📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 উচ্চাশা পোষণে সবার প্রতি শয়তানের ধোঁকা

📄 উচ্চাশা পোষণে সবার প্রতি শয়তানের ধোঁকা


গ্রন্থকার বলেন, অধিকাংশ ইহুদি-খ্রিষ্টান মনে মনে ইসলামের সত্যতা ও অপরিহার্যতা স্বীকার করে। কিন্তু শয়তান সারাক্ষণ তাদের প্ররোচনা দিয়ে বলে, এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিও না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নাও। এভাবে শয়তান তাকে দোদুল্যমান রাখে। আর এভাবে কাফের অবস্থাতেই সে মারা যায়। অনুরূপভাবে পাপীদেরকেও শয়তান তার প্ররোচনা দিয়ে টলাতে থাকে। শৈথিল্য প্রদর্শনে ইন্ধন জোগাতে থাকে। পাপের কাজ আরও অধিক পরিমাণে করার জন্য প্রলোভন দিতে থাকে। জনৈক কবি খুব সুন্দর বলেছেন,
'তুমি ইচ্ছেমতো পাপ কাজ দ্রুত করে নাও, আগামী বছর তাওবাহ করার আশা রাখো।' আর এমনই করে সে তাওবাহ ছাড়া ইহজগৎ থেকে পরপারে পাড়ি দেয়। অনেক সময় ফকিহগণ পুনরায় তার দরস দেখে নিতে চান, কিন্তু শয়তান ইন্ধন দিয়ে বলে, আর সামান্য আরাম করে নিন। অনেক ইবাদতকারী রাতে নামায পড়ার জন্য উঠতে চায়, শয়তান তাকে 'আরো অনেক সময় পড়ে আছে' বলে ধোঁকা দিতে থাকে। এভাবে উত্তম কাজে সব শ্রেণির লোককে শয়তান বিভিন্ন টালবাহানায়, অদ্ভুত কূটচাল আর বিচিত্র ফন্দিতে সময় ক্ষেপণ করতে বাধ্য করে। উচ্চাশা পোষণে প্ররোচনা দেয়। সুতরাং বুদ্ধিমানদের উচিত—আমলের কাজ দ্রুত করে নেয়া। সময়ের কাজ যথাসময়ে আদায় করা। আগামীর জন্য কোনো আমল রেখে না দেয়া। উচ্চাশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। কেননা সময়ের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নয়। সে ইচ্ছে করলেই ভবিষ্যতের আশাকৃত কাজ করতে পারে না। এটা নিতান্তই শয়তানের একটি চাল ও ফাঁদ। এ জন্যই হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
صَلَّ صَلَاةَ مُوَدَّعٍ
'যখন তোমরা নামায পড়বে, মনে করবে এটা তোমার শেষ নামায।'

জনৈক বুযুর্গ বলেছেন, আমি তোমার 'অতিসত্বর' শব্দযুক্ত কথার ব্যাপারে ভয় করি। কেননা এটা শয়তানের অন্যতম সৈনিক। দ্রুত কাজ সম্পাদন এবং উচ্চাশা পোষণকারী-উভয়ের উদাহরণ হচ্ছে এমন, দু'জন দীর্ঘ সফরে গাড়িতে উঠল। মাঝপথে বিরতিতে উভয়ে এক স্থানে গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ায়। দ্রুত কাজ সম্পাদনকারী গাড়ি থেকে নেমে তার বাকি সফরের পাথেয়গুলো প্রয়োজনমাফিক খরিদ করার কাজে নেমে গেল। আর উচ্চাশা পোষণকারী ভাবল, একটু জিরিয়ে নিই। আরও বহু সময় আছে, পরে পাথেয় খরিদ করে নেব। এমন করে একসময় গাড়িটি ছাড়ার উদ্দেশ্যে হর্ন বাজালে উচ্চাশা পোষণকারীর টনক নড়ে। সে হায় হায় শব্দে আফসোস করতে থাকে। বাকি পথের পাথেয়ের ব্যাপারে হা-হুতাশ করতে থাকে। আর দ্রুত কাজ সম্পাদনকারী নির্বিঘ্নে শঙ্কামুক্ত থেকে গাড়িতে ওঠে বাকি পথের জন্য দুশ্চিন্তামুক্ত থাকে।

تم والحمد لله أولا وآخرا

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00