📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 আলেম লেখক ও গ্রন্থকারদের ওপর শয়তানের চক্রান্ত

📄 আলেম লেখক ও গ্রন্থকারদের ওপর শয়তানের চক্রান্ত


অনেক প্রখ্যাত আমলদার আলেম রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়েন এবং সারাদিন লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনার কাজে মগ্ন থাকেন। শয়তান তাদেরকে এই বলে ধোঁকা দেয় যে, এর দ্বারা তো দীনের বেশ প্রচার হচ্ছে। তবে ক্রমান্বয়ে শয়তান ধোঁকার কৌশল পরিবর্তন করে। ফলে তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য হয় লোকসমাজে আলোচিত হওয়া, খ্যাতি-সুখ্যাতি উঁচু হওয়া, নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়া এবং লেখকের নিকট দূরদূরান্ত হতে লোকজনের আগমন ঘটা।

শয়তানের এ ধোঁকা সম্পর্কে অবগত হওয়ার উপায় হলো, যদি মানুষ তার গ্রন্থ দ্বারা দ্বিধাহীনভাবে উপকৃত হয় কিংবা ইলমে তার সমকক্ষ কারও সামনে তা পড়ে শুনানো হয় এবং গ্রন্থকারের নাম উল্লেখ করা না হয় তবুও সে আনন্দিত হবে, যদি তার উদ্দেশ্য হয় ইলমের প্রচার-প্রসার। আমাদের আকাবির তথা মনীষীগণ বলেন, ইলমের কোনো অধ্যায় আমার জানা হলে আমি পছন্দ করি যে, মানুষ যেন তা আমার থেকে শিখে উপকৃত হয়, কিন্তু শিখার বিষয়টি আমার দিকে সম্পৃক্ত না করে।

এ ধরনের আলেম লেখকদের অনেকে এমনও আছেন, যারা অধিক অনুসারী দেখে আনন্দিত হন। আর শয়তানও তাদের মনে এ ধারণা দেয় যে, এই আনন্দ তো ইলম অন্বেষণকারীদের আধিক্যের কারণে, যা দূষণীয় নয়। অথচ তার অভ্যন্তরীণ উদ্দেশ্য হয় ছাত্রের আধিক্য দ্বারা তার খ্যাতি ও সুনাম যেন ছড়িয়ে পড়ে দিগ্বিদিক। এ ক্ষেত্রে শয়তানের ধোঁকা বোঝার উপায় হলো, যদি আগত ছাত্রদের কেউ তার চেয়ে অধিক ইলমের অধিকারী কোনো আলেমের দরবারে চলে যায় তাহলে তার মন ব্যথিত হয়; অথচ এটা কোনো মুখলিস তথা নিরেট ও নিষ্কলুষ শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। কেননা মুখলিস শিক্ষকের উপমা হলো ওই চিকিৎসকের ন্যায় যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রোগীদের চিকিৎসা করেন। যদি কোনো রোগী তাদের অনুরূপ কোনো ডাক্তারের চিকিৎসায় সুস্থতা লাভ করে তাহলে অন্য ডাক্তারও এতে খুশি হন। একবার আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একশত বিশজন আনসার সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছি, কোনো লোক যদি তাদের কাউকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করত তাহলে তিনি মনে করতেন, এ বিষয়ে সমাধানের জন্য আমার আনসারি ভাই যথেষ্ট, আর যদি কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন তাহলে সে মনে করতেন, এ হাদিস বর্ণনার জন্য আমার আনসারি ভাই যথেষ্ট।

গ্রন্থকার আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, কামেল আলেমগণ কখনো কখনো শয়তানের বাহ্যিক ধোঁকা হতে নিষ্কৃতি পান, কিন্তু শয়তান তাদেরকে সূক্ষ্ম কৌশলে ধোঁকা দেয়। সে তাদেরকে বলে, তোমার মতো মহান ব্যক্তি আমি দেখিনি। তুমি শয়তানের প্রতারণা খুব ভালো করে বুঝেছ। শয়তানের এ কথায় যদি সে স্বস্তি অনুভব করে তাহলে দম্ভ-অহংকারে সেই আলেম ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হতে পারে।

সাররি সাকতি রহ. বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এমন বাগানে প্রবেশ করে যাতে আল্লাহর সৃষ্ট সকল প্রকার গাছ রয়েছে এবং ওইসব গাছের ডালে আল্লাহর সৃষ্ট সকল প্রকার পাখি রয়েছে এবং প্রত্যেক পাখি যদি নিজ নিজ ভাষায় তাকে বলে, আস্সালামু আলাইকা ইয়া ওলিয়্যাল্যাহ! আর তখন যদি সে তাদের কথায় স্বস্তি অনুভব করে তাহলে যেন সে শয়তানের খপ্পড়ে পড়ে গেল। আল্লাহ তায়ালাই হেদায়াত দেন তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00