📄 তারাবিহর সালাত
এ সালাত রামাদানে আদায় করা হয়। এটি সুন্নাতে মুআক্কাদা। সালাতটির নাম তারাবিহ হওয়ার কারণ হল, এই সালাত দীর্ঘ হওয়ার কারণে প্রতি চার রাকআত পর তারবিহা করা হয়। [তারবিহা আরবি শব্দ। অর্থ আরাম করা।] তাই এই সালাতকে তারাবিহ বলা হয়। এই সালাত মসজিদে জামাআতের সাথে আদায় করা উত্তম। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
মَنْ قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ
যে-ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত পড়ে, তার আমলনামায় রাত্রিজাগরণের সওয়াব লেখা হয়। [সহিহ বুখারি, মুসলিম]
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন—
মَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে-ব্যক্তি রামাদানে ঈমান সহকারে সওয়াবের আশায় সালাত পড়ে, তার অতীতের সকল গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। [সহিহ বুখারি, মুসলিম]
আয়েশা রাযি. বলেন, ‘রাসুল রামাদান বা রামাদানের বাইরে এগারো রাকআতের বেশি পড়তেন না।’ তবে এ ব্যাপারে রাসুল হতে অকাট্য কিছু বর্ণিত নেই। তাই এগারো রাকআতও পড়া যেতে পারে, আবার তেইশ রাকআতও পড়া যেতে পারে। এর বেশি পড়লেও ক্ষতি নেই।²²
টিকাঃ
২২. হানাফী আলেমদের মতে বিতরসহ তারাবিহ তেইশ রাকআত পড়বে।
📄 ফরজ সালাতের সাথের সুন্নাত
ফরজ সালাতের সাথে যেসব সুন্নাত পড়ার বিধান রয়েছে, সেগুলো অনেক ফজিলতপূর্ণ। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
মَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلّي الله كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوّعاً، غَيْرَ فَرِيضَةٍ، إِلَّا بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَرْبَعُ رَكْعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ ... وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ ... وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ... وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ
যে মুসলমান আল্লাহকে খুশি করার জন্য প্রতিদিন ফরজের অতিরিক্ত বারো রাকআত নফল সালাত পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। [সেগুলো হল,] যোহরের আগে চার রাকআত, যোহরের পর দু' রাকআত, মাগরিবের পর দু' রাকআত, ইশার পর দু' রাকআত এবং ফজরের আগে দু' রাকআত। [সহিহ মুসলিম]
এগুলো হল সুন্নাতে মুআক্কাদা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকিদ হল ফজরের সুন্নাতের। হাদিসে আছে— رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا ফজরের সালাতের দু' রাকআত সালাত দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা-কিছু আছে, তার সবকিছু থেকে উত্তম। [সহিহ মুসলিম]
ফজরের দু' রাকআত সুন্নাত দীর্ঘ না করা উত্তম। প্রথম রাকআতে সূরায়ে ফাতিহার পর সূরায়ে কাফেরুন পড়বে, এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরায়ে ইখলাস পড়বে। অথবা প্রথম রাকআতে পড়বে— قُولُوا أَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرُهِمَ وَإِسْمَعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ মِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
আর দ্বিতীয় রাকআতে পড়বে— قُلْ يَأَهْلَ الْكِتَبِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا মِّنْ دُونِ اللَّهِ ۖ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ
তদ্রূপ মাগরিবের পরের দু' রাকআতেও সূরায়ে কাফেরুন ও সূরায়ে ইখলাস পড়বে।
এসব সুন্নাত সালাতের কোনোটা পড়তে না পারলে পরবর্তীতে কাজা পড়া সুন্নাত।²³ তদ্রূপ কেউ যদি রাতে বিতরের সালাত পড়তে না পারে, তা হলে দিনের বেলায় তা কাজা পড়ে নেবে। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
মَنْ نَامَ عَنْ الْوِتْرِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّ إِذَا أَصْبَحَ أَوْ ذَكَرَ
কেউ যদি বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, বা পড়তে ভুলে যায়, তা হলে সকাল হলে তা পড়ে নেবে, অথবা স্মরণ হলে পড়ে নেবে। [দারা কুতনি]
তবে বিতর সালাত কাজা পড়ার সময় এক রাকআত বৃদ্ধি করে জোড় রাকআত বানিয়ে নেবে। তাই কেউ যদি সব সময় পাঁচ রাকআত পড়ে, তা হলে ছয় রাকআত পড়বে। এভাবে বাকিগুলোর নিয়ম।²⁴
টিকাঃ
২৩. হানাফী আলেমদের মতে, ফজরের সুন্নাত ব্যতীত কোনো সুন্নাতের কাজা নেই।
২৪. তবে হানাফী আলেমদের মতে এরূপ করবে না।
📄 জোহাস সালাত
আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, 'আমার বন্ধু রাসুল আমাকে তিনটি বিষয়ের জন্য বিশেষ তাকিদ দিয়ে ওসিয়্যত করেছেন: প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম রাখার; দোহার দু' রাকআত সালাত পড়ার এবং ঘুমানোর আগে বিতরের সালাত আদায় করার।' [সহিহ বুখারি, মুসলিম]
নবীজি এই সালাতের নাম রেখেছেন 'সালাতুল আউয়াবিন' [তওবাকারীদের সালাত]। বলেছেন, আউয়াবিনের সালাতের সময় হল, যখন উটের বাচ্চা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ প্রচণ্ড তাপের কারণে যখন ছোট উটগুলো বসে পড়ে। [সহিহ মুসলিম]
এই সালাতের সময় শুরু হয় সূর্যোদয়ের পনেরো-বিশ মিনিট পর। আর তা দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত পড়া যায়।
📄 সেজদায়ে তেলাওয়াত
সালাত বা সালাতের বাইরে সেজদার আয়াত পাঠ করলে সেজদা করা ওয়াজিব। শ্রবণ করলেও সেজদা করা ওয়াজিব। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি ইরশাদ করেছেন— إِذَا قَرَأَ ابْنُ آدَمَ السَّجْدَةَ فَسَجَدَ اعْتَزَلَ الشَّيْطَانُ يَبْكِي يَقُولُ : يَا وَيْلَهُ أُمِرَ ابْنُ آدَمَ بِالسُّجُودِ فَسَجَدَ فَلَهُ الْجَنَّةُ ، وَأُمِرْتُ بِالسُّجُودِ فَأَبَيْتُ فَلِيَ النَّارُ
আদমসন্তান সেজদার আয়াত পড়ে সেজদা করে, তখন শয়তান কাঁদতে কাঁদতে দূর হয়ে যায়। বলে, 'হায় আফসোস! আদমসন্তানকে সেজদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং সে সেজদা করেছে। ফলে সে জান্নাতে যাবে। আর আমাকে সেজদার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমি অস্বীকার করেছি। ফলে আমাকে জাহান্নামে যেতে হবে'। [সহিহ মুসলিম]
সেজদায়ে তেলাওয়াত করার সময় তাকবির বলবে। ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল আমাদের পবিত্র কুরআন পড়ে শোনাতেন। সেজদার আয়াত এলে তিনি আল্লাহু আকবার বলে সেজদা করতেন। আর আমরাও তার সাথে সেজদা করতাম। [সুনানে আবু দাউদ]
সেজদার মধ্যে سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى পড়বে। আর এটাও পড়া যাবে— سَجَدَ وَجْهِي لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَه وَصَوَّرَه ، وَشَقَّ سَمْعَه وَبَصَرَهُ ، بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِه اللهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا ، وَاجْعَلْهَا لِيْ عِنْدَكَ ذُخْرًا, وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَادَ.
বসা থেকে সেজদায় না গিয়ে দাঁড়ানো থেকে যাওয়া ভাল।