📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 মোজার ওপর মাসেহর শর্ত

📄 মোজার ওপর মাসেহর শর্ত


১. মাসেহর মুদ্দত: মুকিম ব্যক্তি এক দিন এক রাত মোজার ওপর মাসেহ করতে পারবে, আর মুসাফির ব্যক্তি পারবে তিন দিন তিন রাত। এই এক দিন বা তিন দিনের হিসাব শুরু হবে অযু করে মোজা পরিধানের পর প্রথম বার অযু ভঙ্গের পর থেকে। আলী রাযি. বলেন— جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَ يَوْমًا وَّ لَيْلَةً لِلْمُقِيمِ রাসুল মুসাফিরের জন্য তিন দিন তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন এক রাত নির্ধারণ করেছেন। [সহিহ মুসলিম]

২. পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করতে হবে। মুগিরা বিন শো'বা নবীজি-এর অযুর আলোচনা করে বলেন, “তিনি তার মাথা মাসেহ করলেন। এরপর আমি তার মোজাদুটি খুলতে গেলাম। তিনি বললেন, 'ওগুলো থাক। পবিত্র অবস্থায়ই পরেছি।' এরপর তিনি সে-দুটোর ওপর মাসেহ করলেন। [সহিহ বুখারি, মুসলিম]

৩. ফাটা মোজার ওপর মাসেহ করা জায়েয। সুফয়ান সওরি রহ. বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মোজা তোমার পায়ে ঝুলে থাকে, তার ওপর মাসেহ করো। মুহাজির ও আনসারদের মোজা তালি লাগানো ও ছেঁড়াফাটাই ছিল।

৪. অযু করে যদি মোজা পরিধান করে, এবং সালাত পড়ার আগেই তা খুলে ফেলে, তা হলে তার অযু বাকি থাকবে। পুনরায় অযুও করতে হবে না, পা-ও ধুতে হবে না।

৫. ঘুমে বা যে-কোনো ভাবে যদি গোসল ফরজ হয়, তা হলে গোসলের সময় মোজা খুলে পা ধোয়া ওয়াজিব। ফরজ গোসলে মোজার ওপর মাসেহ করলে তা যথেষ্ট হবে না।

হাত-পা বা অন্যত্র কোনো জায়গা ভাঙা থাকলে বা অন্য কোনো কারণে সেখানে পট্টি লাগানো হলে, সেটার ওপর মাসেহ করা জায়েয। তদ্রূপ সেটার ওপর যে কাপড় বাঁধা থাকে, তার ওপরও মাসেহ করা জায়েয।

পট্টির ওপর মাসেহ করার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। বরং তা খুলে ফেলা পর্যন্ত মাসেহ করতে থাকবে। কারণ, প্রয়োজনের তাগিদে এই মাসেহ বৈধ হয়েছে। কাজেই যতক্ষণ প্রয়োজন থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মাসেহ করতে থাকবে।

পট্টির ওপর মাসেহ বৈধ হওয়ার প্রমাণ হল জাবের বিন আব্দুল্লাহ-এর হাদিস। তিনি বলেন, “আমরা এক সফরে ছিলাম। এ সময় আমাদের এক সাথির মাথায় পাথরের আঘাত লাগল। তার মাথা ফেটে গেল। এরপর তার স্বপ্নদোষ হল। সে তার সাথিদের জিজ্ঞাসা করল, 'আমার জন্য তায়াম্মুম করার সুযোগ আছে বলে কি তোমরা মনে কর?' তারা বলল, 'তুমি তো পানি ব্যবহার করতে সক্ষম। তাই তোমার জন্য এর বৈধতা আছে বলে আমাদের মনে হয় না।' এতে সে গোসল করল। ফলে সে মারা গেল। রাসুল-এর নিকট এসে আমরা বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, 'ওরা তো ওকে মেরে ফেলেছে! আল্লাহ ওদের মেরে ফেলুন! তারা যখন জানে না, তখন কি জিজ্ঞাসা করতে পারল না? না-জানার চিকিৎসা হল জিজ্ঞাসা করা। তার জন্য তায়াম্মুমই যথেষ্ট ছিল। যখমের ওপর একটুকরো কাপড় বেঁধে সেটার ওপর মাসেহ করলেই হত'। [সুনানে আবু দাউদ]

📘 শুধু তাঁরই ইবাদাত 📄 অযু ভঙ্গের কারণ

📄 অযু ভঙ্গের কারণ


অযু-ভঙ্গকারী বলতে এমনসব বিষয় বোঝায়, যেগুলো ঘটলে অযুকারী ব্যক্তি 'মুহদিস' তথা অযুহীন হয়ে যায়। সেগুলো নিম্নরূপ :

১. পেশাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া; যেমন পেশাব, পায়খানা বা বায়ু।

২. বোধশক্তি হারিয়ে ফেলা: উন্মাদনা, সংজ্ঞাহীনতা, নেশা বা গভীর ঘুমের অবস্থায় অনুভূতিশক্তি এতটুকু নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া যে, তার শরীর থেকে কিছু বেরিয়ে গেলে টের পায় না। তবে হালকা ঘুমে, যে-ঘুমে অনুভূতি লোপ পায় না, অযু ভঙ্গ হবে না।

৩. উত্তেজনার সাথে সরাসরি হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা। নিজের লজ্জাস্থান হোক বা অন্যেরটা। রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন— مَنْ مَسَّ فَرْجَهُ فَلْيَتَوَضَّأُ যে ব্যক্তি তার লজ্জাস্থান স্পর্শ করবে সে যেন অযু করে। [ইবনে মাজা, সুনানে নাসায়ী]¹

৪. উটের গোস্ত, ভুঁড়ি, কলিজা খাওয়া। কেননা রাসুল-কে জিজ্ঞাসা হয়েছিল— أَنَتَوضَّأُ مِنْ لُحُوْمِ الْإِبْلِ؟ قَالَ نَعَمْ 'আমরা কি উটের গোস্ত খেয়ে অযু করবো?' তিনি ﷺ বললেন, 'হাঁ।' [সহিহ মুসলিম]²

৫. আরও কিছু কারণ আছে, যেগুলো অযুভঙ্গের কারণ হওয়া নিয়ে ইমামদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে অযু করে নিয়ে মতবিরোধ থেকে বেরিয়ে যাওয়াটাই উত্তম।

টিকাঃ
১. এক্ষেত্রে অযু ভঙ্গ না হওয়ারও হাদিস আছে।
২. এক্ষেত্রেও অযু ভঙ্গ না হওয়ার হাদিস আছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px