
রাত্রিজাগরণকারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন—
'রাতের সামান্য অংশেই তারা নিদ্রা যেত। রাতের শেষ প্রহরে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত।' [সূরা যারিয়াত: ১৭-১৮]
আরও ইরশাদ হচ্ছে—
'বিছানা থেকে তাদের পার্শ্ব আলাদা থাকে। ভয় ও আশা নিয়ে তারা তাদের প্রভুকে ডাকে। আর আমার প্রদত্ত রিযিক থেকে তারা দান করে। তাদের আমলের বিনিময়ে চক্ষুশীতলকারী কী কী নিয়ামত গোপন করে রাখা হয়েছে, তা কেউ জানে না।' [সূরা সিজদা: ১৬-১৭]
📄 সালাতের নিষিদ্ধ সময়
কয়েকটি সময় আছে, যেগুলোতে সালাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। এরূপ সময় হল তিনটি—
১. ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় হয়ে এক বর্শা/বল্লম পরিমাণ উঠা পর্যন্ত। (অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পর থেকে মিনিমাম ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর চাইলে সালাত আদায় করতে পারবে।)
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়। (দশ মিনিট)
৩. আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্তের সময় পর্যন্ত। উকবা বিন আমের রাযি. বলেন—
তিন সময় রাসুল আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং মৃতদের কবর দিতে নিষেধ করেছেন: সূর্যোদয়ের সময়, তা উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত; ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়া পর্যন্ত; এবং সূর্যাস্তের সময়, ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। [সহিহ মুসলিম]
এ সময়গুলোতে ফরজ সালাতের কাজা, তাওয়াফের দু' রাকআত ও কারণজনিত সালাত, যেমন জানাযার সালাত, তাহিয়্যাতুল মসজিদ এবং সূর্যগ্রহণের সালাত²⁵ ব্যতীত আর কিছুই পড়া যাবে না।
টিকাঃ
২৫. হানাফী আলেমদের মতে, এ সকল সালাতও ওই সময়গুলোতে পড়া যাবে না।
📄 জামায়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত
নবীজি ইরশাদ করেছেন— صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَةٌ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً একাকী সালাত আদায় করা থেকে জামাআতের সালাতের সওয়াব সাতাশ গুণ বেশি। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— إِنَّ أَثْقَلَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ ، وَصَلَاةُ الْفَجْرِ ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْرًا মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে ভারী সালাত হল ইশার সালাত ও ফজরের সালাত। ওই দুই সালাতে কী সওয়াব আছে, তা যদি তারা জানত, তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
ইবনে আব্বাস রাযি.-কে একব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল, যে রাত জেগে নফল পড়ে এবং দিনের বেলায় সওম রাখে, কিন্তু জামাআতে আসে না। তিনি বললেন, 'সে জাহান্নামে যাবে।'
তবে কোনো উযর থাকলে জামাআতে আসার হুকুম রহিত হয়ে যায়।
📄 ওদের ঘর তো পুড়েই যাচ্ছিল!
সহিহ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনা। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
'সে-সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আমি ইচ্ছে করেছি, কিছু জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেব, আর তা সংগ্রহ করা হবে। এরপর সালাতের নির্দেশ দেব, আর তার জন্য আযান দেওয়া হবে। এরপর একজনকে নির্দেশ দেব, সে লোকদের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করবে। এরপর আমি [যারা সালাতে উপস্থিত হয়নি] ওই লোকদের নিকট যাব এবং তাদের সামনেই তাদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেব। সে-সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! তাদের কেউ যদি জানতে পারত যে, [মসজিদে এলে তারা গোশত ছাড়ানো] একটি মোটা হাড় পাবে, বা দুটি সুন্দর খুর পাবে, তা হলে অবশ্যই ইশার সালাতে উপস্থিত হত।'
এতে ইবনে উম্মে মাকতুম দাঁড়ালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমি অন্ধ। ঘরও অনেক দূর। আমাকে আনার মতও কেউ নেই। আমার কি বাড়িতে সালাত পড়ার অনুমতি আছে?' তিনি জিজ্ঞাসা করলেন—
'তুমি কি আযান শুনতে পাও?'
তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তা হলে সালাতে এসো।'
তিনি বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! আমার ও মসজিদের মধ্যে খেজুরবাগান আছে, গাছ-গাছাড়ি আছে। আর আমাকে ধরে আনার মত কেউ নেই।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তুমি কি ইক্বামত শুনতে পাও?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।' আল্লাহর রাসুল বললেন—
'তা হলে উপস্থিত হও।'
তাকে বাড়িতে সালাত পড়ার অনুমতি দেননি।
সহিহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ হতে বর্ণিত আছে, 'যে ব্যক্তির এই বিষয়টি ভাল লাগে যে, আগামীকাল মুসলমান অবস্থায় সে আল্লাহর সাথে মিলিত হবে, তা হলে সে যেন যেসব সালাতের জন্য আযান দেওয়া হয়, সেগুলোর হেফাজত করে। কারণ, আল্লাহ তোমাদের নবীর জন্য সুনানে-হুদার বিধান দিয়েছেন। আর এগুলো সুনানে-হুদা। জামাআত লঙ্ঘন করে যদি তোমরা ঘরে সালাত পড়, তা হলে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নাত তরক করলে। আর যদি তোমাদের নবীর সুন্নাত তরক কর, তা হলে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের যুগে দেখেছি, প্রকাশ্য মুনাফিক ছাড়া কেউ জামাআত লঙ্ঘন করত না। এমনও হত যে, মানুষ দু'জনের কাঁধে ভর করে এসে সালাতের কাতারে দাঁড়াত।'