📄 কাজায়ে হাজতের আদব
কোনো মুসলমান ওয়াশরুমে, যা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে, প্রবেশ করতে চাইলে তার জন্য মুস্তাহাব হল বাম পা আগে দেওয়া এবং এই দোয়া পড়া—
بِسْمِ اللهِ أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
বিসমিল্লাহি, আউযু বিল্লাহি মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়েস
আর বের হওয়ার সময় ডান পা আগে বের করবে এবং এই দোয়া পড়বে—
غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَ عَافَانِي
গুফরা-নাকাল হামদু লিল্লাহিল্লাযি আযহাবা আন্নিল আযা ওয়া আ-ফানী
আর এই সময় মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকবে, কোনো গাছের আড়ালে হোক, কিংবা প্রাচীর বা অন্য কিছুর আড়ালে হোক। ক্বিবলার দিকে মুখ করে বা পিঠ দিয়ে বসবে না। কারণ, এটা হারাম। আর পেশাবের ছিটা যেন গায়ে বা কাপড়ে না লাগে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
📄 স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য
আমাদের ধর্মের একটি গুণ হল স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তা হল এমনসব কাজ, যেগুলোর ব্যাপারে সকল নবী একমত। নবীজি ইরশাদ করেছেন—
خَمْسُ مِنَ الْفِطْرَةِ : الْخِتَانُ ، وَالاسْتِحْدَادُ ، وَنَتْفُ الإِبْطِ ، وَقَصُّ الشَّارِبِ ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ.
পাঁচটি বিষয় মানুষের স্বভাবজাত : ইসতিহদাদ [লজ্জাস্থানের পশম দূর করা], খতনা করা, গোঁফ কাটা, বগলের নীচের পশম উপড়ানো এবং নখ কাটা।
নবীজি আরও বলেছেন—
أَحْفُوا الشَّوَارِبَ ، وَأَعْفُوا اللَّحَى
তোমরা গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও [বড় হতে দাও]। [সহিহ বোখারি, মুসলিম]
ইসতিহদাদ: নাভির নীচের পশম কামানো, যা লজ্জাস্থানের চারপাশে থাকে। তা কামিয়ে হোক বা অন্য কোনোভাবে হোক, দূর করবে।
খতনা করা: লিঙ্গের অগ্রভাগের ওপর চামড়ার যে আবরণ থাকে, তা দূর করা। পুরুষদের জন্য তা ওয়াজিব, আর মহিলাদের জন্য সম্মানের কারণ।
গোঁফ ছোট করা এবং দাড়ি বড় করা: অর্থাৎ গোঁফ কেটে ফেলবে, বড় হতে দেবে না। আর দাড়ি কাটবে না; বরং বড় হতে দেবে। তবে এক মুষ্টি থেকে লম্বা হলে মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ কাটা জায়েয।
নখ কাটা: অর্থাৎ নখ কেটে ছোট করা।
বগলের নীচের পশম দূর করা: বগলের নীচে যে পশম হয়, তা কেটে বা উপড়ে দূর করা।
চল্লিশ দিনের মধ্যেই এসব করা চাই। চল্লিশ দিনের বেশি পার করা জায়েয নেই।