📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা এবং মন্দ-ধারণা সৃষ্টি করা

📄 মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা এবং মন্দ-ধারণা সৃষ্টি করা


ইমাম মুসলিম রাহিমাহুল্লাহ বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, إِنَّ إِبْلِيْسَ قَدْ يَبِسَ أَنْ يَعْبُدُهُ الصَّالِحُوْنَ... وَلَكِن يَسْعَى بَيْنَهُمْ فِي التَّحْرِيشِ "ইবলিস এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছে যে, মানুষ তার ইবাদত করবে। তাই সে মানুষের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।”[৬]

অর্থাৎ সে মানুষের মাঝে বিবাদ, বিদ্বেষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং একজনের মাধ্যমে অন্যজনকে ব্যস্ত রাখে। আরেক রেওয়াতে এসেছে, قد يئস الشيطان أن يعবদে المصلون في جزيرة العرب “জাযিরাতুল আরবে সালাত-আদায়কারীরা তার ইবাদত করবে, এ বিষয়ে শয়তান হতাশ।”

মন্দ-ধারণা সাধারণত শয়তানের পক্ষ থেকে এসে থাকে। উম্মুল মুমিনীন সফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে এতেকাফ করছিলেন। এক রাতে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলাম এবং (কিছুক্ষণ) কথা বললাম। এরপর ফেরার জন্য যখন উঠে দাঁড়ালাম, তখন তিনিও আমাকে কিছুটা এগিয়ে দেওয়ার জন্য উঠলেন। এ সময় দুজন আনসারী সাহাবী আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখে আরো দ্রুত চলতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, على رسلكما، إنها صفية بنت حي "থামো! সে (আমার স্ত্রী) সফিয়্যা বিনতে হুয়াই।"

সাহাবীরা বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ! ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আপনার ব্যাপারে আমাদের কিছু ভাবার তো প্রশ্নই আসে না)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِيْ مِنِ بَنِيْ آدَمَ মَجْرَى الدَّمِ ، وَإِنِّيْ خِفْتُ أَنْ يَقْذِفَ فِيْ قُلُوْبِكُمَا شَرّاً “শয়তান আদম-সন্তানের রক্ত-প্রবাহে চলাচল করে। আমার আশঙ্কা হলো, শয়তান তোমাদের অন্তরে কোনো অনিষ্ট প্রক্ষেপণ করে কি না!”[৭]

(দেখুন), রাতের বেলা একজন পুরুষ একজন নারীর সাথে চলছে। এখানে সন্দেহ ও খারাপ ধারণা সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খারাপ ধারণার সম্ভাবনাটুকুও দূর করার জন্য বললেন, “তোমরা থামো, এ হলো সফিয়্যা।”

এজন্যই সন্দেহের সম্ভাবনা আছে—কেউ যদি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তার জন্য ওয়াজিব হলো, যে দেখছে বা শুনছে তার কাছে বাস্তবতা স্পষ্ট করে দেওয়া, যেন মন্দ-ধারণার অবকাশটুকুও আর না থাকে।

মন্দ-ধারণা শয়তানের অন্যতম প্রবেশপথ। শয়তান সব সময় আপনার পিছনে লেগে আছে। সে চেষ্টা করে, আপনি যা কিছু শুনছেন, সবকিছুরই যেন একটা নেতিবাচক অর্থ গ্রহণ করেন। (এভাবে) শয়তান মানুষের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বেড়ায়।

সুলাইমান বিন সারদ বলেন, একদিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে বসা ছিলাম। তখন দুজন ব্যক্তি একজন আরেকজনকে গালি দিল। ফলে তাদের একজনের চেহারা (রাগে) লাল হয়ে গেল। এই দৃশ্য দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আমি এমন একটা কালেমা জানি, সেই কালেমা যদি সে বলত, তাহলে তার এ অবস্থা দূর হয়ে যেত। তা হলো, أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।”

টিকাঃ
[৬] সহীহুল মুসলিম: ২৮১৬
[৭] বুখারি ও মুসলিম

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 বিদআতকে সুন্দররূপে তুলে ধরা

📄 বিদআতকে সুন্দররূপে তুলে ধরা


শয়তানের আরেকটা প্রবেশপথ হলো মানুষের সামনে বিদআতকে সুন্দররূপে তুলে ধরা। বিদআতকে সুন্দররূপে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে শয়তান মানুষের কাছে এসে বলে, বর্তমানে মানুষ দ্বীন ছেড়ে দিয়েছে। তাদের (দ্বীনের পথে) ফিরিয়ে আনা কঠিন। সুতরাং যদি মানুষকে (দ্বীনের পথে) ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো ইবাদত একটু বাড়িয়ে করা হয় তাহলে খারাপ কী? শয়তান আপনাকে (বিদ'আতের) ব্যাপারে বুঝ দিচ্ছে, আরে আপনি তো রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত ইবাদতই একটু ভিন্ন পদ্ধতিতে বাড়িয়ে করছেন (এতে আর সমস্যা কী?)। আর, ভাল কাজ বেশী করা ভাল! সুতরাং বাড়াও।

আবার শয়তান কারো কারো কাছে এসে বলে, মানুষ দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তাদের ভীতিপ্রদর্শনের মতো কিছু হাদীস যদি বানানো যেত তাহলে তো ভালই হতো!

তখন তারা রাসূলের নামে জাল হাদীস বলতে থাকে আর বলে- “আমরা মিথ্যা বলছি, এটা ঠিক। কিন্তু সেটা তো আমরা রাসূলের বিপক্ষে না; বরং তার পক্ষেই বলছি!” তারা রাসূলের জন্যে মিথ্যা বলে! তারা হাদীস বানিয়ে মিথ্যা বলে মানুষকে জাহান্নামের ভয় দেখায়! কী অদ্ভুতভাবে তারা মানুষের সামনে ইসলামকে চিত্রিত করছে! কী আজব পদ্ধতিতে তারা জান্নাতের ছবি অঙ্কন করছে?

আমরা জানি, ইবাদত নির্ধারিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যেভাবে ইবাদত বর্ণিত হয়েছে, যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ইবাদতের আদেশ এসেছে, আমরা সেভাবেই ইবাদত করতে বাধ্য। এতে আমাদের বাড়ানোর ক্ষমতা নেই, কমানোরও অধিকার নেই, ইচ্ছামতো পরিবর্তনেরও অনুমতি নেই। এসবই শয়তানের কার্মকাণ্ড এবং সবই বিদআত।

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 একটি কাজকে ছোট করে আরেকটিকে বড় করে দেখা

📄 একটি কাজকে ছোট করে আরেকটিকে বড় করে দেখা


এ ধরনের তুলনা দুভাবে হতে পারে:
ক. ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা
খ. সমষ্টিকেন্দ্রিক তুলনা

ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা: ব্যক্তিকেন্দ্রিক তুলনা বলতে নিজের সাথেই নিজেকে তুলনা করা। কোনো ব্যক্তি অনেক পাপাচার ও নাফরমানি করে, আবার সে সালাতও পড়ে। সে যুক্তি দেখায় যে, সালাত হলো দ্বীনের ভিত্তি, বিচারের দিন প্রথম সালাতের হিসেব নেওয়া হবে। সুতরাং (সালাত ঠিক রেখে) কিছু কিছু নাফরমানি করলে ক্ষতি কী!

এ ব্যক্তি অন্যান্য ইবাদতের ত্রুটির বৈধতা দেওয়ার জন্য সালাতকে সবচেয়ে বড় করে দেখছে আর অন্য সমস্ত কিছুর হিসাবের তুলনায় সালাতের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে উপস্থাপন করছে। এটা ঠিক যে, সালাত হলো দ্বীনের স্তম্ভ; কিন্তু সমগ্র দ্বীন তো আর নয়! এভাবেই শয়তান এসে তার ত্রুটিগুলোকে বৈধ রূপ দান করে।

এমনও মানুষ আছে, যারা বলে, দ্বীন হলো আচার-ব্যবহারের নাম, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করছেন কি না, কারো সাথে মিথ্যা বলছেন কি না, কাউকে ধোঁকা দিচ্ছেন কি না, এসব ঠিক রাখা। এমনকি সালাত না পড়লেও চলবে। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, দ্বীন হলো মুআমালাত তথা লেনদেনের নাম।

আবার এমনও ব্যক্তি আছে, যে বলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উত্তম নিয়্যত বা সদিচ্ছা। এ ব্যক্তি সালাত ছেড়ে নিছক উত্তম নিয়্যতকেই যথেষ্ট মনে করে ভাবছে, আমি তো এমনভাবে রাত্রিযাপন করি যে, কারো প্রতি আমার অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ নেই।

আবার এমনও মানুষ আছে, যারা কুরআন পঠন-পাঠন ও তাজবীদকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্য সবকিছুর তুলনায় একে প্রধান বানিয়ে দেয়। ফলে তারা অন্যান্য অনেক কর্মই ছেড়ে দেয়। এ ব্যক্তি মূলত (অন্য সবকিছু খাটো করে) কুরআনের দিকটাকেই ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দেখছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইসলাম কেবল যে-কোনো একটি বিষয়ের নাম নয়। এখানে আমরা কোনো একটি আমলকে গুরুত্ব দেওয়াকে ভুল বলছি না; ভুল হলো এর বাইরে আরো যেসব গুরুত্বপূর্ণ আমল আছে, সেগুলোকে চাপা দিয়ে শুধু এই একটি আমল নিয়েই পড়ে থাকা।

সমষ্টিকেন্দ্রিক তুলনা : আপনি আমজনতার মাঝে এমন কিছু মানুষ পাবেন, যারা বলে—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, আপনাকে মুসলিমদের ও ইসলামের শত্রুদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। (তাদের মতে) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক বিষয়াবলী। কারণ আমরা যে যুগে বাস করি, এটা দরবেশির যুগ নয়।

আবার এমনও কিছু মানুষ দেখতে পাবেন—কমিউনিজম, ধর্মনিরপেক্ষতা, ফ্রিম্যাসন, বাহাই ও কাদিয়ানী মতবাদসহ সমস্ত মতবাদ তাদের আত্মস্থ। কিন্তু তাদের ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, এই বিষয়ে কিছুই জানে না। এরা (ধর্মীয় জ্ঞানের তুলনায়) সমকালীন বিষয়কে অধিক প্রাধান্য দেয়।

অপরদিকে আরেক দল আছে, যারা কেবল ইবাদতের দিকটাকেই প্রাধান্য দেয়। তারা বলে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। ফলে (তাদের মতে) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সালাত, যুহদ ও তাকওয়া। আধ্যাত্মিক বিষয় ছাড়া আর যা কিছু আছে, সবই তাদের কাছে মূল্যহীন।

আরেক দল পাবেন—ইসলামি অঙ্গনেও এরা আছে—বলে, মুসলিম উম্মাহর ঐক্যই আসল বিষয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا “তোমরা সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হোয়ো না।”[৮]

এরা আকীদার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা বানিয়ে নেয় ঐক্যকে! ফলে ভিন্ন আকীদার দলের সাথেও (ঐক্যের) আলোচনা করে। এদের দাবি হলো—এখন আমরা এমন এক সময়ে রয়েছি, যখন শত্রুরা আমাদের ওপর একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ঐক্যের ব্যাপারটা ঠিক আছে, তবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে দ্বীনের ওপর ভিত্তি করে। এমন নয় যে, আমাদের নৈরাজ্য ও ভিন্ন আকীদার সাথে আপস করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

অতএব, এ-সমস্ত বিষয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষার বিকল্প নেই। কেননা সাধারণত শয়তানের অনুপ্রবেশ এভাবেই ঘটে যে, সে একটি দিককে প্রাধান্য দিয়ে আরেক দিককে লঘু করে তোলে।

টিকাঃ
[৮] সূরা আলে ইমরান: ১০০

📘 শয়তানের ফাঁদ > 📄 অলসতা এবং গড়িমসি করা

📄 অলসতা এবং গড়িমসি করা


শয়তানের অনুপ্রবেশের একটা পথ হলো এই তো করছি করব বলে কর্ম সম্পাদনকে পিছিয়ে দেওয়া। অধিক প্রত্যাশা,[৯] অযথা অজুহাত দেখানো ইত্যাদি সবই শয়তানের প্রবেশ পথ।

যেমন-অনেকে বলে, 'কঠিন সমস্যায় আছি'; কিংবা 'বড় জটিলতার মাঝে আছি।' আবার কেউ কেউ কোনো একটা বিষয়কে সামনে তুলে ধরে বলে, এটার কারণে কাজটা বা আমলটা করতে পারছি না। যেমন কেউ বলল, পড়ালেখার জন্য কিছু করতে পারছি না; আগে পড়ালেখা শেষ হোক, তারপর তাওবা করে নেব...

এখন পড়ালেখার প্রতিবন্ধকতা তার সামনে উপস্থিত! যখন পড়ালেখার পাঠ চুকে যায় তখন সে বলে-অমুক চাকরিটা আগে পেয়ে নিই, তারপর (দ্বীনের পথে) ফিরে আসব...

এরপর চাকরি ঠিকই হয়, কিন্তু তাওবা আর করা হয় না। এভাবেই চলতে থাকে। সে বলে-আগে হজ্জটা করে নিই, তারপর... আগে বিয়েটা করে নিই, তারপর... এরপর... এরপর...! এভাবে চলতেই থাকে। অর্থাৎ সব সময় সে সামনে কোনো না কোনো অজুহাত দাঁড় করিয়ে করব... করব... বলে কাল-বিলম্ব করে, আর প্রলম্বিত-আশা বুকে নিয়ে সময় কাটাতে থাকে। এভাবেই তার জীবন কেটে যায় তারপর একদিন মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। অথচ তখনো তার (গুনাহমুক্ত) নির্মল জীবন শুরু করাই হয়ে ওঠেনি।

আপনার ব্যাপারে শয়তানের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো আমল করতে না দেওয়া কিংবা বিলম্বিত করানো। আমলে গড়িমসি করা সালফে সালেহীনদের কাছে শয়তানের অনুপ্রবেশের অনেক বড় একটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ ছিল।

শয়তান এসে আপনাকে বলবে, তুমি এখনো অন্যকে শেখানোর বা দাওয়াত দেওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠোনি। সবুর! আগে তো শেখো! অথচ আল্লাহর রাসূল আমাদের আদেশ দিয়েছেন, আমাদের কাছে একটি আয়াত থাকলেও তা যেন অন্যের কাছে পৌঁছে দিই। সুতরাং যখন তুমি যা শিখবে, একটি আয়াত হলেও তা পৌঁছে দেবে।[১০]

ইবনুল জাওযী 'তালবীসু ইবলীস' কিতাবে বলেন, এই তো করব... করছি এরকম কথা বলানোর মাধ্যমে শয়তান অনেক অটল ব্যক্তিকেও তার কাজ থেকে থামিয়ে রাখে! শ্রেষ্ঠত্বের দিকে ছুটে চলা বহু ব্যক্তিকে সে স্থবির করে দেয়! এমন অনেক হয়, বিজ্ঞশিক্ষক একটি ক্লাস শেষে পরবর্তী ক্লাসে যাচ্ছেন, আর শয়তান তাকে (থামিয়ে দিচ্ছে) এ কথা বলে—একটু বিশ্রাম করে নিন। কারণ শয়তান অলসতা ও গড়িমসি ভালোবাসে।

অনেক সময় এমনো হয়, আবেদ শেষরাতে উঠেছে সালাত পড়বে বলে। ঠিক এমন সময় শয়তান এসে বলে, আরেকটু ঘুমাও। সময় এখনো অনেক আছে। পরে দেখা যায়—সকাল হয়ে গেছে, কিন্তু তার আর সালাত পড়া হয়নি।

টিকাঃ
[৯] অর্থাৎ বেশি আশা করে বসে থাকা বা গোনাহ করতে থাকা, কিন্তু আশাটি বাস্তবায়ন হবে কি না, তাই সে জানে না। যেমন: গোনাহ করা আর ভাবা, আল্লাহ তো মহান। তিনি চাইলেই ক্ষমা করবেন। কিংবা গোনাহ করা আর ভাবা, পরে তাওবা করে নেব। কিন্তু ততদিন সে বেঁচে থাকবে কি না, জানে না। (সম্পাদক)
[১০] এটা তার জন্য প্রযোজ্য, যে দাওয়াতী কাজের উপযুক্ত হওয়ার পরেও শয়তানের ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত হয়ে পিছিয়ে আছে। অন্যথায় দাওয়াতের কাজে নামার আগে অবশ্যই পর্যাপ্ত ইলম অর্জন করে নেওয়া অপরিহার্য। যাতে করে ভুল পথে বা ভুল পন্থায় দাওয়াত দিয়ে লাভের তুলনায় ক্ষতি বেশি না হয়। অবশ্য দ্বীনের প্রকাশ্য সাধারণ বিষয়াবলী, যা সকলেই জানে এবং এর জন্য গভীর পাণ্ডিত্যের দরকার পড়ে না; সেসব বিষয়ে দাওয়াত দেওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। যেমন, মানুষকে সালাতের জন্য আহ্বান করা, গুনাহের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরা ইত্যাদি। কিন্তু মাসায়েলগত বিষয়ে দাওয়াত দেওয়ার আগে প্রথমে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করে নেওয়া চাই। অন্যথায় ভুল হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে যায়। আর এমন হলে এর জন্য কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। (সম্পাদক)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00