📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 সুন্নাত ও জামায়াতের আবশ্যিকতা

📄 সুন্নাত ও জামায়াতের আবশ্যিকতা


হাদিস শরিফে এসেছে: عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَر بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، خَطَبَ بِالْجَابِيَةِ، فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : " مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ يَحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ، فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ، وَهُوَ مِنَ الاثْنَيْنِ أَبْعَدُ

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'জাবিয়া' (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর রা. আমাদের সামনে খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাঁড়িয়েছি। তারপর তিনি [রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বলেন, যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। কেননা শয়তান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে।”

চারটি সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে-১. উল্লেখিত হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে সহিহ বলেছেন। ২. জাবির ইবনে সামুরা রা. হতে বর্ণিত, প্রাগুক্ত, ৩. ইবনে আবি আসেম 'আসুন্নাহ' গ্রন্থে ৮৭ নম্বরে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ৪. প্রাগুক্ত। হাদিসগুলোর প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন হলেও শেষাংশের বক্তব্য অভিন্ন-যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। কেননা, শয়তান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে পালায়।

হজরত আরফাজাহ রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। অন্যথায় যে ব্যক্তি জামাতের বিরোধিতা করবে শয়তান তার সঙ্গী হয়ে যায়।'

হজরত উসামা ইবনে শারীক রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। যারা জামাত ছেড়ে পৃথক হয়ে যাবে, শয়তান তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। যেমন বাঘ ছাগলের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছাগলকে ছিনিয়ে নেয়।'

عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَّاً بِيَدِهِ، ثُمَّ قَالَ: "هَذَا سَبِيلُ اللهِ مُسْتَقِيمًا"، قَالَ: ثُمَّ خَطَّ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: " هَذِهِ السُّبُلُ لَيْسَ مِنْهَا سَبِيلٌ إِلا عَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ ، ثُمَّ قَرَأَفَ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসুলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে সোজা একটি রেখা এঁকে বললেন, এটা আল্লাহ তায়ালার সরল ও সঠিক পথ। তারপর সেই রেখার ডানে বাঁয়ে আরও কয়েকটি রেখা আঁকলেন। অতঃপর বললেন, এগুলো এমন পথ, যার প্রত্যেকটিতেই শয়তান রয়েছে। সে সবাইকে তার পথে আহ্বান করে। পরে তিনি এ আয়াত পড়লেন— وَلَا تَتَّبِعُوا إِنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ السُّبُلَ "নিশ্চয় এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কোরো না।”

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
" إِنَّ الشَّيْطَانَ ذِئْبُ الإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ يَأْخُذُ الشَّاةَ الْقَاصِيَةَ وَالنَّاحِيَةَ، فَإِيَّاكُمْ وَالشَّعَابَ وَعَلَيْكُم بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ وَالْمَسْجِدِ
'শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘস্বরূপ। যেমনই ছাগলের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছানাকে একা পেলে নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে বসে। অতএব সাবধান! তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন পথে চলা থেকে বেঁচে থাক। তোমাদের জন্য জামাত, সর্বসাধারণ মুমিন ও মসজিদ অবলম্বন করা আবশ্যক।"

হজরত আবু যর রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
"اثْنَانِ خَيْرٌ مِنْ وَاحِدٍ وَثَلاثَةٌ خَيْرٌ مِنَ اثْنَيْنِ، وَأَرْبَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ ثَلَاثَةٍ، فَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْمَعُ أُمَّتِي إِلَّا عَلَى الْهُدَى
'একজন থেকে দু'জন উত্তম, দু'জন থেকে তিনজন এবং তিনজন থেকে চারজন উত্তম। সুতরাং তোমাদের জন্য জামাতে অবস্থান করা অপরিহার্য। কেননা আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে হেদায়েত ছাড়া সমবেত করেন না।'

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي كَمَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً ، وَتَفَرَّقَتْ أُمَّتِي عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ، إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً " ، قَالُوا: مَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
'বনী ইসরাইল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও কেউ তা-ই করবে। আর বনি ইসরাইল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামি হবে। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবিগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত।"

উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি রহ. 'হাসান' ও 'গারিব' বলেছেন। এর সূত্র হতে মাত্র একটি হাদিসই পাওয়া গেছে বলে তিনি এই অভিমত পেশ করেছেন। ইমাম আবু দাউদ রহ. তাঁর সুনান গ্রন্থে হজরত মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রা. এর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হুঁশিয়ার হয়ে যাও! আহলে কিতাব—যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে—তারা ৭২টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আর এই উম্মত অতিসত্বর ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামি, আর একটিমাত্র দল হবে জান্নাতি।' হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, 'সুন্নত তরিকায় মধ্যপন্থায় ইবাদত করা বিদয়াতের পন্থায় বহু কষ্ট-পরিশ্রমলব্ধ ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।'

হজরত উবাই ইবনে কাআব রা. বলেন, 'সঠিক পন্থা ও সুন্নতমতো চলা তোমাদের জন্য আবশ্যক। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের ওপর অটল থেকে মহান দয়াময় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করবে এবং তাঁর ভয়ে চোখ থেকে অশ্রু বের হবে, সেটা কখনো জাহান্নামের অগ্নি স্পর্শ করবে না। আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসারীদের জন্য মধ্যপন্থায় ইবাদত করা অনেক উত্তম, তাদের তুলনায়—যারা আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ না করে বহু কষ্ট ও পরিশ্রম বরদাশত করে।'

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, 'সুন্নতের অনুসারী হয়ে সুন্নতের আহ্বান করে ও বিদয়াত হতে বাধাদান করে, এমন লোকের দিকে তাকানো ইবাদত।'

বিখ্যাত তাবেয়ি আবুল আলিয়া রহ. বলেন, 'তোমাদের জন্য ওই সকল ব্যক্তিবর্গের পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক, যারা ঈমানদারদের বিভক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একতাবদ্ধ ছিলেন।' আসেম রহ. বলেন, আমি আবুল আলিয়া রহ. এর কথা হজরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! আবুল আলিয়া সত্য বলেছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দিয়েছেন।'

আওযায়ি রহ. বলেন, 'সুন্নতের ওপর অটল থাকো। যেখানে সাহাবায়ে কেরাম চুপ থেকেছেন, সেখানে তোমরাও চুপ থাকো। যেখানে তাঁরা কথা বলেছেন, সেখানে তোমরাও কথা বলো। যেখানে তাঁরা বাধা দিয়েছেন, সেখানে তোমরাও বাধা দাও। দীনের পূর্বসূরি তথা সাহাবায়ে কেরামের পথে চলো। তাহলে তোমরাও তা পাবে, যা তাঁরা পেয়েছিলেন।'

আওযায়ি রহ. বলেন, 'আমি মহান আল্লাহ তায়ালাকে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি বলেছেন, হে আবদুর রহমান! তুমি সৎ কাজের আদেশ করো এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখো?! আমি বললাম, হে আমার পালনকর্তা! আপনার অনুগ্রহেই সেই সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে কামনা করেছি, হে আমার प्रतिपालক! আপনি আমাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন। তিনি বললেন, সুন্নতের ওপরও।'

সুফিয়ান সাওরি রহ. বলতেন, 'কোনো কথা সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর আমল করা না হয়। কোনো কথা ও কাজ সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ত বিশুদ্ধ না হয়। কোনো কথা, কাজ ও নিয়ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত অনুযায়ী না হয়।'

ইউসুফ ইবনে আসবাত বলেন, আমাকে সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেছেন, 'যদি তোমার কাছে সংবাদ আসে যে, অমুক ব্যক্তি পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে সুন্নাতের ওপর অটল রয়েছে, তাহলে তাকে সালাম পৌঁছাও। আর যদি তোমার কাছে সংবাদ আসে যে, অমুক ব্যক্তি পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে সুন্নাতের ওপর অটল রয়েছে, তাহলে তাকে সালাম পৌঁছাও। কেননা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত খুবই কম অবশিষ্ট রয়েছে।'

আইয়ুব সাখতিয়ানি রহ. বলেন, 'আমি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরিকার ওপর আমলকারী কোনো ব্যক্তির মৃত্যুসংবাদ শুনি, তখন তাঁর চলে যাওয়া আমার কাছে এমন মনে হয় যেন আমার শরীরের কোনো অংশ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।'

আইয়ুব রহ. আরও বলেন, 'আরব-অনারব উভয়ের সফলতার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আলেম দান করেছেন।'

আবদুল্লাহ ইবনে শাওযাব রহ. বলেন, 'যুবকেরা আল্লাহর আনুগত্যে মনোযোগী হলে, তার ওপর আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে তাকে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক এমন ব্যক্তিদের সাথে তৈরি করে দেন, যারা সুন্নাতের অনুসারী।'

ইউসুফ ইবনে আসবাত বলেন, আমার পিতা মুতাযিলা সম্প্রদায়ের কদরি অনুসারী ছিলেন। আর আমার মামারা ছিলেন রাফেযি। আমি আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি ইমাম সুফিয়ান সাওরি রহ. এর উসিলায় আমাকে ওই উভয় ভ্রান্ত সম্প্রদায় থেকে বের করে মুক্তি দিয়েছেন।

মু'তামির ইবনে সুলাইমান তামিমি বলেন, আমি আমার পিতার সম্মুখে উপস্থিত হলাম। তখন আমি খুবই ভগ্নমনা ছিলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমার এক বন্ধু মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি সুন্নত তরীকায় থেকে মারা গেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তার জন্য কোনো দুশ্চিন্তা কোরো না।

সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেন, 'আহলে সুন্নাতের ব্যাপারে সর্বদা ভালো ও সদাচারের উপদেশ দাও। কেননা এরা বড়ই বেদুইন।" ইমাম আবু বকর ইবনে আইয়‍্যাশ রহ. বলেন, 'শিরক ও বাতিল ধর্মের তুলনায় ইসলাম যেমন দুর্লভ ও বিরল, তদ্রূপ বিদয়াতপন্থীদের তুলনায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত নিতান্ত বিরল।' ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন, 'যখন আমি হাদিস ও সুন্নাতের অনুসারী কাউকে দেখতে পাই, তখন মনে করি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাদের মধ্য থেকে কাউকে দেখছি।'

জুনাইদ রহ. বলেন, 'নেকির সমস্ত রাস্তা মাখলুকের জন্য বন্ধ। কিন্তু তার জন্য বন্ধ নয়, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করেছে এবং রাসুলের তরিকাকে দৃঢ়তার সাথে ধরেছে। নেকির সকল রাস্তা তার জন্য উন্মুক্ত।"

জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ রহ. অন্যত্র বলেন, 'আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের সকল রাস্তা বন্ধ। কিন্তু ওই মুমিনদের জন্য বন্ধ নয়, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করে ও তাঁর সুন্নত মতে চলে। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

টিকাঃ
১. [সনদ সহিহ] সুনানে তিরমিযি: হাদিস নং ২১৬৬; মুসনাদে আহমাদ: ১১৪; মুসতাদরাকে হাকিম: ১/১৪১।
২. [সনদ সহিহ] মুসনাদে আহমাদ: ১৭৭।
৩. [সনদ হাসান] তালিকে আলবানি আলাস সুন্নাতি লিইবনি আবি আসিম: ৮৭, ৮৯।
৪. সুনানে নাসায়ী: ৭/৯২ (আলবানি এটাকে সহিহ বলেছেন।) দ্র. সহিহ নাসায়ী হাদিস নং ৩৭৫৩
১. হাইশামী রহ. তাঁর 'মাজমা' গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ৫/২১৮
২. মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও মুসতাদরাকে হাকিম
৩. মুসনাদে আহমাদ ও তবরানী: ৫/২১৯
৪. (মাউযু) হাদিসটি আল্লামা আলবানি রহ. তাঁর 'যাঈফুল জামে' গ্রন্থের ১৩৬ নম্বরে এবং 'আয্যঈফা' গ্রন্থের ১৭৯৭ নম্বরে উল্লেখ করেছেন।
১. হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থের হাদিস নং ২৬৪১ তে উল্লেখ করেছেন। লেখক আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. এর সনদের আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল আফরিকী একজন যঈফ রাবী।
২. সুনানে আবি দাউদ: হাদিস নং ৪৫৭৯। হাদিসটিকে আলবানি রহ. সহিহ বলেছেন এবং তাঁর 'সহিহুল জামে' গ্রন্থের ২৬৪১ ও 'আস্সহিহা' গ্রন্থের ২০৪ নম্বরে উল্লেখ করেছেন।
১. আবু নুয়াইম প্রণীত 'আল হিলইয়া' ৯/১০৯; বায়হাকি প্রণীত 'মানাকিবুশ শাফেয়ি': ১/৪৩৭।
২. [সনদ সহিহ] আবু নুয়াইম প্রণীত 'আল হিলইয়া': ৯/১০৯।
৩. [সনদ সহিহ] আল হিলইয়া: ১০/২৫৭; খতিব বাগদাদি প্রণীত 'আল ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' : ১/১৫০।
৪. সুরা আহযাব: আয়াত ২১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00