📄 সুফিদের কর্মকাণ্ডের অসারতা প্রমাণে হাদিসসমূহ
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব বলেন, হজরত উসমান ইবনে মাযউন রা. একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মনে কিছু বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে। আপনাকে জিজ্ঞেস না করে সেগুলোর কোনোটি করতে চাই না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মনে কিসের উদ্ভব হয়েছে? তিনি বললেন, আমার ইচ্ছে হয় নপুংসক (পুরুষত্বহীন) হয়ে যেতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের নপুংসক হওয়া হলো রোযা। উসমান ইবনে মাযউন রা. বললেন, আমার মন চায় পাহাড়ের নির্জন স্থানে গিয়ে বসে থাকতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের বৈরাগ্য হলো মসজিদে বসে এক নামাযের পর আরেক নামাযের জন্য অপেক্ষা করা। উসমান রা. বললেন, আমার মন চায়, বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার উম্মতের ভ্রমণ হলো, জিহাদ ও হজ-ওমরা। উসমান রা. বললেন, আমার মন চায় স্ত্রী-সন্তান থেকে পৃথক হয়ে যেতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিদিন সদকা করা, নিজের এবং বাচ্চাদের ভরণ-পোষণ এবং এতিম-মিসকিনদের ওপর দয়া-দাক্ষিণ্য করা এর চেয়ে উত্তম। উসমান রা. বললেন, আমার মন চায়, স্ত্রী-সহবাস বর্জন করতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো মুসলমান যখন আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে আর এর ফলে কোনো সন্তান জন্মলাভ না করে, তবে তার জন্য জান্নাতে একটি বাঁদি লাভ হবে। আর যদি সন্তান জন্মলাভ করে, আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সে সন্তান তার জন্য কেয়ামতের দিন সুপারিশকারী হবে। আর যদি তার পরেও জীবিত থাকে, তবে তার জন্য কেয়ামতের দিন নূর হবে। উসমান রা. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মন চায় গোশত খাওয়া বর্জন করতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গোশত প্রিয় বস্তু। আমি যখন গোশত জোটে তখন খাই। আমি যদি আল্লাহর কাছে প্রতিদিন আমাকে গোশত খাওয়ানোর দরখাস্ত করি, তবে অবশ্যই তিনি তা আমাকে খাওয়াবেন। উসমান রা. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার মন চায়, সুগন্ধজাতীয় দ্রব্য বর্জন করতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আমাকে সুগন্ধজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করতে আদেশ করেছেন। আর জুমার দিন আমি কখনে সুগন্ধজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার বর্জন করি না। হে উসমান! আমার রাস্তা থেকে বিমুখ হয়ো না। যে ব্যক্তি আমার রাস্তা থেকে বিমুখ হয়ে তাওবাহ ছাড়া মৃত্যুবরণ করে ফেরেশতারা আমার হাউজে কাউসার থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে।'
গ্রন্থকার বলেন, এটি ওমায়ের ইবনে মারদাসের হাদিস।
হজরত আবু বুরদাহ রা. হতে বর্ণিত, উসমান ইবনে মাযউন রা. এর স্ত্রী একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে এলেন। তাঁরা তাঁকে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী ব্যাপার, তোমার এ অবস্থা কেন? তোমার স্বামী কি বিত্তশালী নয়? মাযঊন-পত্নী বললেন, তার দ্বারা আমার কোনো উপকার লাভ হয় না। সে সারারাত নামায পড়ে, সারাদিন রোযা রাখে। নবীপত্নীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঘটনাটি জানালেন। তিনি উসমান রা.-কে পেয়ে বললেন, হে উসমান! তুমি কি আমার অনুসরণ করো না? উসমান রা. বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কী ব্যাপার? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি সারারাত নামায পড়ো, আর সারাদিন রোযা রাখো? উসমান রা. বললেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা করবে না। কেননা তোমার ওপর তোমার চোখের হক আছে। তোমার ওপর আপন শরীরের হক আছে। তোমার ওপর আপন স্ত্রীর হক আছে। অতএব তুমি নামাযও পড়ো, নিদ্রাও যাও। রোযাও রাখো, ইফতারও করো।'
হজরত আবু কিলাবাহ রা. বলেন, উসমান ইবনে মাযঊন রা. একটি ঘর নির্মাণ করে তাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইবাদত করতে শুরু করেন। বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরে তার নিকট গমন করে তার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে বললেন,
يا عثمان إن الله عز وجل لم يبعثني بالرهبانية مرتين أو ثلاثا
'হে উসমান! আমাকে তো আল্লাহ তায়ালা সন্ন্যাসব্রত দিয়ে পাঠাননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা দুইবার তিনবার বলেছেন।'
কাহমাস হেলালি রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণের কথা জানালাম। অতঃপর এক বছর যাবৎ অনুপস্থিত রইলাম। এরপর আবার খেদমতে হাজির হলাম। তখন আমি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আপাদমস্তক দেখলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না? তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? আমি বললাম, আমি কাহমাস হেলালী। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার এ অবস্থা কেন? আমি বললাম, আপনার কাছ থেকে যাওয়ার পর এক রাতও ঘুমাইনি এবং একদিনও রোযাবিহীন থাকিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নিজেকে শাস্তির মুখোমুখি করার নির্দেশ তোমাকে কে দিয়েছে? পূর্ণ রমযান এবং প্রতিমাসে একটি রোযা রাখো। আমি বললাম, আরও বৃদ্ধি করুন। বললেন, পূর্ণ রমযান এবং প্রতি মাসে দু'টি রোযা রাখো। আমি আরয করলাম আরও বৃদ্ধি করুন। বললেন, পূর্ণ রমযান এবং প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখো।
হজরত আবু কিলাবা রা. বলেন, আমার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ পৌছল যে, একদল সাহাবি স্ত্রীদের নিকটবর্তী হওয়া ও গোশত খাওয়া পরিত্যাগ করে একস্থানে সমবেত হয়েছেন। তখন আমরাও স্ত্রীদের নিকটবর্তী না হওয়া এবং গোশত না খাওয়ার বিষয়টি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি এ বিষয়ে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে বললেন,
لو كنت تقدمت فيه لفعلت ثم قال إني لم أرسل بالرهبانية إن خير الدين الحنيفية السمحة
'এর দ্বারা যদি পরকালে মঙ্গলজনক পরিণতি পাওয়া যেত, তাহলে সর্বপ্রথম আমি তা করতাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমি সন্ন্যাস-ধর্ম নিয়ে প্রেরিত হইনি। আমি মধ্যপন্থী ধর্ম নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।”
গ্রন্থকার বলেন, এক হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُحِبُّ أَنْ يرى آثَارَ نِعْمَتِهِ عَلَى عَبْدِهِ فَيْ مَأْكِلِهِ وَمَشْرَبِهِ
'আল্লাহ তায়ালা বান্দার খাবার-দাবার ও বেশভূষায় তাঁর অনুগ্রহের নিদর্শন দেখতে ভালোবাসেন।'
বকর ইবনে আবদুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে নেয়ামত দান করেছেন এবং তার খাবার-দাবার ও বেশভূষায় নেয়ামতের নিদর্শন দেখা না যায় তাকে 'বাগিযুল্লাহ' বা আল্লাহর অপছন্দনীয় উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
***
গ্রন্থকার বলেন, এ সব হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, সুফিরা যে পন্থা অবলম্বন করেছে, তা সঠিক নয়। পানাহার বর্জনের এ রীতি আগেকার যুগের সুফিদের ছিল। কিন্তু পরবর্তী সুফিরা এ ব্যাপারে অন্যদেরকে ডিঙিয়ে গেছে।
মুহাম্মাদ ইবনে আবদুস সিরাজ বাগদাদি বলেন, আবু মরহুম একবার বসরায় ওয়াজ করতে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও মর্মস্পশী ওয়াজ করলেন-এতে মানুষ অঝোরে কাঁদতে থাকল। ওয়াজ শেষে বললেন, আমাদেরকে আল্লাহর ওয়াস্তে কে ভাত খাওয়াবে? এক যুবক দাঁড়িয়ে বলল, আমি এ সেবার জন্য প্রস্তুত আছি। আবু মরহুম বললেন, তুমি বসো। তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি তোমার মর্যাদা উপলব্ধি করতে পেরেছি। ওই যুবক এভাবে তিনবার ওঠে বলল। তৃতীয়বার আবু মরহুম সঙ্গীদেরকে বললেন, চলো, এ ব্যক্তির বাড়িতে যাই। সবাই ওই যুবকের বাড়িতে গেলেন। যুবক বলল, আমি তাদের সামনে এক পাতিল শাক রান্না করে এনেছিলাম। তাঁরা লবণ ছাড়াই সেগুলো খেয়ে নিলেন।
এরপর আবু মরহুম বললেন, আমার কাছে একটি লম্বা চওড়া দস্তরখান, পাঁচ টুকরি ভাত, পাঁচ সের ঘি, দশ সের চিনি, পাঁচ সের বাদাম এবং পাঁচ সের পেস্তা নিয়ে আসো। এ সবকিছু উপস্থিত করা হলো। আবু মরহুম সঙ্গীদেকে লক্ষ্য করে বললেন, এখন দুনিয়া কেমন দেখাচ্ছে? তারা বলল, তার রং চমকাচ্ছে এবং সূর্য উজ্জ্বল। আবু মরহুম বললেন, এখন দুনিয়াতে নহরও প্রবাহিত করে দাও। এ বলে ঘিগুলো ভাতে ঢেলে দেয়া হলো। আবার আবু মরহুম জিজ্ঞেস করলেন, এবার দুনিয়া কেমন দেখাচ্ছে? তারা বলল, তার রং চমকাচ্ছে, সূর্য উজ্জ্বল এবং নহরও প্রবাহমান। অতঃপর পেস্তা বাদাম আনা হলো এবং ভাতে ঢালা হলো। এরপর আবু মরহুম সঙ্গীদেরকে বলল, এখন দুনিয়া কেমন দেখাচ্ছে? তারা বলল, তার রং চমকাচ্ছে, সূর্য উজ্জ্বল, নহরও প্রবহমান এবং গাছও জন্মেছে। আবু মরহুম বললেন, এবার পাথরও ঢেলে দাও। এ বলে চিনিগুলোও ঢেলে দেয়া হলো। এরপর আবু মরহুম সঙ্গীদেরকে বলল, এখন দুনিয়া কেমন দেখাচ্ছে? তারা বলল, তার রং চমকাচ্ছে, সূর্য উজ্জ্বল, নহরও প্রবহমান, গাছ জন্মেছে, ফল ধরেছে এবং পাথরও ঢালা হয়েছে। আবু মরহুম বললেন, ভাইয়েরা! দুনিয়ার সাথে আমাদের কী সম্পর্ক? আমরা দুনিয়া দিয়ে কী করব? এ বলে সবাই হাত বাড়াল এবং পাঁচ আঙ্গুল দিয়ে খেতে শুরু করল। আবু ফযল আহমদ ইবনে সালামাহ বলেন, আমি এ ঘটনা আবু হাতেম রাযীর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, ঘটনাটি আমাকে লিখে দাও। অতঃপর তিনি বললেন, বর্তমান সুফিদের অবস্থা এটাই।
টিকাঃ
১. [যঈফুন জিদ্দান] এর সনদে আলী ইবনে যায়েদ ইবনে জুদয়ান রয়েছেন- যিনি 'যঈফ'। অবশ্য অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস সহিহ বুখারিতে রয়েছে: হাদিস নং ৫০৭৩
২. হাদিসটি তাবাকাতে ইবনে সা'আদে উপরোক্ত সনদে এসেছে। সনদটি 'মুরসালান সহিহ'।
৩. হাদিসটি তাবাকাতে ইবনে সা'আদে বর্ণিত হয়েছে। আলবানি রহ. এটাকে সহিহ বলেছেন।
৪. [যঈফ] মুসনাদে আহমাদ: ৫/২৮, সুনানে আবি দাউদ: হাদিস নং ২৪২৮
১. 'ইরসাল' এর কারণে হাদিসটির সনদ দুর্বল। এছাড়া অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস পূর্বেও উল্লেখিত আছে।
২. [যঈফ] আলবানি প্রণীত 'যঈফুল জামে' : হাদিস নং ১৭১৫, অন্য একটি বর্ণনামতে হাদিসটি 'সহিহ লিগাইরিহী' এর পর্যায়ে পড়ে।
📄 ছেমা-গান, বাদ্য ও নৃত্যের ব্যাপারে সুফিদের ওপর শয়তানের ধোঁকা
গ্রন্থকার বলেন, জেনে রাখা উচিত-গান-বাজনা দু'টি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। একটি হলো, আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণ থেকে গাফেল করা, আরেকটি হলো, মনে উত্তেজনা সৃষ্টি করা; যা অনেক সময় যিনায় লিপ্ত হতে প্ররোচিত করে। অতএব প্রতীয়মান হলো যে, لزنا। যিনা অর্থাৎ ব্যভিচার ও الغناء গিনা অর্থাৎ গান-বাদ্যের মধ্যে একটি শাব্দিক সাযুজ্য বিদ্যমান। গান আত্মাকে উত্তেজিত করে, পক্ষান্তরে যিনা প্রবৃত্তির বাসনা পূরণের অন্যতম হাতিয়ার। এ জন্য হাদিসে এসেছে:
الْغِنَاءُ رَقِيَةُ الزِّنَا 'গান হচ্ছে যিনার মন্ত্র'।
অর্থাৎ গান যিনার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে মন্ত্রের ন্যায় কাজ করে। আবু জাফর তাবারি বলেন, সর্বপ্রথম বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কার করে কাবিলের বংশধর থেকে 'সাওবান' নামক জনৈক ব্যক্তি। এ যুগেই মাহলাইল ইবনে কিনান নামে এক ব্যক্তি বাঁশি, তবলা ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে। কাবিলের বংশধর গান-বাজনায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। হজরত শীশ আলাইহিস সালাম এর বংশধর পাহাড়ে বাস করত। তাদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তারাও পাহাড় থেকে নেমে এসে গান-বাজনা ও অন্যান্য বেহায়াপনার কাজে জড়িয়ে পড়ে।
গ্রন্থকার বলেন, এ সব উত্তেজনা উদ্রেককারী যন্ত্রগুলোর এমন বিষয়াশয় বিদ্যমান, যার একটি অপরটি দ্বারা প্রবৃত্তির অনুসরণ ও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ইবলিস যখন ভাবল—মানুষকে ইবাদত থেকে বিরত রাখতে সুললিত কণ্ঠে বাদ্যের সংমিশ্রণে তাদেরকে বশে আনা সহজ, তখন সে এ যন্ত্রের প্রতি মানুষকে অধিকহারে আকৃষ্ট করতে প্রয়াসী হয়। প্রথম সে গানের প্রতি আকৃষ্ট করতে থাকে। এই পাষণ্ড এরপর বাদ্যযন্ত্রের প্রতি মানুষকে প্ররোচিত করতে থাকে। এর বিভিন্ন শোভা-সৌন্দর্য সে মানুষের সামনে পেশ করতে থাকে।
ফকিহ তিনি—যিনি বস্তুর ফলাফলের প্রতি দৃষ্টি দেয় এবং চিন্তা-ভাবনা করে। যেমন—সুদর্শন কমবয়সী বালকের দিকে দৃষ্টিপাত করা বৈধ, কিন্তু শর্ত হচ্ছে, প্রবৃত্তিতে উত্তেজনা আসতে পারবে না। যদি সুদর্শন কমবয়সী বালকের দিকে দৃষ্টিপাত করলে যৌনস্পৃহা জাগ্রত হয়, তাহলে তার দিকে তাকানো বৈধ নয়। অনুরূপভাবে তিন বছরের কম বয়সী মেয়েকে চুমু দেয়া জায়েয। কেননা এমন বয়সে তার প্রতি যৌন-লালসার উদ্রেক হয় না। পক্ষান্তরে যদি যৌন-স্পৃহা জাগ্রত হয়ে যায়, তাহলে তাকেও চুমু দেয়া বৈধ নয়। একইভাবে মাহরাম নারীদের সাথে একাকী সময় কাটানো অবস্থায় যদি যৌন উত্তেজনা দেখা দেয়, তবে তাদের থেকে দূরে থাকা চাই। কেননা এমতাবস্থায় তাদেরকে সঙ্গ দেয়া হারাম।
টিকাঃ
১. [মাউযূ) হাদিসটি মোল্লা আলী কারী রহ. 'আল আসরারুল মারফুআ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
📄 গানের ব্যাপারে সুফিদের অভিমত
গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে গভীরভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। গানের ব্যাপারে কেউ বলেন হারাম, কেউ মাকরুহের সাথে বৈধ বলেছেন। আবার কেউ বৈধতার সাথে মাকরুহ বলেছেন। সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, প্রথমে একটি বস্তুর আকৃতি ও রহস্যে দৃষ্টি দেয়া দরকার। পরে তাকে হারাম ইত্যাদিতে অভিহিত করা যেতে পারে।
একটি হলো, ওই গান যা প্রেমবিজড়িত, চরিত্র হননকারী এবং বিশেষ রাগে গাওয়া হয়; যা গায়ক-গায়িকারা গেয়ে থাকে—এটা সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েয। আরেকটি হলো, যা হাজীরা দীর্ঘ পথ অতিক্রমকালে ক্লান্তি বিদূরিত করার উদ্দেশ্যে এবং মনে স্ফূর্তি জাগ্রত করতে বা কা’বার প্রশংসার্থে পড়তেন—এটা জায়েয। এমনইভাবে আরব দেশে উটকে দ্রুত চলার ওপর উদ্বুদ্ধ করার জন্য ছন্দাকারে কিছু গাওয়া হতো, যাকে হুদ্দা বলা হয়, এটা জায়েয। এমনিভাবে ওইসব কবিতার বিষয়বস্তু ভালো, তাতে অশ্লীল কথা বা কারও কুৎসা নেই—সে সব কবিতা আবৃত্তি করাও জায়েয। যেমন জনৈক কবি বলেন,
بشرها دليلها وقالا * غدا ترين الطلح والجبالا
'উটনীকে তার পথ প্রদর্শন সুখবর দিয়ে বলেছে, তুমি পাথুরে পথ আর পাহাড়ের সৌন্দর্য।' এ কবিতা দ্বারা আরোহী এবং উট অনুপ্রাণিত হয়। এতে তাদের বিচ্যুত হবার আশঙ্কা নেই।
এই উদ্বুদ্ধকরণের মূল রহস্য সম্পর্কে আবুল বুখতারি ওহাব থেকে তালহা মক্কির বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, কতেক আলেম বলেছেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার রাস্তায় একটি গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে এক উদ্বুদ্ধকারী কবি দেখতে পান। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সালাম দিয়ে বললেন,
إِنَّ حَادِيَنَا نَامَ فَسَمِعْنَا حَادِيَكُمْ فَمِلْتُ إِلَيْكُمْ، فَهَلْ تَدْرُونَ أَنَّى كَانَ الْحَدَّاءُ؟ قَالُوا: لا وَاللَّهِ، قَالَ: إِنَّ أَبَاهُمْ مُضَرَ خَرَجَ إِلَى بَعْضِ رُعَاتِهِ فَوَجَدَ إِبِلَهُ قَدْ تَفَرَّقَتْ فَأَخَذَ عَصَا فَضَرَبَ بِهَا كَفَّ غُلامِهِ، فَعَدَا الْغُلَامُ فِي الْوَادِي وَهُوَ يَصِيحُ: يَا يَدَاهُ يَا يَدَاهُ، فَسَمِعَتِ الإِبِلُ ذَلِكَ فَعَطَفَتْ عَلَيْهِ،
'আমাদের উদ্বুদ্ধকারী কবি শুয়ে আছে। আমি তোমাদেরকে উদ্বুদ্ধকারী কবির আবৃত্তি শুনে তোমাদের কাছে এলাম। আচ্ছা, তোমরা কি জানো যে, হুদ্দা তথা উদ্বুদ্ধকারী সংগীত কোথা হতে এসেছে? তারা বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের জানা নেই। তিনি বললেন, একবার আরবের পিতামহ মুদির তার উটের পালের দিকে গিয়ে দেখলেন, উটগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাখাল সারা বন-বাদাড় ঘুরে ঘুরে 'হায় আমার হাত! হায় আমার হাত' বলে চিৎকার দিতে থাকল। উটগুলো তার চিৎকার শুনে তার দিকে চলে আসলো। মুদির মনে মনে ভাবল, উটগুলোর জন্য যদি এমন একটি সংগীতের প্রচলন করা যেত, যা দ্বারা এগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিন্তে থাকা যায়!' তখন থেকে হুদ্দা নামীয় উদ্বুদ্ধকারী সংগীতের প্রচলন হয়।
গ্রন্থকার বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন হুদ্দি যুবক ছিল যার নাম আঞ্জশাহ। এ যুবক দ্রুতবেগে উট চালানোর সময় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, একটু সাবধানে তুমি শিস দিয়ে উটগুলো হাঁকাও।'
সালামা ইবনুল আকওয়ার হাদিসে আছে :
'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খায়বার অভিমুখে চলছিলাম। তখন ছিল রাতের বেলা। জামাতের এক লোক আমেরকে জিজ্ঞেস করল, তুমি আমাদেরকে কিছু মোবারক কথা কেন শোনাচ্ছ না? আমের ছিলেন কবি। স্বজাতির উদ্দেশে আবৃত্তি করলেন- لاهم لولا أنت ما اهتدينا ولا تصدقنا ولا صلينا فالقين سكينة علينا وثبت الأقدام إذ لاقينا
“হে আল্লাহ! তুমি যদি আমাদের তাওফিক না দিতে, তাহলে আমরা হেদায়েত পেতাম না। যাকাত দিতে পারতাম না, নামায আদায় করতে পারতাম না। হে প্রভু! আমাদের অন্তরে অদৃশ্য প্রশান্তি ঢেলে দিন এবং শত্রুর মোকাবেলা করার সময় আমাদের 'দৃঢ় ও অবিচল রাখুন।” এই কবিতা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই উট হাঁকানোকারী কে? লোকজন বলল, আমের ইবনুল আকওয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”
গ্রন্থকার বলেন, আমরা ইমাম শাফেয়ি রহ. থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন, গ্রামের লোকজন উদ্বুদ্ধকরণমূলক গীত গাওয়া এবং শোনাতে কোনো অসুবিধা নেই। লেখক আরও বলেন, আরবদের কবিতা আবৃত্তি করার একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা হচ্ছে মদিনায়ে তাইয়্যেবায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমন উপলক্ষে কবিতামালা :
طلع البدر علينا * من ثنيات الوداع وجب الشكر علينا * ما دعا لله داع
'ওয়াদা পাহাড়ের চূড়া থেকে আমাদের জন্য পূর্ণিমার এক চাঁদ উদিত হতে যাচ্ছে। যখনই কোনো দোয়াকারী দোয়া করবে তার জন্য এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক।'
আবু আকিল নাহবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, হজরত আয়েশা রা. বলেন, আমাদের এখানে একজন আনসারি এতিম বালিকা ছিল। আমরা এক আনসারির সাথে তার বিয়ে দিই। বালিকার স্বামীর সাথে তাকে রুখসতের সময় আমিও তার সাথে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আয়েশা! এই আনসারি লোকজন গজল পছন্দ করে। তোমরা রুখসতির সময় কী বলেছিলে? আমি বললাম, বরকতের দোয়া করেছি। তিনি বললেন, এমন কেন বলোনি-" أَتَيْنَاكُمْ أَتَيْنَاكُمْ * فَحَيُّونَا تُحَيِّيكُمْ وَلَوْلَا الذَّهَبُ الأَحْمَرُ * مَا حَلَّتْ بِوَادِيكُمْ وَلْوَلا الْحَبَّةُ السَّمْرَاءُ * لَمْ تَسْمَنْ عَذَارِيكُمْ
'আমরা তোমাদের কাছে এসেছি, আমরা তোমাদের কাছে এসেছি। তোমরা আমাদের সালাম করো, আমরা তোমাদের সালাম করছি। যদি স্বর্ণ না থাকত, তবে গহনারও নাম-নিশানা থাকত না। আর যদি গমের দানা না হতো, তবে তোমাদের কুমারীদের গায়ে কখনো গোশত হতো না।'
ওই সমস্ত গান, যাতে আল্লাহর তাওহিদের কথা আছে অথবা রাসুলের মহব্বত ও তার শামায়েল আছে অথবা যাতে জিহাদে উৎসাহিত করা হয় তাতে দৃঢ় থাকতে অথবা চরিত্রকে দৃঢ় করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। অথবা এমন দাওয়াত দেয়া হয় যাতে মুসলিমদের একে অন্যের প্রতি মহব্বত ও সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। অথবা যাতে ইসলামের মৌলিক নীতি বা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়। অথবা এই জাতীয় অন্যান্য কথা, যা সমাজকে উপকৃত করে দীনি আমলের দিকে কিংবা চরিত্র গঠনের জন্য।
ঈদের সময় ও বিয়ের সময় কেবল মহিলাদের জন্য তাদের নিজেদের মধ্যে দফ বাজানোর অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। যিকরের সময় এটার ব্যবহার ইসলাম কখনোই দেয়নি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিকরের সময় কখনোই তা ব্যবহার করেননি। তাঁর পরে তাঁর সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণ কখনই তা ব্যবহার করেননি। বরঞ্চ, ভণ্ড সুফি পীররা তা মুবাহ করেছে নিজেদের জন্য। আর যিকরে দফ বাজানোকে তারা সুন্নত বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তা বিদআত।
গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, ইতোপূর্বে আমরা সংগীতের বৈধতা ও অবৈধতা এবং নিন্দনীয় বিষয়গুলোর ব্যাপারে আলোচনাকালে বলেছি, বুদ্ধিমানদের উচিত-স্বীয় নফস এবং জ্ঞাতি ভাইদের উপদেশ দেবে।
বিশেষ জ্ঞাতব্য: জাহিলিয়্যাতের যুগ ও ইসলাম আগমনের পরও আরবরা সাধারণত কবিতা আবৃতি করা ও গান গাওয়াকে বেশি পছন্দ করত। এমনকি রাসুলের সাহাবিরাও কবিতা উপভোগ করত এবং তা পছন্দ করত। ইমাম বাইহাকী রহ. তার সুনান গ্রন্থে আবি সালমা বিন আব্দুর রহমান হতে হাসান সনদে একটি হাদিস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলের সাহাবিদের মধ্যে কতক সাহাবি এমন ছিল যারা কবিতা আবৃতি করত এবং তা উপভোগ করত।
এর কারণ হলো, অশ্লীল, অশালীন কথাবার্তা ও মানুষের স্বভাবের পরিপন্থী কার্যকলাপ তাদের ক্ষুব্ধ করত। আরবি ভাষা, অভিধান ও তাদের পরিভাষার প্রতি লক্ষ করলে, তুমি দেখতে পাবে, তারা غنی শব্দ দ্বারা সাধারণত কবিতা, গান, কাব্যিক কথা ইত্যাদিই উদ্দেশ্য নিয়ে থাকে। কারণ, গান হলো যা শুধু মুখ থেকে বের হয়ে থাকে তার সাথে অন্য কিছুকে সম্পৃক্ত করা হয় না। যদি গানের কথার সাথে অন্য কোনো বাজনা বা বাদ্য শোনা যায় তবে তা শুধু গান থাকে না। তখন তাকে কবিতা, গান ও কাব্যিক কথা তথা সংগীত ইত্যাদি আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে, যদি তার আওয়াজ সুন্দর হয়।
রাসুলের সাহাবিদের কর্ম ও আরবদের বিভিন্ন কবিতার মধ্যে চিন্তাভাবনা করলে দেখা যাবে, তারা غناء শব্দ উল্লেখ করা দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো, কবিতা ও গান। এমনকি পরবর্তী লোকদের জন্য বিষয়টি আরও জটিল হয়ে গেল। কারণ, তারা ধারণা করত, তারা তাদের কথা ব্যবহার করছে এবং তার দ্বারা পরবর্তীদের পরিভাষানুযায়ী গানকে উদ্দেশ্য নিত। অথচ এটি ছিল নিছক অজ্ঞতা ও মূর্খতা। কারণ, তাদের غناء শব্দটি তাদের নিকট ব্যাপক অর্থে ছিল না।
غناء-পরবর্তীদের পরিভাষা অনুযায়ী যে অর্থ দাঁড়ায়-সাহাবি ও সালাফ প্রমুখদের হতে যে অর্থটি বর্ণিত হয়ে আসছে—শব্দ দুটির উদ্দেশ্যের মাঝে পার্থক্য করাটা মুশকিল হওয়া ও শব্দদ্বয় অর্থের দিক দিয়ে একই রকম হওয়াতে ইবনে হাম্বলী এ বিষয়ে একটি কিতাব লেখেন যার উপর আল্লামা ইবনে কুদামা এ বলে কটাক্ষ করেন, তিনি হেদা শব্দ উল্লেখ করে غنی এর উপর দলিল পেশ করতে আরম্ভ করেন, আর মূলত এ কাজটি তিনিই করতে পারেন, যিনি غناء ও হেদা শব্দদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না এবং কোনটি কবিতা তাও বোঝে না। সুতরাং যার যোগ্যতা এর মধ্যে সীমাবদ্ধ সে কখনোই ফতোয়া দেয়ার জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি হতে পারে না।
আর যিনি এ কথা বললেন, সে একই কথা তিনি তার কিতাব আলমুগনীতে আলোচনা করেন, তিনি বলেন, আলেমদের নিকট ইখতেলাফের কেন্দ্র হলো غناء। সে এ কথা দ্বারা কোন غناء উদ্দেশ্য নিয়েছে? উত্তর: এ দ্বারা তার উদ্দেশ্য হেদা-গান। কারণ, তিনি তার মৃত্যুর এক বছর পূর্বে ইবনে হাম্বলির খুব সমালোচনা করেছেন, যিনি গান- غناء হারাম হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের ইত্তেফাকের কথা আলোচনা করেছেন।
ইমাম ইবনে জাওযী বলেন, غناء বা গান তাদের যুগে যুহদ সম্পর্কীয় বিভিন্ন ধরনের কবিতার সমষ্টিরই নাম তবে তারা এগুলোকে সুর দিয়ে আবৃত্তি করত। এ কারণেই অনেক ফকিহ রশীদ ইবনে জামের উপস্থিতিতে বলত, রোজার ক্ষতি করে। তখন সে বলল, তুমি ওমর বিন আবি রাবীয়ার ঘরে বসে কী বলছ, যে এ কাব্য আবৃত্তি করল:
أمن آل نعم أنت غادٍ فمبكر *** غداة غدام رائح فمهجر!
তার কি রোজার ক্ষতি হবে? বলল, না। এ তো হলো, যদ্দ্বারা আমি আমার আওয়াজকে লম্বা করলাম এবং আমারা তো কেবল মাথাকেই নাড়ালাম।
তোমরা আরও লক্ষ করো, আতা বিন আবি রাবাহ এর কথার প্রতি, তিনি বলেন, মুহরিমের জন্য গেনা ও হেদা দ্বারা কোনো অসুবিধা নাই।
কুরআন, হাদিস ও রাসুলের সাহাবি হতে বর্ণিত নুসুসগুলোর প্রতি লক্ষ করলে দেখতে পাবে যে, ওহী আরবি সাহিত্য দ্বারাই বুঝতে হবে। যার মধ্যে কোনো সুর অথবা অশুদ্ধতা থাকে না। এ কারণেই আল্লামা ইবনে কুদামা রহ. যে ব্যক্তি শব্দ দুটির মধ্যে প্রার্থক্য করতে পারে না এবং উভয়কে একত্র করে ফেলে, তাকে ফতোয়া দেয়ার উপযুক্ত বলে মনে করেন না; বরং তিনি তাকে ফতোয়া দেয়ার অযোগ্য মনে করেন।
গেনা এর প্রচলন ঢোল-তবলা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তৃতীয় শতাব্দী হতে শুরু হয়। এর পূর্বে গান ঢোল-তবলা ও বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে প্রচলন ছিল না। এ জন্যে বলা যায়, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিদের যুগে গেনা দ্বারা যা বোঝানো হতো, তা বর্তমানের বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি বাজিয়ে যেভাবে গান-বাজনা করা হয় তা নয়; বরং তা হলো, কবিতা আবৃত্তি।
এ কারনেই এ কথা স্পষ্ট যে, সাহাবিদের কথা ও আরবদের কবিতার মধ্যে غنی শব্দের যে ব্যবহার পাওয়া যায় তার দ্বারা উদ্দেশ্য কোনো প্রচলিত গান-বাজনা নয়; বরং তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কবিতা ও কাব্য। যেগুলোকে বর্তমানে আমরা হামদ নাত ইত্যাদি বলে আখ্যায়িত করে থাকি। একাধিক ভাষাবিদ, আভিধানিক ও ইমামদের থেকে গেনার এ ব্যাখ্যাটিই বর্ণিত আছে।
মোটকথা, আমাদেরকে অবশ্যই বর্তমানের পরিভাষা ও অতীতের মনীষীদের পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য জানতে হবে। অন্যথায় বাস্তবতা হতে আমাদের অনেক দূরে থাকতে হবে। যদিও শব্দটি এক কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখলে দেখা যাবে শব্দটি উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে আমাদেরকে বাহ্যিক অবস্থার প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখতে হবে যে, শব্দটির ব্যবহার ও প্রয়োগ কীভাবে হচ্ছে এবং তার সাথে কী মিলছে।
বাজনা হচ্ছে নফসের মদস্বরূপ। মদ যেমন মানুষের ক্ষতি করে, বাদ্যও মানুষের সেই রকম ক্ষতি করে। যখন গান-বাজনা তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখনই তারা শিরকে পতিত হয়। আর তখন তারা ফাহেশা কাজ ও জুলুম করতে উদ্যত হয়। তারা শিরক করতে থাকে এবং যাদের কতল করা নিষেধ তাদেরকেও কতল করতে থাকে। যেনা করতে থাকে। যারা গান-বাজনা করে তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই এই তিনটি দোষ দেখা যায়। তাদের বেশির ভাগই মুখ দিয়ে শিস দেয় ও হাততালি দেয়।
গান হলো যেনার রাস্তাস্বরূপ। এর কারনেই বেশির ভাগ ফাহেশা কাজ অনুষ্ঠিত হয় গানের মজলিসে। সেখানে পুরুষ, বালক, বালিকা ও মহিলা চরম স্বাধীন ও লজ্জাহীন হয়ে পড়ে। এভাবে গান শ্রবণ করতে করতে নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনে। তখন তাদের জন্য ফাহেশা কাজ করা সহজ হয়ে দাঁড়ায়, যা মদ্যপানের সমতুল্য কিংবা আরও অধিক।
গান-বাজনা শ্রবণে অন্তরের কোনো লাভ হয় না, তাতে কোনো উপকারও নেই; বরং ওতে আছে গোমরাহি এবং ক্ষতি-যা লাভের থেকেও বেশি ক্ষতিকর। তা রুহের জন্য ওই রকম ক্ষতিকর যেমন মদ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ফলে যারা সংগীত শ্রবণ করে, তাদের নেশা মদ্যপায়ীর নেশা থেকেও অনেক বেশি হয়। তারা ওতে যে মজা পায়, তা মদ্যপায়ীর থেকেও অনেক বেশি।
টিকাঃ
১. [মাউযূ] আসসিলসিলাতুয যাঈফা: ৫৫৪। এখানে আবুল বুখতারী নামীয় রাবী বিশ্বস্ত নয়।
২. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৬১৪৯, ৬২০২, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৩২৩
৩. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৪১৯৬, ৬১৪৮, ৬৩৩১, সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১৮০২
৪. 'যঈফাহ্' গ্রন্থের ৫৭৯ নম্বরে আলবানি রহ. এই ঘটনাটি 'যঈফ' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
৫. [হাসান লিগাইরিহী] আলইরওয়া: ১৯৯৫, আদাবুয্যফাফ: পৃষ্ঠা ১০৯
📄 গান-বাজনা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণাদি
কুরআন: আসলে নাচ-গানের ক্ষতি এত বেশি যে তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের দরকার পড়ে না। তদুপরি মহান আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু ভাষ্য থেকে তা হারাম হওয়া প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهُوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ
'আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ওইগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।"
বেশির ভাগ তাফসিরকারক 'লাহওয়াল হাদিস' বলতে গানকে বুঝিয়েছেন।' হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, তা গান। ইমাম হাসান বসরি রহ. বলেন, তা গান ও বাদ্য সম্পর্কে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সুরা নজমে আরও বলেন,
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ * وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ * وَأَنتُمْ سَامِدُونَ
'তোমরা কি এ কথায় বিস্ময়বোধ করছ? আর হাসছ এবং কাঁদছ না? আর তোমরা তো গাফিল।”
যেমন ইবনে জারির আততাবারি ইকরামা হতে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এখানে আয়াতে সামেদুন অর্থ গান-বাজনা। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে ইবলিসকে সম্বোধন করে বলেন, 'তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পার প্ররোচিত করো, তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ো তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে।
এখানে ইবলিসের আওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, গান। এতেও প্রমাণিত হয়, গান হারাম। মুজাহিদ বলেন, ইবলিসের আওয়াজ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'গান-বাজনা।' কুরআন মাজিদের অন্য আয়াতে আছে, ইবলিস-শয়তান আদম সন্তানকে ধোঁকা দেওয়ার আরজি পেশ করলে আল্লাহ তায়ালা ইবলিসকে বললেন,
وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ
'তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পার প্ররোচিত করো।"
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, যে সকল বস্তু পাপাচারের দিকে আহ্বান করে তা-ই ইবলিসের আওয়াজ। বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহ. বলেন, ইবলিসের আওয়াজ বলতে এখানে গান ও বাদ্যযন্ত্রকে বোঝানো হয়েছে।
বস্তুত গান-বাজনার ক্ষতিকর প্রভাব এত বেশি যে, তা নাজায়েয হওয়ার জন্য আলাদা কোনো দলীল খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। এতৎসত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বহু হাদিসের মাধ্যমে তা প্রমাণিত।
সুন্নাহ : বিখ্যাত তাবেয়ি হজরত নাফে' রহ. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার চলার পথে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বাঁশির আওয়াজ শুনলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুই কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছুদূর গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, হে নাফে'! এখনো কি আওয়াজ শুনছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। অতঃপর আমি যখন বললাম, এখন আর আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না তখন তিনি কান থেকে আঙ্গুল সরালেন এবং বললেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চলার পথে বাঁশির আওয়াজ শুনে এমনই করেছিলেন।
বাজনাদার নুপুর ও ঘুঙুরের আওয়াজও সাহাবায়ে কেরাম বরদাশত করতেন না। তাহলে গান ও বাদ্যযন্ত্রের প্রশ্ন কি অবান্তর নয়? নাসাঈ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, একদিন হজরত আয়েশা রা.-এর নিকট বাজনাদার নুপুর পরে কোনো বালিকা আসলে আয়েশা রা. বললেন, খবরদার! তা কেটে না ফেলা পর্যন্ত আমার ঘরে প্রবেশ করবে না। অতঃপর তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ঘরে ঘণ্টি থাকে সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।' মৃদু আওয়াজের ঘণ্টি-ঘুঙুরের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আধুনিক সুরেলা বাদ্যযন্ত্রের বিধান কী হবে তা খুব সহজেই বোঝা যায়। গান-গায়িকা এবং এর ব্যবসা ও চর্চাকে হারাম আখ্যায়িত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لاَ تَبيعُوا الْقَيْنَاتِ وَلاَ تَشْتَرُوهُنَّ وَلاَ تُعَلِّمُوهُنَّ وَلاَ خَيْرَ فِي تِجَارَةٍ فِيهِنَّ وَشَمْنَهُنَ حَرَام
'তোমরা গায়িকা (দাসী) ক্রয়-বিক্রয় কোরো না এবং তাদেরকে গান শিক্ষা দিও না। আর এসবের ব্যবসায় কোনো কল্যাণ নেই। জেনে রেখো, এর প্রাপ্ত মূল্য হারাম।'
لَيَشْرَبَنَ أُنَاسٌ مِنْ أُمَّتِى الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا وَتُضْرَبُ عَلَى رُءُوسِهِمُ الْمَعَازِفُ يَخْسِفُ اللهُ بِهِمُ الْأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمْ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমণীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন।'
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, الْغِنَاءُ يُنْبِتُ النِّفَاقَ فِي الْقَلْبِ كَمَا يُنْبِتُ الْمَاءُ الزِّرْعَ
পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে।
উপরোক্ত বাণীর সত্যতা এখন দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। গান-বাজনার ব্যাপক বিস্তারের ফলে মানুষের অন্তরে এই পরিমাণ নিফাক সৃষ্টি হয়েছে যে, সাহাবিদের ইসলামকে এ যুগে অচল মনে করা হচ্ছে এবং গান-বাদ্য, নারী-পুরুষের মেলামেশা ইত্যাদিকে হালাল মনে করা হচ্ছে।
টিকাঃ
১. সুরা লোকমান: আয়াত ৬
২. আল্লাহ তাআলা মক্কাতেই অর্থাৎ ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় গান-বাদ্যকে হারাম ঘোষণা করেন। এতেই অনুমেয় যে গান একজন মুসলমানের জন্য কতবড় ক্ষতিকর এবং বান্দার ওপর তার প্রভাব যে কত মারাত্মক। আল্লাহ তাআলা সুরা নজমে ও সুরা লোকমানে গান হারাম হওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেন। আর সুরাদ্বয় অবশ্যই মক্কি সুরা।
৩. সুরা নজম: আয়াত ৫৯-৬১
৪. সুরা ইসরা: আয়াত ৬৪
৫. সুরা বনি ইসরাঈল: আয়াত ৬৪
৬. মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৪৫৩৫; সুনানে আবু দাউদ হাদিস: ৪৯২৪। বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. থেকেও এমন একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।-ইবনে মাজাহ হাদিস: ১৯০১
৭. সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪২৩১; সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৫২৩৭ সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঘণ্টি, বাজা, ঘুঙুর হলো শয়তানের বাদ্যযন্ত্র। -সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১১४
১. জামে তিরমিযি: হাদিস নং ১২৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ২১৬৮
২. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস: ৪০২০; সহিহ ইবনে হিব্বান হাদিস: ৬৭৫৮
৩. তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২