📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 অধিক মহব্বতের ব্যাধি

📄 অধিক মহব্বতের ব্যাধি


অধিকাংশ সুফি এমন আছেন, যারা অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। আবু হামযা সুফি বলেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুসা সুফিদের সরদার ও মুরুব্বি ছিলেন। তিনি কোনো এক হাটে একজন সুন্দর বালকের দিকে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। এতে তিনি তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে, সত্বর তিনি বুদ্ধি বিপর্যয়ে আক্রান্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে গেলেন। প্রতিদিন এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যেতেন। ছেলেটি যখন আসা-যাওয়া করত, তাকে দেখতে থাকতেন। এভাবে তার প্রেম-প্রীতি বেড়েই চলল। তার চিন্তায় তিনি অতি দুর্বল হয়ে পড়লে আর চলাফেরা করতে পারলেন না। একদিন আমি তার সাক্ষাতে গেলে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু মুহাম্মাদ! তোমার কী অবস্থা? এ বিপদ কী করে এলো যা আমি তোমার ওপর পতিত হতে দেখছি? জবাবে তিনি বললেন, এটা ওই কর্মফল যার ওপর আল্লাহ আমাকে পরীক্ষা নিয়েছেন। আমি সেই মসিবতে ধৈর্য ধরিনি, তা সহ্য করার ক্ষমতাও আমার ছিল না। মানুষ অধিকাংশ সময় এমন পাপকে খাটো করে দেখে, অথচ তা আল্লাহর কাছে কবিরা গুনাহের চেয়ে মারাত্মক। যে ব্যক্তি হারাম বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করবে, সে নির্ঘাত লম্বা সময়ের জন্য এমন রোগে আক্রান্ত হবে। এটা বলে সে কান্নাকাটি করতে থাকল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কাঁদছ কেন? সে বলল, আমি ভাবছি এই দুর্ভাগা দীর্ঘ সময় জাহান্নামে পড়ে থাকবে কি না? বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি তার নিকট থেকে ফিরে এলে তার জন্য আমার খুবই করুণা হতে থাকল।

আবু হামযা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আশআস দামেস্কী আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা ছিলেন। তিনি একজন সুদর্শন বালককে দেখে বেহুঁশ হয়ে পড়লে লোকেরা তাকে ঘরে নিয়ে গেল। পরে তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি তিনি চলাফেরা করতে অপারগ হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘকাল এভাবে অতিক্রম হচ্ছিল। আমরা তাকে দেখতে যেতাম এবং তার অবস্থা জানতে চাইতাম। তিনি সরাসরি আমাদেরকে তার প্রকৃত অবস্থা জানাতেন না। সে ঘটনাও বলতেন না। অসুস্থ হওয়ার কারণও বলতেন না। কিন্তু অন্যান্য লোকজন সেই সুদর্শন বালকের প্রতি তাকানোর কারণে এই অবস্থায় পতিত হওয়ার ঘটনা বলত। এ কথা এক সময় বালকের কানে যায়। সে তাঁকে দেখতে আসে। বালককে দেখে সুফি খুশি হয়ে গেলেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে আরম্ভ করলেন। তার চেহারা দেখে হাসতেন। বালকও সর্বদা তাকে দেখতে আসত। এভাবে একসময় সুফি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেন। একদিন বালক তার ঘরে সুফিকে দাওয়াত দেয়। কিন্তু তিনি যেতে অস্বীকার করেন। আমি জানতে চাইলাম, শেষ পর্যন্ত ছেলেটির উসিলায় আপনি সুস্থ হলেন, আর এখন তার বাড়িতে যেতে কেন আপনার অস্বীকৃতি? প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, আমি আপদ থেকে মুক্ত নই এবং ফিতনা থেকে নিরাপদ নই। আমি ভয় করি, কখন শয়তান আমাকে তার ওপর মহব্বত ও কামনা উদ্রেক করে কোনো পাপাচারে আক্রান্ত করে। তখন তো আমি ধ্বংসপ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব!

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ব্যভিচারের উসকুলে হাল আহবান

📄 ব্যভিচারের উসকুলে হাল আহবান


কিছু সুফি এমন আছেন, যাদেরকে তাদের নফস কোনো মন্দ কাজে আহ্বান করার কারণে তারা নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেন। আবু আবদুল্লাহ হোসাইন ইবনে মুহাম্মাদ দামগানী বর্ণনা করেন, পারস্য শহরে একজন নামকরা সুফি ছিলেন। হঠাৎ একবার তিনি এক সুদর্শন বালকের ইশকে লিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে তিনি আর নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। এমনকি অযাচারের মন্দ কামনা মনে ঠাঁই নিল। পরে তিনি মোরাকাবায় বসলেন এবং নিজের ইচ্ছার ওপর লাঞ্ছিত হলেন। তাঁর ঘর ছিল একটি উঁচু পাহাড়ের ওপর। তার নিচে প্রবাহিত ছিল একটি নদী। অনুশোচনার আধিক্যে তিনি ঘরের ছাদ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং এ আয়াত পড়েন:
فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ
'হে বনি ইসরাইল, আল্লাহর দরবারে তাওবা করো এবং নিজেদেরকে ধ্বংস করে দাও।” পরে তিনি পানিতে ডুবে মারা গেলেন।

গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, ইবলিসকে দেখুন। প্রথমত বেচারাকে এটা শেখাল যে, বালকের প্রতি দৃষ্টিপাত করো। পরে এখান থেকে হটিয়ে তার দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকতে উদ্দীপনা জাগাতে থাকল। এভাবে তার অন্তরে বালকের প্রতি অগাধ ভালোবাসা সৃষ্টি হলো। পরে ইবলিস যখন দেখল, সে এ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করছে, তখন অজ্ঞতা দ্বারা তাকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচনা দিতে থাকল। বাহ্যত এমন মনে হয় যে, এ লোক কুমন্ত্রণা কেবল অন্তরেই পোষণ করত, নিশ্চিত কামেচ্ছা চরিতার্থের ফন্দি আঁকত না। শরিয়তে নিয়তের ক্ষেত্রে পাপ হলে ক্ষমার অবকাশ আছে। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عفي لأمتي عما حدثت به نفوسها
"আমার উম্মতের ওই সকল পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, যার ইচ্ছা সে কেবল মনে মনে পোষণ করে।” পরে লোকটি তার এমন ইচ্ছার ওপর অনুশোচনাও করেছে। এটাকেই তো তাওবা বলে। কিন্তু শয়তান তাকে এভাবে ধোঁকা দিয়েছে যে, নিজেকে ধ্বংস তথা আত্মহত্যা হচ্ছে তাওবার সর্বোচ্চ স্তর, যা বনি ইসরাইলের আমল ছিল। অথচ তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশিত হয়েছিল। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ
'হে বনি ইসরাইল, আল্লাহর দরবারে তাওবা করো এবং নিজেদেরকে ধ্বংস করে দাও।" আর আমাদেরকে তথা উম্মতে মুহাম্মদিকে এমন কাজ করতে বারণ করা হয়েছে:
لَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُم
'তোমরা নিজেদের ধ্বংস কোরো না।” মোট কথা উক্ত সুফি মস্ত বড় পাপে লিপ্ত হলো। সহিহাইনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত:
وَمَنْ تَرَدَّى مِنْ جَبَلٍ فَقَتَلَ نَفْسَهُ فَهُوَ يَتَرَدَّى فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا
'যে ব্যক্তি পাহাড়ের চূড়া থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে নিজেকে ধ্বংস করে, সে যেন জাহান্নামের অগ্নিতে ঝাঁপ দিল। সে সর্বদা সেখানেই অবস্থান করবে।”
***
বহু সুফি এমন আছেন, যাদেরকে তাদের প্রিয়তমের থেকে পৃথক করে দেয়া হলে তিনি সেই প্রিয়তমকে মেরে ফেলেন। এমন একজন সুফির ঘটনা শুনেছি, তিনি বাগদাদে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করতেন। যে ঘরে তিনি থাকতেন সেখানে তার সঙ্গে একজন সুদর্শন বালকও থাকত। মানুষজন তাকে অপবাদ দিচ্ছিল এবং উভয়কে পৃথক করে দিল। উক্ত সুফি একটি ছুরি নিয়ে বালকের কাছে গিয়ে তাকে খুন করে ফেললেন এবং তার কাছে বসে কাঁদতে থাকলেন। মহল্লাবাসী এসে এমন অবস্থা দেখে ঘটনার কথা জিজ্ঞেস করলে সুফি বালককে খুন করার কথা স্বীকার করেন। লোকেরা তাকে আদালতে নিয়ে গেলে সেখানেও সে খুনের কথা অকপটে স্বীকার করে। সেখানে সে বালকের পিতাকে দেখতে পেয়ে বলে, তোমাকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমার থেকে তোমার ছেলে হত্যার বদলা নাও। সে বলল, এখন আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। সুফি সেখান থেকে ওঠে বালকের কবরের কাছে এসে তার জন্য ক্রন্দন করতে থাকল। অবশেষে আজীবন ছেলেটির জন্য প্রতি বছর হজ করতেন এবং তার জন্য ইসালে সাওয়াব করতেন।

টিকাঃ
১. সুরা বাকারা: আয়াত ৫৪
২. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ২৫২৮, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১২৭
৩. সুরা বাকারা: আয়াত ৫৪
৪. সুরা নিসা: আয়াত ২৯
৫. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৫৭৭৮, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১০৯

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ফিতনার নিকটবর্তী ও এতে পতিত হওয়ার উপলক্ষ্য

📄 ফিতনার নিকটবর্তী ও এতে পতিত হওয়ার উপলক্ষ্য


সুফিদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন, যারা ফিতনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তাতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। সবর ও সাধনার দাবি তাদেরকে বিরত রাখতে পারেনি। ইদ্রীস ইবনে ইদ্রীস বলেন, আমি মিসরে সুফিদের একটি জামাতে উপস্থিত হয়ে তাঁদের কাছে একজন সুদর্শন বালক দেখতে পেলাম, যে তাদেরকে গান শোনাত। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তির জোশ বেড়ে গেলে সে কোনো বাছ-বিচার না করে বলল হে বালক, বলো- لا إله إلا الله বালক বলল- لا إله إلا الله এরপর সুফি বললেন, যে মুখ দিয়ে لا إله إلا الله বলেছ, সেই মুখ দিয়ে আমাকে চুমু দাও।

৬. ষষ্ঠ প্রকার সুফি হচ্ছেন যারা সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশার ইচ্ছা পোষণ করেন না; বরং তাদের ব্যাপারে তাওবা করেন এবং জগৎ-সংসার থেকে উদাসীন হয়ে যান। সুফিদের সাথে ইচ্ছেমতো তারা চলাফেরা করে। শয়তান তাদের জন্য ফাঁদ পাতে। বলে, বালকটিকে ভালো ও নেকি থেকে বঞ্চিত কোরো না। পরে সে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার দিকে বারেবারে তাকাতে থাকে। এভাবে মনে ফিতনার প্রভাব পড়ে। এমনকি শয়তান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা অনুযায়ী তাকে ঘায়েল করতে থাকে। এদের মধ্যে যে সর্বোচ্চ সম্মানিত হিসেবে বিবেচিত, তাকে দিয়ে শয়তান খারাপ কাজ ঘটিয়ে থাকে। যেমন বরশিশার সাথে করা হয়েছে। লেখক বলেন, বরশিশার ঘটনা আমরা কিতাবের শুরুর দিকে বর্ণনা করেছি। তার ভুল ছিল, সে বালকদের সামনে চলে যেত এবং এমন মানুষের সাথে মহব্বত রাখত যার দ্বারা ফিতনায় পতিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা বিদ্যমান।
৭. সপ্তম প্রকার সুফি তারা, যারা জানে যে, সুদর্শন বালকদের প্রতি দৃষ্টিপাত হারাম, কিন্তু তা হতে তারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবু আবদুর রহমান মুহাম্মাদ বিন হোসাইন বলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে যে সকল কাজ করতে দেখো, তার সবই করতে থাকো, কিন্তু শুধু বালকের সংশ্রবে যেও না। কেননা এটা খুবই ভারী ফিতনা। আমি আমার প্রতিপালকের সম্মুখে একশতবার প্রতিজ্ঞা করেছি যে, বালকদের সাথে মেলামেশা করব না। কিন্তু সুন্দর সুন্দর চেহারাবিশিষ্ট বালকদের কোমল শরীর ও দৃষ্টিকাড়া চাহনি দেখে সেই প্রতিজ্ঞা ভেঙ্গে দিতাম। অবশ্য আল্লাহ তায়ালা সুন্দর ছেলেদের সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। (অর্থাৎ আমি কোনো ব্যভিচারে লিপ্ত হইনি)। পরে তিনি সারীউল গাওয়ানীর কয়েক ছত্র কবিতা আবৃত্তি করেন,
إن ورد الخدود والحدق النجل * وما في الثغور من أقحوان واعوجاج الأصداع في ظاهر الخد * وما في الصدور من رمان تركتني بين الغواني صريعا * فلهذا أدعى صريع الغواني
“ফুলের মতো চেহারা ও ডাগর ডাগর নয়ন, বাবুই পাখির বাসার মতো দাঁত ও চেহারায় মায়াবী পশম, আনারের ন্যায় ঘাড়বিশিষ্ট বালকেরা আমাকে নারী সংশ্রব থেকে দূরে রেখেছে। এ জন্য আমাকে সুন্দর নারীর পতি বলে আখ্যায়িত করা হয়।"

গ্রন্থকার বলেন, আমি বলছি, আবু আবদুর রহমান এমন পাপ সম্পর্কে—যা আল্লাহ তায়ালা গোপন রেখেছেন—তিনি তা প্রকাশ করে নিজেকেই তিরস্কৃত করলেন। আর মানুষকে বলে বেড়াচ্ছেন, যখন তিনি এমন ফিতনার মুখোমুখি হন, তখন তাওবা ভেঙ্গে দেন। তাহলে তাসাওউফের সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ সূত্রাবলি কোথায় গেল, যা এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবেলার ইন্ধন যোগায়? তথাপি তিনি নিজের অজ্ঞতার কারণে এই ধারণা পোষণ করতেন যে, পাপ কেবল 'মন্দ কাজ'কেই বলে। কিন্তু তিনি যদি জানতে চাইতেন তবে জেনে নিতে পারতেন যে, সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশা এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করাও পাপ। অজ্ঞদের ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায়, শয়তান তাদেরকে কীভাবে ঠকায়! আবু মুসলিম খুশুয়ির ব্যাপারে বলা হয়ে থাকে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এক সুদর্শন বালকের প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থেকে বলেছিলেন, সুবহানাল্লাহ! আমি আমার চক্ষুকে মাকরুহ তথা নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি নিক্ষেপ করেছি এবং স্বীয় প্রতিপালকের নাফরমানি করেছি। দৃষ্টিকে নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট করেছি, এর বিনিময়ে হয়তো কেয়ামতের মাঠে আমাকে লজ্জিত ও অপদস্থ করা হবে। এই দৃষ্টিপাত আমাকে এমন আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিমজ্জিত করেছে। আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকে ক্ষমা করেন, কিন্তু আমি আজীবন লজ্জিতই থেকে যাব। এ কথা বলে তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 ইলমের अनिवार্যতা

📄 ইলমের अनिवार্যতা


যে ব্যক্তি জ্ঞান থেকে দূরে থাকবে, সে নির্ঘাত শয়তানের খপ্পরে পড়বেই। আর যার জ্ঞান আছে কিন্তু সে সেই জ্ঞান মতে আমল করে না, সে আরও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
“মুমিনদের বলুন, তারা যেন স্বীয় দৃষ্টিকে অবনত রাখে।”” যে ব্যক্তি শরয়ি শিষ্টাচার মতে চলবে, সে শুরুতে জেনে থাকবে যে, তার পরিণতি কী ভয়াবহ হতে পারে। শরিয়তে সুদর্শন বালকদের সংস্পর্শ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে এবং আলেমগণ এদের থেকে দূরে থাকার নসিহত করে গেছেন। হজরত আনাস রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لا تجالسوا أبناء الملوك فإن النفوس تشتاق إليهم ما لا تشتاق إلى الجواري العواتق
'তোমরা শাহজাদাদের পাশে বোসো না। কেননা তাদের সংশ্রব দু'জন ললনার ফিতনার চেয়ে ভয়াবহ।

হজরত আবু হোরায়রা রা. হতেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ওয়াফদে আবুল কায়েস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে উপস্থিত হলে সেখানে এক উজ্জ্বল বর্ণের বালক দেখা যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে স্বীয় পিঠের পেছনে বসালেন এবং বললেন, হজরত দাউদ আলাইহিস সালাম অপাত্রে দৃষ্টি দিয়েছিলেন। ' হজরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত,
«نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم» أن يجد الرجل النظر إلى الغلام الأمرد
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদর্শন বালকদের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাতে নিষেধ করেছেন।"

হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন, কোনো আলেমকে হিংস্র জন্তুর আক্রমণে আমি ওই পরিমাণ ভয় করি না, যে পরিমাণ ভয় সুদর্শন বালকের প্রতি দৃষ্টিপাতের কারণে করি।

আবদুল আযিয ইবনে আবি সায়েব স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি একজন আবেদের ওপর একজন সুদর্শন বালককে সত্তরজন কুমারী ললনার চেয়ে অধিক ভয় করি। আবু আলী রোযবারি বলেন, আমি জুনাইদের কাছে শুনেছি, তিনি বলতেন, ইবনে হাম্বলের কাছে এক ব্যক্তি এসেছিল, তার সঙ্গে ছিল একজন সুদর্শন বালক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বালকটি কে? উত্তরে বললেন সে আমার পুত্র। এবার তিনি বললেন, দ্বিতীয়বার আসার সময় তাকে তুমি সঙ্গে আনবে না। যখন দাঁড়ালেন, তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান হাফেজ বলেন, আর খতিবের বর্ণনামতে, তাকে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা শায়খকে তাওফিক দিন। এ ব্যক্তি পরহেযগার। তার ছেলে তার চেয়েও বড় পরহেযগার। এ কথা শুনে ইমাম আহমদ রহ. বললেন, এ ব্যাপারে আমি যা কিছু চেয়েছি, তাদের পরহেযগার হওয়ার জন্য, এতে কোনো বাধা নেই। এভাবেই আমাদের মুরুব্বিরা আসলাফদের মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন।

হাসান বায্যারের ব্যাপারে শোনা যায়, তিনি একবার আহমদ ইবনে হাম্বলের নিকট এসে তার নিকট একজন সুদর্শন বালক দেখতে পান। তিনি তার সাথে কথা বলছিলেন। ওঠে যাওয়ার সময় তাকে আবু আবদুল্লাহ বললেন, হে আবু আলী! এই বালকের সাথে কোনো রাস্তায় চলাফেরা কোরো না। প্রত্যুত্তরে তিনি বললেন, এ তো আমার ভাতিজা। তিনি আবার বললেন, ভাতিজা হলেও। মানুষ তোমার সম্পর্কে (আমি চাই না) অপবাদমূলক কোনো প্রকার কথা বলুক।

শুজা ইবনে মুখাল্লিদ হতে বর্ণিত, তিনি বিশর ইবনে হারেসকে বলতে শুনেছেন যে, এই নওজোয়ানদের থেকে দূরে থাকো। ফাতাহ মুসিলি বলেন, আমি ত্রিশজন বুযুর্গের সাথে চলেছি, যাদেরকে আবদাল বলে আখ্যায়িত করা হতো। সবাই আমাকে বিদায়ী নসিহতস্বরূপ বলেছেন যে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নওজোয়ানদের সংশ্রব ত্যাগ করো। সালাম আল আসওয়াদ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি এমন একজন মানুষকে দেখেছিলেন, যে একজন সুদর্শন বালকের দিকে অপলক তাকিয়ে আছে। তা দেখে সালাম বললেন, হে অমুক! স্বীয় ব্যক্তিত্বের কথা ভাবো। কেননা যতক্ষণ তুমি আল্লাহর সম্মান বজায় রাখবে, ততক্ষণ তুমিও সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। আবু মনসুর আবদুল কাদের বিন তাহের'র অভিমত হচ্ছে, যে ব্যক্তি সুদর্শন বালকদের সাথে মেলামেশা করবে, সে নিষিদ্ধ কর্মে পতিত হবে। সালাম বলেন, আমাকে আবু আবদুর রহমান সালামি বলেছেন, মুযাফ্ফর কামমিসিনীর ভাষ্য-যে ব্যক্তি নিরাপত্তা ও উপদেশের শর্তে তরুণ বালকদেরকে সংস্পর্শে রাখবে, সে মসিবতে পতিত হবে। তাহলে তার কী হবে, যে নিরাপত্তার শর্ত ছাড়া বালকদের সাথে মেলামেশা করে?

টিকাঃ
১. সুরা নূর: আয়াত ৩০
২. [মাউযূ] হাদিসটি ইবনুল জাওযি রহ. 'আলইলালুল মুতানাহিয়া' এবং ইবনুল ইরাক রহ. 'তানযিয়াতুস শারিয়াহ'তে সংকলন করেছেন।
والحديث بإسناده عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى . الله عليه وسلم قال لا تملأوا أعينكم من أولاد الملوك فإن لهم فتنة أشد من فتنة العذارى
৪. [মাউযূ] আলবানি রহ. সংকলিত 'আসিলসিলাতুয যাঈফাহ': ৩১৩
৫. [যঈফ] ইবনে আদী 'আলকামিল' ও উকাইলী 'যুয়াফা' গ্রন্থে হাদিসটি সংকলন করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00