📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 গ্রন্থকার আল্লামা আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

📄 গ্রন্থকার আল্লামা আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযি রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী


ইবনুল জাওযি [৫০৮ হিজরি-৫৯৭ হিজরি]

বংশ পরিক্রমা: আবদুর রহমান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে ওবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাম্মাদী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাসেম ইবনে নাযার ইবনে কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর রা.। আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. আরবিভাষী ছিলেন এবং তিনি কুরাইশ বংশের তামিমি গোত্রের উত্তরসূরি। তাঁর নাম—আবদুর রহমান, উপাধি—জামালুদ্দিন, উপনাম—আবুল ফারাজ। তবে ইবনুল জাওযি নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ।

তিনি তিন পুত্র ও চার কন্যাসন্তান রেখে যান। পুত্ররা যথাক্রমে—১. আবদুল আজিজ, ২. আবুল কাসেম আলী ও ৩. মুহিউদ্দিন ইউসুফ। মেয়েদের নামের সূত্র পাওয়া যায়নি।

‘ইবনুল জাওযি’ নামের নেপথ্যে: তাঁর পূর্বপুরুষ জাফর ইরাকের বসরা নগরীর যে এলাকায় বসবাস করতেন, সে এলাকাটি জাওযি নামে পরিচিত ছিল। সেখানকার অধিবাসীদের জাওযি নামে আখ্যায়িত করা হতো। স্মর্তব্য, এলাকাটি ছিল নদীর পাড়ে।

ইতিহাসবেত্তা ও বিদগ্ধ আলেমগণের মতে, আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. ছিলেন সে যুগের বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস। ইমাম কাত্তানি তাঁর গ্রন্থের নির্বাচিত অধ্যায়ে লেখেন, ইবনুল জাওযি কুরাইশি তামিমি বকরি সিদ্দিকি বাগদাদি হাম্বলি একজন প্রসিদ্ধ বক্তা। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় আড়াই শত। ‘আররিসালাতুল মুসতাত্রিফা’ গ্রন্থেও তিনি এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন।

জ্ঞানার্জন: ইবনুল জাওযির তিন বছর বয়সে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি কেবল বিশ দিনার ও দু'টি ঘর মিরাস হিসেবে প্রাপ্ত হন। এছাড়া মিরাস হিসেবে তিনি আর কিছুই পাননি। পিতার মৃত্যুর পর তিনি স্বীয় মাতা ও ফুফুর কাছে লালিত-পালিত হতে থাকেন। কিছুটা বয়স হলে তাকে হাফেজ মুহাম্মাদ ইবনে নাসিরের মজলিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর হাতেই তিনি কুরআনুল কারিম হিফজ করেন। ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত হাদিসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইলম তাঁর কাছেই অর্জন করেন।

শিক্ষক ও শায়খবৃন্দ: অল্প বয়সেই তিনি সে সময়কার সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত ও বুযুর্গ আলেম আবুল হাসান ইবনে যাগুনির সাহচর্যে ধন্য হন। এরপর আবু বকর দিনুরি ও কাজী আবু ইয়ালার কাছে ফিকাহ, মতানৈক্যপূর্ণ মাসআলায় ব্যুৎপত্তি, তর্কশাস্ত্র ও উসূলে হাদিসের জ্ঞান লাভ করেন। তাঁদের কাছে ইবনুল হোসাইন ও বারি' এবং তাঁদের তবকাত অধ্যয়ন করেন। মাদরাসা নিযামিয়া বাগদাদের প্রসিদ্ধ উস্তাদ আলী ইবনে মুযরাকির কাছেও জ্ঞানার্জন করেন। তিনি ৮৭ জন শায়খ ও শিক্ষকের কাছে জ্ঞান লাভ করেছেন বলে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে : ১. আবুল ফযল মুহাম্মাদ ইবনে নাসির-তাঁর মামা এবং প্রথম শিক্ষক ২. আবু মানসূর আল জুয়ালিকি-তাঁর কাছে ব্যাকরণ ও ভাষাসাহিত্য শেখেন ৩. ইবনুততিবির আল হারিরি—তাঁর কাছে হাদিস অধ্যয়ন করেন। এবং ৪. আবু মানসুর ইবনে খায়রুন—তাঁর কাছে কেরাত শেখেন। এভাবে তাঁর শিক্ষকতালিকায় ইরাকের বিখ্যাত অনেক শায়খ ও বিদ্বানের নাম রয়েছে।

ওয়াজের ময়দানে : মুয়াফ্রিকুদ্দিন আবদুল লতিফ বাগদাদি রহ. বলেন, আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. খুবই সুললিত কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তাঁর চরিত্রমাধুরী ছিল অনুপম ও সুমিষ্ট। যথেষ্ট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং যে কোনো লোককে প্রভাবিত করার এক আশ্চর্য গুণ ছিল তাঁর। লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হতো তাঁর মাহফিলে। গাফেল লোকেরা তাতে নসিহত পেত। অজ্ঞরা শিখত দীন। পাপিষ্ঠরা তাওবা করত এবং মুশরিকরা দলে দলে যোগ দিত ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে। তিনি তাঁর আলকাসাস গ্রন্থে লেখেন, 'এক লাখেরও অধিক লোক আমার হাতে তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে এসেছেন এবং এক লাখ লোক আমার হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।'

মোটকথা, আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. এর জীবনের অন্যতম আলোচিত দিক হচ্ছে তাঁর আধ্যাত্মিক ও বিপ্লবাত্মক ওয়াজ এবং দারসি মজলিস। তাঁর ওয়াজের মজলিস বাগদাদের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছিল। খলিফা, রাজা-বাদশা, মন্ত্রী ও বিশিষ্ট আলেমগণ যথেষ্ট আগ্রহ ও গুরুত্বসহকারে তাঁর মসলিসে উপস্থিত হতেন। আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. যাবতীয় বিদয়াত ও বিধ্বংসী আকিদা-বিশ্বাস ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে বুঝিয়ে খণ্ডন করতেন এবং সহিহ আকিদা ও সুন্নাতের সবিস্তার আলোচনা করতেন। স্বীয় অতুলনীয় বর্ণনাভঙ্গি ও অকাট্য যুক্তি-প্রমাণের কারণে বিদয়াতিরা তা খণ্ডন করতে পারত না।

অনুপম চরিত্র: আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন মাজিদ খতম করতেন। মসজিদ এবং ওয়াজের মজলিসের প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হতেন না। শুধু তাই নয়; বাল্যকালেও কখনো কেউ তাকে ছোটদের সাথে খেলাধুলা করতে দেখেনি। হালাল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত কিছু আহার করতেন না। এ অভ্যাস তাঁর মৃত্যু অবধি অব্যাহত ছিল। তিনি স্বীয় সাইদুল খাতির গ্রন্থে উল্লেখ করেন, 'দীনি ইলমের সাথে আমার ভালোবাসা সেই ছোটবেলা থেকে। এ ছাড়া অন্য কোনো শাস্ত্র বা পেশায় আমি কোনো আগ্রহ দেখতে পাই না। স্বল্প জীবন, অল্প ক্ষমতা আর এই ক্ষুদ্র সাহস নিয়ে দীনি ইলমের খেদমত করে যেতে চাই। এ ছাড়া অন্যদিকে মনোযোগ দেয়ার আর কোনো সুযোগ রয়েছে কি?'

গ্রন্থ রচনার বিস্ময়: আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. কেবল জবান দ্বারা ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমেই দীন ও ইলমি খেদমত আঞ্জাম দেননি; লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনায় তাঁর অবদান আরও বিস্ময়কর। আল্লামা ইবনে কাসির রহ. বলেন, 'আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. এমন একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি ছোট-বড় সর্বমোট তিনশ'টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাফসির, হাদিস, ইতিহাস, গণিত, চিকিৎসা, ভাষা, সাহিত্য ও ব্যাকরণ-শাস্ত্রে তাঁর গ্রন্থগুলো যুগান্তকারী ও স্বতন্ত্র ভূমিকা রেখেছে।'

তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক উপকারী গ্রন্থ হচ্ছে পঠিতব্য তালবিসে ইবলিস এবং সর্বশেষ লিখিত কিতাব হচ্ছে সাইদুল খাতির। তাঁর রচিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিতাবের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি :
১. আখবারু আহলির রুসূখ ফিল ফিকহি ওয়াত্ তাহদীস বিমিকদারিল মানসূখ মিনাল হাদিস
২. আখবারুল হুমাকা ওয়াল মুগাফিলীন
৩. আখবারুয যারাফ ওয়াল মুতামাজ্জিনীন
৪. আখবারুন নিসা
৫. আল আযকিয়া
৬. বুস্তানুল ওয়ায়েযীন ওয়া রিয়াযুস্ সামেয়ীন
৭. তারীখে উমর ইবনুল খাত্তাব রা.
৮. আত্তারীখ ওয়াল মাওয়ায়িয
৯. তাবসারাতুল আখইয়ার ফী যিকরি নাইলি মিসরিন ওয়া ইখওয়ানিহী মিনাল আনহার
১০. তুহফাতুল ওয়ায়িয ওয়া নুযহাতুল মালাহিয
১১. আত্তাহকীক ফী আহাদীসিল খিলাফ
১২. তাকভীমুল লিসান
১৩. তালবীসে ইসলিস (আলোচ্য গ্রন্থ)
১৪. তালকীহু ফুহূমিল আসার
১৫. তাম্বীহুন নায়িমিল গুমার আলা হিফযি মাওয়াসিমিল উমার
১৬. দাফউ শুবহাতিশ তাসবিহ ওয়ারারদ্দু আলাল মুজাসসিমা
১৭. যামুল হাওয়া
১৮. আয্যাহবুল মাসবূক ফী সিয়ারিল মুলুক
১৯. রূহুল আরওয়াহ
২০. রুউসুল কাওয়ারীর ফিল খুতাবি ওয়াল মুহাযারাত ওয়াল ওয়ায ওয়াত তাযকীর
২১. যাদুল মাসীর ফী ইলমিত্ তাফসির
২২. সালওয়াতুল আহযান
২৩. মানাকিবু ইমীরিল মুমিনীন উমর ইবনি আবদিল আযিয
২৪. সিফাতুস্ সাফওয়া বা সাফওয়াতুস্ সাফওয়া
২৫. সাইদুল খাতির
২৬. আতিব্বুর রুহানী
২৭. আল কারামিতা
২৮. আল কিসাস ওয়াল মুযাক্কিরূন
২৯. লুফতাতুল কাবাদ ইলা নাসীহাতিল ওয়ালাদ
৩০. আল মুদাহহিস ফী উলূমিল কুরআনি ওয়াল হাদিস
৩১. মুলতিকাতুল হিকায়াত
৩২. মানাকিবুল ইমাম আহমাদ
৩৩. মানাকিবু বাগদাদ
৩৪. মানাকিবুল হাসান আলবসরি
৩৫. আল মুনতাযাম ফী তারীখিল মুলুকি ওয়াল উমাম
৩৬. মাওলিদিন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
৩৭. আল ওয়াফা বিআহওয়ালিল মুস্তাফা
৩৮. ইয়াকূতাতুল মাওয়ায়িয

আল্লামা ইবনুল জাওযি প্রণীত তাফসির-গ্রন্থসমূহ:
৩৯. আল মুগনী ফিত্তাফসির
৪০. যাদুল মাসীর ফী ইলমিত্তাফসির
৪১. কিতাবুত তালখীস
৪২. তাযকারাতুল আরীব ফী ইলমিল গারিব
৪৩. তাইসীরুল বায়ান ফী ইলমিল কুরআন
৪৪. ফুন্নুল আফনান ফী উলূমিল কুরআন
৪৫. আল উজুহ্ ওয়ান নাযায়ির = নুযহাতুল উয়ূনিন নাযায়ির ফিল উদ্বৃহ ওয়ান নাযায়ির
৪৬. মুখতাসারুল উজুহ ওয়ান নাযায়ির
৪৭. নাসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখুহু
৪৮. আল মুসাফফা বিআকফি আহলির রুসূখি মিন ইলমিন নাসিখি ওয়াল মানসূখ
৪৯. আল ইশারাহ্ ইলা কিরাআতিল মুখতারাহ্
৫০. আল মুনতাবিহ ফী উইয়ুলি মুশতাবাহ্
৫১. আস্সাবআহ্ ফিল কিরাআতিস সাবআহ্
৫২. ওয়ারদুল আগসান ফী ফুনূনিল আফনান
৫৩. গারিবুল হাদিস

গায়রে উলুমে কুরআনবিষয়ক গ্রন্থাবলি :
৫৪. সুযূযুল উকূদ
৫৫. আজীবুল খাতাব

ভাষাজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থাবলি:
৫৬. তাকভীমুল লিসান
৫৭. মুশকিলুস সিহাহ্
৫৮. আল মাকামাতুল জাওযিয়া ফিল মাআনিল ওয়াযিয়া

তাঁর কিছু কিতাব সংক্ষিপ্তাকারে গ্রন্থিত করা হয়েছে। তন্মধ্যে-
৫৯. মুখতাসারু মানাকিবি উমর ইবনে আবদিল আযিয
৬০. মুখতাসারু মানাকিবি বাগদাদ
৬১. তালকীসুত তাবসারাহ্
৬২. মুখতাসারু লাকতুল মানাফি
৬৩. আশিফা ফী মাওয়ায়িযিল মুলকি ওয়াল খুলাফা

কবি: ইতিহাসবিদেরা বলেন, আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. বৈচিত্র্যময় গুণে গুণী ও বহুমুখী প্রতিভার পাশাপাশি একজন বিদগ্ধ কবিও ছিলেন। তাঁর কবিতার এক বিশাল পাণ্ডুলিপি রয়েছে বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে তাঁর কবিতার কোনো বই পৌঁছেনি। তথাপি আলোচ্য গ্রন্থসহ তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থে উদ্ধৃত ও উল্লিখিত চমৎকার কবিতামালা দেখে তাঁর কবিপ্রতিভা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা যায়। এছাড়া আল্লামা ইবনে কাসির রহ. তাঁর বিখ্যাত আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে ইবনুল জাওযি রহ. এর কবিতাগুচ্ছের বেশ কিছু পঙ্ক্তি উল্লেখ করেছেন。

পরিশেষে আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. এর জন্য আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে অফুরন্ত রহমত কামনা করি। তাঁর জ্ঞান দ্বারা সকলে যেন উপকৃত হতে পারি সেই প্রার্থনা করছি। মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তিনটি আমল জারি ও বহমান থাকে। যথা-১. সদকায়ে জারিয়া, ২. ইলম-যা দ্বারা অন্যরা উপকৃত হয় ও ৩. নেককার সন্তান- যারা তাঁর জন্য দোয়া করতে থাকে। আমাদের প্রত্যাশা-আমাদের লেখক অত্র তিনটি মাধ্যমেই সাওয়াব পেতে থাকবেন।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 গ্রন্থকারের মুতবা

📄 গ্রন্থকারের মুতবা


الحمد لله الذي سلم ميزان العدل إلى أكف ذوي الألباب وأرسل الرسل مبشرين ومنذرين بالثواب والعقاب وأنزل عليهم الكتب مبينة للخطأ والصواب وجعل الشرائع كاملة لا نقص فيها ولا عاب أحمده حمد من يعلم أنه مسبب الأسباب وأشهد بوحدانيته شهادة مخلص في نيته غير مرتاب وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أرسله وقد سدل الكفر على وجه الإيمان والحجاب فنسخ الظلام بنور الهدى وكشف النقاب وبين للناس ما أنزل إليهم وأوضح مشكلات الكتاب وتركهم على المحجة البيضاء لا سرب فيها ولا سراب فصلى الله عليه وعلى جميع الآل وكل الأصحاب وعلى التابعين لهم بإحسان إلى يوم الحشر والحساب وسلم تسليما كثيرا

অর্থ : সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য, যিনি ন্যায়ের মানদণ্ড জ্ঞানীদের হাতে সোপর্দ করেছেন এবং নির্বাচিত রাসুল প্রেরণ করেছেন; যাঁরা অনুগতদেরকে উত্তম প্রতিদানের সুসংবাদ দিয়েছেন, অন্যদিকে অস্বীকারকারীদেরকে শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন। তাঁদের সাথে সুস্পষ্ট ঐশী গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন এবং সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতিমুক্ত পরিপূর্ণ শরিয়ত প্রদান করেছেন। আমি এমন ব্যক্তির ন্যায় সেই মহান সত্তার প্রশংসা করছি, যিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, একমাত্র তিনিই 'মুসাব্বিবুল আসবাব' বা সর্বার্থ সাধক। আমি তাঁর একত্ববাদের সাক্ষ্য দিচ্ছি ওই নিরেট ব্যক্তির মতো, যার অন্তরে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ নেই, নেই অভিযোগের লেশ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও রাসুল। যাঁকে এমন সময়ে এই ধরার বুকে প্রেরণ করা হয়েছে, যখন ঈমানের চেহারায় পড়েছিল কুফরীর পর্দা ও প্রলেপ। তাঁর রিসালাতের আলোকরশ্মিতে দূরীভূত হতে থাকে সমুদয় আঁধার-কালিমা। সত্যপথের চেহারা থেকে যিনি বাতিল-ভ্রান্তের পর্দা উপড়ে ফেলেন। বান্দার জন্য আল্লাহ যে সব বিধি-বিধান প্রেরণ করেছেন তা তিনি যথাযথভাবে বর্ণনা করে গেছেন এবং কুরআনের সকল জটিল বিষয় বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিনি জগদ্বাসীর জন্য সুস্পষ্টভাবে সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে গেছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর, তাঁর সকল পরিবারবর্গ, সকল সাহাবায়ে কেরাম এবং কিয়ামত অবধি তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আকল তথা বুদ্ধি-জ্ঞান মানুষের জন্য বিরাট একটি নেয়ামত। কেননা এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার মারেফত ও পরিচয় লাভ এবং রাসুলকে সত্যরূপে চেনা ও বিশ্বাস করা সম্ভব হয়। কিন্তু বান্দার পক্ষে তার প্রতিপালকের সাথে সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে আকল দ্বারা যখন পুরোপুরিভাবে কাজ নেয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়, তখন রাসুল পাঠানো হয় এবং কিতাব তথা আসমানী গ্রন্থ অবতীর্ণ করা হয়। অতএব বিবেক হচ্ছে চক্ষুসদৃশ আর শরিয়ত হচ্ছে সূর্যসদৃশ। চক্ষু দোষমুক্ত থাকলে সে অবশ্যই সূর্যের আলো দেখতে পাবে; অন্যথায় নয়। এদিকে আকল-বিবেক নবীদের মুজিযাসমেত প্রমাণাদি দেখে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, নবীরা যা বলেন তা ধ্রুব সত্য। বিবেক তখন তা নির্দ্বিধায় গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং অদৃশ্য বিষয়াবলির ওপর দৃঢ়বিশ্বাস পোষণ করে।

আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে আকল বা বিবেক দ্বারা পুরস্কৃত করতে চাইলে সর্বপ্রথম আমাদের আদি পিতা হজরত আদম আলাইহিস সালাম এর মাধ্যমে তার সূচনা করেন। তিনি মানুষকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত অহীর মাধ্যমে শিক্ষাদান করতেন। সবাই ছিল সঠিক পথে। কিন্তু কিছুকাল পর কাবিল স্বীয় প্রবৃত্তির আনুগত্য করতে গিয়ে আপন ভাই হাবিলকে হত্যা করে বসে। এরপর চলতে থাকে পদস্খলনের ও পথভ্রষ্টতার ধারাবাহিকতা। এভাবে অধঃপতিত হয়ে একসময় তারা মূর্তিপূজা করতে থাকে। পাশাপাশি এমন এমন আকিদা-বিশ্বাস অন্তরে লালন করে, যা রাসুলের পয়গামবিরোধী ও বিবেকের চাহিদাবিবর্জিত। তারা মনমতো যাচ্ছেতাই কৃষ্টি-কালচারের আবিষ্কার করতে থাকে এবং তাদের পূর্বসূরিরাও হয়ে পড়ে বাপ-দাদার পদাঙ্ক অনুসারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَقَدْ صَدَّقَ عَلَيْهِمْ إِبْلِيسُ ظَنَّهُ فَاتَّبَعُوهُ إِلَّا فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
আর নিশ্চয় তাদের ব্যাপারে ইবলিস তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল, ফলে মুমিনদের একটি দল ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করল।'

টিকাঃ
১. সুরা সাবা: আয়াত ২০।

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 রাসূল প্রেরণের নেপথ্যে

📄 রাসূল প্রেরণের নেপথ্যে


জেনে রাখা উচিত-নবীগণ যথেষ্ট বয়ান করেছেন এবং সকল ব্যাধির উপশমযোগ্য ঔষধ ও ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। সকল নবী তাওহিদের সরল ও সঠিক পথের ব্যাপারে একমত ছিলেন। এতে বিন্দুমাত্র মতানৈক্যের ছিটেফোঁটাও ছিল না। কিন্তু ইবলিস শয়তান এসে নবীদের সেই পূর্ণাঙ্গ ও যথেষ্ট বিবরণের সাথে কিছু বিভ্রান্তি ও সন্দেহযুক্ত কথাবার্তা ছড়ায়। বিশুদ্ধ ঔষধ ও ব্যবস্থাপত্রের সাথে বিষ মিশ্রণ করে এবং সুস্পষ্ট পথের দু'ধারে বিভ্রান্তকারী ফুটপাথ সংযুক্ত করে দেয়। এভাবে সে মানুষের বিবেক-বুদ্ধির সাথে মেতে ওঠে উন্মত্ত খেলায়। এরই ধারাবাহিকতায় সে প্রাক ইসলামিক যুগে অর্থাৎ জাহিলিয়াতের যুগে তাদেকে নির্বুদ্ধিতার নিকৃষ্ট ও নিন্দনীয় বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস পায়। ফলে পবিত্র কাবা শরিফে পর্যন্ত এরা মূর্তিপূজা করতে থাকে। বাহিরা, সায়েবা, হাম ও উসিলাকে' হারাম সাব্যস্ত করে। সদ্যভূমিষ্ট কন্যাসন্তানকে জীবিত কবরস্থ করতে ভালোবাসে এবং তাদের মতো দুর্বলদেরকে উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধিকার হতে বঞ্চিত করে। এ জাতীয় বহু ভ্রান্তি ও কুসংস্কারের ব্যাপারে ইবলিস তাদের নজরে সুশোভিত করে তোলে।

ঠিক এমন সময়ে আল্লাহ তায়ালা হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ধরায় প্রেরণ করেন। তিনি এসেই এমন ভ্রান্তি ও কুসংস্কার দূরীকরণে সচেষ্ট হন। অন্যদিকে ভালো, উত্তম ও উন্নত বিষয়গুলো শরিয়ত হিসেবে সাব্যস্ত করেন। সে মতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবায়ে কেরام রা. ও তৎপরবর্তীরা শরিয়তের আলোয় আলোকিত হয়ে চিরশত্রু শয়তানের ফাঁদ ও ধোঁকা হতে সুরক্ষিত থেকে সঠিক পথে চলতে থাকেন। দিনের আলোর মতো উজ্জ্বল এসব ব্যক্তিরা এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে বিশ্বজুড়ে ধেয়ে আসে নিকষ কালো অন্ধকার। আবারও মানুষ মনের খেয়াল-খুশিমতো জীবনযাপন করতে থাকে। শরিয়তের সেই সুরক্ষিত সরল ও সঠিক পথ হারিয়ে বক্র ও ভয়াল পথে পা বাড়ায়। ফলে বহু লোক সঠিক দীন থেকে বিচ্যুত হয়ে পৃথক পৃথক সম্প্রদায়ের উন্মেষ ঘটায়। এটা জানা কথা যে, অজ্ঞতা ও নিকষ অন্ধকারে চতুর্দিক ছেয়ে গেলে ইবলিস মানুষের মনে আস্তানা গেড়ে নানাবিধ ফন্দি-ফাটল ও ধোঁকা দিতে শুরু করে। কিন্তু যখনই ইলমের আলোকরশ্মি ঝলমল করে ভেসে ওঠে সে তখন প্রচণ্ড মনক্ষুণ্ণ হয়।

এসব কারণে আমি ইবলিসের ফাঁদ-ফন্দির জাল ও ধোঁকার ক্ষেত্রগুলো দেখিয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করি। কেননা মন্দের উৎপত্তির বর্ণনা দেয়া, মন্দ থেকে বাঁচানোর নামান্তর। যেমন সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে হজরত হোযাইফা রা. এর একটি হাদিস বর্ণিত আছে। সেখানে তিনি বলেন,
'মানুষ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ভালো ভালো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইত, আর আমি জানতে চাইতাম মন্দ বিষয় সম্পর্কে। যাতে মন্দ বিষয়ে পতিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারি।'

'হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহর শপথ! আজ ধরাপৃষ্ঠে শয়তানের কাছে আমার মৃত্যুর চেয়ে কারও মৃত্যু অধিক পছন্দনীয় নয়। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, শয়তান পূর্ব বা পশ্চিমে সর্বত্র নিত্যনতুন বিদয়াত আবিষ্কার করে বেড়ায়। সে ব্যাপারে আমার কাছে কোনো মুসলমান জানতে চাইলে আমি তাকে বিদয়াত থেকে ফিরিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের ওপর তুলে দিই। অতএব শয়তানের আবিষ্কৃত বিদয়াত যেখান থেকে ওঠে আসে সেখানেই নিক্ষেপ করা হয়।'

আমার এই কিতাবের আলোচ্য বিষয় হলো, ইবলিসের ফিতনাসমূহ থেকে সতর্ক করা, নিকৃষ্ট ও অনর্থক কুকর্ম সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা, তার সূক্ষ্ম ও গোপন ফাঁদগুলো উন্মুক্ত করা এবং তার অদৃশ্য চক্রান্তকে প্রকাশ করে দেয়া। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সত্যবাদীর বাসনা পূরণকারী। আলোচ্য গ্রন্থটিকে আমি তেরোটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি। এগুলো দ্বারা শয়তানের ফাঁদ খুলে যাবে এবং বুদ্ধিমানদের জন্য তার ধোঁকা সম্পর্কে অবহিত হওয়া সহজতর হবে। আল্লাহ তায়ালার যে সকল বান্দা এসবের ওপর আমলের দৃঢ় অঙ্গীকার করবে, শয়তান তার কাছে পরাজিত হয়ে দূরে পালাতে বাধ্য হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার ব্যাপারে তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী এবং সঠিক কথা আমার অন্তরে প্রবিষ্ট করাবেন তিনিই।

টিকাঃ
১. 'বাহীরা' ওই উট, যার কান কেটে প্রতিমার নামে ছেড়ে দেয়া হতো।
২. 'সায়েবা' ওই উট, যাকে প্রতিমার নামে ছেড়ে দেয়া হতো।
৩. 'হাম' ওই উট, যাকে কয়েকবার সংগমের পর সাওয়ারী এবং বোঝা বহন থেকে মুক্ত করে দেয়া হতো এবং
৪. 'উসীলা' ওই উটনী, যাকে কয়েকবার মাদী বাচ্চা প্রসবের পর মূর্তির নামে মুক্ত করে দিত।
২. সহিহ বুখারি: হাদিস নং ৩৬০৬-৭০৮৪; সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১৮৪৭

📘 শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় তালবিসে ইবলিস > 📄 সুন্নাত ও জামায়াতের আবশ্যিকতা

📄 সুন্নাত ও জামায়াতের আবশ্যিকতা


হাদিস শরিফে এসেছে: عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَر بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، خَطَبَ بِالْجَابِيَةِ، فَقَالَ قَامَ فِينَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : " مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ يَحْبُوحَةَ الْجَنَّةِ، فَلْيَلْزَمِ الْجَمَاعَةَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ مَعَ الْوَاحِدِ، وَهُوَ مِنَ الاثْنَيْنِ أَبْعَدُ

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'জাবিয়া' (সিরিয়ার অন্তর্গত) নামক জায়গায় উমর রা. আমাদের সামনে খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে বলেন, হে উপস্থিত জনতা! যেভাবে আমাদের মাঝে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়াতেন, সেভাবে তোমাদের মাঝে আমিও দাঁড়িয়েছি। তারপর তিনি [রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)] বলেন, যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। কেননা শয়তান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে।”

চারটি সূত্রে উক্ত হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে-১. উল্লেখিত হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে সহিহ বলেছেন। ২. জাবির ইবনে সামুরা রা. হতে বর্ণিত, প্রাগুক্ত, ৩. ইবনে আবি আসেম 'আসুন্নাহ' গ্রন্থে ৮৭ নম্বরে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ৪. প্রাগুক্ত। হাদিসগুলোর প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন হলেও শেষাংশের বক্তব্য অভিন্ন-যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে। কেননা, শয়তান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দুজন হতে অনেক দূরে পালায়।

হজরত আরফাজাহ রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। অন্যথায় যে ব্যক্তি জামাতের বিরোধিতা করবে শয়তান তার সঙ্গী হয়ে যায়।'

হজরত উসামা ইবনে শারীক রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। যারা জামাত ছেড়ে পৃথক হয়ে যাবে, শয়তান তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে। যেমন বাঘ ছাগলের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছাগলকে ছিনিয়ে নেয়।'

عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: خَطَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَّاً بِيَدِهِ، ثُمَّ قَالَ: "هَذَا سَبِيلُ اللهِ مُسْتَقِيمًا"، قَالَ: ثُمَّ خَطَّ عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ، ثُمَّ قَالَ: " هَذِهِ السُّبُلُ لَيْسَ مِنْهَا سَبِيلٌ إِلا عَلَيْهِ شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ ، ثُمَّ قَرَأَفَ وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসুলুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে সোজা একটি রেখা এঁকে বললেন, এটা আল্লাহ তায়ালার সরল ও সঠিক পথ। তারপর সেই রেখার ডানে বাঁয়ে আরও কয়েকটি রেখা আঁকলেন। অতঃপর বললেন, এগুলো এমন পথ, যার প্রত্যেকটিতেই শয়তান রয়েছে। সে সবাইকে তার পথে আহ্বান করে। পরে তিনি এ আয়াত পড়লেন— وَلَا تَتَّبِعُوا إِنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ السُّبُلَ "নিশ্চয় এটাই আমার সরল পথ। সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কোরো না।”

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
" إِنَّ الشَّيْطَانَ ذِئْبُ الإِنْسَانِ كَذِئْبِ الْغَنَمِ يَأْخُذُ الشَّاةَ الْقَاصِيَةَ وَالنَّاحِيَةَ، فَإِيَّاكُمْ وَالشَّعَابَ وَعَلَيْكُم بِالْجَمَاعَةِ وَالْعَامَّةِ وَالْمَسْجِدِ
'শয়তান মানুষের জন্য নেকড়ে বাঘস্বরূপ। যেমনই ছাগলের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ছানাকে একা পেলে নেকড়ে বাঘ আক্রমণ করে বসে। অতএব সাবধান! তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন পথে চলা থেকে বেঁচে থাক। তোমাদের জন্য জামাত, সর্বসাধারণ মুমিন ও মসজিদ অবলম্বন করা আবশ্যক।"

হজরত আবু যর রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
"اثْنَانِ خَيْرٌ مِنْ وَاحِدٍ وَثَلاثَةٌ خَيْرٌ مِنَ اثْنَيْنِ، وَأَرْبَعَةٌ خَيْرٌ مِنْ ثَلَاثَةٍ، فَعَلَيْكُمْ بِالْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَجْمَعُ أُمَّتِي إِلَّا عَلَى الْهُدَى
'একজন থেকে দু'জন উত্তম, দু'জন থেকে তিনজন এবং তিনজন থেকে চারজন উত্তম। সুতরাং তোমাদের জন্য জামাতে অবস্থান করা অপরিহার্য। কেননা আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে হেদায়েত ছাড়া সমবেত করেন না।'

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي كَمَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً ، وَتَفَرَّقَتْ أُمَّتِي عَلَى ثَلاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ، إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً " ، قَالُوا: مَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: " مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
'বনী ইসরাইল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিল, নিঃসন্দেহে আমার উম্মতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উম্মতের মধ্যেও কেউ তা-ই করবে। আর বনি ইসরাইল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামি হবে। সাহাবিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবিগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত।"

উক্ত হাদিসটিকে ইমাম তিরমিযি রহ. 'হাসান' ও 'গারিব' বলেছেন। এর সূত্র হতে মাত্র একটি হাদিসই পাওয়া গেছে বলে তিনি এই অভিমত পেশ করেছেন। ইমাম আবু দাউদ রহ. তাঁর সুনান গ্রন্থে হজরত মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রা. এর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হুঁশিয়ার হয়ে যাও! আহলে কিতাব—যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে—তারা ৭২টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আর এই উম্মত অতিসত্বর ৭৩টি দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামি, আর একটিমাত্র দল হবে জান্নাতি।' হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, 'সুন্নত তরিকায় মধ্যপন্থায় ইবাদত করা বিদয়াতের পন্থায় বহু কষ্ট-পরিশ্রমলব্ধ ইবাদত অপেক্ষা উত্তম।'

হজরত উবাই ইবনে কাআব রা. বলেন, 'সঠিক পন্থা ও সুন্নতমতো চলা তোমাদের জন্য আবশ্যক। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের ওপর অটল থেকে মহান দয়াময় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করবে এবং তাঁর ভয়ে চোখ থেকে অশ্রু বের হবে, সেটা কখনো জাহান্নামের অগ্নি স্পর্শ করবে না। আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসারীদের জন্য মধ্যপন্থায় ইবাদত করা অনেক উত্তম, তাদের তুলনায়—যারা আল্লাহর পথ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের অনুসরণ না করে বহু কষ্ট ও পরিশ্রম বরদাশত করে।'

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, 'সুন্নতের অনুসারী হয়ে সুন্নতের আহ্বান করে ও বিদয়াত হতে বাধাদান করে, এমন লোকের দিকে তাকানো ইবাদত।'

বিখ্যাত তাবেয়ি আবুল আলিয়া রহ. বলেন, 'তোমাদের জন্য ওই সকল ব্যক্তিবর্গের পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক, যারা ঈমানদারদের বিভক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত একতাবদ্ধ ছিলেন।' আসেম রহ. বলেন, আমি আবুল আলিয়া রহ. এর কথা হজরত হাসান বসরি রহ. এর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! আবুল আলিয়া সত্য বলেছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম উপদেশ দিয়েছেন।'

আওযায়ি রহ. বলেন, 'সুন্নতের ওপর অটল থাকো। যেখানে সাহাবায়ে কেরাম চুপ থেকেছেন, সেখানে তোমরাও চুপ থাকো। যেখানে তাঁরা কথা বলেছেন, সেখানে তোমরাও কথা বলো। যেখানে তাঁরা বাধা দিয়েছেন, সেখানে তোমরাও বাধা দাও। দীনের পূর্বসূরি তথা সাহাবায়ে কেরামের পথে চলো। তাহলে তোমরাও তা পাবে, যা তাঁরা পেয়েছিলেন।'

আওযায়ি রহ. বলেন, 'আমি মহান আল্লাহ তায়ালাকে স্বপ্নে দেখেছি। তিনি বলেছেন, হে আবদুর রহমান! তুমি সৎ কাজের আদেশ করো এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখো?! আমি বললাম, হে আমার পালনকর্তা! আপনার অনুগ্রহেই সেই সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে কামনা করেছি, হে আমার प्रतिपालক! আপনি আমাকে ইসলামের ওপর মৃত্যু দান করুন। তিনি বললেন, সুন্নতের ওপরও।'

সুফিয়ান সাওরি রহ. বলতেন, 'কোনো কথা সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওপর আমল করা না হয়। কোনো কথা ও কাজ সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ত বিশুদ্ধ না হয়। কোনো কথা, কাজ ও নিয়ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত অনুযায়ী না হয়।'

ইউসুফ ইবনে আসবাত বলেন, আমাকে সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেছেন, 'যদি তোমার কাছে সংবাদ আসে যে, অমুক ব্যক্তি পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে সুন্নাতের ওপর অটল রয়েছে, তাহলে তাকে সালাম পৌঁছাও। আর যদি তোমার কাছে সংবাদ আসে যে, অমুক ব্যক্তি পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে সুন্নাতের ওপর অটল রয়েছে, তাহলে তাকে সালাম পৌঁছাও। কেননা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত খুবই কম অবশিষ্ট রয়েছে।'

আইয়ুব সাখতিয়ানি রহ. বলেন, 'আমি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরিকার ওপর আমলকারী কোনো ব্যক্তির মৃত্যুসংবাদ শুনি, তখন তাঁর চলে যাওয়া আমার কাছে এমন মনে হয় যেন আমার শরীরের কোনো অংশ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।'

আইয়ুব রহ. আরও বলেন, 'আরব-অনারব উভয়ের সফলতার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আলেম দান করেছেন।'

আবদুল্লাহ ইবনে শাওযাব রহ. বলেন, 'যুবকেরা আল্লাহর আনুগত্যে মনোযোগী হলে, তার ওপর আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে বড় নেয়ামত হচ্ছে তাকে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক এমন ব্যক্তিদের সাথে তৈরি করে দেন, যারা সুন্নাতের অনুসারী।'

ইউসুফ ইবনে আসবাত বলেন, আমার পিতা মুতাযিলা সম্প্রদায়ের কদরি অনুসারী ছিলেন। আর আমার মামারা ছিলেন রাফেযি। আমি আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি ইমাম সুফিয়ান সাওরি রহ. এর উসিলায় আমাকে ওই উভয় ভ্রান্ত সম্প্রদায় থেকে বের করে মুক্তি দিয়েছেন।

মু'তামির ইবনে সুলাইমান তামিমি বলেন, আমি আমার পিতার সম্মুখে উপস্থিত হলাম। তখন আমি খুবই ভগ্নমনা ছিলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমার এক বন্ধু মৃত্যুবরণ করেছে। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে কি সুন্নত তরীকায় থেকে মারা গেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তার জন্য কোনো দুশ্চিন্তা কোরো না।

সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেন, 'আহলে সুন্নাতের ব্যাপারে সর্বদা ভালো ও সদাচারের উপদেশ দাও। কেননা এরা বড়ই বেদুইন।" ইমাম আবু বকর ইবনে আইয়‍্যাশ রহ. বলেন, 'শিরক ও বাতিল ধর্মের তুলনায় ইসলাম যেমন দুর্লভ ও বিরল, তদ্রূপ বিদয়াতপন্থীদের তুলনায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত নিতান্ত বিরল।' ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন, 'যখন আমি হাদিস ও সুন্নাতের অনুসারী কাউকে দেখতে পাই, তখন মনে করি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবাদের মধ্য থেকে কাউকে দেখছি।'

জুনাইদ রহ. বলেন, 'নেকির সমস্ত রাস্তা মাখলুকের জন্য বন্ধ। কিন্তু তার জন্য বন্ধ নয়, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করেছে এবং রাসুলের তরিকাকে দৃঢ়তার সাথে ধরেছে। নেকির সকল রাস্তা তার জন্য উন্মুক্ত।"

জুনাইদ ইবনে মুহাম্মাদ রহ. অন্যত্র বলেন, 'আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের সকল রাস্তা বন্ধ। কিন্তু ওই মুমিনদের জন্য বন্ধ নয়, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করে ও তাঁর সুন্নত মতে চলে। যেমন আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

টিকাঃ
১. [সনদ সহিহ] সুনানে তিরমিযি: হাদিস নং ২১৬৬; মুসনাদে আহমাদ: ১১৪; মুসতাদরাকে হাকিম: ১/১৪১।
২. [সনদ সহিহ] মুসনাদে আহমাদ: ১৭৭।
৩. [সনদ হাসান] তালিকে আলবানি আলাস সুন্নাতি লিইবনি আবি আসিম: ৮৭, ৮৯।
৪. সুনানে নাসায়ী: ৭/৯২ (আলবানি এটাকে সহিহ বলেছেন।) দ্র. সহিহ নাসায়ী হাদিস নং ৩৭৫৩
১. হাইশামী রহ. তাঁর 'মাজমা' গ্রন্থে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। ৫/২১৮
২. মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও মুসতাদরাকে হাকিম
৩. মুসনাদে আহমাদ ও তবরানী: ৫/২১৯
৪. (মাউযু) হাদিসটি আল্লামা আলবানি রহ. তাঁর 'যাঈফুল জামে' গ্রন্থের ১৩৬ নম্বরে এবং 'আয্যঈফা' গ্রন্থের ১৭৯৭ নম্বরে উল্লেখ করেছেন।
১. হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থের হাদিস নং ২৬৪১ তে উল্লেখ করেছেন। লেখক আল্লামা ইবনুল জাওযি রহ. এর সনদের আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল আফরিকী একজন যঈফ রাবী।
২. সুনানে আবি দাউদ: হাদিস নং ৪৫৭৯। হাদিসটিকে আলবানি রহ. সহিহ বলেছেন এবং তাঁর 'সহিহুল জামে' গ্রন্থের ২৬৪১ ও 'আস্সহিহা' গ্রন্থের ২০৪ নম্বরে উল্লেখ করেছেন।
১. আবু নুয়াইম প্রণীত 'আল হিলইয়া' ৯/১০৯; বায়হাকি প্রণীত 'মানাকিবুশ শাফেয়ি': ১/৪৩৭।
২. [সনদ সহিহ] আবু নুয়াইম প্রণীত 'আল হিলইয়া': ৯/১০৯।
৩. [সনদ সহিহ] আল হিলইয়া: ১০/২৫৭; খতিব বাগদাদি প্রণীত 'আল ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ' : ১/১৫০।
৪. সুরা আহযাব: আয়াত ২১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00