📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 জিহ্বা সম্পর্কিত নিষেধাবলী

📄 জিহ্বা সম্পর্কিত নিষেধাবলী


মিথ্যে সাক্ষ্য দেয়া, সতী সাধবী নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দেয়া। কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে মিথ্যে দোষী সাব্যস্ত করা, যে কোন ধরনের অপবাদ রটানো।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কারো দোষ বর্ণনা করা, খারাপ নামে ডাকা, গীবত ও নিন্দা চর্চা করা। কোন মুসলমানকে বিদ্রুপ করা, বংশ গৌরব দেখানো, বংশ মর্যাদার প্রতি আঘাত করা, গাল মন্দ করা, অশ্লীল ও ঘৃণ্য আচরণ করা, অনুরূপ ভাবে অত্যাচারের শীকার না হয়েও মন্দ বিষয় প্রকাশ করা। মিথ্যে বলা আর সবচেয়ে জঘন্য মিথ্যে হচ্ছে কাল্পনিক স্বপ্ন বলা। যেমন: ফজিলত, বিশেষ মর্যাদা বা অর্থ উপার্জনের অভিপ্রায়ে মিথ্যে ও অলীক ঘটনার বর্ণনা দেয়া অথবা স্বপ্নের কথা বলে ঐ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন করা, যার সঙ্গে শত্রুতা রয়েছে আর এ ধরনের কাজের শাস্তি হচ্ছে এই যে ঐ ব্যক্তিকে কিয়ামত দিবসে কঠিন ও অসম্ভব কাজের দায়িত্ব দেয়া হবে, যেমনঃ দুটি চুলের একটিকে আরেকটির সঙ্গে গিঁট দেয়া। নিজেকে পুত পবিত্র মনে করা, কানা ঘুষা করা, তৃতীয় ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দুজনের মধ্যে কোন কথা বলা; কেননা তাতে সে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যায়।
অনুরূপ ভাবে অন্যায় ও সীমালংঘন মুলক তৎপরতার ব্যাপারে গোপন শলা পরমর্শ করা, তেমনি ভাবে মোমিন মুসলমানকে অভিশাঁপ করা এবং এমন ব্যক্তিকে লানত করা যে এর উপযুক্ত নয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথার আওয়াজের চেয়ে নিজের আওয়াজ বুলুন্দ করা, এ পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস পাঠকারীর আওয়াজের চেয়ে কারো কণ্ঠস্বর বেড়ে যাওয়া এবং তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরের পার্শ্বে উচ্চ স্বরে কথা বলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আওয়াজের চেয়ে ব্যক্তির আওয়াজ বাড়িয়ে দেয়ার শামিল।
মৃত ব্যক্তিকে গালি দেয়া, মোরগকে গালি দেয়া; কেননা মোরগ নামাজের জন্য ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়, বাতাসকে গালি দেয়া, যেহেতু বাতাস আল্লাহর আদেশে চলে, জ্বরকে গালি দেয়া; কেননা উহা গুনা মাপের কারন হয়, শয়তানকে গালি দেয়া, যেহেতু সে নিজকে বড় মনে করে, বরং এক্ষেত্রে শয়তানের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহ্র নিকট সাহায্য চাওয়াই লাভ জনক।
মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা অথবা কোন বিপদের মুখে মৃত্যু আশা করা, অনুরুপভাবে নিজের আত্মা, সন্তান-সন্ততি চাকর- চাকরানী ও মাল-মালের উপর বদদোয়া করা।
আঙ্গুরকে অতিথি পরায়নের অর্থে ব্যবহার করা, কেননা জাহেলী যুগের লোকেরা বিশ্বাস করত যে, মাদক দ্রব্য অতিথি পরায়ন হতে সাহায্য করে।
কোন ব্যক্তি নিজের সম্পর্কে এ কথা বলা যে, "আমার আত্মা খারাপ হয়ে গেছে” এবং এ রকম কথা বলা যে, "আমি অমুক আয়াত ভূলে গেছি” বরং বলা উচিৎ যে, আমাকে ভুলানো হয়েছে, এ কথা বলা সমীচীন নয় যে, হে আল্লাহ তুমি যদি ইচ্ছা কর তাহলে আমাকে মাফ কর, বরং আল্লাহর নিকট দোয়া করা ও কোন কিছু চাওয়ার সময় দৃঢ় প্রত্যয় পোষন করা। "সায়্যেদ” বা নেতা শব্দটিকে মোনাফিকের অর্থে ব্যবহার করা, কারো খারাপ কামনা করা, বিশেষ করে স্বামী তার স্ত্রীর জন্য খারাপ কামনা করা। যেমন "আল্লাহ তোমাকে কুৎসিত করুন" বলে দোয়া করা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্যে 'রায়িনা'(১) (যার অর্থ দাঁড়ায় হে আমাদের রাখাল) বলা, সালাম দেবার পূর্বেই প্রশ্ন করা এবং একে অপরের প্রশংসা করা।

টিকাঃ
(১) এই শব্দটি মোনাফিক ও ইয়াহুদীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হেয় প্রতিপন্ন করে বলত।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 খানা পিনার আদব সম্পর্কিত নিষেধাবলী

📄 খানা পিনার আদব সম্পর্কিত নিষেধাবলী


একত্রে খেতে বসলে অন্যদের সম্মুখ থেকে (হাত বাড়িয়ে) খাওয়া। খাবারের মাঝ খান থেকে খাওয়া বরং নিয়ম হচ্ছে খাবারের পাত্রের এক পার্শ্ব থেকে খাওয়া; কেননা খাবারের মাঝখানেই বরকত অবর্তীণ হয়। অনুরূপ ভাবে হাতের লোকমা পড়ে গেলে তা উঠিয়ে না খাওয়া বরং উচিৎ হলো পড়ে যাওয়া খাবারকে পরিস্কার করে পুনরায় খাওয়া, লোকমাটিকে শয়তানের জন্য রেখে না দেয়া।
স্বর্ণ ও রুপার তৈরী পাত্রে পানি পান করা, দাঁড়িয়ে পান করা। ভাঙ্গা পাত্রের ভাঙ্গা স্থলে মুখ লাগিয়ে পান করা; কেননা তাতে পান করতে কষ্ট হয়। সরাসরি পাত্রের মুখের সঙ্গে মুখ লাগিয়ে পান করা এবং পানীয় পাত্রের ভিতরে নিঃশ্বাস ফেলা ও এক দমে পানি পান করা বরং তিন বারে পান করা; কেননা ইহা সবচেয়ে তৃপ্তি দায়ক ও আরাম দায়ক পন্থা।
খাদ্য ও পাণীয় পাত্রে ফুঁ'দেয়া। বাম হাতে খাওয়া ও পান করা, পেট ছেড়ে দিয়ে খেতে বসা। কোন ব্যক্তি দুটি খেজুর একত্রে খেয়ে ফেলা। তবে তার খাবারের সঙ্গী যদি তাকে অনুমতি দেয় তাহলে এভাবে খেতে দোষ নেই; যেহেতু এ ধরনের জোড়ায় জোড়ায় খাওয়ার মধ্যে তার পেটুক হওয়া প্রমাণ করে এবং তার সঙ্গীর জন্য বিরক্তিকর হয়।
আহলে কিতাবদের (ইয়াহুদী ও খৃষ্ঠানগণ) ব্যবহৃত তৈজস পত্র ব্যবহার করা, তবে হ্যাঁ এগুলো ছাড়া যদি অন্য কোন পাত্র না থাকে তাহলে ভাল করে ধুয়ে নিয়ে সেগুলোতে খেতে পারে। অনুরূপ ভাবে যে সব খাবার অনুষ্ঠানে মদের ব্যবস্থা থাকে সেখানে শরীক হওয়া।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 ঘুমের নিয়মাবলী সংক্রান্ত নিষেধাবলী

📄 ঘুমের নিয়মাবলী সংক্রান্ত নিষেধাবলী


খোলা ছাদে ঘুমানো যার চতুর্দিকে প্রাচীর নেই, যাতে করে ঘুমের মধ্যে এ পাশ ও পাশ করার সময় পড়ে না যায়। একা নিসংঙ্গ অবস্থায় রাত্রি যাপন করা, যাতে করে সে নিসংঙ্গতা ও ভয় ভয় অনুভব না করে, বিশেষকরে সে যদি দুর্বল মনের মানুষ হয় (তাহলে তার এই অবস্থা আরো বেড়ে যাবে) এবং ঘুমের সময় ঘরের আলো জ্বালিয়ে রাখা। হাতের মধ্যে চর্বি যুক্ত কিছু রেখে ঘুমানো। উপুর হয়ে পেটের উপর ঘুমানো, চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থায় এক পা আরেক পায়ের উপর রাখা, যদি তাতে গুপ্তাঙ্গ প্রকাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোন ব্যক্তির নিকট খারাপ স্বপ্নের কথা প্রকাশ করা বা ব্যাখ্যা করা। কেননা এ ধরনের স্বপ্ন শয়তানের ক্রিড়ার ফলে সংঘটিত হয়ে থাকে।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাবলী

📄 বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাবলী


কোন মানুষকে অন্যায় ভাবে হত্যা করা, সন্তানদের গরীব হওয়ার ভয়ে হত্যা করা ও আত্নহত্যা করা।
জ্বেনা ব্যভিচার করা, সমকাম করা, নেশা করা এবং মাদক দ্রব্য তৈরী করা, বহন করা ও বিক্রি করা।
পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, তাদেরকে ধমক দেয়া ও কষ্ট দেয়া। যুদ্ধের ময়দান থেকে শরিয়তের ওজর ছাড়াই পালানো, বিনা কারনে মোমিন পুরুষ বা নারীকে কষ্ট দেয়া এবং আল্লাহকে অসন্তোষ্ট করে কোন মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করা।)
সন্ধি ও প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে শপথ পাকা পোক্ত হওয়ার পর তা ভঙ্গ করা, গান গাওয়া ও শোনা; ডুগী, তবলা বাঁশী হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাদ্য যন্ত্র বাজানো।
কোন সন্তানকে তার পিতা ছাড়া অন্য কারো সন্তান বলা। কোন প্রাণীকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া। জ্যান্ত ও মৃত প্রাণীকে আগুনে পুড়ে ফেলা। নিহত ব্যক্তিকে মুছলা করা। অর্থাৎ নিহত ব্যক্তির বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ কেটে বিকৃত করা। অন্যায় কাজে সাহায্য করা। গুনাহ ও সীমালংঘন মুলক কাজে সহযোগিতা করা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করা।
না জেনেই ফতোয়া দেয়া, আল্লাহর নাফরমানী করার ব্যাপারে কারো আনুগত্য করা।
মিথ্যা কসম খাওয়া ও গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য শপথ করা এবং চারজন সাক্ষী আনয়ন ব্যতীত কোন সতী সাধবী মহিলাকে অপবাদ দানকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহন করা। তবে সে যদি তওবা করে সংশোধন হয় তা হলে তার সাক্ষ্য গ্রহন করা যাবে। আল্লাহ যে সব পবিত্র বস্তুকে হালাল করেছেন সেগুলোকে হারাম সাব্যস্ত করা। শয়তানের পদাংক অনুসরন করা, কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের হুকুমের উপর স্বীয় মতামতকে প্রাধান্য দেয়া।
কোন গোত্রের লোকদের কথা বার্তা তাদের বিনানুমতিতে শ্রবন করতে চেষ্টা করা এবং তাদের অনুমতি ছাড়াই খবর নেয়া। বিনানুমতিতে কারো বাড়ীতে প্রবেশ করা, অনুরূপ ভাবে গুপ্তাঙ্গের দিকে তাকানো।
যে জিনিষ যার নয় তা দাবী করা, কোন বস্তু না পেয়েও পরিপূর্ণ ভাবে পাওয়ার ভান করা। প্রশংসনীয় কাজ না করেও প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করা।
আল্লাহ তায়া'লা যে জন বসতীকে আজাব দিয়ে ধ্বংস করেছেন সেখানে বেড়াতে যাওয়া, তবে কেহ যদি শাস্তির ভয়ে কান্নাকাটি ও নছীহত গ্রহণের উদ্দেশ্যে সেখানে গমন করে তাহলে কোন দোষ নেই।
নাফরমানী মূলক শপথ করা, (গোয়েন্দাগিরী করা সৎ কর্মশীল পুরুষ ও মহিলাদের প্রতি কুধারণা করা, পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ ও ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং অন্যায় কাজে অবিচল থাকা। অহংকার, গর্ব, দাম্ভিকতা, আত্মম্ভরিতা দেখানো ও দুনিয়াতে ঘৃনিত আনন্দ উৎসব করা যার ফলে অহংকার ও অনিষ্টতার কারন ঘটে। জমিনের উপরে নর্দন কুর্দন করে চলা, মানুষের সঙ্গে অহংকার করা। দান খয়রাত করে তা ফিরিয়ে নেয়া, এমনকি ক্রয় করে হলেও। পুত্র হত্যার দায়ে পিতাকে হত্যা করা। কোন পুরুষ ব্যক্তি অন্য পুরুষের গুপ্ত অঙ্গের দিকে নজর দেয়া, অনুরূপ ভাবে কোন মহিলা অন্য মহিলার গুপ্ত অঙ্গের দিকে তাকানো, তেমনি ভাবে মৃত অথবা জীবিত ব্যক্তির উরুর দিকে তাকানো, পবিত্র মাসের(১) সম্মান (পবিত্রতা) নষ্ট করা, তবে এই মাসে কাফেরদের সাথে জেহাদ করা শরিয়ত সম্মত।
হারাম উপার্জন থেকে ভরণ পোষণ করা, মজুরী না দেয়া, সন্তানদেরকে দান করার ব্যাপারে ইনছাফ না করা।
ওয়ারিশদের ক্ষতি হবে এমন ভাবে অছিয়ত করা, কোন উত্তরাধিকারের জন্য অছিয়ত করা, কেননা আল্লাহ তায়ালা উত্তরাধিকারের জন্য নির্দিষ্ট প্রাপ্য দিয়ে দিয়েছেন।
ওয়ারিশদেরকে নিঃস্ব করে সমস্ত সম্পদ অন্যকে অছিয়ত করে যাওয়া, আর কেহ যদি এমন করেও যায় তাহলে তার অছিয়ত কেবল তার মূল সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেলায় প্রযোজ্য হবে।
খারাপ প্রকৃতির প্রতিবেশীর সঙ্গে সঙ্গ দান, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া, শরিয়ত সম্মত কোন কারণ ছাড়াই কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশী ছালাম কালাম না হওয়া।
দুই আঙ্গুলের মাঝ দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে খেলা করা; কেননা এখানে কষ্ট বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, যেমন: চক্ষু নষ্ট হওয়া, দাঁত ভেঙ্গে যাওয়া, অনুরূপ ভাবে কারো প্রতি চড়াও হওয়া।
কোরআন তেলাওয়াতের সময় এক জন আরেক জনের চেয়ে উচ্চ আওয়াজ করে তেলাওয়াত করা। দুই ব্যক্তি যখন কোন গোপন কথায় লিপ্ত হয় তখন বিনাঅনুমতিতে তাদের মাঝ খানে ঢুকে পড়ে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, তেমনি ভাবে কোন ব্যক্তিকে উঠিয়ে দিয়ে তার স্থানে নিজে বসা। কোন ব্যক্তির নিকটে বসার পর তার অনুমতি ছাড়াই চলে আসা, বসা ব্যক্তির মাথার উপর দাঁড়ানো, অর্ধেক রোদে আর অর্ধেক ছায়ায় এমন ভাবে বসা, কেননা বসার এই পদ্ধতি শয়তানের।
মুসলমানদের ক্ষতি করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারন করা, এছাড়াও মুসলমান ভাইয়ের দিকে কোন ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ইঙ্গিত করা। উন্মুক্ত তরবারী নিয়ে চলাফেরা করা। কেননা এতে ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন অসুবিধা না থাকা সত্ত্বেও হাদিয়া বা উপঢৌকন গ্রহন না করা। অপচয় ও অনর্থক ব্যয় করা, মেহমানের জন্য সাধ্যের অতিরিক্ত ব্যবস্থা করা। সমাজের অজ্ঞ মূর্খদেরকে সম্পদ দান করা।
আল্লাহ পাক পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে একজনকে আরেক জনের উপরে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন তা পাওয়ার আকাংখা করা থেকে কোন মানুষকে নিষেধ করা।
ঝগড়া ফ্যাসাদে লিপ্ত হওয়া। জ্বেনাকারী পুরুষ বা মহিলার উপর শরিয়তের "হদ” (শাস্তি) কায়েম করার সময় তার প্রতি সহানুভূতি দেখানো। খোঁটা দেয়ার মাধ্যমে সাদকা বা দান খয়রাত নষ্ট করে ফেলা, সাক্ষ্য গোপন করা, ইয়াতিমের সঙ্গে কঠোরতা প্রদর্শন করা, কোন ভিখারীকে গলা ধাক্কা দেয়া। অপবিত্র ঔষধ ব্যবহার করা, কেননা আল্লাহ্ তায়া'লা যে সব জিনিষকে মানুষের জন্য হারাম করেছেন তাতে তাদের জন্য কোন আরোগ্য হবার ব্যবস্থা রাখেননি।
যুদ্ধের ময়দানে নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করা। যে কোন বিষয়ে বাস্তবতার চেয়ে অতিরিক্ত প্রকাশ করা।
কোন আলেমকে চ্যালেঞ্জ করা, চিন্তার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি করা ও ভূল ধরার উদ্দেশ্যে কোন সমস্যা পূর্ণ মাসয়ালাহ্ জিজ্ঞাসা করা যার দ্বারা প্রশ্নকারী নিজের মর্যাদা ও মেধার বহিঃপ্রকাশের ইচ্ছা করে, অথবা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা যা ফরজ ও বিতকির্ত বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত নয়, যেগুলো তার দ্বীনি ইল্মের জন্য কোন লাভ জনক নয়।
জুয়াখেলা, চতুষ্পদ জন্তুকে লা'নত করা, বিপদে পড়লে (রাগে দুঃখে) মুখ মণ্ডল ক্ষত বিক্ষত করা। প্রজাদের সঙ্গে প্রতারণা করা।
কোন ব্যক্তি বৈষয়িক ব্যাপারে তার চেয়ে উন্নত ব্যক্তির পানে তাকানো বরং সে যেন অপেক্ষা কৃত তার চেয়ে নিম্ন ব্যক্তির দিকে তাকায়, যাতে করে সে আল্লাহর নেয়ামতের কদর জানতে পারে এবং এ নেয়া'মতকে কোন অবস্থায় খাট করে না দেখে। অনুরূপ ভাবে একে অন্যের উপর গৌরব করাও নিষেধ।
ওয়াদা খেলাপ, আমানতের খেয়ানত, ইল্ম গোপন করা, মন্দ সুপারিশ করা, যেমন: কোন খারাপ ও অন্যায় বিষয়ে মধ্যস্থতা করা।
বিনা প্রয়োজনে মানুষের নিকট চাওয়া, সফর অবস্থায় ঘন্টা ব্যবহার করা, বিনা প্রয়োজনে কুকুর পোষা, তবে হ্যাঁ যে সব কুকুর গৃহ পালিত পশু ও ক্ষেত পাহারা দেয় এবং শিকার ও বাড়ী পাহারার কাজ করে সেগুলোকে পোষা নিষেধ নয়।
আল্লাহ্ কর্তৃক কোন হদ কায়েম ব্যতিত সাধারন ভাবে কোন অপরাধীকে দশ বেতের অধিক শাস্তি দেয়া।
অতিরিক্ত অট্টহাসি দেয়া, রোগীদেরকে খাওয়া ও পান করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা; কেননা আল্লাহ্ তায়ালা তাদেরকে খাওয়ান ও পান করান। অঙ্গহানী হওয়া ব্যক্তির প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকানো।
কোন মুসলমান তার অপর মুসলমান ভাইকে ভীতি প্রদর্শন করা, কিংবা প্রকৃত অর্থেই হোক আর তামসার ছলেই হোক তার অর্থ সম্পদ নিয়ে নেয়া, কোন ব্যক্তির তার হেবা ও দান কৃত বস্তু ফিরিয়ে নেয়া, তবে পিতা যদি তার সন্তানকে কিছু দান করার পর ফিরিয়ে নেয় তাহলে তার জন্য তা নিষেধ নয়।
বাম হাত দ্বারা কোন কিছু দেয়া বা নেয়া, মানত করা; কেননা ইহা আল্লাহ্র ফয়সালাকে রদ করতে পারে না, তবে কৃপন ব্যক্তির নিকট হতে এর মাধ্যমে কিছু বের করা যেতে পারে।
অভিজ্ঞতা ব্যতিত চিকিৎসা অনুশীলন করা, পিপিলিকা মৌমাছি ও হুদ হুদ পাখিকে হত্যা করা।
একা একা সফরে বের হওয়া। কোন প্রতিবেশীকে নিজ বাড়ীর দেয়ালে প্রয়োজনে কাঠ বা খুঁটি লাগাতে নিষেধ করা। ইশারা ইঙ্গিতে সালাম দেয়া, পরিচিত ব্যক্তির জন্য সালাম নির্দিষ্ট করা, বরং পরিচিত অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া কর্তব্য। অনুরূপ ভাবে সালাম দেবার পূর্বেই কোন জিনিষ চাইলে তা দিয়ে দেয়া কোন পুরুষ অন্য কোন পুরুষকে চুমা দেয়া। কসমকে শপথ কারী ও সৎকাজের মাঝে একটি অন্তরায় মনে করা, অর্থাৎ ভাল কাজ না করার জন্য শপথ করে থাকলে, এ কারনে ভাল কাজ না করা নিষিদ্ধ, বরং ভাল ও কল্যাণের কাজটি সম্পাদন করা আর কসম ভঙ্গের কারনে কাফফারা আদায় করা উচিৎ।
রাগান্বিত অবস্থায় বাদী ও বিবাদীর মাঝে বিচার ফায়সালা করা, অথবা উভয়ের কথা না শুনে শুধু মাত্র একজনের জবান বন্দি শোনার পর ফয়সালা দেয়া।
সূর্যাস্ত যাবার পর গভীর অন্ধকার না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাদেরকে বাড়ীর বের করে দেয়া; কেননা এ সময় শয়তানেরা বেশী বেশী বিচরন করে।
রাতের বেলায় গাছের ফল ও ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলা, যাতে করে গরীব মিসকীনদের নিকট (ফসল তোলার বিষয়টি) গোপন থাকে এবং গরীবদের সেখান থেকে কিছু দান করার মনোভাব অনুপস্থিত থাকে, আল্লাহ তায়া'লা বলেছেনঃ “তাদেরকে (গরীব মিসকিনদের) ফসল কাটার দিনই তাদের পাওনা দিয়ে দাও”। (সূরা আল - আনয়া'ম: ১৪১)
মুসলমানদের জন্য কষ্টদায়ক এমন কিছু সঙ্গে নিয়ে বাজারের ভিতরে চলাফেরা করা। যেমন খোলা মেলা ধারাল কোন অস্ত্র শস্ত্র।
যে শহর তাউন (প্লেগ) ও কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছে সেখান থেকে বেরিয়ে অন্যত্র যাওয়া, কিংবা সেখানে নতুন করে প্রবেশ করা।
শুক্র, শনি, রবি ও বুধবারে শরীরের কোন অঙ্গে শিংগা লাগানো বরং বৃহস্পতি, সোম ও মঙ্গল বারে উক্ত কাজটি করবে।
হাঁচি দেবার পর যে ব্যক্তি 'আলহামদু লিল্লাহ' বলে না এমন ব্যক্তির হাঁচির জবাবে "ইয়ার হামুকাআল্লাহ্” বলা।
কেবলার দিকে থুথু ফেলা, সফর অবস্থায় রাস্তার মাঝখানে ঘুমানো বা আরাম করা। কেননা এ স্থানটি চতুষ্পদ জন্তুর আশ্রয় স্থল, বায়ু হওয়ার শব্দ শুনে হাসি দেয়া, যেহেতু এই অবস্থা থেকে কোন মানুষই মুক্ত নয়, প্রত্যেকেই এর শিকার। এ অবস্থায় নীরব থাকলে অন্যদের প্রতি বিশেষ রেয়া'য়েত বা কদর দেখানো হয়।
কেহ খুশবু, ফুল এবং বালিশ হাদিয়া দিলে তা ফিরিয়ে দেয়া।
পরিশেষে শরিয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় সমূহের যতটুকু বর্ণনা করা আমার পক্ষে সহজ সাধ্য হয়েছে তা আমি এখানে উল্লেখ করেছি।
মহান আরশের রব্ব, অনুগ্রহকারী আল্লাহ্র সমীপে এ দরখাস্ত করছি যে, তিনি যেন আমাদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সকল প্রকার অশ্লীলতা ও গুনাহের কাজ থেকে দূরে রাখেন এবং আমাদের ও তাঁকে অসন্তোষ্ট করে এমন কারন সমূহের মাঝে বিরাট ব্যবধান সৃষ্টি করেন এবং আমাদের প্রতি করুনা ও রহমত অবতীর্ন করেন। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছু শোনেন, তিনি অতি নিকটবর্তী এবং মুনাজাত কবুল কারী।
মহা সম্মানের অধিকারী তোমার প্রতিপালক লোকদের সকল প্রকার ত্রুটিপূর্ণ বিশেষন থেকে পুত পবিত্র। সকল রাসূলদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা উভয় জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট।

টিকাঃ
(১) পবিত্র মাস বলতে 'আশহুরে হুরুম' যে সব মাসে যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ যেমন: মুহাররম, জিলকদ, জিলহজ্ব, রজব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00