📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 নারীদের ওপর শয়তানের ধোঁকা

📄 নারীদের ওপর শয়তানের ধোঁকা


নারীদের ওপর শয়তান অধিক মাত্রায় ধোঁকা দিয়ে থাকে। আমি কেবল নারীদের উদ্দেশ্যে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি। যাতে তাদের সম্পর্কে সমুদয় বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এখানে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব। নারীদের ওপর শয়তানের ধোঁকার একটি হচ্ছে, তারা ঋতুস্রাব শেষ হওয়ার পরও দেরি করে আসরের সময় গোসল করে এবং শুধু আসরের নামায থেকে পবিত্রতার হিসাব করে সে ওয়াক্ত থেকে নামায পড়া শুরু করে। তারা জানে না—যোহরের নামাযও তাদের ওপর ফরয ছিল। অনেক ঋতুবতী মহিলা দু'তিন দিন যাবৎ গোসল করেন না এবং কাপড় ধোয়া হয়নি বলে ওজর পেশ করে থাকেন। অনেকে জানাবাত তথা ফরয গোসলে বিলম্ব করেন, শৈথিল্য প্রদর্শন করেন। এছাড়া অনেক মহিলা গোসলখানায় যাবার সময় ভালো করে কাপড় পড়ে যান না। তারা মনে করেন, ঘরে তো আমরা কেবল ক'জন মহিলাই থাকি, পুরো শরীর আবৃত করার কী আছে? ঘরের সবাই তো আমার নিজের লোক।

এ সকল বিষয় হারাম। বিনা কারণে গোসলে বিলম্ব করা জায়েয নেই। এমনইভাবে এক নারী জন্য অন্য নারীর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অঙ্গ দেখা অবৈধ, সে মা হোক বা মেয়ে। হ্যাঁ, যদি মেয়ে ছোট হয় তবে অসুবিধা নেই। কিন্তু তার বয়স সাত হলে, তখন তার থেকে পর্দা করা উচিত।

অনেক মহিলা আছেন—যারা দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখা সত্ত্বেও বসে নামায আদায় করেন। এমতাবস্থায় নামায বাতিল বলে গণ্য হবে। অনেক নারী নামাযে শৈথিল্য প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেন, আজ কাপড়ে বাচ্চা পেশাব করে দিয়েছে। অথচ কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা থাকলে দ্রুত কাপড় পরিবর্তন করেন। নামাযের বেলায়ই এই অবহেলা। কোনো কোনো মা-বোন নামাযের ওয়াজিব তথা আবশ্যিক বিষয়াবলি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যান, এক্ষেত্রে তারা কারও কাছ থেকে শিখতে চান না। কারও আবার নামাযের সময় কাপড় খুলে যায়, শরীর দেখা যায়। অথচ এতে নামায টূটে যায়। এগুলোকে তারা তেমন আপত্তিজনক মনে করেন না।

অনেক মহিলা গর্ভপাতকে সহজ মনে করেন। তারা এটা ভাবেন না যে, একটি জমাট আত্মাকে নষ্ট করা একজন মুসলমানকে খুন করার সমতুল্য। এতে যে কাফফারা আবশ্যক হয়, সে ব্যাপারেও তারা গ্রাহ্য করেন না।

বিশেষ জ্ঞাতব্য : স্বামীর অকৃতজ্ঞতা একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ হাদিসে আছে, আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
ثَلاثَةٌ لا تُجَاوِزُ صَلَاتُهُمْ آذَانَهُمُ الْعَبْدُ الآبِقُ حَتَّى يَرْجِعَ وَامْرَأَةً بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَإِمَامُ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارَهُونَ
“তিন ব্যক্তির নামায তাদের কানের ওপরে ওঠে না (অর্থাৎ কবুল হয় না) যথা-১. পলাতক ক্রীতদাস, যে নিজের মালিকের নিকট থেকে পলায়ন করেছে। যতক্ষণ সে ফিরে না আসবে তার নামায কবুল হবে না। ২. সেই নারী, যে স্বামীকে রাগান্বিত রেখে রাত কাটায়। ৩. সেই ইমাম, লোকেরা যার ইমামতি পছন্দ করে না।”

মু'আয ইবনে জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
لا تُؤْذِي امْرَأَةً زَوْجَهَا فِي الدُّنْيَا إِلا قَالَتْ زَوْجَتُهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ لَا تُؤْذِيهِ قَاتَلَكِ اللَّهُ فَإِنَّمَا هُوَ عِنْدَكَ دَخِيلُ يُوشِكُ أَنْ يُفَارِقَكِ إِلَيْنَا
“কোনো নারী যখন দুনিয়াতে তার স্বামীকে কষ্ট দেয়, তখন জান্নাতে তার হুরেঈন স্ত্রী বলতে থাকেন, আল্লাহ্ তোমাকে ধ্বংস করুন! ওকে কষ্ট দিও না। উনি তো তোমার কাছে কয়েক দিনের মেহমান। অচিরেই তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে (জান্নাতে) আগমন করবেন।”

উপরোক্ত হাদিসগুলোতে স্বামীকে অসন্তুষ্ট করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য যে, নেককার স্বামী দুনিয়ার স্ত্রীর কাছে কিছুদিনের জন্য অতিথিস্বরূপ। তার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট।

স্ত্রীর ওপর স্বামীর যে সকল অধিকার রয়েছে, তমধ্যে বিছানার অধিকার অন্যতম। মূলত এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই মিলিত অধিকার। এ জন্য স্বামী যখন যৌন ইচ্ছা পূরণ করতে আগ্রহী হয়, স্ত্রীর জন্য তখন বাধা দেয়া বৈধ নয়। হ্যাঁ, কঠিন ব্যাধিতে নিপতিত হলে সে ব্যাপারটি আলাদা।

অনেক সময় স্বামী-স্ত্রীর মাঝে এ ব্যাপারে বেশ মতানৈক্য দেখা দেয়। ঝগড়া-বিবাদেরও উপক্রম হয়। স্বামী বেচারা শান্তি ও তৃপ্তির আশায় ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। অন্যত্র চলে যায়। বিছানার অধিকার পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রীকে দূরে রাখে। এমন সময় স্বামী চায়, স্ত্রী তাকে আগের মতো ভালোবাসুক। সে উভয়ের মিলনের প্রত্যাশা করে। এদিকে স্ত্রীও মনে মনে সেটাই চায়। কিন্তু শয়তান এ ক্ষেত্রে বাগড়া বসায়। সে স্ত্রীর মনে ওয়াসওয়াসা দেয়- তোমার স্বামী রাগ করেছে। মান করেছে। তুমি কেন তার ডাকে সাড়া দেবে? তোমারও তো একটি ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য আছে। শয়তানের এই আশকারা পেয়ে স্ত্রী মুখ ফুলিয়ে রাখে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যেতে বাধ্য হয়। সংসারে টানাপোড়েন দেখা দেয়। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ফেরেশতাদের লা'নত তো আছেই!

একজন নারী স্ত্রী হিসেবে স্বামীর যাবতীয় অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন পূরণ করবে, তার গৃহের দেখাশোনা, সন্তানদের লালন-পালন ও সংসারের পরিপাটিতে নিজেকে ব্যস্ত রাখবে। সেই স্ত্রী স্বামীর হৃদয়-বাগের ফুল হিসেবে তাকে খোশবু দেবে। ভালোবাসার বন্ধনে তাঁকে সঁপে দেবে নিজের দেহ-মন। ফলে ভরে উঠবে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বর্গীয় সুখের অমৃত সুধায়। দাম্পত্য জীবনের সুন্দর এই সম্পর্কের কথা মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে ইরশাদ করেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
"আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য হতে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন। যাতে করে তোমরা তাদের নিকটে শান্তি লাভ করো। আর তোমাদের উভয়ের মাঝে সৃষ্টি করেছেন ভালোবাসা ও সহানুভূতি। এতে রয়েছে নিদর্শন সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে থাকে।"'

কিন্তু তারপরও কোন নারী যদি নিজের সৌন্দর্যের অহংকারে, বাপ-দাদা ও ধন-সম্পদের অহমিকায় স্বামীর সাথে অসদাচরণ করে, আঙ্গুলের দোলায় তাকে চালাতে চায়, এমনকি স্বামীকে শারীরিক অধিকার থেকে বাধা দেয় ও বঞ্চিত রাখে—এ নারী সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্ট ও অভিশপ্ত। যেমনটি হাদিসে সুস্পষ্ট ভাষায় বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
“কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বিছানায় আহ্বান করে, কিন্তু স্ত্রী তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, অতঃপর স্বামী রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, তবে প্রভাত হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতাগণ সে স্ত্রীকে অভিশাপ দেয়।”

উক্ত হাদিসের সমর্থনে ত্বলক বিন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِذَا الرَّجُلُ دَعَا زَوْجَتَهُ لِحَاجَتِهِ فَلْتَأْتِهِ وَإِنْ كَانَتْ عَلَى التَّنُّورِ
"স্বামী যদি প্রয়োজন পূরণের (সহবাসের) জন্য স্ত্রীকে আহ্বান করে, তবে সে যেন তাৎক্ষণিক তার ডাকে সাড়া দেয়; যদিও সে চুলার কাছে বসে থাকে না কেন।"

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ رَجُلٍ يَدْعُو امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهَا فَتَأْبَى عَلَيْهِ إِلَّا كَانَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ سَاخِطًا عَلَيْهَا حَتَّى يَرْضَى عَنْهَا
"শপথ সেই সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ, কোনো ব্যক্তি যদি স্ত্রীকে বিছানায় (সহবাসের জন্য) আহ্বান করে আর সে তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে আকাশের অধিপতি আল্লাহ্ তাআলা ততক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর অসন্তুষ্ট থাকবেন যে পর্যন্ত স্বামী তার ওপর সন্তুষ্ট না হয়।”

স্বামী তার প্রয়োজনে স্ত্রীকে ডাকলে স্ত্রী যদি অস্বীকার করে কিংবা অসুস্থ সেজে বসে, আল্লাহ্র কাছে এটা কঠিন অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। আদর্শ স্ত্রীরা তো ঝগড়া-বিবাদের কথা ভুলে যায়। সে আপন প্রতিপালকের কাছে সাওয়াব ও নেকি অর্জনের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়বার স্বামীর অনুগত ও আদেশ মান্যকারী হয়ে যায়। ইবনে আবি হামযাহ্ রহ. বলেন, এ কথা সহজেই অনুমানযোগ্য যে, বিছানার অধিকার বলতে এখানে সহবাসের কথা বোঝানো হয়েছে। অন্য হাদিসের মাধ্যমেও এর প্রমাণ মিলে।'

হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা এমন মহিলাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টি দেন না, যারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ। অথচ সে স্বামীর মুখোপেক্ষী।”

জানা গেল, আদর্শ স্ত্রী তারা-যারা স্বামীর অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে দেখে। তার কারণেই সে আপন সম্ভ্রম শালীনতা বজায় রাখতে পেরেছে এবং তার কারণেই সন্তানের মতো নিয়ামতপ্রাপ্ত হয়ে মা হওয়ার সৌভাগ্য নসীব হয়েছে।

হে আমার মুসলিম বোনেরা! এ ব্যাপারে ইবনুল কারইয়াহ্ রহ. বলেন, মুসলিম স্ত্রীরা শালীন, সুন্দর, কোমল ও অনুগত হয়ে থাকেন। তার স্বামী যদি তার কাছে কোনো কিছু আমানত হিসেবে গচ্ছিত রাখে, তাকে আমানতদার হিসেবে পায়। যদি অভাব-অনটনে পতিত হয়, তবে কানা'আত তথা অল্পেতুষ্ট থাকে। বাইরে কোথাও গেলে সে তার রক্ষণাবেক্ষণকারী হয়। স্বীয় স্বামীকে সর্বদা খুশি ও উৎফুল্ল রাখে। তার পার্শ্ববর্তীরা নিরাপদে থাকে। চাকর-বাকরেরা নিরাপদ থাকে। তার সন্তান-সন্ততিরা পরিষ্কার-পরিছন্ন হয়। তার ধৈর্যশক্তি তার অজ্ঞতাকে ঢেকে রাখে। তার ধর্ম তার জ্ঞানে পরিপক্বতা আনে। তখন সে ওই ফুলের ন্যায় হতে পারে, যাকে ছেঁড়া হতে মানুষ দূরে থাকে। সে ওই হীরার মতো হয়, যা দিয়ে কিছু কাটা হয়নি। সে সুসময়ে শোকর আদায় করে। দুঃসময়ে ধৈর্যধারণ করে। আল্লাহ্ তাআলা যাকে এমন স্ত্রী দান করেন, সে জগতের সব কল্যাণ প্রাপ্ত হয়।

প্রকৃত আদর্শ স্ত্রীরা স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে। স্বামীর সব কাজ সে খুশিমনে পালন করে। কখনো বিরক্তিভাব প্রকাশ করে না। আদর্শ স্ত্রীরা স্বামীর বিপদ ও দুর্দশায় পাশে থেকে সাহস জোগায়। কথা-কাজে তার প্রতি অনুগত থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলে না।

আনাস বিন মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “কোন ধরনের রমণী জান্নাতী, আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব না? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ হে আল্লাহ্র রাসুল! তিনি বললেন, তোমাদের জান্নাতী রমণীগণ হচ্ছে, স্বামীর প্রতি প্রেম নিবেদনকারিণী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারিণী। তার আনুগত্যের প্রকাশ হচ্ছে, সে রাগন্বিতা হলে বা তার সাথে খারাপ আচরণ করা হলে বা স্বামী তার প্রতি রাগন্বিত হলে, স্বামীর কাছে গিয়ে বলে, এই আমার হাত আপনার হাতে সঁপে দিলাম, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমি চোখের পলক ফেলব না। অর্থাৎ আমি কোনো আরাম নেব না কোনো আনন্দ বিনোদন করব না যতক্ষণ আপনি আমার প্রতি খুশি না হন।”

টিকাঃ
১. সুনানে তিরমিযি: হাদিস নং ৩২৮
২. তিরমিযি: হাদিস নং ১০৯৪; ইবনু মাজাহ্: হাদিস নং ২০০৪
১. সুরা রূম: আয়াত ২১
২. সহিহ বোখারী: হাদিস নং ২৯৯৮; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৫৯৪
৩. তিরমিযি: হাদিস নং ১০৮০
৪. সহিহ মুসলিম: ২৫৯৫
১. ফাতহুল বারী: ৯/২৯৪
২. সুনানে নাসায়ী: ২৪৯, মুসতাদরাকে হাকিম: ২/১৯০
৩. আলমুহাসিন ওয়াল আযদাদ: ১৪৩
৪. তবরানী, সিলসিলা সহিহা: হাদিস নং ২৮৭

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 উচ্চাশা পোষণে সবার প্রতি শয়তানের ধোঁকা

📄 উচ্চাশা পোষণে সবার প্রতি শয়তানের ধোঁকা


গ্রন্থকার বলেন, অধিকাংশ ইহুদি-খ্রিষ্টান মনে মনে ইসলামের সত্যতা ও অপরিহার্যতা স্বীকার করে। কিন্তু শয়তান সারাক্ষণ তাদের প্ররোচনা দিয়ে বলে, এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিও না। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নাও। এভাবে শয়তান তাকে দোদুল্যমান রাখে। আর এভাবে কাফের অবস্থাতেই সে মারা যায়। অনুরূপভাবে পাপীদেরকেও শয়তান তার প্ররোচনা দিয়ে টলাতে থাকে। শৈথিল্য প্রদর্শনে ইন্ধন জোগাতে থাকে। পাপের কাজ আরও অধিক পরিমাণে করার জন্য প্রলোভন দিতে থাকে। জনৈক কবি খুব সুন্দর বলেছেন,
'তুমি ইচ্ছেমতো পাপ কাজ দ্রুত করে নাও, আগামী বছর তাওবাহ করার আশা রাখো।' আর এমনই করে সে তাওবাহ ছাড়া ইহজগৎ থেকে পরপারে পাড়ি দেয়। অনেক সময় ফকিহগণ পুনরায় তার দরস দেখে নিতে চান, কিন্তু শয়তান ইন্ধন দিয়ে বলে, আর সামান্য আরাম করে নিন। অনেক ইবাদতকারী রাতে নামায পড়ার জন্য উঠতে চায়, শয়তান তাকে 'আরো অনেক সময় পড়ে আছে' বলে ধোঁকা দিতে থাকে। এভাবে উত্তম কাজে সব শ্রেণির লোককে শয়তান বিভিন্ন টালবাহানায়, অদ্ভুত কূটচাল আর বিচিত্র ফন্দিতে সময় ক্ষেপণ করতে বাধ্য করে। উচ্চাশা পোষণে প্ররোচনা দেয়। সুতরাং বুদ্ধিমানদের উচিত—আমলের কাজ দ্রুত করে নেয়া। সময়ের কাজ যথাসময়ে আদায় করা। আগামীর জন্য কোনো আমল রেখে না দেয়া। উচ্চাশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া। কেননা সময়ের নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতে নয়। সে ইচ্ছে করলেই ভবিষ্যতের আশাকৃত কাজ করতে পারে না। এটা নিতান্তই শয়তানের একটি চাল ও ফাঁদ। এ জন্যই হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
صَلَّ صَلَاةَ مُوَدَّعٍ
'যখন তোমরা নামায পড়বে, মনে করবে এটা তোমার শেষ নামায।'

জনৈক বুযুর্গ বলেছেন, আমি তোমার 'অতিসত্বর' শব্দযুক্ত কথার ব্যাপারে ভয় করি। কেননা এটা শয়তানের অন্যতম সৈনিক। দ্রুত কাজ সম্পাদন এবং উচ্চাশা পোষণকারী-উভয়ের উদাহরণ হচ্ছে এমন, দু'জন দীর্ঘ সফরে গাড়িতে উঠল। মাঝপথে বিরতিতে উভয়ে এক স্থানে গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ায়। দ্রুত কাজ সম্পাদনকারী গাড়ি থেকে নেমে তার বাকি সফরের পাথেয়গুলো প্রয়োজনমাফিক খরিদ করার কাজে নেমে গেল। আর উচ্চাশা পোষণকারী ভাবল, একটু জিরিয়ে নিই। আরও বহু সময় আছে, পরে পাথেয় খরিদ করে নেব। এমন করে একসময় গাড়িটি ছাড়ার উদ্দেশ্যে হর্ন বাজালে উচ্চাশা পোষণকারীর টনক নড়ে। সে হায় হায় শব্দে আফসোস করতে থাকে। বাকি পথের পাথেয়ের ব্যাপারে হা-হুতাশ করতে থাকে। আর দ্রুত কাজ সম্পাদনকারী নির্বিঘ্নে শঙ্কামুক্ত থেকে গাড়িতে ওঠে বাকি পথের জন্য দুশ্চিন্তামুক্ত থাকে।

تم والحمد لله أولا وآخرا

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00