📘 শো আপ মুসলিম নারীদের প্রেরণার বার্তা 📄 ৩.৪: পরিবারের জন্য নিজেকে প্রকাশ

📄 ৩.৪: পরিবারের জন্য নিজেকে প্রকাশ


একই জিনিস পরিবারের বেলাতেও খাটে—সম্পর্কগুলোর উদ্দেশ্য কী? নিজের কাজের দায়ভার নিচ্ছি তো? দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সেসব দূর করছি? পরিবারের ঠিকঠাক খেয়াল রাখছি, যেভাবে তারা আমার খেয়াল রাখছে? না কি আমরা রোবটের মতো আচরণ করছি? দায়সারাভাবে কাজ করে আসল 'আমি'কে লুকাচ্ছি? সময় এসেছে এসব নিয়ে একফালি ভেবে দেখার।

📘 শো আপ মুসলিম নারীদের প্রেরণার বার্তা 📄 ৩.৫: স্বপ্নগুলোর জন্য নিজেকে প্রকাশ

📄 ৩.৫: স্বপ্নগুলোর জন্য নিজেকে প্রকাশ


আপনাদের মধ্যে এমন ক'জন আছেন, যারা স্বপ্ন দেখা ছেড়ে দিয়েছেন? পরিকল্পিত ভাবনাগুলোকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছেন? লক্ষ্যগুলো হাত ফসকে বেরিয়ে যেতে দিয়েছেন?

আমি এমন অনেক বোনের খবর জানি, যাদের হৃদমাজারে ছিল বিবিধ স্বপ্নের আবাস। তন্মধ্যে কেউ কুরআন হিফজ করতে চেয়েছেন তো কেউ সন্তানের হোমস্কুলিং-এর স্বপ্ন দেখেছেন। পক্ষান্তরে কেউ একটা ব্যবসায় শুরু করতে চেয়েছেন, তো কেউ আবার হতে চেয়েছেন প্রচণ্ড ভ্রমণপিয়াসি। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন কিংবা একটা বই লিখা অথবা দাতব্য সংস্থা স্থাপন-এই ফর্দের যেন অন্ত নেই।

কিন্তু, নিজের স্বপ্নগুলোকে আঁকড়ে ধরে বাঁচা আদতে এতটা সহজ নয়। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং চারপাশের মানুষগুলো বারবার আপনাকে এটা স্মরণ করিয়ে দিবে যে, আপনার স্বপ্নগুলো নিতান্তই অবাস্তব, নিরেট আকাশকুসুম ভাবনা। আর সেই স্বপ্নগুলো সাধন করা যে একেবারেই অসম্ভব, এটাই আপনাকে তারা পইপই করে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চাইবে। তাই নিজের স্বপ্নগুলোর জন্য বাঁচতে হলে, সর্বপ্রথম তাদের যথার্থতা আপনাকে মেনে নিতে হবে।

নিজের স্বপ্নগুলোর জন্য আপনি বাঁচবেন কেননা আপনার সেই স্বপ্নগুলো মহা মূল্যবান। আশারাজি পূরণ করতে ব্যয়িত আপনার মূল্যবান সময় কিংবা শ্রম, কোনোটাই বৃথা যাচ্ছে না। আরো একটুখানি ভালো কিছু করা কিংবা অধিক অর্জনের সক্ষমতা অথবা আরো বেশি উন্নতি করার এই যে অদম্য ইচ্ছে-এই ব্যাপারগুলোকে সম্মান করুন। মোদ্দাকথা, খোদ নিজেকে সম্মান দিতে শিখুন।

তাই সময় এসেছে নিজের স্বপ্নগুলোর জন্য বাঁচার নিমিত্তে এখনই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হোন। আর সে-মতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, যেন সেই চিরসবুজ স্বপ্নগুলো অনায়েসে বাস্তবায়িত হয়।

ভাবনার খোরাক: আপনি অন্তরে কোন স্বপ্নের লালন করছেন? ভবিষ্যতে তা নিয়ে কী ভাবছেন? কোন পরিকল্পনাটা সত্যি হওয়ার জন্য মনে মনে সেটার আশা করছেন?

📘 শো আপ মুসলিম নারীদের প্রেরণার বার্তা 📄 ৩.৬: প্রভাবক বৃত্ত

📄 ৩.৬: প্রভাবক বৃত্ত


আপনি হয়তো ভাবছেন-নিজের আসল রূপটা দেখালে হবেটা কী? কিংবা আপনি ভাবছেন-আমি স্রেফ একজন মা, আমি বিখ্যাত কেউ নই। সেজন্যই শুরুতে আমি নিজের গল্পটা আপনাদের বলেছি, চিন্তা করার খোরাক জুগিয়েছি। এখন ভেবেচিন্তে এই প্রশ্নটার উত্তর দিন তো-আপনার প্রভাবক বৃত্তের মধ্যে কারা আছে?

জনপ্রিয় আমেরিকান বক্তা, স্যার জোহরা সারওয়ারি এবং আমি একবার ইংল্যান্ড সফরের সময় আলাপ করেছিলাম। আমরা সাতাশটির মতো অনুষ্ঠানে একসাথে কথা বলেছি, যা ইস্ট লন্ডনের একটা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রুমের পরিবেশ ছিল উষ্ণ এবং ইতিবাচক। আমরা বিভিন্ন অনুপ্রেরণাদায়ক কথাবার্তা শুনছিলাম—মুসলিম নারী হিসেবে আমরা কতটা ভাগ্যবতী, নিজেদের পরিচয়টা আমরা কীভাবে প্রকাশ করব, সমাজে কীভাবে নিজেদের পদচিহ্ন রাখব, এসব। উদাহরণ হিসেবে অতীত এবং বর্তমানের অনেক মহীয়সী নারীর গল্প বলা হলো। অতঃপর, আমাদের আর কোনো সন্দেহই রইল না যে—আমরা পারি। বরং আমাদের উচিত মুসলিমা হিসেবে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখা।

আলোচনা শেষে, সকলকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলো। একজন বোন হাত উঠিয়ে প্রশ্ন করলেন—যদি আপনি জনপ্রিয় কেউ না হতেন? তাঁর কণ্ঠে কিছুটা সংকোচ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন—যদি ফেসবুকে আপনার এত এত ফলোয়ার না থাকত? যদি আপনি একজন সাধারণ নারী হতেন? তাঁর প্রশ্নে অনেকে সহমত জ্ঞাপন করল। রুমের পরিবেশ ক্রমশ ভারী হতে লাগল।

প্রশ্নটা তো ঠিকই আছে। ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে ত্রিশ হাজার ফলোয়ার না থাকলে আমরা কীভাবে পরিবর্তন আনব? জাতীয় পত্রিকায় লিখতে না পারলে আমরা কীভাবে প্রভাব বিস্তার করব? আমরা যদি সুপরিচিত হতে না পারি, তবে কীভাবে পরিবর্তন আসবে?

এবার আমি আপনাদের আসল ব্যাপারটা বলি: আমরা সবাই প্রভাব বিস্তারকারী। সবাই মানে প্রত্যেকে।

কারণ, আমাদের সবার আশেপাশেই একটা প্রভাবক বৃত্ত আছে। একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ আমাদের ভালোবাসে, বিশ্বাস করে, আমাদের থেকে পরামর্শ চায়।

ভেবে দেখুন। সেটা হতে পারে আপনার সন্তানেরা বা আপনার পরিবার। আপনার হালাকা সংস্থা কিংবা কলেজের নারী সংগঠন। আপনার সহকর্মী কিংবা কর্মচারীও হতে পারে। কিংবা আপনি যে স্কুলে পড়াচ্ছেন তার বাচ্চারা বা বোর্ডের সদস্যরা। হতে পারে এলাকার মসজিদ কিংবা সামাজিক সংঘ, ফেসবুক আইডি বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। এমনকি হতে পারে আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট, টুইটার বা ত্রিশ হাজার ফলোয়ার সংবলিত সেই ইনস্টাগ্রাম আইডিও।

এবার আপনি দেখলেন তো বৃত্তটা কীভাবে ধীরে ধীরে বাড়ছে?

আমাদের সবার মধ্যেই কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য, সমস্যা আছে, যা দুনিয়ায় আমাদের নিজ নিজ উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করে। যেমন, ভিন্ন ভিন্নভাবে নিজের সর্বস্ব দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহর ইবাদত, নিজের ও অন্যের জীবনে বরকত নিয়ে আসে। যার কোনো হিসাব নেই, যা সংখ্যায় গণনা করা যায় না। আছে স্রেফ গুণগত মান।

আপনার প্রভাবক বৃত্ততে থাকা মানুষগুলোর জীবনে যদি আপনি কোনো প্রভাব রাখতে চান—তবে আল্লাহকে ভরসা করুন, তার ওপর বাকিটা ছেড়ে দিন। আপনি শুধু নিজেকে প্রকাশ করুন, একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখার চেষ্টা করুন। এমন কিছু, যা আপনি চলে যাওয়ার পরও মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে বিইজনিল্লাহ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px