📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 রুগ্ন ব্যক্তির সালাতের পদ্ধতি

📄 রুগ্ন ব্যক্তির সালাতের পদ্ধতি


এ বিষয়ে সবাই একমত যে, যে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত পড়তে সক্ষম নয়, সে বসে বসে সালাত পড়বে। আর সে তার সুবিধামতই বসবে। তাই এখানে বসার কোনো নির্দিষ্ট সুরত নেই। আর যদি বসে পড়তেও সক্ষম না হয়, তা হলে কাত হয়ে ক্বিবলার দিকে ফিরে সালাত পড়বে। মুস্তাহাব হল ডান দিকে কাত হয়ে সালাত পড়া। যদি কাত হয়ে পড়তে অসুবিধে হয়, তা হলে পিঠের ওপর ভর করে পড়বে। আর সম্ভব হলে, পা-দুটি ক্বিবলার দিকে রাখবে। নবীজি ইমরান বিন হুসাইন রাযি.কে বলেছিলেন— صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো। এর শক্তি না থাকলে বসে সালাত পড়ো। আর এরও যদি শক্তি না থাকে, তা হলে একপাশে ফিরে। [সহিহ বুখারী]

নাসাঈর বর্ণনায় আরও আছে— فَإِنْ لَّমْ تَستَطِعْ فَمُسْتَلْقِيًا এটাও যদি না পার, তা হলে চিৎ হয়ে।

আর যে ব্যক্তি দাঁড়াতে পারে, কিন্তু রুকু'-সেজদা করতে পারে না, তার থেকে কিয়ামের হুকুম রহিত হবে না। তাকে দাঁড়িয়েই সালাত আদায় করতে হবে। আর রুকু' করবে ইশারায়। [অর্থাৎ মাথা ঝুঁকিয়ে ইশারা করবে।] আর সেজদার সময় বসে যাবে [চেয়ারের ওপর হলেও]। এবং ইশারায় সেজদা করবে। কারণ, আল্লাহ ইরশাদ করেন— ﴿ وَقُوْমُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ﴾ তোমরা আল্লাহর জন্য অনুগত হয়ে দাঁড়িয়ে যাও। [সূরা বাকারা : আয়াত : ২৩৮]

নবীজি ﷺ ইরশাদ করেছেন— صَلِّ قَائِمًا দাঁড়িয়ে সালাত পড়ো। [সহিহ বুখারি]

যদি রোগের প্রচণ্ডতার কারণে বা অনুভূতিহীনতার কারণে মাথা দিয়ে ইশারাও করতে না পারে, তা হলে মনে মনে রুকু' সেজদার নিয়্যত করবে।

যদি সে নিজে নিজে কিবলার দিকে ফিরতে সক্ষম না হয়, আর তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতও কেউ না থাকে, তা হলে যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায়ই সালাত পড়বে, তা যে দিকে ফিরেই হোক।

কিছু কিছু লোক সব সময়ে রোগে ভোগে। পূর্ণরূপে সালাত পড়ার সুযোগ তাদের হয় না। হয়ত তারা অযু করতে পারে না, বা সব সময় দেহ নাপাক থাকে। ফলে তারা সালাত ছেড়ে দেয়। এটা বিরাট ভুল। এদের জন্য সালাত ছেড়ে দেওয়া জায়েয নেই। বরং যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায়ই সালাত পড়ে নেবে। যেমন ইরশাদ হয়েছে— ﴿ فَاتَّقُوا اللَّهַ مَا اسْتَطَعْتُمْ ﴾ তোমরা আল্লাহকে যতটুকু সম্ভব, ভয় করো। [সূরা তাগাবুন : আয়াত: ১৬]

ফন্ট সাইজ
15px
17px