📄 কারামত সদৃশ বিষয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা
হাসান ইবনে আবি ইমরান বলেন, ফারকাদ সুফি আমাকে বলেছেন, একবার আমার ছয়টি দিরহামের প্রয়োজন হলো। এ জন্য একটু চিন্তাযুক্ত ছিলাম। আমি ফোরাত নদীর তীর দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে হঠাৎ কিছু দিরহাম পড়ে থাকতে দেখে গুনে দেখি ছয়টি দিরহাম। আমি দিরহামগুলো তুলে নিলাম।
এ ব্যক্তি এভাবে রাস্তার ধারে দিরহাম পাওয়ার বিষয়কে নিজের কারামত মনে করেছে। অথচ যদি তার কাছে ফিকহের জ্ঞান থাকত, তবে এ দিরহাম সে গ্রহণ করত না। বা গ্রহণ করলেও এভাবে খরচ করত না। কেননা হারানো বস্তু হস্তগত হলে মাসআলা মতে তার প্রচার ও ঘোষণা দিতে হবে।
ইবরাহিম খোরাসানি বলেন, একদিন আমার অযুর প্রয়োজন হয়। হঠাৎ আমার সামনে একটি হীরার লোটা ও একটি রুপার মিসওয়াক দেখতে পাই। আমি উক্ত মিসওয়াক দ্বারা মিসওয়াক করে এবং লোটার পানি দ্বারা অযু করে ঐগুলো সেখানে রেখে আসি।
এ ঘটনার প্রতিও লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, ফিকাহ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে সে রুপার মিসওয়াক ব্যবহার করেছে। অথচ পুরুষের জন্য এ পরিমাণ রুপা ব্যবহার করা বৈধ নয়।
রাবেয়া আদবিয়া সম্পর্কে বর্ণিত আছে, একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি মানুষকে আপনার কাছে আসার অনুমতি দেন না কেন? রাবেয়া বললেন, মানুষের কাছে আমার তেমন কোনো আশা নেই। তাছাড়া মানুষ আমার কাছে আসা-যাওয়া করলে তারা আমার বিষয়ে এমন বিষয় বর্ণনা করবে—যা আমার মাঝে নেই। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, মানুষ বলে, আপনার কাছে এমনিতেই খাবার চলে আসে। আগুন ছাড়াই খাবার রান্না হয়ে যায়। জায়নামাযের নীচে আপনি টাকা পান। এগুলো কি ঠিক? জবাবে রাবিয়া বললেন, আমি যদি এগুলো পেতামও তাহলেও তা কখনো গ্রহণ করতাম না। একবার কিছু গরম খাবার দ্বারা ইফতার করতে আমার মন চেয়েছিল। আমার কাছে কিছু ঘি ছিল। মন চেয়েছিল, যদি কিছু পেঁয়াজ হতো তাহলে আরও ভালো হতো। ইতোমধ্যে একটি পাখি এসে তার ঠোঁট থেকে একটি পেঁয়াজ দিয়ে গেল। আমি ভীত ছিলাম, না জানি এটা শয়তানের পক্ষ থেকে। এই আশঙ্কায় আমি ইচ্ছের মোড় ঘুরিয়ে নিলাম。