📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 একটি কাজকে ছোট করে আরেকটিকে বড় করে দেখা

📄 একটি কাজকে ছোট করে আরেকটিকে বড় করে দেখা


এ ধরনের তুলনা দুভাবে হতে পারে:
ক. ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা
খ. সমষ্টিকেন্দ্রিক তুলনা

ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা: ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা বলতে নিজের সাথেই নিজেকে তুলনা করা। কোনো ব্যক্তি অনেক পাপাচার ও নাফরমানি করে, আবার সে সালাতও পড়ে। সে যুক্তি দেখায় যে, সালাত হলো দ্বীনের ভিত্তি, বিচারের দিন প্রথম সালাতের হিসেব নেওয়া হবে। সুতরাং (সালাত ঠিক রেখে) কিছু কিছু নাফরমানি করলে ক্ষতি কী!

এ ব্যক্তি অন্যান্য ইবাদতের ত্রুটির বৈধতা দেওয়ার জন্য সালাতকে সবচেয়ে বড় করে দেখছে আর অন্য সমস্ত কিছুর হিসাবের তুলনায় সালাতের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে উপস্থাপন করছে। এটা ঠিক যে, সালাত হলো দ্বীনের স্তম্ভ; কিন্তু সমগ্র দ্বীন তো আর নয়! এভাবেই শয়তান এসে তার ত্রুটিগুলোকে বৈধ রূপ দান করে।

এমনও মানুষ আছে, যারা বলে, দ্বীন হলো আচার-ব্যবহারের নাম, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করছেন কি না, কারো সাথে মিথ্যা বলছেন কি না, কাউকে ধোঁকা দিচ্ছেন কি না, এসব ঠিক রাখা। এমনকি সালাত না পড়লেও চলবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দ্বীন হলো মুআমালাত তথা লেনদেনের নাম।

আবার এমনও ব্যক্তি আছে, যে বলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উত্তম নিয়্যত বা সদিচ্ছা। এ ব্যক্তি সালাত ছেড়ে নিছক উত্তম নিয়্যতকেই যথেষ্ট মনে করে ভাবছে, আমি তো এমনভাবে রাত্রিযাপন করি যে, কারো প্রতি আমার অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই।

আবার এমনও মানুষ আছে, যারা কুরআন পঠন-পাঠন ও তাজবীদকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য সবকিছুর তুলনায় একে প্রধান বানিয়ে দেয়। ফলে তারা অন্যান্য অনেক কর্মই ছেড়ে দেয়। এ ব্যক্তি মূলত (অন্য সবকিছু খাটো করে) কুরআনের দিকটাকেই ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দেখছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম কেবল যে-কোনো একটি বিষয়ের নাম নয়। এখানে আমরা কোনো একটি আমলকে গুরুত্ব দেওয়াকে ভুল বলছি না; ভুল হলো এর বাইরে আরো যেসব গুরুত্বপূর্ণ আমল আছে, সেগুলোকে চাপা দিয়ে শুধু এই একটি আমল নিয়েই পড়ে থাকা।

সমষ্টিকেন্দ্রিক তুলনা : আপনি আমজনতার মাঝে এমন কিছু মানুষ পাবেন, যারা বলে—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, আপনাকে মুসলিমদের ও ইসলামের শত্রুদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। (তাদের মতে) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বিষয়াবলী। কারণ আমরা যে যুগে বাস করি, এটা দরবেশির যুগ নয়।

আবার এমনও কিছু মানুষ দেখতে পাবেন—কমিউনিজম, ধর্মনিরপেক্ষতা, ফ্রিম্যাসন, বাহাই ও কাদিয়ানী মতবাদসহ সমস্ত মতবাদ তাদের আত্মস্থ। কিন্তু তাদের ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, এই বিষয়ে কিছুই জানে না। এরা (ধর্মীয় জ্ঞানের তুলনায়) সমকালীন বিষয়কে অধিক প্রাধান্য দেয়।

অপরদিকে আরেক দল আছে, যারা কেবল ইবাদতের দিকটাকেই প্রাধান্য দেয়। তারা বলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। ফলে (তাদের মতে) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সালাত, যুহদ ও তাকওয়া। আধ্যাত্মিক বিষয় ছাড়া আর যা কিছু আছে, সবই তাদের কাছে মূল্যহীন।

আরেক দল পাবেন—ইসলামি অঙ্গনেও এরা আছে—বলে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আসল বিষয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا “তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হোয়ো না।”[৮]

এরা আকীদার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বানিয়ে নেয় ঐক্যকে! ফলে ভিন্ন আকীদার দলের সাথেও (ঐক্যের) আলোচনা করে। এদের দাবি হলো—এখন আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি, যখন শত্রুরা আমাদের ওপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ঐক্যের ব্যাপারটা ঠিক আছে, তবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দ্বীনের ওপর ভিত্তি করে। এমন নয় যে, আমাদের নৈরাজ্য ও ভিন্ন আকীদার সাথে আপস করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অতএব, এ-সমস্ত বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প নেই। কেননা সাধারণত শয়তানের অনুপ্রবেশ এভাবেই ঘটে যে, সে একটি দিককে প্রাধান্য দিয়ে আরেক দিককে লঘু করে তোলে।

টিকাঃ
[৮] সূরা আলে ইমরান: ১০০

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 অলসতা এবং গড়িমসি করা

📄 অলসতা এবং গড়িমসি করা


শয়তানের অনুপ্রবেশের একটা পথ হলো এই তো করছি করব বলে কর্ম সম্পাদনকে পিছিয়ে দেওয়া। অধিক প্রত্যাশা,[৯] অযথা অজুহাত দেখানো ইত্যাদি সবই শয়তানের প্রবেশ পথ।

যেমন-অনেকে বলে, 'কঠিন সমস্যায় আছি'; কিংবা 'বড় জটিলতার মাঝে আছি।' আবার কেউ কেউ কোনো একটা বিষয়কে সামনে তুলে ধরে বলে, এটার কারণে কাজটা বা আমলটা করতে পারছি না। যেমন কেউ বলল, পড়ালেখার জন্য কিছু করতে পারছি না; আগে পড়ালেখা শেষ হোক, তারপর তাওবা করে নেব...

এখন পড়ালেখার প্রতিবন্ধকতা তার সামনে উপস্থিত! যখন পড়ালেখার পাঠ চুকে যায় তখন সে বলে-অমুক চাকরিটা আগে পেয়ে নিই, তারপর (দ্বীনের পথে) ফিরে আসব...

এরপর চাকরি ঠিকই হয়, কিন্তু তাওবা আর করা হয় না। এভাবেই চলতে থাকে। সে বলে-আগে হজ্জটা করে নিই, তারপর... আগে বিয়েটা করে নিই, তারপর... এরপর... এরপর...! এভাবে চলতেই থাকে। অর্থাৎ সব সময় সে সামনে কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করিয়ে করব... করব... বলে কাল-বিলম্ব করে, আর প্রলম্বিত-আশা বুকে নিয়ে সময় কাটাতে থাকে। এভাবেই তার জীবন কেটে যায় তারপর একদিন মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। অথচ তখনো তার (গুনাহমুক্ত) নির্মল জীবন শুরু করাই হয়ে ওঠেনি।

আপনার ব্যাপারে শয়তানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আমল করতে না দেওয়া কিংবা বিলম্বিত করানো। আমলে গড়িমসি করা সালফে সালেহীনদের কাছে শয়তানের অনুপ্রবেশের অনেক বড় একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ ছিল।

শয়তান এসে আপনাকে বলবে, তুমি এখনো অন্যকে শেখানোর বা দাওয়াত দেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠোনি। সবুর! আগে তো শেখো! অথচ আল্লাহর রাসূল আমাদের আদেশ দিয়েছেন, আমাদের কাছে একটি আয়াত থাকলেও তা যেন অন্যের কাছে পৌঁছে দিই। সুতরাং যখন তুমি যা শিখবে, একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছে দেবে।[১০]

ইবনুল জাওযী 'তালবীসু ইবলীস' কিতাবে বলেন, এই তো করব... করছি এরকম কথা বলানোর মাধ্যমে শয়তান অনেক অটল ব্যক্তিকেও তার কাজ থেকে থামিয়ে রাখে! শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ছুটে চলা বহু ব্যক্তিকে সে স্থবির করে দেয়! এমন অনেক হয়, বিজ্ঞশিক্ষক একটি ক্লাস শেষে পরবর্তী ক্লাসে যাচ্ছেন, আর শয়তান তাকে (থামিয়ে দিচ্ছে) এ কথা বলে—একটু বিশ্রাম করে নিন। কারণ শয়তান অলসতা ও গড়িমসি ভালোবাসে।

অনেক সময় এমনো হয়, আবেদ শেষরাতে উঠেছে সালাত পড়বে বলে। ঠিক এমন সময় শয়তান এসে বলে, আরেকটু ঘুমাও। সময় এখনো অনেক আছে। পরে দেখা যায়—সকাল হয়ে গেছে, কিন্তু তার আর সালাত পড়া হয়নি।

টিকাঃ
[৯] অর্থাৎ বেশি আশা করে বসে থাকা বা গোনাহ করতে থাকা, কিন্তু আশাটি বাস্তবায়ন হবে কি না, তাই সে জানে না। যেমন: গোনাহ করা আর ভাবা, আল্লাহ তো মহান। তিনি চাইলেই ক্ষমা করবেন। কিংবা গোনাহ করা আর ভাবা, পরে তাওবা করে নেব। কিন্তু ততদিন সে বেঁচে থাকবে কি না, জানে না। (সম্পাদক)
[১০] এটা তার জন্য প্রযোজ্য, যে দাওয়াতী কাজের উপযুক্ত হওয়ার পরেও শয়তানের ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত হয়ে পিছিয়ে আছে। অন্যথায় দাওয়াতের কাজে নামার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত ইলম অর্জন করে নেওয়া অপরিহার্য। যাতে করে ভুল পথে বা ভুল পন্থায় দাওয়াত দিয়ে লাভের তুলনায় ক্ষতি বেশি না হয়। অবশ্য দ্বীনের প্রকাশ্য সাধারণ বিষয়াবলী, যা সকলেই জানে এবং এর জন্য গভীর পাণ্ডিত্যের দরকার পড়ে না; সেসব বিষয়ে দাওয়াত দেওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। যেমন, মানুষকে সালাতের জন্য আহ্বান করা, গুনাহের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরা ইত্যাদি। কিন্তু মাসায়েলগত বিষয়ে দাওয়াত দেওয়ার আগে প্রথমে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করে নেওয়া চাই। অন্যথায় ভুল হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়। আর এমন হলে এর জন্য কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। (সম্পাদক)

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 কামিলিয়াত বা পূর্ণতার সাজে অনুপ্রবেশ

📄 কামিলিয়াত বা পূর্ণতার সাজে অনুপ্রবেশ


শয়তান এসে মানুষকে এ ধরনের সুখানুভূতি দেয় যে, তুমি তো পরিপূর্ণ বা পারফেক্ট! তুমি তো অমুক থেকে উত্তম। তুমি তো সালাত পড়ো, আরো কত মানুষ আছে সালাতই পড়ে না! তুমি তো সাওম পালন করো, আরো কত মানুষ আছে সাওম পালন করে না। এভাবে শয়তান সৎকর্মে আপনার নিচে যারা আছে, তাদের দেখাবে। এটা শুধু এজন্যই যে, সে আপনার আমলকে স্থবির করে দিতে চায়।

যদি আপনি নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ না ভাবেন, তখন শয়তান বলবে, তোমার আমল তোমার জন্য সুপারিশ করবে। তারপর শয়তান তাকে (বুঝিয়ে) বৈধ অন্য যে কোনো কাজে লাগিয়ে দেয় আর বলে, একটু জিরিয়ে নাও। তুমি কত ব্যস্ত! তুমি অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ... এভাবেই শয়তান তাকে শিথিল করে ফেলে। সে আর কাজে উদ্যম পায় না।

কাম্য কী ছিল! উল্টোটা। আপনি দেখবেন, অমুক সোম ও বৃহস্পতিবার সাওম করছে, কিন্তু আপনি করছেন না। দেখবেন, অমুক কত নফল ইবাদত করছে, কিন্তু আপনি করছেন না। এটাই কাম্য।

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 নিজেকে ও নিজের সামর্থ্যকে সঠিক মূল্যায়ন না করা

📄 নিজেকে ও নিজের সামর্থ্যকে সঠিক মূল্যায়ন না করা


নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শয়তানের দুটি পন্থা আছে,

ক. আত্মপ্রবঞ্চনাবোধ: শয়তান মানুষকে প্ররোচিত করে, যেন সে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়। শয়তান মানুষকে প্রবঞ্চনা ও অহংকার জোগাতে থাকে। সে বলে, তুমি এটা করো, ওটা করো; তুমি নিজের দিকে তাকাও, তুমি এই করেছ, সেই করেছ। তখন মানুষ বদলাতে থাকে এবং অহংকারী হতে থাকে, ফলে আত্মপ্রবঞ্চনা তাকে পেয়ে বসে আর সে অন্যদের হেয় করতে থাকে; সে সত্যকে উড়িয়ে দেয়, যখন সে কোনো ভুল করে তখন ফিরে না এসে সত্যকে তুড়ি মারে; অন্যের কাছ থেকে শিখতে সে ইলমের মজলিসে বসতে চায় না।

কুরআনের 'পাঠচক্রে' মাঝেমধ্যে দেখা যায়, কিছু মানুষ কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতে ভুল করছে। কিন্তু তারা পাঠচক্রে নিয়মিত না হয়ে বরং আসা বন্ধ করে দেয়। তাদের উদ্দেশ্য—যেন মানুষ জানতে না পারে যে, তারা কুরআন শুদ্ধ করে পড়তে পারে না। ফলে অনেক বয়স্ক হলেও তার আর শেখা হয় না। সে একটু চিন্তা করলেই এটা বুঝতে পারত, যে ব্যক্তি আজ ভালো পড়ছে, কদিন আগে সেও তো তারই মতো ছিল, এরপর সে শিখেছে। যতদিন শেখার ব্যাপারে এই ব্যক্তির মাঝে লজ্জা ও অহংকারবোধ থাকবে, ততদিন...

কবি বলেন, যার যে দোষ আছে তা প্রকাশ পাবে সে যতই ভাবুক, তা গোপন থাকবে। অর্থাৎ সে তার ত্রুটি গোপন রাখার জন্য শিখছে না, কিন্তু শিখতে না এলেও তা প্রকাশ পাবেই। সুতরাং মন্দ দোষগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত করার অভ্যাস অর্জনের জন্য সকলের উচিত চেষ্টা অব্যাহত রাখা।

খ. নিজের প্রতি হেয়ভাবাপন্ন হওয়া: কখনো শয়তান আপনাকে এসে বলবে— অবশ্যই তোমাকে বিনয়ী হতে হবে, যে বিনয়ী হয় আল্লাহ তাকে মর্যাদাবান করেন; দ্বীনের এ-সমস্ত মহান দায়িত্ব আঞ্জামের জন্য তুমি তো বেশ নগণ্য! এসব মহান ব্যক্তিগণের কাজ।

এসব কথা বলে শয়তানের আসল উদ্দেশ্য হলো আপনাকে 'দাওয়াত পৌঁছানোর দায়িত্ব' থেকে দূরে সরিয়ে রাখা; আর এটা সে করছে বিনয়ের দরজা দিয়ে। তাই সে আপনার মাঝে নিজের প্রতি এমন তাচ্ছিল্যবোধ সৃষ্টি করছে, যেন আপনার যে সামর্থ্য আছে তা থেকেও আপনি উপকৃত হতে না পারেন।

আল্লাহ আমাদের সকলকেই তার সাধ্য ও সামর্থ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। সবার দায়িত্ব নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী সেবা দেওয়া। যে দায়িত্ব পালন করবে না, আল্লাহ তাকে এ সম্পর্কে জবাবদিহি করবেন। নিজের সামর্থ্যকে ছোট করে দেখার নাম বিনয় নয়; এ বরং এটা হলো দায়িত্ব থেকে পালিয়ে আসা এবং कर्तव्य পালন না করে গা ঢাকা দেওয়া।

আপনি যখন দাওয়াতের পথে আসবেন, শয়তান আপনাকে বলবে, দাওয়াতের কাজ তো অনেক সম্মানের; এটি মহান ব্যক্তিদের কর্মবিশেষ; এ ক্ষেত্রটি তুমি তোমার চেয়ে যোগ্য কারো জন্য ছেড়ে দাও। শয়তান কখনো কখনো তার এ ধরনের আরো কিছু চিন্তা হাজির করে। ধরুন—কোনো ব্যক্তি দাওয়াতের কাজে ভুল করল। শয়তান তখন বলে, এ ভুল সবাই করে। (তখন দাঈ আর এ ভুল সংশোধন করে না)। এ ধরনের প্ররোচনাও শয়তানের একটি কাজ এবং তার অনুপ্রবেশের একটি পথ।

কখনো শয়তান তাকে এতটা বিনয়ী ভাবতে প্ররোচিত করে যে, সে নিজের বিবেককে আর কাজে লাগায় না। সে বিবেক দিয়ে এতটুকুও ভাবে না যে :
• আমার পরিচয় কী আর আমার শাইখের পরিচয় কী?
• আমি কী জিনিস আর একজন আলিম কী জিনিস?

ফলে সে নিজেকে অতি তুচ্ছ করে তার শাইখকে অতি মহান করে দেখে। তার শাইখ যা বলে, এর বাইরে সে কিছুই করে না। তার শাইখের চিন্তা ছাড়া সে আর চিন্তাও করতে পারে না। তার কাছে তার শাইখই ঠিক, বাকি সব বেঠিক। নিজেকে তুচ্ছ করে দেখার মাধ্যমেই কোনো মানুষকে মহান ও পুত-পবিত্র করে দেখার সূচনা হয়।

আমাদের মূলনীতি হলো আমরা সর্বদা শরিয়তের কাছে প্রত্যাবর্তন করব এবং (এ ধারণা রাখব যে,) আমাদের সামনে যে মানুষটা আছে, সেও ভুল করতে পারে। এজন্যই সমস্ত মানুষের কথাকে আমরা আল্লাহর কালাম ও তাঁর রাসূলের কথা অনুযায়ী যাচাই করব। যে কথা কুরআন-সুন্নাহর সাথে মিলে যাবে, গ্রহণ করব। আর যা মিলবে না, প্রত্যাখ্যান করব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00