📄 পঞ্চম পদক্ষেপ : বৈধ কাজে ব্যস্ত রাখা
শয়তান যখন মানুষকে কোনো ধরনের গোনাহে লিপ্ত করতে পারে না, তখন (যে কাজে কোনো সওয়াব ও ফায়দা নেই, এই ধরনের) বিভিন্ন বৈধ কাজে ব্যস্ত রাখে। মানুষ বৈধ কাজে ব্যস্ত থেকে তার সময় নষ্ট করে। ফলে আল্লাহ যে-সমস্ত কাজের আদেশ করেছেন, সে-সমস্ত কাজ তার দ্বারা আর (আগের মতো) হয়ে ওঠে না।
📄 ষষ্ঠ পদক্ষেপ : তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত রাখা
শয়তান মানুষকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আমল থেকে বিরত রেখে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ আমলে ব্যস্ত রাখে। ফলে ব্যক্তির দ্বারা উত্তম কাজ সম্পাদিত হলেও এর চেয়েও আরো যে উত্তম কাজ সে করতে পারত, তা থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন: কেউ ফরয রেখে সুন্নত নিয়ে ব্যস্ত থাকল। অর্থাৎ কেউ সুন্নত নিয়ে এমনভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়ল যে, এর কারণে ফরয ছুটে গেল।
শয়তান তার দাওয়াত নিয়ে বেশ তৎপর। ধীরে ধীরে সে দাওয়াতের গভীরে অনুপ্রবেশ করে এবং পর্যায়ক্রমে ওপরের দিকে অগ্রসর হয়।
শয়তানের কৌশল হলো সে ‘এক কদম’ ‘এক কদম’ করে এগিয়ে মানুষকে গ্রাস করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
“আল্লাহ তাআলা তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তা থেকে খাবার গ্রহণ করো, তবে শয়তানের কদম অনুসরণ কোরো না। নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।”[৫]
একজন ব্যক্তিকে নিয়ে শয়তানের কৌশল থাকে একটু একটু করে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া। লক্ষ্যে পৌঁছা পর্যন্ত এভাবেই সে তাকে নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে।
শয়তান সকল শ্রেণীর মানুষের কাছেই তার অবস্থা অনুযায়ী অনুপ্রবেশ করে :
* দুনিয়াবিমুখের কাছে যায় দুনিয়াবিমুখতার সুরতে
* আলেমের কাছে যায় ইলমের দরজা দিয়ে
* মুর্খের কাছে যায় অজ্ঞতার পথ ধরে
টিকাঃ
[৫] সূরা আনআম: ১৪২