📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সেজদায়ে তেলাওয়াত

📄 সেজদায়ে তেলাওয়াত


সালাত বা সালাতের বাইরে সেজদার আয়াত পাঠ করলে সেজদা করা ওয়াজিব। শ্রবণ করলেও সেজদা করা ওয়াজিব। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি ইরশাদ করেছেন— إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ : يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ ، وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ
আদমসন্তান সেজদার আয়াত পড়ে সেজদা করে, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূর হয়ে যায়। বলে, 'হায় আফসোস! আদমসন্তানকে সেজদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং সে সেজদা করেছে। ফলে সে জান্নাতে যাবে। আর আমাকে সেজদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমি অস্বীকার করেছি। ফলে আমাকে জাহান্নামে যেতে হবে'। [সহিহ মুসলিম]

সেজদায়ে তেলাওয়াত করার সময় তাকবির বলবে। ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল আমাদের পবিত্র কুরআন পড়ে শোনাতেন। সেজদার আয়াত এলে তিনি আল্লাহু আকবার বলে সেজদা করতেন। আর আমরাও তার সাথে সেজদা করতাম। [সুনানে আবু দাউদ]

সেজদার মধ্যে سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى পড়বে। আর এটাও পড়া যাবে— سَجَدَ وَجْهِي لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَه وَصَوَّرَه ، وَشَقَّ سَمْعَه وَبَصَرَهُ ، بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِه اللهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا ، وَاجْعَلْهَا لِيْ عِنْدَكَ ذُخْرًا, وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَادَ.

বসা থেকে সেজদায় না গিয়ে দাঁড়ানো থেকে যাওয়া ভাল।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 নফল সালাত

📄 নফল সালাত


নফল সালাতের মধ্যে উত্তম হল রাতের সালাত। দিনের নফল থেকে রাতের নফল শ্রেষ্ঠ।

নবীজি ইরশাদ করেছেন— أَفْضَلُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوْبَةِ الصَّلَاةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল মধ্যরাতের সালাত। [হাদিসটি আসহাবুসুনান বর্ণনা করেছেন।]

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— فِي اللَّيْلِ سَاعَةٌ لا يُوَافِقُهَا عَبْدُ مُسْلِمُ يَدْعُو اللَّهَ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ রাতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যে-মুহূর্তে কোনো মুসলমান বান্দা আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।

তিনি আরও বলেছেন— عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ ، فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ ، وَهُوَ قُرْبَةٌ لَكُمْ إِلَى رَبِّكُمْ ، وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ ، وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ তোমরা অবশ্যই কিয়ামুল্লাইল [রাত জেগে সালাত আদায়] করবে। কারণ, এটা তোমাদের আগেকার নেককারদের রীতি। এর দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন হয়, পাপ মোচন হয়, এবং গোনাহর কাজে বাধা হয়। [মুসনাদে হাকেম]

রাত্রিজাগরণকারীদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন—
'রাতের সামান্য অংশেই তারা নিদ্রা যেত। রাতের শেষ প্রহরে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত।' [সূরা যারিয়াত: ১৭-১৮]

আরও ইরশাদ হচ্ছে—
'বিছানা থেকে তাদের পার্শ্ব আলাদা থাকে। ভয় ও আশা নিয়ে তারা তাদের প্রভুকে ডাকে। আর আমার প্রদত্ত রিযিক থেকে তারা দান করে। তাদের আমলের বিনিময়ে চক্ষুশীতলকারী কী কী নিয়ামত গোপন করে রাখা হয়েছে, তা কেউ জানে না।' [সূরা সিজদা: ১৬-১৭]

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 সালাতের নিষিদ্ধ সময়

📄 সালাতের নিষিদ্ধ সময়


কয়েকটি সময় আছে, যেগুলোতে সালাত পড়তে নিষেধ করা হয়েছে। এরূপ সময় হল তিনটি—

১. ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্যোদয় হয়ে এক বর্শা/বল্লম পরিমাণ উঠা পর্যন্ত। (অর্থাৎ সূর্যোদয়ের পর থেকে মিনিমাম ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এরপর চাইলে সালাত আদায় করতে পারবে।)

২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়। (দশ মিনিট)

৩. আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্তের সময় পর্যন্ত। উকবা বিন আমের রাযি. বলেন—
তিন সময় রাসুল আমাদেরকে সালাত আদায় করতে এবং মৃতদের কবর দিতে নিষেধ করেছেন: সূর্যোদয়ের সময়, তা উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত; ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়া পর্যন্ত; এবং সূর্যাস্তের সময়, ডুবে যাওয়া পর্যন্ত। [সহিহ মুসলিম]

এ সময়গুলোতে ফরজ সালাতের কাজা, তাওয়াফের দু' রাকআত ও কারণজনিত সালাত, যেমন জানাযার সালাত, তাহিয়্যাতুল মসজিদ এবং সূর্যগ্রহণের সালাত²⁵ ব্যতীত আর কিছুই পড়া যাবে না।

টিকাঃ
২৫. হানাফী আলেমদের মতে, এ সকল সালাতও ওই সময়গুলোতে পড়া যাবে না।

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 জামায়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত

📄 জামায়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত


নবীজি ইরশাদ করেছেন— صَلَاةُ الْجَمَاعَةِ تَفْضُلُ صَلَاةَ الْفَةٌ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً একাকী সালাত আদায় করা থেকে জামাআতের সালাতের সওয়াব সাতাশ গুণ বেশি। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

তিনি আরও ইরশাদ করেছেন— إِنَّ أَثْقَلَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ ، وَصَلَاةُ الْفَجْرِ ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْرًا মুনাফিকদের ওপর সবচেয়ে ভারী সালাত হল ইশার সালাত ও ফজরের সালাত। ওই দুই সালাতে কী সওয়াব আছে, তা যদি তারা জানত, তা হলে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসত। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

ইবনে আব্বাস রাযি.-কে একব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হল, যে রাত জেগে নফল পড়ে এবং দিনের বেলায় সওম রাখে, কিন্তু জামাআতে আসে না। তিনি বললেন, 'সে জাহান্নামে যাবে।'

তবে কোনো উযর থাকলে জামাআতে আসার হুকুম রহিত হয়ে যায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px