📄 দাহরিয়াদের ওপর শয়তানের ধোঁকা
গ্রন্থকার বলেন, ইবলিস বহু মাখলুককে এই সংশয়ে নিমজ্জিত করেছে যে, নাউযুবিল্লাহ, কোনো সৃষ্টিকর্তা ও মাবুদ নেই। আর এই বস্তুজগৎ কোনো সৃষ্টিকর্তার মাধ্যম ছাড়াই অস্তিত্বে এসেছে। এসব লোক যেহেতু সৃষ্টিকর্তাকে কোনো কিছুর মাধ্যমে পাননি এবং তার পরিচয়ের জন্য জ্ঞান-বুদ্ধি খাটাননি, তাই তারা সৃষ্টিকর্তাকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে যাচ্ছে। কোনো বুদ্ধিমান লোক কি এমন নাস্তিক্যবাদী চিন্তা-চেতনা লালন করতে পারে? মানুষের চলাচল যদি এমন কোনো মাঠের পাশ দিয়ে হয়, যেখানে কোনো দালান কোঠা নেই, পরে আবার কখনো সেখান দিয়ে অতিবাহিত হওয়ার সময় যদি কোনো দেয়াল বা দালানের অস্তিত্ব দেখে, তাহলে নিশ্চিত করে সে বলবে, এই দেয়াল বা দালানের কোনো নির্মাতা অবশ্যই রয়েছেন। তাহলে এই জমিনের বিছানা, ওই বিশাল আকাশ এবং এ সব আশ্চর্য বস্তুজগৎ কি এর সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় না? কোনো এক আরব কবি কত সুন্দর করে বলেছেন:
إن البعرة تدل على البعير * فهيكل علوي بهذه اللطافة ومركز سفلي بهذه الكثافة * أما يدلان على اللطيف الخبير
"উটের বাহ্য তার উট হওয়ার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করে। তাহলে মহাকাশের ওই সূক্ষ্মজগৎ আর জমিনের এই সমুদয় বস্তুজগৎ কি মহান কুশলী এবং সর্বজ্ঞাত সৃষ্টিকর্তার প্রমাণ দেয় না?”
আবার মানুষ যদি তার নিজের সত্তা ও অস্তিত্ব সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে তাহলে এ ব্যাপারে সে যথেষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি পেতে পারে। কেননা এই মানব শরীরে যে প্রজ্ঞা ও হেকমত বিদ্যমান, এখানে সবিস্তারে তা আলোকপাতের অবকাশ নেই। চিন্তা করুন, সামনের দাঁত এজন্য ধারালো করে সৃষ্টি করেছেন যাতে খাবার বা অন্যান্য বস্তু কাটা যায়। ভেতরের দাঁতগুলো প্রশস্ত করে সৃষ্টি করেছেন, যাতে খাবার পেষণ ও চূর্ণ করা যায়। জিহ্বাকে এমন নরম করেছেন যাতে খাবারকে ওলট-পালট করা যায়। আঙ্গুলে গিড়া সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তা খোলা এবং বন্ধ করা যায়। এতে করে তার জন্য কাজ করা সহজ হয়। আবার কোনো কোনো আঙ্গুল বড় আবার কোনোটা ছোট। আবার সবগুলো আঙ্গুল মেললে বরাবর সমান হয়ে যায়। এতেও রয়েছে অপরিসীম হেকমত। কে সৃষ্টি করল এই শরীর? মানবদেহে আল্লাহ তায়ালা কিছু অদৃশ্য শক্তি রেখেছেন। তন্মধ্যে একটি হলো প্রাণ। প্রাণ বের হয়ে গেলে মানবদেহ বেকার হয়ে পড়ে। আরেকটি হলো আকল বা বিবেক; যা মানুষকে কল্যাণজনক বিষয়ের প্রতি পথ প্রদর্শন করে। প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রত্যহ বলে, أفي الله شك "আল্লাহর অস্তিত্বে কি কোনো সন্দেহ আছে?” আসলে এরা আল্লাহকে প্রকাশ্য জাগতিক উপায়ে দেখার বৃথা চেষ্টা করে পথভ্রষ্ট হয়েছে।
কিছু লোক আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে এ জন্য যে, আল্লাহ তায়ালার যে অস্তিত্ব 'ইজমালি' বা মিলিতভাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে তারা তা বিস্তারিতভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। পক্ষান্তরে আমরা অনেক জিনিস এ-রূপ ইজমালি ও মোটামুটিভাবে উপলব্ধি করি; বিস্তারিত উপলব্ধি করতে পারি না। কিন্তু এর দরুন ওই জিনিসের অস্তিত্ব অস্বীকার করি না। যেমন বিবেক-বুদ্ধি আমরা ইজমালি ও মোটামুটিভাবেই উপলব্ধি করে থাকি। বিস্তারিতভাবে জ্ঞানেন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করতে পারি না। তাই বলে কি আকল বা বিবেকের অস্তিত্বকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে?
নাস্তিকেরা আমাদের উপরোক্ত যুক্তিতে প্রশ্ন উত্থাপন করে যে, তোমাদের কথা অনুযায়ী যেভাবে কোনো একটি নবঘটিত বস্তুর জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন, অদ্রূপ মূলধাতুরও প্রয়োজন; যা পূর্ব হতে ছিল। যেমন টেবিল তৈরি করতে হলে যেভাবে মিস্ত্রির প্রয়োজন, তেমনই কাঠেরও প্রয়োজন— যা মূলধাতু উপাদান। টেবিলের যে আকৃতি আমাদের সামনে দেখা যাচ্ছে, তার জন্য উক্ত উপাদান অপরিহার্য। এ হিসেবে জগৎ চিরন্তন ও অবিনশ্বরই প্রমাণিত হলো।
এ প্রশ্নের জবাবে বলা হবে, আল্লাহ তায়ালা কোনো বস্তু সৃষ্টি করার ব্যাপারে কোনো ধাতু ও উপাদানের মুখাপেক্ষী নন। কোনো প্রকার ধাতু ও উপাদান ব্যতীতই তিনি সবকিছু সৃষ্টি ও আবিষ্কারে সক্ষম। কোনো আকৃতির অস্তিত্বের জন্য ধাতু ও উপাদান অপরিহার্য নয়। যেমন চরকার একটি আসল আকৃতি আছে। কিন্তু চরকা যখন ঘুরতে থাকে তখন প্রতি মুহূর্তে তার আকৃতির পরিবর্তন হতে থাকে। আর সে আকৃতির জন্য কোনো ধরনের ভিন্ন উপাদান নেই। এ ক্ষেত্রে এমন এক আকৃতি পাওয়া যায়—যা উপাদানবিহীন। কিন্তু তোমরা সৃষ্টির এমন একটি উপমা দেখাও—যা সৃষ্টিকর্তাবিহীন অস্তিত্ব লাভ করেছে।
📄 প্রকৃতিবাদীদের ওপর শয়তানের ধোঁকার বর্ণনা
গ্রন্থকার বলেন, শয়তান যখন দেখল, নাস্তিক্যবাদ তথা সৃষ্টিকর্তার অস্বীকারকারীদের মধ্যে তার কথা কম মান্য করা হয়। কেননা মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, সৃষ্টিবস্তুর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা থাকা চাই। শয়তান এবার এই ধূম্রজাল ছড়াল যে, এই সৃষ্টিবস্তু প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। মৌল চার উপাদানের মাধ্যমে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্ট।
তার উত্তর হচ্ছে, আমরা বলি, প্রকৃতির সমবেত হওয়া তো এ কথার প্রমাণ বহন করে যে, প্রকৃতি বিদ্যমান। না এটা নিজেই সৃষ্টিকর্তা। তথাপি এটাও প্রমাণিত যে, প্রকৃতি সমবেত ও সংমিশ্রণ ব্যতীত অস্তিত্বেই আসতে পারে না এবং এটা খোদ প্রকৃতিরই বিপরীত। সুতরাং বোঝা গেল প্রকৃতিও আদিষ্ট ও অপারগ। তাছাড়া এটাও স্বীকৃত যে, প্রকৃতির নিজস্ব কোনো জীবন, জ্ঞান ও শক্তি নেই। সুতরাং এটা কী করে সৃষ্টিকর্তা হতে পারে? একটি সুশৃঙ্খলিত ও সুনিয়ন্ত্রিত কর্মযজ্ঞ কোনো জ্ঞানী বা বুদ্ধিসম্পন্নই করতে পারে। কোনো বস্তু নিজেই যখন জ্ঞানী নয়, তখন কী করে সে আরেক জ্ঞানীর সৃষ্টিকর্তা হতে পারে? যার নিজস্ব কোনো শক্তি নেই সে অন্যকে শক্তি বিলাবে কীভাবে? বিরুদ্ধবাদীরা যদি বলে যে, সৃষ্টিকর্তা যদি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হতো তাহলে এই সৃষ্টিবস্তুতে কোনো ত্রুটি থাকত না এবং কষ্টদায়ক কোনো জীবজন্তু সৃষ্টি হতো না। তাই এগুলো সব প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি। আমরা এর উত্তরে বলে থাকি, এই অভিযোগ তোমাদের ওপর পতিত হয়। মহান সৃষ্টিকর্তা যেভাবে সুনিপুণ ও সুশৃঙ্খলিতভাবে বিশ্বজগৎ ও জাগতিক বস্তু-সামগ্রী সৃষ্টি করেছেন, প্রকৃতির মাধ্যমে তা কখনো সম্ভব নয়।
আমরা দেখতে পাই, একই মৌসুমে সূর্যের প্রতিক্রিয়া বিভিন্ন ফলে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কোনো শস্য বা ফলে রস আনয়ন করে আবার কোনোটিতে রস শোষণ করে। যদি প্রকৃতিই প্রকৃত কর্তা হতো তাহলে এ পার্থক্য ঘটত না। এর অবশ্যই একজন নিয়ন্তা ও কর্তা রয়েছেন। যিনি সূর্য দ্বারা ইচ্ছেমাফিক কাজ নেন। আরও লক্ষ করা যেতে পারে, যাকে সূর্যের কিরণ শুষ্ক করে সেটা থাকে আবরণমুক্ত। আর যাকে আর্দ্র ও রসালো করে সেটা থাকে আবরণযুক্ত। অথচ বাহ্যিক দৃষ্টিতে ক্রিয়া বিপরীত হওয়ার কথা ছিল।
আমরা আরও দেখতে পাই, একই পানি দ্বারা উৎপন্ন ফলমূলের কোনোটি টক হচ্ছে, আবার কোনোটি হচ্ছে মিষ্ট। এটা একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তারই কাজ, যিনি মহা প্রজ্ঞাবান, সক্ষম ও সক্রিয়। সেদিকে ইশারা করে পানি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يُسْقَى بِمَاءٍ وَاحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَهَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ
"সবই সিঞ্চিত একই পানিতে কিন্তু স্বাদের ক্ষেত্রে আমি করে দেই তাদের কোনোটাকে বেশি ভালো এবং কোনোটাকে কম ভালো।”
টিকাঃ
১. সুরা রা'আদ: ৪
📄 দ্বিত্ববাদী (সানূভিয়্যা)-দের ওপর শয়তানের ধোঁকা
দ্বিত্ববাদী বা সানুভিয়াদের মতাদর্শ হচ্ছে, তারা বলে, পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা দু'জন। ১. ভালো কাজের সৃষ্টিকর্তা, এটি নূর বা আলো, ২. মন্দ কাজের সৃষ্টিকর্তা, এটি যুলমাত বা অন্ধকার। উভয়টিই 'কাদীম' তথা অনন্ত, অনাদি ও চিরন্তন। উভয়েই সর্বদা ছিলেন এবং থাকবেন। উভয়ে শক্তিশালী, স্পর্শযোগ্য, শ্রোতা ও দ্রষ্টা। উভয়ে একে অন্যের বিপরীত।
দ্বিত্তবাদীদের কিতাব থেকে তাদের এই আকিদার কথা উল্লেখ করেছেন আবু মুহাম্মাদ নাওবখতি। তিনি বলেন, তাদের ধারণা-সেই দুই সৃষ্টিকর্তা একজন অন্যজনের কাছাকাছি অবস্থান করেন। তাদের অনেকে মনে করে, নূর সর্বদা অন্ধকারের উপরে অবস্থান করে। কারো কারো ধারণা মতে, উত্তরে নূর তথা আলোর অবস্থান আর দক্ষিণে অন্ধকার। সর্বদা তারা একে অপরের থেকে পৃথক হয়ে অবস্থান করে। নাওবখতি বলেন, সানুভিয়াদের মতে, উভয় খোদা পাঁচ পাঁচটি বস্তুতে বিভক্ত। তন্মধ্যে চারটি হচ্ছে দেহজাতীয় আর একটি রুহ। নূরের দেহ চতুষ্টয়-অগ্নি, আলো, বাতাস ও পানি। আর তার রুহ হচ্ছে জ্যোতি। যা শরীরে সর্বদা অবস্থান করে। অনুরূপভাবে অন্ধকারের দেহ চতুষ্টয়-দাহন, তিমির, উত্তপ্ত হওয়া ও ধূলি। আর রুহ হচ্ছে ধূম্র। তারা নূরের শরীরকে 'মালাইকা' বা ফেরেশতা বলে আখ্যায়িত করে। আর অন্ধকারের শরীরকে শয়তান নামে ডাকে। কেউ কেউ বলে, অন্ধকার থেকে শয়তান সৃষ্টি হয় আর নূর দ্বারা ফেরেশতা সৃষ্টি হয়। নূর মন্দকে টপকাতে পারে না, আবার অন্ধকারও ভালোকে টপকাতে পারে না। নাওবখতি তাদের মাযহাবের আলো-অন্ধকার সংক্রান্ত অনেক মতভেদের কথা বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, তাদের ওপর কষ্ট ও ত্যাগ আবশ্যক এবং একদিনের অধিক খোরাক জমা রাখা যাবে না।
তাদের কারো কারো মতে, মানুষের জন্য তার জীবনের এক-সপ্তমাংশ রোজা রাখা বাধ্যতামূলক। মিথা, কৃপণতা, জাদু, মূর্তিপূজা, ব্যভিচার এবং চুরি পরিত্যাগ করা ফরয। কোনো প্রাণীকে কষ্ট দেয়া যাবে না। এসব ব্যাপারে তারা তাদের অপূর্ণ বুদ্ধি দিয়ে নিত্য-নতুন মতবাদ তৈরি করে।
ইয়াহইয়া ইবনে বিশর নাহাভান্দী বলেন, তাদের মধ্যে একটি গোত্র আছে যাদেরকে 'দিসানিয়া' বলা হয়। তাদের মতবাদ হচ্ছে, পৃথিবীর মূল উপাদান কঠিন ও রুক্ষ ছিল। এই অভ্যাস এককালে আল্লাহর শরীর, যাকে অগ্নি বলা হয়, তাতে অবস্থিত ছিল। আল্লাহ তায়ালা এতে কষ্ট পেয়েছেন। নির্দিষ্ট এক সময় অতিক্রম হলে তিনি পৃথক করতে গেলে তা দেহের সাথে মিশে যায়। সেই দেহ এবং মৃত্তিকা দিয়েই এই পৃথিবী গঠিত। যা কিছু ভালো তার নূর, আর যা কিছু মন্দ তা যুলমাত বা অন্ধকার। যারা এই আকিদা লালন করে, তারা মানুষকে খুন করে এবং কষ্ট দেয়।
যারা এই আকিদা পোষণ করতে বাধ্য হয়, তার নেপথ্য কারণ হচ্ছে, তারা পৃথিবীতে মন্দ ও মতপার্থক্যে প্রভাবিত হয়ে পড়ে। সুতরাং বোঝা গেল একটি মূল বস্তু থেকে দু'টি বিপরীতমুখী বস্তু প্রকাশ হতে পারে না। যেমন আগুনে গরম ও ঠান্ডা একত্র হতে পারে না। আলেমগণ তাদের দ্বিত্ব মতবাদকে এভাবে খণ্ডন করেছেন যে, যদি সৃষ্টিকর্তা দু'জন হতেন তাহলে নিশ্চিত তারা একে অন্যের ওপর বিজয়ী হতেন অথবা পরাজিত হতেন। অথবা একজন বিজয়ী হতেন অন্যজন হতেন পরাজিত। এটা তো সম্ভব নয় যে, উভয়ে পরাজিত। সুতরাং একটি পন্থা খোলা আছে, তা হলো—উভয়ে বিজয়ী হওয়া। এখন ধরুন তাদের কেউ, একটি দেহকে নির্দিষ্ট কোনো নড়া-চড়ায় ফেলতে চান, অন্যজন চান চুপ রাখতে। তাহলে এদের উভয়ে যে লক্ষ্যে পৌঁছতে চাচ্ছেন, তা কি একই সময়ে একজনের ওপর কখনো সম্ভব? কেননা একজন যদি তার ইচ্ছা পূরণ করেন, তাহলে অন্যজন তো অপারগ হয়ে গেলেন।
সানাভিয়াদের মতবাদ 'ভালোর জনক নূর, মন্দের জনক যুলমাত বা অন্ধকার'—এটাকে আলেমগণ এভাবে খণ্ডন করেছেন যে, যদি কোনো মজলুম ভেগে গিয়ে অন্ধকারের কাছে আশ্রয় পায়, তাহলে এটা তো ভালো কাজ—যা মন্দের পক্ষ থেকে এসেছে। সুতরাং এই গোষ্ঠীর সাথে বিতর্কে জড়িয়ে নিজেকে প্রভাবিত বা প্রতারিত করা অনুচিত। কেননা তাদের মাযহাব নিছক একটি ধোঁকা, যার কোনো উৎস নেই।
📄 দার্শনিক ও তাদের অনুসারীদের ওপর শয়তানের ধোঁকা
শয়তান দার্শনিকদেরকে ধোঁকা দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার কারণ হচ্ছে, তারা কেবল তাদের অভিমত এবং বুদ্ধির শেকলে বন্দি। তারা নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলে। নবী আলাইহিস সালাম-দের প্রতি মনোযোগী হয় না। তাদের কেউ দাহরিয়া মতাদর্শ লালন করে। যারা বলে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো সৃষ্টিকর্তা নেই। দার্শনিকদের এই মতবাদ নাওবখতিসহ অন্যান্যরা তাদের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। নাহাভান্দি বলেন, এরিস্টটল এবং তার অনুসারীদের মতে, পৃথিবী একটি গ্রহ-যা আকাশে ঘুরছে। এমন প্রত্যেক তারকার মধ্যে পৃথিবীর মতো অনেক পৃথিবী আছে। গাছ ও নদী আছে, যেমন পৃথিবীতে আছে। এই দলটি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী নয়। এদের মধ্যে অনেকের বিশ্বাস-এই পৃথিবী অনাদি ও অবিনশ্বর। তাদের মতে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের সাথেই এর অস্তিত্ব লাভ হয়েছে। জালিনূস বলেন, সূর্য যদি নশ্বর হতো, তাহলে এতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর অক্ষয় ও অপরিবর্তিত থাকত না। সূর্যের সাথে যেমন আলো সম্পৃক্ত, সৃষ্টিকর্তার সাথেও সৃষ্টি সম্পৃক্ত। একটি আরেকটির আগে বা পরে নয়। পরস্পর পরিপূরক। এই পক্ষের জবাবে বলা যায়, এতকাল সূর্যের মধ্যে পরিবর্তন আসেনি বলে যে অবিনশ্বর হবে এটা জরুরি নয়। কত মূল্যবান প্রস্তর রয়েছে, মণিমুক্তা ও হীরক রয়েছে। শত শত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও তাতে কোনো পরিবর্তনা আসছে না। তাই বলে কি সেটা অবিনশ্বর? এমন বহু বস্তুতে মৃত্যু আসে না; বরং স্বয়ংসম্পূর্ণভাবেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া তোমরা কী করে জানলে যে, সূর্যের মৃত্যু বা ক্ষয় ঘটে না? কেননা দার্শনিকদের মতে সূর্য ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় একশত সত্তর গুণ বড়। সুতরাং তাতে যদি প্রতিদিন একটি পাহাড় সমান অংশ ক্ষয় হতে থাকে, তা কখনো অনুধাবনযোগ্য হিসেবে ধরা পড়বে না। অতএব প্রকাশ হলো যে, সৃষ্টি হওয়া এবং বিলুপ্ত হওয়া ওই সর্বশক্তিমানের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল, যিনি অবলুপ্ত হওয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
তারা দাবি করে বলে, এতে সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি কাল বা সময় থাকা জরুরি হয়ে পড়ে। তখন আমরা উত্তরে বলি, সময় বা কাল তো মাখলুক তথা সৃষ্ট বস্তু। আর সময়ের আগে কোনো সময় ছিল না। তাদেরকে আরও বলা যায়, বলো দেখি-সৃষ্টিকর্তা কি বর্তমান আকাশকে এক হাত উঁচুতে বা নিচুতে আনতে পারবেন? যদি তারা বলে যে, এটা তো সম্ভব নয়। তখন তারা একে তো সৃষ্টিকর্তাকে অপারগ ও দুর্বল সাব্যস্ত করল এবং যে বস্তু উপর-নিচ হওয়া অসম্ভব তার প্রকৃত অবস্থায় স্থির থাকা জরুরি নাকি সম্ভব? এটা কোনো কারণের ওপর নির্ভরশীল নয়।
তাদের মধ্যে যারা বলে যে, আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তারা মূলত তাদের মতাদর্শ লুকিয়ে রাখে। বিশ্ব সৃষ্ট বস্তু হওয়া তাদের মতে সম্ভব, বাস্তবতায় নয়। কেননা কারক তার কাজে ইচ্ছা পোষণকারী হয়। আর তাদের মতে পৃথিবী প্রকাশ হওয়া জরুরি, এটা আল্লাহর কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের মতবাদে এটাও আছে যে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অবিনশ্বর। এর যেমন শুরু নেই, শেষও নেই। কেননা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ‘ইল্লাতে কাদিমাহ’র ‘মালুল’। আর মালুল তার ইল্লতের সাথে সর্বদা বিদ্যমান থাকে। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যখন অস্তিত্বে আসা সম্ভব, তাহলে তা না আদি হবে, না মালুল হবে।
নাওবখতি তার ‘কিতাবুল আরা ওয়াদদিয়ানাত’এ উল্লেখ করেন, সক্রেটিস মনে করে, বস্তুর উৎস তিনটি। ১. কর্তা ২. মূল ধাতু বা উপাদান ও ৩. আকৃতি। তাদের মতে, আল্লাহ তায়ালা হচ্ছে আকল তথা বিবেক-বুদ্ধি, কাল হচ্ছে সৃষ্টজগৎ ও ধ্বংসের প্রথম বিষয়বস্তু, আর আকৃতি শরীর নয়; বরং গুণ। এই সম্প্রদায়ের আরেকটি মতবাদ হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন কর্তা, কাল হচ্ছে কর্ম। তৃতীয় দলের মতে, আকল বস্তুকে সন্নিবেশ ও সুশৃঙ্খলরূপে সাজায়। চতুর্থ আরেক গ্রুপ বলে, আকল এটি সন্নিবেশ করে না; বরং মূলত অভ্যাসই তার কর্তা।
ইয়াহইয়া ইবনে বিশর ইবনে উমাইর নাহাভান্দি উল্লেখ করেন, দার্শনিকদের একটি মতবাদ হচ্ছে, যখন আমরা পৃথিবীকে সম্মিলিত, পৃথক পৃথক ও অটল দেখি, তাই বুঝে নিলাম যে, সেটি আদি নয়। আর নশ্বরের জন্য কোনো একজন নশ্বর সৃষ্টিকর্তা আবশ্যক। পরে আমরা দেখলাম, মানুষ পানিতে পড়ে যায়, ভালো করে সাঁতার কাটতে জানে না, তাই সেই আবিষ্কারক ও অভিজ্ঞের কাছে ফরিয়াদ করে, কিন্তু সে তার ফরিয়াদে সাড়া দেয় না। এমনই করে কেউ আগুনে পুড়ে যায়, তাই আমরা জেনে নিলাম যে, সৃষ্টিকর্তা অস্তিত্বহীন।
তিনি বলেন, আবিষ্কারকের অনস্তিত্বের ব্যাপারে এ সব লোক তিন ভাগে বিভক্ত। একদল মনে করে, সৃষ্টিকর্তা যখন এই পৃথিবী পরিপূর্ণভাবে সৃষ্টি সমাপ্ত করলেন, তা দেখে তার ভালো লাগল। সুতরাং তিনি ভয় পেলেন, কোথাও আবার বেশ-কম হয়ে গেল কি না! এতে না জানি এটি আবার ধ্বংস হয়ে যায়! এই ভয়ে নিজেকেই তিনি ধ্বংস করে দিলেন। পৃথিবী একা হয়ে গেল। আর সমুদয় বিধি-বিধান জীব-জন্তু এবং অন্যান্য বস্তুর মাঝে একীভূত হয়ে গেল। দ্বিতীয় আরেক দল মনে করে, এমন নয়; বরং সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে একজাতীয় চিৎকার আরম্ভ হলো। এ জন্য তার শক্তি হ্রাস পেতে থাকে এবং নূর কমতে থাকে। এভাবেই সেই নূর ও শক্তি এই চিৎকারের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেল। এই চিৎকারকে পৃথিবী বলে। সৃষ্টিকর্তার নূর বিগড়ে গেলে তাতে কিছু অংশ অবশিষ্ট থেকে যায়। এ সব লোকের ধারণা-পৃথিবী থেকে নূর একীভূত হয়ে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। অতঃপর তা পূর্বের আকৃতিতে ফিরে আসবে। যেহেতু সৃষ্টিবস্তুর কর্মকাণ্ডের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তাই তাদেরকে বিনা বিচারে ছেড়ে দেয়া হবে। এ কারণে পৃথিবীতে অন্যায় ছেয়ে গেছে। তৃতীয় সম্প্রদায়ের ধারণা-এমন নয়; বরং সৃষ্টিকর্তা যখন পৃথিবীকে সাজালেন, তখন তার অংশ পৃথিবীতে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে। তাই পৃথিবীতে যে সকল শক্তি বিদ্যমান, তা সৃষ্টিকর্তারই অংশ, যা কখনো নিঃশেষ হবার নয়।
শায়খ ইবনুল জাওযি রহ. বলেন, এতক্ষণ পর্যন্ত নাহাভান্দি যা কিছু বললেন, তা আমি নেযামিয়ার একটি সংস্করণ থেকে উল্লেখ করেছি-যা ২২০ বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল।' যদি তা উল্লেখ করা দ্বারা ইবলিসের নেক সুরতে ধোঁকার উদ্দেশ্য না থাকত, তাহলে আল্লাহ তায়ালার সম্মানে তাদের কথাগুলো খণ্ডন করা উত্তম হতো। এমন অসার ও অসংগতিপূর্ণ মতবাদের কথা উল্লেখ করা উচিত নয়। কিন্তু আমি তা উল্লেখ করা দ্বারা যে উপকারিতা রয়েছে তা-ও বর্ণনা করছি।
অধিকাংশ দার্শনিক এ মতবাদ পোষণ করেন যে, আল্লাহ তায়ালার কাছে সৃষ্টিজগৎ সংক্রান্ত কোনো জ্ঞান নেই, শুধু তার অস্তিত্বের জ্ঞান আছে। অথচ এটি প্রমাণিত যে, মাখলুক তার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত এবং তার সৃষ্টিকর্তার সম্পর্কেও অবগত। ওপরের বর্ণনায় তো দেখা যাচ্ছে, তারা সৃষ্টিকর্তার চেয়ে সৃষ্টিবস্তুর সম্মান বহুগুণে বাড়িয়ে দিলেন!
গ্রন্থকার বলেন, এতটুকু কথার মাধ্যমেই তাদের মতবাদের অসারতা প্রমাণ হয়ে যায়। বেশি কথা বলার প্রয়োজন নেই। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এ সকল আহমকদেরকে ইবলিস কতটা ধোঁকা দিয়েছে! এরা পরিপূর্ণ বিবেক-বুদ্ধি থাকার দাবি করা সত্ত্বেও! এই আকিদায় শায়খ আবু আলী সিনা তাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, কথা এমন নয়; বরং আল্লাহর নিজ অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান আছে এবং সামগ্রিক বস্তুজগতেরও জ্ঞান আছে। কিন্তু তার বিভিন্ন অংশ-বিশেষের জ্ঞান নেই। এই মাযহাবকে মুতাযিলারা গ্রহণ করে নিয়েছে। সম্ভবত তাদের জ্ঞান-বুদ্ধি অতিরিক্ত বেড়ে গেছে! আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ওই জামাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব থেকে অজ্ঞতা ও অসম্পূর্ণতাকে অস্বীকার করে। আমরা আল্লাহ তায়ালার ইরশাদের ওপর ঈমান এনেছি :
أَلَّا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ “আল্লাহ তায়ালার কাছে কি মাখলুকের ইলম নেই?” আল্লাহ আরও বলেন,
وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ “আল্লাহর কাছে জল-স্থল সবকিছুর জ্ঞান আছে।”
গ্রন্থকার বলেন, দার্শনিকরা মৃত্যুর পর জীবিত হওয়া, রুহসমূহ শরীরে প্রতিস্থাপন করা, জান্নাত ও জাহান্নামে শারীরিকভাবে উপস্থিত হওয়াকে অস্বীকার করে থাকে। তারা বলে, এগুলো কেবল উপমামাত্র, যা সাধারণ মানুষের জন্য বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে শাস্তি ও শান্তি আত্মিক হওয়ার ব্যাপারটি বুঝে আসে এবং মনে করে, মানুষের সত্তা মৃত্যুর পর চিরকালের জন্য জীবিত থাকে। অথবা এমন তৃপ্তিতে থাকে, যা বর্ণনার অযোগ্য। এটা ওই সত্তা, যা পাপে লিপ্ত থাকে। এই কষ্টের মাত্রা মানুষের অনুমান মতো বেশ-কম হয়ে থাকে। আবার কখনো ওই সত্তা থেকে কষ্টগুলো মুছে যায় এবং দূর হয়ে যায়। এই গোষ্ঠীর কথার জবাবে বলা যায়, মৃত্যুর পর মানবসত্তা অস্তিত্বশীল হওয়ার ব্যাপারে আমরা অস্বীকারকারী নই। আর এটাও অস্বীকার করি না যে, নফসের জন্য শান্তি ও শাস্তি বিদ্যমান। কিন্তু এটা বলো, শারীরিকভাবে হাশরের মাঠে উপস্থিত হওয়াকে কেন অস্বীকার করছ? জান্নাত ও জাহান্নামে শারীরিক তৃপ্তি ও শাস্তির কথা কী করে অস্বীকার করা হয়? যেখানে শরিয়ত আমাদেরকে এ ব্যাপারে শিক্ষা দেয়। সুতরাং আমরা শাস্তি বা শান্তি শারীরিক ও আত্মিক—উভয়টিকে স্বীকার করি এবং বিশ্বাস করি। কিন্তু যে হাকিকতকে উপমা জগতের স্থলাভিষিক্ত করছ, এটা অপ্রমাণিত এবং জবরদস্তিমূলক মতবাদ। পরে যদি তারা বলে যে, শরীর গঠন হওয়ার পর চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার কারণে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সম্ভব।
তার উত্তরে আমরা বলব, কুদরতের সম্মুখে কোনো কথা অসম্ভব নয়। যেহেতু মানুষ তার সত্তাজুড়ে মানুষ, যদি ওই মাটি ছাড়া, যা দ্বারা সে সৃষ্টি হয়েছে, অন্য কোনো মাটি দ্বারা তাকে বানানো হয়, তাহলে তো সে মানুষের গোত্র থেকে বেরিয়ে যাবে না। যেহেতু তার বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ আকৃতিতে রূপান্তরিত হয় এবং দুর্বল থেকে মোটাতাজার দিকে ধাবিত হয়। যদি তারা বলে, এই শরীর ওই শরীর আর নেই, যেহেতু তাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। এমনকি রগ ও রক্তে পরিণত হয়েছে। তখন জবাবে আমরা বলব, আল্লাহ তায়ালার কুদরত বুদ্ধি ও দৃশ্যায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়। এছাড়া আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে খবর দিয়েছেন যে, মানুষ কবর থেকে তার শরীরসমেত হাশরের মাঠে প্রত্যাবর্তন করবে।
হজরত আবু হোরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ قَالُوا: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا؟ قَالَ: أَبَيْتُ، قَالُوا: أَرْبَعُونَ شَهْرًا؟ قَالَ: أَبَيْتُ، قَالُوا: أَرْبَعُونَ سَنَةً؟ قَالَ: أَبَيْتُ، ثُمَّ يُنْزِلُ اللَّهِ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَيَنْبُتُونَ، كَمَا يَنْبُتُ الْبَقْلُ» قَالَ: «وَلَيْسَ مِنَ الْإِنْسَانِ شَيْءٍ إِلَّا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا، وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ، وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'উভয় ফুৎকারের মাঝে চল্লিশ জমানা হবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবু হোরায়রা, এটা চল্লিশ দিনের জমানা? তিনি উত্তরে বললেন, আমার স্মরণ নেই। তার জিজ্ঞেস করল, এটা চল্লিশ মাসের জমানা? তিনি বললেন, আমার স্মরণ নেই। তারা জিজ্ঞেস করল, এটা কি চল্লিশ বছরের জমানা? তিনি উত্তরে বললেন, আমার স্মরণ নেই। তিনি বললেন, অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তখন তোমরা এমনভাবে জেগে উঠবে, যেভাবে সবুজ ঘাস জাগে। পরে বলেছেন, মানুষের পুরো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, কেবল অবশিষ্ট থাকে একটি হাড়, আর এটি হচ্ছে মেরুদণ্ডের হাড়। এর মাধ্যমেই কেয়ামতের দিন মানুষ মিলিত হবে।”
টিকাঃ
১. এখন (২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে আনুমানিক এক হাজার বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল। কারণ আল্লামা ইবনুল জাওযি (রহ.) ইন্তেকাল করেন ৫৯৭ হিজরী মোতাবেক ১২০১ খ্রিষ্টাব্দে।
২. সুরা মুলক: আয়াত ১৪
৩. সুরা আনয়াম: আয়াত ৫৯
১. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৪৯৩৫; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৯৫৫