📄 ধাপ-৬: নিজের মতো থাকুন
সেই মুহূর্তটার কথা আমার মনে আছে, যখন প্রথমবারের মতো মনে হয়েছিল— আমি আমার পরিচয় হারিয়ে ফেলেছি। একরাশ খুশি নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলাম। এখন বিয়ে করে সুখে-শান্তিতে আছি। ফুটফুটে একটা ছেলে আছে, ভালো একটা সমাজে থাকছি, তারপরও আমার মনে হতো—আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। আমি আয়নায় নিজেকে দেখতাম আর ভাবতাম—যে ‘আমি’কে আমি চিনতাম, তার কোনো অস্তিত্বই এখন নেই।
আমরা যখন বিয়ে করি, কিংবা সন্তান জন্ম নেয়, তখন প্রায়ই এমনটা হয়। আমি আসলে নিজেকে হারিয়ে যেতে দিয়েছিলাম—শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক- ভাবে। আমি অটো-পাইলট মোডে চলছি, রোবটের মতো কাজ করছি। অন্যদের মতো আমিও সেই কাজগুলো করছি, যা আমার কাছে করণীয় মনে হয়েছিল।
■ কিন্তু, আমার কি একটাবারও মনে হয়েছে যে, আমি নিজের পুরো সম্ভাবনা নিয়ে জীবনযাপন করছি? মোটেও না।
■ জীবন আর জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমি উৎসাহী ছিলাম? কখনোই না।
■ আমার কখনো মনে হয়েছে যে আমি শিখছি, বড় হচ্ছি, নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করছি? একদমই না।
আমি নিজেকে নিজের কমফোর্ট জোনে আটকে ফেলেছিলাম। আর এটা বেশ দৃশ্যমানও ছিল। আপনি দেখেছেন, এমনটা হওয়ার ছিল না। মাধ্যমিকে আমি অনেক ভালো ফল করেছিলাম। আমি ছিলাম একাধারে একজন অভিনেত্রী, পুরস্কারপ্রাপ্ত বক্তা, নেত্রী। যখন আমি স্কুল ছাড়লাম, তখন সবার বিশ্বাস ছিল একদিন আমি অনেক বড় হব। সবাই বলত আমার মধ্যে তারকা হওয়ার গুণাবলি ছিল। কিন্তু এরপর, আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম, আর সবটা কেমন পরিবর্তন হয়ে গেল। উৎসবমুখর জীবনটা আর নেই। মদ খাওয়া ছেড়ে দিলাম, পার্টি-তে যাওয়া বাদ দিলাম, দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করলাম, হিজাব ধরলাম। পরিচিত মহলে রব উঠল- "মেয়েটা রসাতলে গেল।” তারা চিন্তিত ছিল। কেননা, আমি আমার জীবনটা ছুড়ে ফেলেছি, সাথে সমস্ত সম্ভাবনাও।
সেসময় যখন আমি আয়নায় তাকাতাম, নিজেকে চিনতে পারতাম না। আমি ঐ মানুষগুলোর কথা বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম। এটাই কি তবে সব? এমনটাই হওয়ার ছিল? আমাকে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়নি?
আমরা অনেকেই, স্বাভাবিকভাবে একটা সুনির্দিষ্ট অভ্যাসে স্থির থাকি। জাঁতা-কলের মতো, আটা পিষেই চলি, পিষেই চলি। আপনার মনে হয়-আপনি যথেষ্ট করছেন না, অন্যের চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছেন না। এটাই জীবন, আজীবন এভাবেই চলবে-এসব ভেবে আপনি অবাক হন। এরপর শূন্যতা, উদ্দেশ্য-হীনতা, অমনোযোগিতা আপনাকে ঘিরে ধরে।
আমার মনে আছে, একবার আমারও এমন অনুভূতি হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ, সেই সময়টার পর অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমি যবে থেকে লেখালিখি শুরু করেছি, তবে থেকেই পরিবর্তনের শুরু। কেননা, শিশুদের জন্য একটা বেস্টসেলার স্মৃতিকথা লেখা থেকে শুরু করে পত্রিকায় লেখা, টিভিতে আসা, সব কিছু ছিল বিশ্বাসের একেকটা ধাপ। আমি সেই কাজগুলো করেছিলাম, যা করার কথা কখনো ভাবিনি। 'না' বলতে চেয়েও 'হ্যাঁ' বলার মুহূর্তগুলো। সেই কাজগুলো করেছি, যা আমি আগে কখনো করিনি। পাশাপাশি নিজেকে একটা ধাক্কা দেওয়া, চ্যালেঞ্জ করা, ভয়ের আবর্জনাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলা, একটা সাহসী জীবন-যাপন করা।
■ নিজের জীবনের গল্পটা অপরিচিত কাউকে বলার ভয়কে আমি জয় করেছি।
■ প্রথম নিকাব পরিহিতা হিসেবে জিএম টিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ভয়কে জয় করেছি।
■ স্বামী বিয়োগের ঘটনাটা হাজার হাজার মানুষকে বলার ভয়কে জয় করেছি।
■ আমি নিজেকে ধাক্কা দিয়েছি, বারবার দিয়েছি।
তার মানে এই না যে আমি বিশেষ কেউ। আপনি কিংবা আপনার মতো হাজারো বোনের চেয়ে আমি একদমই আলাদা নই। আমি কেবল একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আত্মপ্রকাশ করার সিদ্ধান্ত। আমাদের সবার মধ্যেই কোনো না কোনো নেয়ামত আছে, যা আমরা দুনিয়াকে দিতে পারি। আমাদের সবার মধ্যেই কিছু না কিছু বিশেষ ব্যাপার আছে, যা অন্যের কাজে লাগতে পারে। আর সেই বিশেষ কিছুটা হলেন—আপনি; আপনার স্বতন্ত্র সত্তা।
যদি আমার কথা আপনাদের বিশ্বাস না হয়; মানুষজন আপনাকে বিচার করবে, আপনাকে দেখে হাসাহাসি করবে, আপনাকে ল্যাং মেরে ফেলে দিবে—এসব কারণে যদি আত্মপ্রকাশ করতে ভয় পান, তবে এই তিনটি অভ্যাস গড়ে তুলুন—
এক. আজ আপনি যেমন আছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ হোন। চোখদুটো খুলুন। নিজের মধ্যে থাকা নেয়ামতগুলো, মেধাটা দেখুন। কীভাবে আপনি ইতোমধ্যে নিজেকে প্রকাশ করে প্রতিদিন কোনো না কোনো পরিবর্তন আনছেন—সেসব দেখুন। মনে আনন্দ লালন করুন। ইতিবাচক হোন, উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করুন। আর অবশ্যই, আল্লাহ আপনাকে যা নেয়ামত দিয়েছেন, সেসবের শুকরিয়া আদায় করুন।
দুই. নিজেকে ভালোবাসুন। অবশ্যই বাসতে হবে। এটা ঠিক, আগে আমাদের কেউ কখনো এমনটা বলেনি। কিন্তু আমরা এখন জানি, নিজেকে ভালোবাসা, নিজের যত্ন নেওয়া, নিজেকে সম্মান করা, কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কেউ বলার আগেই, আপনাকে কাজগুলো করার প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা বন্ধ করুন—অন্যরা কী করে, কী বলে, তাদের জীবনটা কেমন, তাদের কয়টা ফেসবুক ফ্রেন্ড আছে, তারা কীভাবে সন্তান লালনপালন করে, সবকিছু। আপনার দৌড়টা আপনিই দৌড়ান।
তিন. প্রতিটা দিনই উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচুন। মনোযোগী, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আগ্রহী হোন। এটা আপনার জীবন। সুতরাং, আপনি ঠিক করবেন আপনার কী করা উচিত। উপভোগ করবেন না কি অপচয়? মেনে নিবেন না কি নষ্ট করবেন?
সেজন্য বলছি, আত্মপ্রকাশের সিদ্ধান্ত নিন—সৎভাবে, সম্পূর্ণরূপে, আল্লাহর পরিকল্পনায় ভরসা রেখে। তাই,
■ একজন নারী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করুন।
■ একজন কন্যা হিসেবে, একজন বোন হিসেবে, একজন স্ত্রী, একজন মা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করুন।
■ একান্ত নিজের মতো করে নিজেকে প্রকাশ করুন。
নিঃস্ব:
“আমার মনে হচ্ছে, আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।”
সামনে দাঁড়ানো বোনটার চোখের দিকে আমি তাকালাম। তার পরিচয়—সমাজের একটা ভিত্তি, একজন বাধ্য স্ত্রী, একজন ভালো মা, পাশপাশি স্থানীয় একটা বিদ্যালয়ের সকলের পছন্দের শিক্ষিকা। তারপরও তিনি সুখী ছিলেন না। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম—নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য তিনি কী কী করেন, নিজের ঝুলিতে কী কী পুরেছেন। তিনি আমার দিকে অসহায়ভাবে কয়েক সেকেন্ড তাকালেন, তারপর একগাল হেসে দিলেন। “অনেকদিন হলো, আমি নিজের জন্য কিছু করি না। এমনকি এখন তো আমি নিজের পছন্দ, অপছন্দও জানি না।”
সমাজে এমন স্ত্রী কিংবা মায়ের দেখা মেলা অসম্ভব নয়। অন্যের দেখভাল করতে করতে যখন বিরতিহীনভাবে আপনার দিন, সপ্তাহ, মাস কেটে যাবে, তখন নিজের জন্য কিছু করার কথা ভাবাও দুঃসাধ্য। একবারের জন্যও সম্ভব না। সত্যটা হলো, আমরা অনেকেই আমাদের মাকে দেখে বড় হয়েছি। সেই মা, যিনি নিজের ছাড়া বাকি সবার সেবা করতে প্রস্তুত। আমরা দেখেছি, আমাদের মায়েরা সন্তানের জন্য, পরিবারের জন্য, সম্পর্কের জন্য নিজের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা কুরবান করেছেন। আমরা দেখেছি, আমাদের মায়েরা বিনা বাক্যব্যয়ে, সবার বোঝা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ সব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এই শিক্ষাটা আমরাও পেয়েছি—সেবা করা মানেই আত্মত্যাগ। মা হওয়া মানেই নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেওয়া। যতদিন না আমরা মায়েদের মতো রান্না, চলাফেরা, সাফসুতরা না করছি—ততদিন অব্দি আমরা বুঝতে পারি না ক্লান্তি, হতাশা, বিচ্ছিন্নতা, বিরক্তি বলতে আসলে কী বোঝায়। আমরা এও জানতাম না, একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওপাশের মানুষটাকে আর চিনতে পারব না।
আমাদের অনেকের মনে একটা বদ্ধমূল ধারণার আবাস—ভালো মুসলিম হওয়ার একটা মাত্র উপায় আছে। একটাই ছাঁচ, যার আদলে নিজেকে গড়ে নিতে হবে। যেখানে কোনো স্বতন্ত্রতা নেই, কোনো স্বীকৃতি নেই। আল্লাহ যে গুণাবলি আমাদের দিয়েছেন, তারও কোনো উৎযাপন নেই। স্রেফ একটা ফর্দ—
• বিনয়ী • শান্ত • গম্ভীর • ঘরকুনো • বাধ্য • নত • লাজুক • অসারী • অনুসারী
জীবনের লক্ষ্যের কথা যদি ধরি, তবে কেবল তিনটি অর্জন—ভালো স্ত্রী, ভালো মা, ভালো পর্দানশিন নারী। যদিও এসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে খারাপ কিছু নেই। কিন্তু, যাদের মধ্যে এই বিশেষ গুণগুলো নেই, ব্যাপারটা তাদের জন্য মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়।
• প্রাণবন্ত • প্রবল • বহির্গামী • পেশাদার • জেদি • স্বাধীন • আত্মবিশ্বাসী • কর্মঠ • দলনেত্রী
যদি বোনদের কোনো বৈঠকে গিয়ে আপনার মনে হয়, আপনি এখানে মানানসই না। কেননা, আপনি একটু বেশি বেশি করছেন, নয়তো অন্যদের চেয়ে আলাদা—তাহলে আপনি বুঝবেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি। আচ্ছা, এই ধারণাটা আমরা কোথায় পেলাম যে, কেবল একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য-সম্পন্ন মেয়েরাই সমাজে বসবাস করতে পারবে? যে নারী তার জায়গাটা জানে, যে তার অবস্থানকে সম্মান করে; যে খুশিমনে ডুবে যেতে পারবে, যে তার তৃতীয় কিংবা চতুর্থ অবস্থান নিয়ে খুশি, যে নিজের চেয়ে অন্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়—তাকেই কেবল সমাজে গ্রহণ করা হবে। এসব আমরা কোথায় পেলাম?
আমার কাছে এর কিছু উত্তর আছে। সংস্কৃতি বরাবরই সমাজের হর্তাকর্তাদের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেয়—এই প্রবণতাকে কিছুটা দোষ দেওয়া যায়। কিন্তু, আমাদের এটাও স্বীকার করতে হবে যে, নারীদের দুর্বল অবস্থান ও পুরুষদের অত্যাচারের জন্য দুর্বল পুরুষের (ও নারীর) অবদান অনেক। শুকরিয়া, যে জিনিসটা এখন পরিবর্তিত হচ্ছে। মুসলিম নারীদের আচরণ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমাদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা বদলাচ্ছে। আমরা এখন দম নিতে পারছি, ইসলামের মধ্যে থেকেই নিজেদের পথ খুঁজে পাচ্ছি। পাশাপাশি আল্লাহ আমাদের যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে নিজেকে গড়ে নিচ্ছি।
কিন্তু নিজের মতো করে আত্মপ্রকাশ করতে চাইলে কী করা উচিত? নিজের মতো প্রকাশ করার ব্যাপারটা সহজ শোনালেও বাস্তবে এত সহজ নয়। এর মানে—জোরালোভাবে নিজেকে স্বীকার করা, নিজেকে ভালোবাসা। দুনিয়ার কেউই আপনাকে ভালোবাসতে পারবে না, যতক্ষণ না আপনি নিজেকে ভালোবাসবেন।
নিজেকে ভালোবাসা:
নিজেকে কীভাবে ভালোবাসা যায়—সেটা আমাদের কেউ শেখায় না। আমরা অধিকাংশই বড় হয়েছি সমালোচনা পেয়ে, অন্যের সাথে তুলনা করে এবং শর্ত মোতাবেক ভালোবাসা পেয়ে। অনেক মা-বাবা তাদের মেয়ে সন্তানকে পারফেক্ট কন্যা, পারফেক্ট বোন, পারফেক্ট হবুবধূ হিসেবে তৈরি করতে চান। সেজন্য অনিচ্ছায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন—লজ্জা, গঞ্জনা। একজন বালিকা হিসেবে আপনাকে সবসময় বিভিন্ন করণীয় ও বর্জনীয় মেনে চলতে হয়—আচরণ, বাহ্যিক সৌন্দর্য, সম্ভাবনাসহ সকল ক্ষেত্রে। আমরা কখনো এমনটা শুনি না, "তুমি যেমন আছো তেমনই যথেষ্ট।” কেউ আমাদের শেখায় না, কীভাবে নিজেকে ভালোবাসতে হয়। এই শিক্ষাটা আমাদের নিজেদের শিখে নিতে হবে, যেমনিভাবে নারী হিসেবে আমরা হাঁটতে শিখি। আমাদের অনেকে এখনও সেটা শিখছি।
কিন্তু আপনি যদি এখনও নিজেকে তাচ্ছিল্য করেন, অন্যের সাথে তুলনা করেন, এখনও নিজেকে অনেক ছোটো ভাবেন—তবে নিজেকে ভালোবাসা খুব কঠিন। আকাঙ্ক্ষা এবং স্বীকার করার মধ্যে আমাদের সমতা করতে হবে। বড় লক্ষ্য স্থির করে, নিজের কমতিগুলো স্বীকার করতে হবে। এসব থাকা সত্ত্বেও নিজেকে ভালোবাসতে হবে। কেননা, মাঝে মাঝে নিজের কড়া সমালোচক হলো, আয়নায় দাঁড়ানো নিজেরই প্রতিবিম্বটা। অপরদিকে, এই নারীটি আবার আপনার জীবনের সকল ব্যক্তির একটা সম্মিলিত রূপ। যে সেই ছোটোবেলা থেকে ভেতরের আপনাকে চেনে, আপনার বিশ্বাস সম্পর্কে যার ধারণা আছে। আপনার ভেতরের আসল সত্তা সে। সে আপনার মস্তিষ্কের সেই আওয়াজ, যে সীমাবদ্ধ বিশ্বাসগুলো আপনার মস্তিষ্কে জিকিরের মতো গুনগুন করে, অন্যের সমালোচনাগুলো বারবার কানে বাজে। সে আপনাকে সেসব মিথ্যা কথাগুলো বলেছে, যা এতদিন ধরে আপনি সত্য বলে বিশ্বাস করে এসেছেন। যেমন;
*আপনি কখনোই যথেষ্ট ভালো হতে পারবেন না।
*আপনি একটা উটকো ঝামেলা।
*আপনি একটা হারু পাবলিক।
অতীতে আপনি যতবারই হেরে যান না কেন, যত বেশি ভুলই করেন না কেন, যতবারই পা পিছলে পড়ে যান না কেন—তাতে কিছু যায়-আসে না। প্রতিবারই আপনার একটা পছন্দ ছিল—নিজের গল্পটা কীভাবে বলবেন, আপনার মন সেটা কীভাবে মনে রাখছে। যদি আপনি ভুক্তভোগী হওয়াকে বেছে নেন, তবে আপনার পুরো মনোযোগ ছিল—কীভাবে আপনি গন্ডগোলটা পাকিয়েছেন, কীভাবে পুরোটাই আপনার দোষ ছিল এসবে।
যদি আপনি নায়ক হওয়াকে বেছে নেন, তাহলে আপনার পুরো মনোযোগ হবে কোন কাজটা আপনি সঠিক করেছেন। এর ফলস্বরূপ আপনার সাথে কী কী ভালো হয়েছে, আপনি কতটা শিখেছেন। ব্যাপারটা হলো, আমরা ভুলে যাই আল্লাহ আমাদের এভাবেই সৃষ্টি করেছেন। শত কমতি, ভুল, অক্ষমতা, হারের মধ্যেও আমরা সুন্দর। এটা এমন যেন আমরা ভুলে গিয়েছি, আল্লাহ আমাদের মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, জ্ঞান দিয়েছেন। যেন আমরা বেড়ে উঠতে পারি। যেন আমরা ভুলে গিয়েছি, আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে, ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন।
অনেকে হয়তো অবাক হয়ে ভাবছেন—আমাদের সৃষ্টি করার পেছনে স্বতন্ত্র সেই উদ্দেশ্যটা কী? মহা-মহিম আল্লাহ কুরআনে সেটা বলেছেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُوْنِ
“আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” (সুরা যারিয়াত: ৫৬)
সোজাসাপটা জবাব, তাই না? আর ইসলামে ইবাদতের সৌন্দর্য, কী বলব! এটা কত চমৎকার। ইবাদতকে শরীর, মন এবং মস্তিষ্কের সামগ্রিক দিক থেকে কল্পনা করাটা কত বড় নেয়ামত। ইবাদত মানে স্রেফ নবিজি সা.-এর শেখানো কিছু আনুষ্ঠানিক আচার-আচরণ না। বরং প্রতিদিনের প্রতিটি কাজ সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে করলে তাও ইবাদত বলে গণ্য হবে।
প্রতিদিনের কাজগুলো, প্রতিটি চরিত্রে পালন করা আপনার কর্তব্যগুলোও ইবাদত হতে পারে। সে আপনি যে-ই হোন—ছাত্রী, মালকিন, মা, স্ত্রী কিংবা কর্মজীবী। নিত্যদিনের কাজগুলো সঠিক উদ্দেশ্যে করলে, সেটাও ইবাদত হতে পারে—মনজিল পাঠে যেমনটা আলোচনা করেছি। সুতরাং মনে রাখবেন, জীবনের যে ধাপে বা যে চরিত্রেই থাকুন না কেন—নায়ক হিসেবে, বিজয়ী হয়ে, নিজের মতো আত্মপ্রকাশ করতে পারবেন।
আল্লাহ আপনাকে স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করেছেন:
এই পৃথিবীতে কেবল একটাই আপনি আছেন। পুরো সময়টাজুড়ে একটা আপনিই ছিলেন এবং আজীবন থাকবেন। আল্লাহ আপনাকে স্বতন্ত্র নেয়ামত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। পাশাপাশি যে উদ্দেশ্যে আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তার পুরো সম্ভাবনাও আপনাকে দেওয়া হয়েছে। আপনার চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, জীবনের গল্প, পরিস্থিতি-সবটাই ভিন্ন, স্বতন্ত্র। এসব আপনাকে আজকের 'আপনি'তে পরিণত করেছে। হ্যাঁ, শত পরীক্ষা, ব্যর্থতা, কমতি সত্ত্বেও। সবগুলো বৈশিষ্ট্য আপনাকে এমন এক নারীতে পরিণত করেছে, যা আপনি এখন আছেন। সেই নারী, যে আপনার ভাবনার চেয়েও বেশি শক্তিশালী, আপনার চিন্তার চেয়েও বেশি সাহসী, আপনার কল্পনার চেয়েও ঢের সক্ষম।
তাই তাকে সেভাবেই থাকতে দিন। অন্য কারো সাথে নিজেকে তুলনা করবেন না। অন্য কারো ছাঁচে নিজেকে গড়বেন না। অন্য কারো আদলে নিজের চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব পরিবর্তন করবেন না একদমই। অন্যকে দেখে অনুপ্রাণিত হোন। কিন্তু কেবল সেসব ক্ষেত্রে, যেসব আপনাকে সাহস জোগায়, আরো জ্বলে ওঠার আলো দেখায়। কেননা, আপনার আলো, আপনার কাছে স্বতন্ত্র।
ভাবনার খোরাক: এখন, আপনার কাছে একটা পছন্দ আছে। হয় আপনি অন্য কারো অনুরূপ হবেন, অন্য কারো অভিজ্ঞতার আলোকে তার ছায়া হবেন, তার পথে তার অনুসারী হবেন। নয়তো নির্ভীকভাবে চলবেন—নিজের আলাদা কন্ঠ, আলাদা মেধা, আলাদা কাজ নিয়ে।
আপনার স্বজাতি খুঁজে বের করুন:
যারা আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য এই কথাটাই যথেষ্ট যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের খেয়াল রাখবেন। সেদিন আল্লাহ বলবেন, ‘আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা স্থাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া প্রদান করব। আজ এমন দিন, যেদিন আমার ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া নেই।’ (মুসলিম)
আমার জীবনে ইসলাম যে নেয়ামতগুলো বয়ে এনেছে, তার একটি হলো বোনদের সাথে সখ্য তথা নারীবন্ধু। এসব আমি সবিস্তারে ফ্রম মাই সিস্টার্স লিপস বইতে বলেছি। সেখানে আমি দ্বীনি বোনের সম্পর্কটা এভাবে বর্ণনা করেছি-এটা বিশেষ কিছু। আমি এতে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছি। এটাতে অহমিকা নেই, হিংসা নেই; বিদ্বেষ, ঈর্ষা কিংবা অহংকারেরও কোনো জায়গা নেই। এটা পবিত্র ও আত্ম অহমিকা বিবর্জিত। এটা পৃথিবীর ঊর্ধ্বে, অদ্ভুত সুন্দর একটা সম্পর্ক।
যখন আমি প্রথমবার দ্বীনি বোনদের সম্পর্কে বলেছি, তখন থেকে হাজারো বোনের সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছে। স্বর্গীয় আদর্শগুলো মেনে চলতে, সবার মতো আমিও জীবনে নানান উত্থানপতনের সম্মুখীন হয়েছি। সবসময়, সবকিছু আমাদের নাগালে থাকে না, তাই না? হয়তো আপনি কোনো দ্বীনি বোনের থেকে কষ্ট পেয়েছেন, নয়তো প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কখনো বা সেই দ্বীনি বোনদের হাতেই হৃদয়টা ভেঙে খান খান হয়েছে। হয়তো আপনাকে নিয়ে কানাঘুষো হয়েছে, অপবাদ দিয়েছে, কিংবা আপনার নামে কালিমা লেপন করা হয়েছে। এমনও হতে পারে, আপনার বোনেরা আপনাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দেয় না। উলটো আপনার কাজগুলো বিচার করে। নয়তো, অধিকাংশ বোন আপনার মতন না।
আপনার অভিজ্ঞতা যেমনই হোক না কেন-আমি আপনাকে বলছি, আপনার একটা স্বজাতি খুঁজে বের করুন। “তাহলে, আমার স্বজাতি কোনটা?”-জি! আপনার প্রশ্নটা আমি শুনেছি। আপনার স্বজাতি হলো সেই বোনেরা, যারা আপনাকে আরো উপরে তোলে, আপনাকে প্রতিনিয়ত সমর্থন করে, বড় হতে শেখায়-একজন বিশ্বাসী হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে। আপনি কাকে সময় দিচ্ছেন, কার সাথে মিশছেন, কে আপনাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে-সেটা বাছাই করার অধিকার আপনার আছে।
আপনার স্বজাতিকে খুঁজে বের করুন। তারা এখানেই আছে-সেই বোনেরা, যারা মনে করে, আপনি যেভাবে আছেন সেভাবেই অসাধারণ। যখন আপনি কিছু একটা করতে চাচ্ছেন, তখন যারা আপনাকে উৎসাহ দেয়, আপনার জন্য সময় রাখে। সেসব নারীদের খুঁজে বের করুন, তাদের সাহচর্য উপভোগ করুন। পাশাপাশি, আপনি নিজেও সেই বোনটা, সেই বন্ধুটা হোন-যাকে আপনি সহচর হিসেবে পেতে চান। অন্য বোনের মধ্যে যে গুণগুলো দেখতে চান, সেগুলো নিজের মধ্যেও তৈরি করুন। তাদেরকে আপনার জীবনের একটা অংশ বানিয়ে নিন। আপনার আলোটা অন্যদের দিন, যেন তারা আলোকিত হতে পারে। তাদেরকে মোটেও দেবেন না, যারা এটাকে হুমকি মনে করে।
আপনার বান্ধবীরা কীভাবে আপনার ওপর প্রভাব ফেলছে, সেটা দেখুন। নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকে করতে পারেন—
■ এই বোনটার সাথে সময় কাটাতে আমার কেমন লাগে?
■ আমরা একসাথে যে কথাগুলো বলি, সেগুলো আমার ভালো লাগে?
■ তার সাথে থাকলে আমি নেকি কামাই, না কি উলটোটা?
■ সে আমাকে সমর্থন দেয়?
■ আমি তাকে বিশ্বাস করতে পারি?
■ আমি পা হড়কে পড়ে গেলে সে আমাকে টেনে তুলবে?
■ এই সম্পর্কটার ফলে আমি আরেকটু বেড়ে উঠেছি?
■ আমি আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসি?
ভাবনার খোরাক: কোনো একটা বন্ধুকে কল্পনা করুন, যে আপনার সম্পর্কে ঠিক এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করছে। তবে তার উত্তরগুলো কী হবে? কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করবেন?
প্রিয় পাঠক, এই আলাপটা আমি আবার কেন আনলাম, তার একটা কারণ আছে। সেটা হলো—আপনার কেবল নিজের ওপর কর্তৃত্ব আছে, অন্য কারো ওপর না।
■ যদি আপনি জীবনে সুখী হতে না পারেন, তাহলে সুখী হওয়ার জন্য আপনার বাহ্যিক আচরণে ও পরিস্থিতিতে কী কী পরিবর্তন এনেছেন?
■ যদি আপনার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার দশা হয়। তবে তার কারণটা বুঝতে, নিজের আচরণ পরিবর্তন করতে এবং সেটা ঠিক করতে আপনি কী করেছেন?
■ যদি আপনার সন্তানরা নাটকবাজ হয়, উৎসন্নে যায়; তবে সেসবের মূল কারণ খুঁজে বের করতে, তা সমাধা করতে আপনি কী করেছেন?
■ যদি আপনার ব্যবসায় ভেস্তে যায়, তাহলে আপনার চিন্তাভাবনা আর পদ্ধতিতে কী পরিবর্তন এনেছেন?
■ যদি আপনার বন্ধুত্ব হয় অগভীর এবং অসম্পূর্ণ; তবে, আপনার স্বজাতি খুঁজে পেতে আপনি কী করেছেন?
■ যদি আপনার সমাজটা ভেঙে পড়ে, তাহলে সেটাকে জোড়া লাগাতে আপনি কী করেছেন?
অন্যভাবে বললে, আপনার জীবনের যে অংশটা ঠিকভাবে কাজ করছে না, সেখানে আপনি কীভাবে নিজেকে প্রকাশ করছেন? নিজের শৈশব কিংবা যারা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, আমাকে তাদের কথা বলবেন না। আমাকে আপনার স্বামীর কথা বলবেন না, যে আপনার কথা শুনে না, যে জীবনেও পরিবর্তন হবে না। আমাকে আপনার সন্তানদের কথা বলবেন না, যারা আপনাকে সম্মান করে না। আমাকে আপনার ব্যবসায় নিয়ে বলবেন না, আজকের পরিস্থিতিতে ব্যবসায় করা কত কঠিন, সেসবও না। আপনার বন্ধুদের সম্পর্কে আমাকে বলবেন না, তারা কতটা হিংসা করে আপনাকে। আর আপনার সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আমাকে বলবেন না।
আমি স্পষ্টভাবে বলছি—সবগুলোই পরীক্ষা; সোজা এবং সহজ উত্তর। চলতি পথে পড়ে থাকা ইটসুরকির মতো এগুলো। গল্পের বইয়ে থাকা নায়কেরা যেমন বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে, তেমনি। আল্লাহ আমাদের জন্য এই বাধাগুলো, এই পরীক্ষাগুলো নিজে পছন্দ করেছেন। এখানে আমাদের পছন্দ করার সুযোগ নেই। কিন্তু আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাব, সেটা আমাদের হাতে। এটাই সবচেয়ে স্বাধীন এবং শক্তিশালী বিশ্বাস। আমাদেরকেই সেটা বেছে নিতে হবে।
জীবনের পরিস্থিতিগুলোতে আমরা ভুক্তভোগী হব না কি বিজয়ী? ভয়, সন্দেহ, অজুহাত, দোষ এসবের আড়ালে আমরা নিজেকে লুকিয়ে রাখব, না কি একজন নায়কের মতো আত্মপ্রকাশ করব?
যখন আমি এভাবে কথা বলি, অনেকে মনে করেন আমি বেশি ন্যাকামি করছি। মোটের ওপর, আমরা সবাই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাই, তাই না? আমরা সবাই মানুষ, যে তার কাজগুলো শেষ করতে চায়। আমরা নিয়তিতে বাধা নই। আমি এটাকে অন্যভাবে দেখতে চাই।
আমার জীবন; একটা মহাকাব্য:
আমি বিশ্বাস করি যে, আমার জীবন একটা মহাকাব্য। বিশ্বজগৎ, এই পৃথিবী এবং তাতে বসবাস করা বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের কথা চিন্তা করলে আমার মনে হয়—আমি গুরুত্বপূর্ণ। আমিও আশ্চর্যজনক কিছু। কিন্তু আল্লাহ সকল বাস্তবতাকে একত্র করতে সক্ষম।
এটা আমি বুঝেছি যখন হজে গেলাম তখন। যেখানে হাজার হাজার হজযাত্রী হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে, সেখানে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে নিজের গুরুত্ব বোঝা খুব সহজ। কিন্তু একই সাথে আল্লাহ আপনার দুআ শুনছেন। আর সেটা তাঁর কাছে মহা মূল্যবান। সুতরাং, জনতার সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতেও যদি আপনি ফিসফিসিয়ে কিছু বলেন, সেটাও মূল্যবান। কেবল সেই শব্দ বা দুআগুলো যে মূল্যবান তাই নয়, দুনিয়ার রবের কাছে আপনার অন্তরটাও বহু মূল্যবান। এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন, সত্যটা উপলব্ধি করুন। একইসাথে এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আনন্দঘন মুহূর্ত।
আমার জীবনটা আমি কেমন দেখতে চাই সেটা—আল্লাহ আমার জন্য সবটা ঠিক করে রেখেছেন এবং তিনি প্রতিনিয়ত আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমাকে পরীক্ষা করছেন, সংকেত দিচ্ছেন। আমি; একটি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, যে পাপে পূর্ণ। তারপরও তিনি প্রতিনিয়ত নিয়ামতরাজি দিয়ে যাচ্ছেন, জনগণের সেবা করার সুযোগ দিচ্ছেন। বেড়ে ওঠা এবং প্রতিদান লাভের সুযোগ দিচ্ছেন। আর তিনি আপনার জন্যও এমনটা করেন। দিনের পর দিন, প্রতিদিন। সুতরাং নিজের জীবনটাকে বিরাট কিছু ভাবতে, একটা সুন্দর যাত্রা হিসেবে গণ্য করতে, আপনাকে কে বাধা দিচ্ছে?
আমাদের সবার যাত্রাটাই যদি হয় আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার, তাহলে সবার পথ ভিন্ন ভিন্ন হওয়াই স্বাভাবিক না? সুতরাং যদি আপনি আমার কথাগুলো মেনে নেন যে, আপনার জীবনটা একটা মহাকাব্য এবং আপনার জীবন একটা যাত্রার ন্যায়; তবে আপনাকে বাছাই করতে হবে; ভুক্তভোগী হয়ে থাকবেন না কি নায়ক হবেন। আপনাকে যেকোনো একটা পছন্দ করতেই হবে।
যদি আপনি নায়ক হওয়াকে বেছে নেন, তবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে—জেতার জন্য, শেখার জন্য, বেড়ে ওঠার জন্য, অনুতপ্ত হওয়ার জন্য, সেবা প্রদানের জন্য, জ্বলে ওঠার জন্য, সফল হওয়ার জন্য।
কেননা, আল্লাহ সবসময় আপনার পক্ষে কাজ করছেন। যদিও মাঝে মাঝে এমনটা মনে নাও হতে পারে। যখন আপনি জানবেন যে, নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই আপনাকে দেওয়া হয়েছে; তখন আপনাকে যা করতে হবে—নিজের পরিচয় দাবি করতে হবে। সাথে ভরসা করতে হবে আল্লাহ আপনার সাথে আছেন। দেখবেন, বাকিটা এমনি এমনি হয়ে যাবে।