📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ইলমের अनिवार্যতা

📄 ইলমের अनिवार্যতা


যে ব্যক্তি জ্ঞান থেকে দূরে থাকবে, সে নির্ঘাত শয়তানের খপ্পরে পড়বেই। আর যার জ্ঞান আছে কিন্তু সে সেই জ্ঞান মতে আমল করে না, সে আরও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
“মুমিনদের বলুন, তারা যেন স্বীয় দৃষ্টিকে অবনত রাখে।”” যে ব্যক্তি শরয়ি শিষ্টাচার মতে চলবে, সে শুরুতে জেনে থাকবে যে, তার পরিণতি কী ভয়াবহ হতে পারে। শরিয়তে সুদর্শন বালকদের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং আলেমগণ এদের থেকে দূরে থাকার নসিহত করে গেছেন। হজরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لا تجالسوا أبناء الملوك فإن النفوس تشتاق إليهم ما لا تشتاق إلى الجواري العواتق
'তোমরা শাহজাদাদের পাশে বোসো না। কেননা তাদের সংশ্রব দু'জন ললনার ফিতনার চেয়ে ভয়াবহ।

হজরত আবু হোরায়রা রা. হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ওয়াফদে আবুল কায়েস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলে সেখানে এক উজ্জ্বল বর্ণের বালক দেখা যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় পিঠের পেছনে বসালেন এবং বললেন, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম অপাত্রে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। ' হজরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
«نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم» أن يجد الرجل النظر إلى الغلام الأمرد
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদর্শন বালকদের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাতে নিষেধ করেছেন।"

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, কোনো আলেমকে হিংস্র জন্তুর আক্রমণে আমি ওই পরিমাণ ভয় করি না, যে পরিমাণ ভয় সুদর্শন বালকের প্রতি দৃষ্টিপাতের কারণে করি।

আবদুল আযিয ইবনে আবি সায়েব স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একজন আবেদের ওপর একজন সুদর্শন বালককে সত্তরজন কুমারী ললনার চেয়ে অধিক ভয় করি। আবু আলী রোযবারি বলেন, আমি জুনাইদের কাছে শুনেছি, তিনি বলতেন, ইবনে হাম্বলের কাছে এক ব্যক্তি এসেছিল, তার সঙ্গে ছিল একজন সুদর্শন বালক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বালকটি কে? উত্তরে বললেন সে আমার পুত্র। এবার তিনি বললেন, দ্বিতীয়বার আসার সময় তাকে তুমি সঙ্গে আনবে না। যখন দাঁড়ালেন, তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান হাফেজ বলেন, আর খতিবের বর্ণনামতে, তাকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা শায়খকে তাওফিক দিন। এ ব্যক্তি পরহেযগার। তার ছেলে তার চেয়েও বড় পরহেযগার। এ কথা শুনে ইমাম আহমদ রহ. বললেন, এ ব্যাপারে আমি যা কিছু চেয়েছি, তাদের পরহেযগার হওয়ার জন্য, এতে কোনো বাধা নেই। এভাবেই আমাদের মুরুব্বিরা আসলাফদের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন।

হাসান বায্যারের ব্যাপারে শোনা যায়, তিনি একবার আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট এসে তার নিকট একজন সুদর্শন বালক দেখতে পান। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। ওঠে যাওয়ার সময় তাকে আবু আবদুল্লাহ বললেন, হে আবু আলী! এই বালকের সাথে কোনো রাস্তায় চলাফেরা কোরো না। প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, এ তো আমার ভাতিজা। তিনি আবার বললেন, ভাতিজা হলেও। মানুষ তোমার সম্পর্কে (আমি চাই না) অপবাদমূলক কোনো প্রকার কথা বলুক।

শুজা ইবনে মুখাল্লিদ হতে বর্ণিত, তিনি বিশর ইবনে হারেসকে বলতে শুনেছেন যে, এই নওজোয়ানদের থেকে দূরে থাকো। ফাতাহ মুসিলি বলেন, আমি ত্রিশজন বুযুর্গের সাথে চলেছি, যাদেরকে আবদাল বলে আখ্যায়িত করা হতো। সবাই আমাকে বিদায়ী নসিহতস্বরূপ বলেছেন যে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নওজোয়ানদের সংশ্রব ত্যাগ করো। সালাম আল আসওয়াদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি এমন একজন মানুষকে দেখেছিলেন, যে একজন সুদর্শন বালকের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। তা দেখে সালাম বললেন, হে অমুক! স্বীয় ব্যক্তিত্বের কথা ভাবো। কেননা যতক্ষণ তুমি আল্লাহর সম্মান বজায় রাখবে, ততক্ষণ তুমিও সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। আবু মনসুর আবদুল কাদের বিন তাহের'র অভিমত হচ্ছে, যে ব্যক্তি সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশা করবে, সে নিষিদ্ধ কর্মে পতিত হবে। সালাম বলেন, আমাকে আবু আবদুর রহমান সালামি বলেছেন, মুযাফ্ফর কামমিসিনীর ভাষ্য-যে ব্যক্তি নিরাপত্তা ও উপদেশের শর্তে তরুণ বালকদেরকে সংস্পর্শে রাখবে, সে মসিবতে পতিত হবে। তাহলে তার কী হবে, যে নিরাপত্তার শর্ত ছাড়া বালকদের সাথে মেলামেশা করে?

টিকাঃ
১. সুরা নূর: আয়াত ৩০
২. [মাউযূ] হাদিসটি ইবনুল জাওযি রহ. 'আলইলালুল মুতানাহিয়া' এবং ইবনুল ইরাক রহ. 'তানযিয়াতুস শারিয়াহ'তে সংকলন করেছেন।
والحديث بإسناده عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى . الله عليه وسلم قال لا تملأوا أعينكم من أولاد الملوك فإن لهم فتنة أشد من فتنة العذارى
৪. [মাউযূ] আলবানি রহ. সংকলিত 'আসিলসিলাতুয যাঈফাহ': ৩১৩
৫. [যঈফ] ইবনে আদী 'আলকামিল' ও উকাইলী 'যুয়াফা' গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করেছেন।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 অল্প বয়স্ক যুবকদের থেকে দূরে থাকা

📄 অল্প বয়স্ক যুবকদের থেকে দূরে থাকা


পূর্বেকার লোকেরা বালকদের থেকে দূরে থাকার জন্য জোর দিতেন। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর চেহারার বালককে পিঠের পেছনে বসিয়েছেন।” সুফিয়ান সাওরি রহ. কোনো সুন্দর চেহারার বালককে তাঁর কাছে বসতে দিতেন না। ইবরাহিম ইবনে হানী হতে বর্ণিত আছে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, এমন কখনো হয়নি যে, একই রাস্তায় আমার সাথে কোনো বালক চলার আশা করবে, আর ওদিকে আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.ও থাকবেন। আবু আইয়ুব বলেন, আমি আবু নসর ইবনে হারেসের সাথে ছিলাম। তার সাথে এক অত্যধিক সুন্দরী কন্যা, যার মতো সুন্দর বালিকা আমি আর কখনো দেখিনি, সে এসে বলল, হে জনাব, বাবে হারাব কোথায় অবস্থিত? তিনি উত্তর দিলেন, এই যে সামনে ফটক আছে, এটাকেই বাবে হারব বলে।

এরপর একজন অত্যধিক সুন্দর বালক, যার মতো সুন্দর বালক আগে আমি আর কখনো দেখিনি, সে এসে বলল, হে জনাব, বাবে হারব কোথায়? আবু নসর মাথা নিচু করে ফেললেন এবং নিজের চোখ বন্ধ করে দিলেন। আমি ছেলেটিকে বললাম, এদিকে এস। কী জিজ্ঞেস করছ? সে বলল, বাবে হারাব কোথায়? আমি বললাম, তোমার সামনে। বালক চলে গেলে আমি শায়খকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু নসর! আপনার সামনে মেয়ে এলো, আপনি তার কথার উত্তর দিলেন। আর যখন বালক এলো, তখন তার সাথে কথা বললেন না। কেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, সুফিয়ান সাওরি হতে বর্ণিত আছে, মেয়েদের সাথে একজন শয়তান থাকে, আর সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে দু'জন শয়তান থাকে। আমি নিজের ব্যাপারে সেই দুই শয়তানের কথা ভেবে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। অন্য এক বর্ণনামতে, সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে দশজন পর্যন্ত শয়তান থাকে।

আবুল কাসেম আমাকে বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হোসাইন—যিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সাথি ছিলেন, তার কাছে গেলেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি চল্লিশ বছর পর্যন্ত আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকাননি।

আমরা যখন তার কাছে গেলাম, তখন আমাদের সাথে সুন্দর চেহারার একজন বালকও তার মজলিসে উপস্থিত ছিল। তাকে তিনি বললেন, আমার সম্মুখ থেকে চলে যাও এবং আমারে পেছনে বসো। আবু উসামা বলেন, আমি একজন শায়খের কাছে থাকতাম, যিনি হাদিস বর্ণনা করতেন। তার কাছে হাদিস শোনাতে এক বালক এলো। আমি সেখান থেকে উঠতে চাইলে, তিনি আমার বাহু ধরে বললেন, দাঁড়াও। একটু অপেক্ষা করো। বালকের শোনানো শেষ হলে তখন যেও। আমি একাকী এই বালকের সাথে থাকা খুব অপছন্দ করি।

আবু আলী রোযবারী আমাকে বলেছেন, আমাকে আবুল আব্বাস আহমদ আলমুয়াদ্দিব জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু আলী! আমাদের কালে সুফিরা সুন্দর চেহারার বালকদেরকে কাছে রাখার নিয়ম কোথায় পেল? উত্তরে আমি বললাম, হে জনাব! আপনি তো তাদেরকে খুব ভালো করেই চেনেন। অধিকাংশ সময় বালকেরা তাদের কাছে নিরাপদেই থাকে। তিনি বললেন, হায়! হায়! আমি তাদের চেয়ে আরও উত্তম বুযুর্গদের দেখেছি, যাদের ঈমান আরও দৃঢ় ছিল—তারা যখন সুন্দর চেহারার কোনো বালককে দেখত, এমনভাবে পালাত—যেভাবে মানুষ জঙ্গলের হিংস্র জন্তু থেকে পলায়ন করে। এসব কথা কেবল ওই সময়ের উপযোগী, যখন অধিকাংশ মানুষের ওপর অবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন অভ্যাস স্বাভাবিক থাকে, তখন এমন আশঙ্কার ধারণা একেবারেই অমূলক।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 সুন্দর বালকদের সাথে মেলামেশা

📄 সুন্দর বালকদের সাথে মেলামেশা


সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে উঠা-বসা ও মেলামেশা করা ইবলিসের একটি অন্যতম ফাঁদ। যা দিয়ে সে সুফিদের শিকার করে বেড়ায়। আবু আবদুর রহমান সালামী আমাকে বলেন, আমি আবু বকর রাযী'র কাছে শুনেছি, ইউসুফ ইবনে হোসাইন বলেছেন, আমি সৃষ্টির বিপৎসমূহের ওপর গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম তার উৎপত্তি কোথায়। সুফিদের বিপদাপদ আমি সুন্দর চেহারার বালকদের সোহবত, মূর্খদের মেলামেশা এবং নারীদের সংশ্রবে পেয়েছি। সুফি ইবনে ফারাজ রুস্তমি বলেন, আমি শয়তানকে স্বপ্নে দেখেছি। তাকে বললাম, তুমি আমাদেরকে কেমন পেলে? আমরা তো দুনিয়া ও তার সমুদয় আরাম-আয়েশের সামগ্রী এবং ধন-দৌলত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। এখন তুমি তো আর আমাদেরকে কাবু করতে পারছ না। শয়তান বলল, তোমাদের কি খবর আছে? তোমাদের মন গান শ্রবণ ও সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে মেলামেশার প্রতি কী পরিমাণ উদগ্রীব? আবু সাঈদ বলেন, এই ফিতনা থেকে খুব কম সুফি-দরবেশই মুক্তি পেতে পারেন。

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 সুন্দর বালকদের প্রতি দৃষ্টিপাতের শাস্তি

📄 সুন্দর বালকদের প্রতি দৃষ্টিপাতের শাস্তি


আবু আবদুল্লাহ ইবনুল জালাল বলেন, আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে একজন খ্রিষ্টান সুদর্শন বালককে দেখছিলাম। ইত্যবসরে আবু আবদুল্লাহ বলখি আমার সম্মুখে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কেন দাঁড়িয়ে আছেন? আমি বললাম, চাচাজান! এই সুন্দর চেহারার দিকে লক্ষ করেছেন, কীভাবে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে! তিনি তাঁর উভয় হাত দ্বারা আমার সিনায় ধাক্কা দিয়ে বললেন, তার পরিণতি তোমাকেও ভুগতে হবে, যদিও এটা কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আমি চল্লিশ বছর পর এর প্রমাণ পেলাম। আমি কুরআন শরিফ ভুলে গিয়েছিলাম।

আবুল আদইয়ান বলেন, আমি আমার ওস্তাদ আবু বকর দাক্কাক-এর সাথে ছিলাম। এক অল্পবয়সী যুবক সামনে এলে তাকে আমি দেখছিলাম। তার প্রতি তাকিয়ে আছি দেখে ওস্তাদ আমাকে বললেন, বৎস! কিছুদিন পর তুমি টের পাবে এর অশুভ পরিণতি। আমি বিশ বছর ধরে অপেক্ষায় রইলাম। কিন্তু সেই অশুভ পরিণতি দেখলাম না। এই ভাবনায় একবার শুয়ে পড়লাম। ভোরে ওঠে দেখলাম পুরো কুরআন শরিফ আমার আর স্মরণ নেই।

আবু বকর কাত্তানী আমাকে বলেছেন, আমি আমার এক বন্ধুকে স্বপ্নে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তোমার সাথে কীরূপ ব্যবহার করেছেন? উত্তরে তিনি জানালেন, আমার সামনে আমার কৃত সমুদয় পাপ উপস্থাপন করে আমাকে বলা হলো, তুমি এমন এমন করেছ। তারপর বলা হলো, তুমি এমন এমনও করেছ, এটা স্বীকার করতে আমার খুব লজ্জাবোধ হলো। আমি বললাম, এর স্বীকারোক্তিতে আমার ভীষণ লজ্জা হচ্ছে। আমাকে বলা হলো, তোমার স্বীকারকৃত পাপ যখন আমি ক্ষমা করে দিয়েছি, তো লজ্জায় স্বীকার করতে ইতস্ততবোধ করছ—এমন পাপসমূহও ক্ষমা করে দিলাম। আমি বললাম, সেই লজ্জাজনক পাপটি কী? সে বলল, একজন সুদর্শন বালকের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছি, যে আমার সামনে দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। এক বর্ণনায় আছে, আমি লজ্জিত হয়ে প্রচণ্ড ঘেমে যাচ্ছিলাম; এমনকি আমার মুখের মাংস পড়ে যাচ্ছিল।

আবু ইয়াকুব তাবারি হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার কাছে একজন সুদর্শন বালক থাকত। সে আমার সেবা-যত্ন করত। একবার বাগদাদ থেকে এলো একজন সুফি। সে অধিকাংশ বালকের প্রতি তাকিয়ে থাকত। আমি তাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করতাম। একরাতে আমি ঘুমের মধ্যে মহান আল্লাহকে স্বপ্নে দেখলাম। আমাকে তিনি বলছেন, তুমি কেন বাগদাদিকে বালকদের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার ব্যাপারে বারণ করছ না? আমার মর্যাদার কসম! তাকেই আমি বালকদের প্রতি আগ্রহী করে তুলি, যাকে আমার কাছ থেকে দূরে রাখতে চাই। আবু ইয়াকুব বলেন, এ কথা শুনে আমি খুব বিচলিত হয়ে পড়লাম। বাগদাদিকে স্বপ্নে কথা বললে সে জোরে এক চিৎকার মেরে মৃত্যুমুখে ঢলে পড়ল। তাকে গোসল ও দাফন করলাম। কিন্তু আমার মনপ্রাণজুড়ে তার চিন্তা। অবশেষে তাকে স্বপ্নে দেখলাম একমাস পর। জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তায়ালা তোমার সাথে কীরূপ আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, আমাকে খুব ধমক দেয়া হয়েছে। এমনকি আমি মুক্তির ব্যাপারে হয়ে পড়লাম আশঙ্কাগ্রস্ত। পরে আমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। আমি বলছি, এ ব্যাপারে আমি দীর্ঘ আলোচনা করে আসছি। কেননা অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এ পাপে লিপ্ত। এ ব্যাপারে আরও বিশদভাবে জানতে চাইলে 'যাম্মুল হাওয়া' নামীয় গ্রন্থে চোখ রাখতে পারেন। তাতে এ সকল বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ বিদ্যমান。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00