📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ফিতনার নিকটবর্তী ও এতে পতিত হওয়ার উপলক্ষ্য

📄 ফিতনার নিকটবর্তী ও এতে পতিত হওয়ার উপলক্ষ্য


সুফিদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন, যারা ফিতনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সবর ও সাধনার দাবি তাদেরকে বিরত রাখতে পারেনি। ইদ্রীস ইবনে ইদ্রীস বলেন, আমি মিসরে সুফিদের একটি জামাতে উপস্থিত হয়ে তাঁদের কাছে একজন সুদর্শন বালক দেখতে পেলাম, যে তাদেরকে গান শোনাত। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তির জোশ বেড়ে গেলে সে কোনো বাছ-বিচার না করে বলল হে বালক, বলো- لا إله إلا الله বালক বলল- لا إله إلا الله এরপর সুফি বললেন, যে মুখ দিয়ে لا إله إلا الله বলেছ, সেই মুখ দিয়ে আমাকে চুমু দাও।

৬. ষষ্ঠ প্রকার সুফি হচ্ছেন যারা সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশার ইচ্ছা পোষণ করেন না; বরং তাদের ব্যাপারে তাওবা করেন এবং জগৎ-সংসার থেকে উদাসীন হয়ে যান। সুফিদের সাথে ইচ্ছেমতো তারা চলাফেরা করে। শয়তান তাদের জন্য ফাঁদ পাতে। বলে, বালকটিকে ভালো ও নেকি থেকে বঞ্চিত কোরো না। পরে সে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার দিকে বারেবারে তাকাতে থাকে। এভাবে মনে ফিতনার প্রভাব পড়ে। এমনকি শয়তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা অনুযায়ী তাকে ঘায়েল করতে থাকে। এদের মধ্যে যে সর্বোচ্চ সম্মানিত হিসেবে বিবেচিত, তাকে দিয়ে শয়তান খারাপ কাজ ঘটিয়ে থাকে। যেমন বরশিশার সাথে করা হয়েছে। লেখক বলেন, বরশিশার ঘটনা আমরা কিতাবের শুরুর দিকে বর্ণনা করেছি। তার ভুল ছিল, সে বালকদের সামনে চলে যেত এবং এমন মানুষের সাথে মহব্বত রাখত যার দ্বারা ফিতনায় পতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা বিদ্যমান।
৭. সপ্তম প্রকার সুফি তারা, যারা জানে যে, সুদর্শন বালকদের প্রতি দৃষ্টিপাত হারাম, কিন্তু তা হতে তারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ বিন হোসাইন বলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে যে সকল কাজ করতে দেখো, তার সবই করতে থাকো, কিন্তু শুধু বালকের সংশ্রবে যেও না। কেননা এটা খুবই ভারী ফিতনা। আমি আমার প্রতিপালকের সম্মুখে একশতবার প্রতিজ্ঞা করেছি যে, বালকদের সাথে মেলামেশা করব না। কিন্তু সুন্দর সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট বালকদের কোমল শরীর ও দৃষ্টিকাড়া চাহনি দেখে সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে দিতাম। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা সুন্দর ছেলেদের সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। (অর্থাৎ আমি কোনো ব্যভিচারে লিপ্ত হইনি)। পরে তিনি সারীউল গাওয়ানীর কয়েক ছত্র কবিতা আবৃত্তি করেন,
إن ورد الخدود والحدق النجل * وما في الثغور من أقحوان واعوجاج الأصداع في ظاهر الخد * وما في الصدور من رمان تركتني بين الغواني صريعا * فلهذا أدعى صريع الغواني
“ফুলের মতো চেহারা ও ডাগর ডাগর নয়ন, বাবুই পাখির বাসার মতো দাঁত ও চেহারায় মায়াবী পশম, আনারের ন্যায় ঘাড়বিশিষ্ট বালকেরা আমাকে নারী সংশ্রব থেকে দূরে রেখেছে। এ জন্য আমাকে সুন্দর নারীর পতি বলে আখ্যায়িত করা হয়।"

গ্রন্থকার বলেন, আমি বলছি, আবু আবদুর রহমান এমন পাপ সম্পর্কে—যা আল্লাহ তায়ালা গোপন রেখেছেন—তিনি তা প্রকাশ করে নিজেকেই তিরস্কৃত করলেন। আর মানুষকে বলে বেড়াচ্ছেন, যখন তিনি এমন ফিতনার মুখোমুখি হন, তখন তাওবা ভেঙ্গে দেন। তাহলে তাসাওউফের সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ সূত্রাবলি কোথায় গেল, যা এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলার ইন্ধন যোগায়? তথাপি তিনি নিজের অজ্ঞতার কারণে এই ধারণা পোষণ করতেন যে, পাপ কেবল 'মন্দ কাজ'কেই বলে। কিন্তু তিনি যদি জানতে চাইতেন তবে জেনে নিতে পারতেন যে, সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশা এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করাও পাপ। অজ্ঞদের ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, শয়তান তাদেরকে কীভাবে ঠকায়! আবু মুসলিম খুশুয়ির ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এক সুদর্শন বালকের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থেকে বলেছিলেন, সুবহানাল্লাহ! আমি আমার চক্ষুকে মাকরুহ তথা নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি নিক্ষেপ করেছি এবং স্বীয় প্রতিপালকের নাফরমানি করেছি। দৃষ্টিকে নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট করেছি, এর বিনিময়ে হয়তো কেয়ামতের মাঠে আমাকে লজ্জিত ও অপদস্থ করা হবে। এই দৃষ্টিপাত আমাকে এমন আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিমজ্জিত করেছে। আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে ক্ষমা করেন, কিন্তু আমি আজীবন লজ্জিতই থেকে যাব। এ কথা বলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ইলমের अनिवार্যতা

📄 ইলমের अनिवार্যতা


যে ব্যক্তি জ্ঞান থেকে দূরে থাকবে, সে নির্ঘাত শয়তানের খপ্পরে পড়বেই। আর যার জ্ঞান আছে কিন্তু সে সেই জ্ঞান মতে আমল করে না, সে আরও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
“মুমিনদের বলুন, তারা যেন স্বীয় দৃষ্টিকে অবনত রাখে।”” যে ব্যক্তি শরয়ি শিষ্টাচার মতে চলবে, সে শুরুতে জেনে থাকবে যে, তার পরিণতি কী ভয়াবহ হতে পারে। শরিয়তে সুদর্শন বালকদের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং আলেমগণ এদের থেকে দূরে থাকার নসিহত করে গেছেন। হজরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لا تجالسوا أبناء الملوك فإن النفوس تشتاق إليهم ما لا تشتاق إلى الجواري العواتق
'তোমরা শাহজাদাদের পাশে বোসো না। কেননা তাদের সংশ্রব দু'জন ললনার ফিতনার চেয়ে ভয়াবহ।

হজরত আবু হোরায়রা রা. হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ওয়াফদে আবুল কায়েস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলে সেখানে এক উজ্জ্বল বর্ণের বালক দেখা যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় পিঠের পেছনে বসালেন এবং বললেন, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম অপাত্রে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। ' হজরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
«نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم» أن يجد الرجل النظر إلى الغلام الأمرد
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদর্শন বালকদের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাতে নিষেধ করেছেন।"

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, কোনো আলেমকে হিংস্র জন্তুর আক্রমণে আমি ওই পরিমাণ ভয় করি না, যে পরিমাণ ভয় সুদর্শন বালকের প্রতি দৃষ্টিপাতের কারণে করি।

আবদুল আযিয ইবনে আবি সায়েব স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একজন আবেদের ওপর একজন সুদর্শন বালককে সত্তরজন কুমারী ললনার চেয়ে অধিক ভয় করি। আবু আলী রোযবারি বলেন, আমি জুনাইদের কাছে শুনেছি, তিনি বলতেন, ইবনে হাম্বলের কাছে এক ব্যক্তি এসেছিল, তার সঙ্গে ছিল একজন সুদর্শন বালক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বালকটি কে? উত্তরে বললেন সে আমার পুত্র। এবার তিনি বললেন, দ্বিতীয়বার আসার সময় তাকে তুমি সঙ্গে আনবে না। যখন দাঁড়ালেন, তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান হাফেজ বলেন, আর খতিবের বর্ণনামতে, তাকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা শায়খকে তাওফিক দিন। এ ব্যক্তি পরহেযগার। তার ছেলে তার চেয়েও বড় পরহেযগার। এ কথা শুনে ইমাম আহমদ রহ. বললেন, এ ব্যাপারে আমি যা কিছু চেয়েছি, তাদের পরহেযগার হওয়ার জন্য, এতে কোনো বাধা নেই। এভাবেই আমাদের মুরুব্বিরা আসলাফদের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন।

হাসান বায্যারের ব্যাপারে শোনা যায়, তিনি একবার আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট এসে তার নিকট একজন সুদর্শন বালক দেখতে পান। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। ওঠে যাওয়ার সময় তাকে আবু আবদুল্লাহ বললেন, হে আবু আলী! এই বালকের সাথে কোনো রাস্তায় চলাফেরা কোরো না। প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, এ তো আমার ভাতিজা। তিনি আবার বললেন, ভাতিজা হলেও। মানুষ তোমার সম্পর্কে (আমি চাই না) অপবাদমূলক কোনো প্রকার কথা বলুক।

শুজা ইবনে মুখাল্লিদ হতে বর্ণিত, তিনি বিশর ইবনে হারেসকে বলতে শুনেছেন যে, এই নওজোয়ানদের থেকে দূরে থাকো। ফাতাহ মুসিলি বলেন, আমি ত্রিশজন বুযুর্গের সাথে চলেছি, যাদেরকে আবদাল বলে আখ্যায়িত করা হতো। সবাই আমাকে বিদায়ী নসিহতস্বরূপ বলেছেন যে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নওজোয়ানদের সংশ্রব ত্যাগ করো। সালাম আল আসওয়াদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি এমন একজন মানুষকে দেখেছিলেন, যে একজন সুদর্শন বালকের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। তা দেখে সালাম বললেন, হে অমুক! স্বীয় ব্যক্তিত্বের কথা ভাবো। কেননা যতক্ষণ তুমি আল্লাহর সম্মান বজায় রাখবে, ততক্ষণ তুমিও সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। আবু মনসুর আবদুল কাদের বিন তাহের'র অভিমত হচ্ছে, যে ব্যক্তি সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশা করবে, সে নিষিদ্ধ কর্মে পতিত হবে। সালাম বলেন, আমাকে আবু আবদুর রহমান সালামি বলেছেন, মুযাফ্ফর কামমিসিনীর ভাষ্য-যে ব্যক্তি নিরাপত্তা ও উপদেশের শর্তে তরুণ বালকদেরকে সংস্পর্শে রাখবে, সে মসিবতে পতিত হবে। তাহলে তার কী হবে, যে নিরাপত্তার শর্ত ছাড়া বালকদের সাথে মেলামেশা করে?

টিকাঃ
১. সুরা নূর: আয়াত ৩০
২. [মাউযূ] হাদিসটি ইবনুল জাওযি রহ. 'আলইলালুল মুতানাহিয়া' এবং ইবনুল ইরাক রহ. 'তানযিয়াতুস শারিয়াহ'তে সংকলন করেছেন।
والحديث بإسناده عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى . الله عليه وسلم قال لا تملأوا أعينكم من أولاد الملوك فإن لهم فتنة أشد من فتنة العذارى
৪. [মাউযূ] আলবানি রহ. সংকলিত 'আসিলসিলাতুয যাঈফাহ': ৩১৩
৫. [যঈফ] ইবনে আদী 'আলকামিল' ও উকাইলী 'যুয়াফা' গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করেছেন।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 অল্প বয়স্ক যুবকদের থেকে দূরে থাকা

📄 অল্প বয়স্ক যুবকদের থেকে দূরে থাকা


পূর্বেকার লোকেরা বালকদের থেকে দূরে থাকার জন্য জোর দিতেন। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, “রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দর চেহারার বালককে পিঠের পেছনে বসিয়েছেন।” সুফিয়ান সাওরি রহ. কোনো সুন্দর চেহারার বালককে তাঁর কাছে বসতে দিতেন না। ইবরাহিম ইবনে হানী হতে বর্ণিত আছে, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন, এমন কখনো হয়নি যে, একই রাস্তায় আমার সাথে কোনো বালক চলার আশা করবে, আর ওদিকে আহমদ ইবনে হাম্বল রহ.ও থাকবেন। আবু আইয়ুব বলেন, আমি আবু নসর ইবনে হারেসের সাথে ছিলাম। তার সাথে এক অত্যধিক সুন্দরী কন্যা, যার মতো সুন্দর বালিকা আমি আর কখনো দেখিনি, সে এসে বলল, হে জনাব, বাবে হারাব কোথায় অবস্থিত? তিনি উত্তর দিলেন, এই যে সামনে ফটক আছে, এটাকেই বাবে হারব বলে।

এরপর একজন অত্যধিক সুন্দর বালক, যার মতো সুন্দর বালক আগে আমি আর কখনো দেখিনি, সে এসে বলল, হে জনাব, বাবে হারব কোথায়? আবু নসর মাথা নিচু করে ফেললেন এবং নিজের চোখ বন্ধ করে দিলেন। আমি ছেলেটিকে বললাম, এদিকে এস। কী জিজ্ঞেস করছ? সে বলল, বাবে হারাব কোথায়? আমি বললাম, তোমার সামনে। বালক চলে গেলে আমি শায়খকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু নসর! আপনার সামনে মেয়ে এলো, আপনি তার কথার উত্তর দিলেন। আর যখন বালক এলো, তখন তার সাথে কথা বললেন না। কেন? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ, সুফিয়ান সাওরি হতে বর্ণিত আছে, মেয়েদের সাথে একজন শয়তান থাকে, আর সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে দু'জন শয়তান থাকে। আমি নিজের ব্যাপারে সেই দুই শয়তানের কথা ভেবে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। অন্য এক বর্ণনামতে, সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে দশজন পর্যন্ত শয়তান থাকে।

আবুল কাসেম আমাকে বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে হোসাইন—যিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সাথি ছিলেন, তার কাছে গেলেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি চল্লিশ বছর পর্যন্ত আকাশের দিকে মাথা তুলে তাকাননি।

আমরা যখন তার কাছে গেলাম, তখন আমাদের সাথে সুন্দর চেহারার একজন বালকও তার মজলিসে উপস্থিত ছিল। তাকে তিনি বললেন, আমার সম্মুখ থেকে চলে যাও এবং আমারে পেছনে বসো। আবু উসামা বলেন, আমি একজন শায়খের কাছে থাকতাম, যিনি হাদিস বর্ণনা করতেন। তার কাছে হাদিস শোনাতে এক বালক এলো। আমি সেখান থেকে উঠতে চাইলে, তিনি আমার বাহু ধরে বললেন, দাঁড়াও। একটু অপেক্ষা করো। বালকের শোনানো শেষ হলে তখন যেও। আমি একাকী এই বালকের সাথে থাকা খুব অপছন্দ করি।

আবু আলী রোযবারী আমাকে বলেছেন, আমাকে আবুল আব্বাস আহমদ আলমুয়াদ্দিব জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু আলী! আমাদের কালে সুফিরা সুন্দর চেহারার বালকদেরকে কাছে রাখার নিয়ম কোথায় পেল? উত্তরে আমি বললাম, হে জনাব! আপনি তো তাদেরকে খুব ভালো করেই চেনেন। অধিকাংশ সময় বালকেরা তাদের কাছে নিরাপদেই থাকে। তিনি বললেন, হায়! হায়! আমি তাদের চেয়ে আরও উত্তম বুযুর্গদের দেখেছি, যাদের ঈমান আরও দৃঢ় ছিল—তারা যখন সুন্দর চেহারার কোনো বালককে দেখত, এমনভাবে পালাত—যেভাবে মানুষ জঙ্গলের হিংস্র জন্তু থেকে পলায়ন করে। এসব কথা কেবল ওই সময়ের উপযোগী, যখন অধিকাংশ মানুষের ওপর অবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন অভ্যাস স্বাভাবিক থাকে, তখন এমন আশঙ্কার ধারণা একেবারেই অমূলক।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 সুন্দর বালকদের সাথে মেলামেশা

📄 সুন্দর বালকদের সাথে মেলামেশা


সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে উঠা-বসা ও মেলামেশা করা ইবলিসের একটি অন্যতম ফাঁদ। যা দিয়ে সে সুফিদের শিকার করে বেড়ায়। আবু আবদুর রহমান সালামী আমাকে বলেন, আমি আবু বকর রাযী'র কাছে শুনেছি, ইউসুফ ইবনে হোসাইন বলেছেন, আমি সৃষ্টির বিপৎসমূহের ওপর গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলাম তার উৎপত্তি কোথায়। সুফিদের বিপদাপদ আমি সুন্দর চেহারার বালকদের সোহবত, মূর্খদের মেলামেশা এবং নারীদের সংশ্রবে পেয়েছি। সুফি ইবনে ফারাজ রুস্তমি বলেন, আমি শয়তানকে স্বপ্নে দেখেছি। তাকে বললাম, তুমি আমাদেরকে কেমন পেলে? আমরা তো দুনিয়া ও তার সমুদয় আরাম-আয়েশের সামগ্রী এবং ধন-দৌলত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। এখন তুমি তো আর আমাদেরকে কাবু করতে পারছ না। শয়তান বলল, তোমাদের কি খবর আছে? তোমাদের মন গান শ্রবণ ও সুন্দর চেহারার বালকদের সাথে মেলামেশার প্রতি কী পরিমাণ উদগ্রীব? আবু সাঈদ বলেন, এই ফিতনা থেকে খুব কম সুফি-দরবেশই মুক্তি পেতে পারেন。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00