📄 সালাত আদায়ের নিয়ম
প্রথমে ক্বিবলার দিকে মুখ করে দাঁড়াবে। এরপর اللهُ أَكْبَرُ 'আল্লাহু আকবার' বলে সালাত শুরু করবে। তাকবির ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না। আর তা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে। তবে উঁচু আওয়াজে উচ্চারণের শর্ত নেই। আর মূক [বাকশক্তিহীন] মনে মনে উচ্চারণ করবে।
তাকবির বলার সময় উভয় হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠানো সুন্নাত।
এরপর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠা আঙ্গুলি দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরবে। আর সেজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি রাখবে।
এরপর দোয়া পড়বে। এই দোয়া পড়া সুন্নাত— سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَ تَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
এই দোয়াও পড়া যেতে পারে— اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَ بَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدتَّ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَ الْمَغْرِبِ ، اللَّهُمَّ نَقَّনِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ ، أَللَّهُمَّ اغْسِلْنِي بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ
এরপর বলবে— أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّহِيمِ
আবার এই দোয়াও পড়া যেতে পারে— أَعُوْذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
এরপর বলবে— بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
এরপর প্রত্যেক রাকআতে সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করবে। এটা সালাতের রুকন। এটি ছাড়া সালাত হবে না।
সালাত আদায়কারী যদি সূরায়ে ফাতিহা পড়তে না পারে, তা হলে তার পরিবর্তে কুরআন থেকে যা পারে, পড়বে। আর যদি এটাও না পারে [যেমন নওমুসলিম], তা হলে কুরআনের পরিবর্তে তসবিহ পাঠ করবে— سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بالله
আর খুব তাড়াতাড়ি সূরায়ে ফাতিহা শিখে নেবে।
সূরায়ে ফাতিহার পর কুরআনের অন্যখান থেকে যা পারা যায়, পড়বে।
সালাত আদায়কারী কোনো কিছুর সম্মুখীন হলে, যেমন কেউ আসার অনুমতি চাইলে, ইমাম ভুল করলে, বা কারও ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে [পুরুষ] তসবিহ পড়ে এবং [মহিলা] করতালি দিয়ে সতর্ক করতে পারবে। নবীজি ইরশাদ করেছেন— إِذَا نَابَكُمْ أَمْرُ فَلْيُسَبِّحِ الرِّجَالُ، وَلْتُصَفِّقِ النِّسَاءُ সালাতে হঠাৎ কিছুর সম্মুখীন হলে তোমাদের পুরুষরা তসবিহ পড়বে এবং মহিলারা করতালি দেবে। [সহিহ বুখারি, মুসলিম]
সালাত আদায়কারীকে কেউ সালাম দিলে শুধু হাত দ্বারা ইশারা করে সালামের উত্তর দিবে।
📄 সালাতের কিয়ামে যেসব ভুল হয়
১. অনেকে সালাতে এভাবে নিয়্যত করে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে অমুক ওয়াক্তের অত রাকআত অমুক সালাত পড়ছি। এটা জরুরি মনে মুখে উচ্চারণ করা বেদআত। বরং নিয়্যত মনে মনেই করবে। এবং যে সালাত পড়ছে, মনের মধ্যে সেটা উপস্থিত রাখবে। যদি মুখে মুখেই নিয়্যত করে, কিন্তু মনের মধ্যে সেটা উপস্থিত না থাকে, তা হলে নিয়্যত হবে না। ফলে সালাতও হবে না।
২. ইমাম সাহেব যখন إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ [আমরা তোমারই ইবাদত করি, এবং তোমারই নিকট সাহায্য চাই।] পড়েন, তখন অনেকেই বলে, اِسْتَعَنَّا بِاللَّهِ [আমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি।]। এটা ভুল।
৩. رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ এর পর অনেকে وَلَكَ الشُّكْرُ যোগ করে। এটাও ভুল।
৪. রুকু' থেকে ওঠার পর রফ'য়ে ইয়াদাইন করে মুখ মাসেহ করা।
৫. কাতার সোজা না করা এবং সালাত আদায়কারীদের মধ্যে ফাঁক রাখা।
৬. সালাতে এদিক-সেদিক তাকানো বা ওপরের দিকে মুখ তোলা। শরিয়তের বিধান হল, সেজদার জায়গার দিকে তাকানো।
৭. পেশাব-পায়খানার প্রচণ্ড বেগ হলেও তা চেপে রেখে সালাত পড়া।
৮. বিনা প্রয়োজনে মুখ ঢেকে রাখা কিংবা দু'দিকে দু'হাত ঝুলিয়ে দেওয়া।
৯. বাম হাতের ওপর ডান হাত দিয়ে তা পেটের ওপর রাখা। সুন্নাত হল বুকের ওপর রাখা।⁷
১০. বিনা প্রয়োজনে চোখ বন্ধ রাখা।
১১. এক হাতের আঙ্গুল আরেক হাতের আঙ্গুলের ভিতর দিয়ে জট পাকানো, বা আঙ্গুল ফোটানো।
টিকাঃ
৭. হানাফী আলেমদের মতে, পেটের ওপর হাত রাখা ভুল নয়। হানাফী আলেমদের মতে রুকুর সময় হাত উঠাবে না। হাত না ওঠানোর আমলও রাসুল ﷺ থেকে বর্ণিত আছে।
📄 রুকু'তে যেসব ভুল হয়
১. রুকু'র সময় মেরুদণ্ড সোজা না রাখা। এ সময় পিঠ সোজা রাখা সুন্নাত।
২. দু' পায়ের দিকে দৃষ্টি রাখা। সুন্নাত হল সেজদার জায়গার দিকে দৃষ্টি রাখা।
৩. পিঠের সাথে মাথা সমান্তরাল না হওয়া। সুন্নাত হল, মাথা পিঠের সমান্তরালে থাকা।
📄 সেজদায় যেসব ভুল হয়
১. সাতটি অঙ্গ দ্বারা সেজদা না করা।
২. সেজদার সময় হাতের কনুই বা পায়ের গোড়ালি মাটিতে রাখা।
৩. নাক না লাগিয়ে শুধু কপাল দ্বারা সেজদা করা।
৪. সেজদার সময় মাটি থেকে পা উঠিয়ে ফেলা কিংবা মাটির ওপর শুধু আঙ্গুলের মাথা রাখা। আঙ্গুলের পেট মাটিতে মিলিয়ে রাখা ওয়াজিব।⁹
৫. উরুর সাথে পেট চেপে রাখা বা পাঁজরের সাথে বাজু মিলিয়ে রাখা। নিয়ম হল, এগুলো দূরে দূরে রাখা।
টিকাঃ
৯. হানাফী আলেমদের মতে এটা সুন্নাত।