📄 যাত্রা অন্তিমে
বইয়ের শুরুতেই আমি বলেছি, আত্মপ্রকাশ নবিজি সা.-এর একটি সুন্নাহ। এবার আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন, আমি যা যা বলেছি তার সব কয়টা বৈশিষ্ট্য নবিজির মধ্যে ছিল—লক্ষ্যের প্রতি আন্তরিকতা, ইতিবাচকতা, সন্তুষ্টি, সাহসিকতা, সততা।
এখন আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন আপনাকে কী করতে হবে? আপনাকে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং আল্লাহ আপনার জয়ের জন্য যা যা চ্যালেঞ্জ রেখেছেন সেসব মোকাবিলা করতে হবে। এটা মনে রাখবেন, আল্লাহ সবসময় সাথে আছেন। আপনাকে আপনার গল্পের নায়ক হিসেবেই দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে।
আমাদের সবার জীবনেই উত্থানপতন আছে। হিরোরাও ব্যতিক্রম নয়। ইসলামের চারজন মহৎ নারীর কথাই ভাবুন—খাদিজা, আয়িশাহ, আসমা, ফাতিমা। কারো জীবনটাই সুখকর ছিল না। কেউই সবকিছু চাওয়ামাত্র পাননি। বরং, প্রতিনিয়ত তাঁদের পরীক্ষা করা হয়েছে।
• তালাকপ্রাপ্তা • বিধবা • বন্ধ্যত্ব • দরিদ্রা • অন্যায় • হারানো
তারপরও, আমরা তাদের মজলুম হিসেবে জানি না, বরং আমরা তাদের আদর্শ হিসেবে মনে রাখি। আপনিও তার ব্যতিক্রম নন। তাই নিজেকে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিন। সে-ই নায়কটা হোন, যার জন্য আপনার জন্ম হয়েছে।
একটি শেষ স্বপ্ন দেখুন:
কল্পনা করুন, আপনার চারপাশে ঘিরে বসেছে সন্তান, নাতিপুতিরা। আপনি তাদের নিজের জীবনের গল্প বলছেন... কোন গল্পটা বলবেন তাদের?
■ জীবনের বাধাবিপত্তিগুলো পার হয়ে কী শিখলেন, সেটা বলবেন?
■ আল্লাহর ওপর নির্ভর করে কীভাবে প্রতিকূলতাকে কাটালেন, সেটা বলবেন?
■ যখন ইমান নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল, তখনও আপনি বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ আপনার ভালো চান—সেই গল্পটা বলবেন?
■ প্রচণ্ড কঠিন মুহূর্তেও আপনার অন্তরের ভেতর ভরসা ছিল—আল্লাহ আপনাকে ভেঙেচুরে দেবার জন্য এই পরীক্ষায় ফেলেননি, সেটা বলবেন?
এই জীবনটা আপনাকে এমনি এমনি শেষ করে দেওয়ার জন্য তৈরি না। বরং আপনাকে নতুন করে তৈরি করতে, আরো বেশি সুন্দর, আরো বেশি প্রাণবন্ত করতে সৃষ্ট। আপনাকে এমন এক নায়ক বানাতে, যা আপনি কোনোদিন কল্পনাও করেননি। আপনি তাদের দেখাবেন, কীভাবে নিজের জীবনের নায়ক হতে হয়?
■ পড়ে গেলে আবার কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়?
■ কীভাবে আল্লাহকে ডাকতে হয়?
■ কীভাবে ভরসা করতে হয়?
■ কীভাবে নিজেকে বিশ্বাস করা যায়?
■ কীভাবে হিরো হওয়া যায়?
আমি জানি, আপনি করবেন ইন শা আল্লাহ। আদর্শ মুসলিমাহ হওয়ার এই যাত্রায়, মহীয়ান আল্লাহ আপনার সহায় হোন। যে অবদান সমাজে রাখার জন্য আপনার জন্ম হয়েছে, সেটা পূর্ণ করার তাওফিক দিন। আমিন।