📄 কেনা-বেচা ও উপার্জন বিষয়ক নিষেধাবলী
সূদ খাওয়া, ঐ সব কেনা-বেচা যাতে অজ্ঞতা, ধোকা ও প্রবঞ্চনা রয়েছে। গোশতের বিনিময় ছাগল বিক্রয় করা, পানির অতিরিক্ত হিস্যা বিক্রি করা, কুকুর বিড়াল, রক্ত, মাদক দ্রব্য, শুকর, (শুয়ার) মূর্তি, পুরুষ পশুর বীর্য্য - যা প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয় - বিক্রি করা। কুকুরের মূল্য গ্রহন করা এবং আল্লাহ কর্তৃক যে সব জিনিসকে হারাম ঘোষনা করা হয়েছে, বেচা কেনার ভিত্তিতে সেগুলোর মূল্যও হারাম।
নাজাশ করা, অর্থাৎ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং চমক ও আকর্ষণ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রব্য সামগ্রীর অতিরিক্ত মূল্য বলা। যেমন ডাক ধরে বেচা-কেনার স্থান গুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।
বিক্রির সময় দ্রব্যের দোষ ত্রুটি গোপন করা, জুমআ'র দিনে দ্বিতীয় আজানের পরও ক্রয় বিক্রয় করা, মালিকানা ব্যতীত কোন বস্তু বিক্রয় করা, কোন খাদ্য দ্রব্য পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার আগেই বিক্রয় করা, নগদ আদান প্রদান ও সমপরিমান ব্যতীত স্বর্নের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের পরিবর্তে রৌপ্য বিক্রয় করা, একজনের বিক্রির উপর অন্য জনের বিক্রয় করা, তেমনি ভাবে একজনের খরিদ করার উপর আরেক জনের খরিদ করা এবং এক জনের দর দামের উপর অন্য জনের দাম করা, গাছের ফল পরিপক্ক ও নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে মুক্ত হওয়ার পূর্বেই বিক্রয় করা।
ওজন ও পরিমাপের সময় "তাতফীফ” (১) করা, কৃত্রিম উপায়ে ঘাটতি সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দ্রব্য সামগ্রী মজুদ করা, বাজারগামী ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বা তাকে ক্রয় করে দেবার লক্ষ্যে বাজারে পৌঁছার পূর্বে পথেই তাকে থামিয়ে দেয়া, বরং সর্ব সাধারণের কল্যাণ চিন্তা করে তাকে শহরের বাজারে আসার সুযোগ দেয়া।
শহরের ব্যক্তি কোন গ্রামীন ব্যক্তির দ্রব্য বিক্রি করা, যেমন: শহর বাসী কোন লোক গ্রাম থেকে আসা লোকের দালালী করা। বরং তার জিনিস তাকে বিক্রি করার সুযোগ দেয়া উচিৎ।
কোরবানীর পশুর চামড়া (নিজে খাবার উদ্দেশ্যে) বিক্রি করা, জমি, খেজুর গাছ বা এই জাতীয় কোন জিনিসের মালিকানায় অংশীদার ব্যক্তির জন্য স্বীয় অংশ তার অপর অংশীদারের (Partner) নিকট পেশ না করেই তৃতীয় কোন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করা।
কুরআন দ্বারা উপার্জন করে খাওয়া এবং অধিক পাবার আশায় কুরআন ব্যবহার করা। অর্থাৎ ঐ সকল লোকদের মতো যারা কুরআন পাঠ করে এবং এর সাহয্যে লোকদের নিকট সওয়াল বা ভিক্ষা বৃত্তি করে।
অন্যায় ও জুলুম করে ইয়াতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করা। জুয়া হাউজি ও লুটের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ খাওয়া, সুদ দেয়া ও নেয়া, চুরি করা, গনিমতের মাল থেকে কিছু লুকিয়ে রাখা। মানুষের সম্পদ লুট করা ও অন্যায় ভাবে তা খাওয়া, এমনি ভাবে তাদের সম্পদ গুলোকে নষ্ট করার উদ্দেশে ছিনিয়ে নেয়া, পরিশোধ না করার উদ্দেশ্য নিয়ে কারো নিকট অর্থ গ্রহন করা এবং মানুষের দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য কম দেয়া।
পথে পাওয়া কোন বস্তু গোপন ও আড়াল করা এবং এ রূপ পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নেয়া। তবে এই বস্তুর মালিকের পরিচয় জানা থাকলে পৌঁছিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে নেয়া যেতে পারে এবং সকল প্রকার ধোকার আশ্রয় গ্রহন করা।
কোন মুসলমান তার অপর কোন মুসলমান ভাইয়ের সম্পদ হতে তার অসন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করা। লজ্জা ও কষ্ট দিয়ে যা নেয়া হবে তা হারাম বলে গন্য হবে। সুপারিশ বা মধ্যস্থতার সুবাদে কোন হাদিয়া গ্রহন করা, প্রচুর সম্পদ গড়ে তোলা এবং সম্পদ বিস্তার লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করা, যার দরুন মালিকের অন্তর ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর স্মরন থেকে উদাসিন হয়।
টিকাঃ
(১) ক্রয়ের সময় বেশী নেয়া, বিক্রির সময় কম দেয়া।
📄 বিবাহ সম্পর্কিত নিষেধাবলী
বিয়ে পরিত্যাগ করা, যৌন শক্তি প্রশমিত করার উদ্দেশ্যে খাসী হওয়া, দুই সহোদর বোনকে একই সাথে বিয়ে করা, তেমনি ভাবে কোন স্ত্রীর সঙ্গে তার ফুফু ও খালাকে একই সাথে বিয়ে করা, ফুফু বা খালা স্ত্রী হিসাবে থাকা অবস্থায় তার আপন ভাইঝি বা বোনঝিকে বিয়ে করা, অনুরূপভাবে ভাইঝি স্ত্রী থাকা অবস্থায় তার ফুফু বা খালাকে বিয়ে করা, সৎ মা বা পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীকে শাদি করা।
মুশরিক নারীকে বিয়ে করা এবং মেয়েকে মুশরিক বরের সঙ্গে বিয়ে দেয়া। শেগার বিবাহ অর্থাৎ এই শর্তে বিয়ে করা যে আমি তোমার সঙ্গে আমার কন্যা বা বোনকে বিয়ে দিব, বিনিময়ে তুমি আমার সঙ্গে তোমার কন্যা বা বোনকে বিয়ে দিবে; যেহেতু এ ধরনের বিয়ে শাদি স্পষ্ট জুলুম ও হারাম।
নেকাহে মোতা'হ্ অর্থাৎ উভয় পক্ষের ঐক্য মতের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিয়ে করা যে, ঐ সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের সম্পর্কেও শেষ হয়ে যাবে।
অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষী ব্যতীত কোন বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া। তেমনি ভাবে কোন মেয়ে লোক (অভিভাবক সেজে) বিয়ে দেয়া এবং কোন মহিলা নিজেকে (অভিভাবক ছাড়াই) নিজেই বিয়ে দেয়া, কোন মেয়ের দ্বিতীয় বিয়ের সময় স্পষ্ট ভাষায় তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ের ব্যবস্থা করা। তেমনি ভাবে কুমারী মেয়েকেও তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া।
কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেয়া। তবে সে যদি তার প্রস্তাব তুলে নেয় অথবা অনুমতি দেয় তাহলে নিষিদ্ধ নয়।
স্বামীর মৃত্যুর কারণে ইদ্দত পালন কারিনী কোন মহিলাকে স্পষ্ট ভাষায় বিয়ের প্রস্তাব করা বরং ইশারা ইঙ্গিতে হওয়া বাঞ্চনীয়। তেমনি ভাবে পুনরায় ফেরত নেয়ার যোগ্য তালাক প্রাপ্তা মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া আদৌ জায়েজ নেই এবং এ ধরনের ফেরত যোগ্য তালাক প্রাপ্তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া। অনুরূপ ভাবে তালাকে রেজয়ীর (ফেরত যোগ্য স্ত্রী) সময় সীমা পালনের উদ্দেশ্যে কোন স্ত্রীর স্বামীর বাড়ী পরিত্যাগ করা। কোন তালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে নিজের অধিনে আটকিয়ে রাখা অথবা তার নিকটে বার বার ধর্ণা দেয়া অথচ সে তাকে পুনরায় নেবার ইচ্ছা রাখেনা বরং তার ক্ষতির নিমিত্তে কাল ক্ষেপন করার জন্যই এমনটি করে।
তালাক প্রাপ্তা মহিলা তার পেটে আল্লাহ যে সন্তান দিয়েছেন তা গোপন করা। তালাককে খেলনার বস্তু মনে করা। কোন মেয়ে লোক তার অন্য কোন বোনকে তালাক দেবার দাবী করা, চাই সে বোনটি কারো স্ত্রী হোক বা প্রস্তাবিত হোক; অর্থাৎ কোন মেয়ে লোক কোন পুরুষকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তার বর্তমান স্ত্রীকে তালাকের দাবী করা। স্বামী ও স্ত্রী নিজেদের মাঝে উপভোগ্য বিষয় নিয়ে অন্য লোকের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা। স্ত্রীকে স্বামীর বিরুদ্ধে অথবা স্বামীকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেয়েদেরকে তাদের স্বামীদের বিনা অনুমতিতে কথা বলা এবং স্বামীর সম্পদ তার অনুমতি ব্যতীত খরচ করা নিষেধ করেছেন। মাসিক অবস্থায় - স্ত্রী সহবাস করা, তবে পাক পবিত্র হওয়ার পর অবশ্যই স্ত্রীকে ব্যবহার করা যাবে। তেমনি ভাবে স্ত্রীর পিছনের রাস্তা দিয়ে সহবাস করাও নিষিদ্ধ। কোন স্ত্রী (রাগ করে) তার স্বামীর বিছানা পরিত্যাগ করে পৃথক ভাবে থাকা। শরয়ী ওযর ব্যতিত যদি এমনটি করা হয় তা হলে ঐ মহিলার উপর ফেরেস্তাগণ অভিশাপ দিতে থাকেন।
কোন অবাধ্য স্ত্রী পুনরায় তার স্বামীর আনুগত্য করতে শুরু করা সত্ত্বেও তাকে কষ্ট দেয়া। অনুরূপ ভাবে কোন স্ত্রী স্বামীর বিনা অনুমতিতে তার বাড়ীতে কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া। এক্ষেত্রে স্বামীর সাধারণ অনুমতিই যথেষ্ট হবে, এই শর্তে যে অবশ্যই তা শরীয়ত নির্ধারিত সীমা রেখার মধ্যে হতে হবে।
শরয়ী ওযর ব্যতীত কোন অলিমার (বৌভাত) দাওয়াতে উপস্থিত না হওয়া এবং নব্য বিবাহিত ব্যক্তিকে এই কথা বলে শুভেচ্ছা জানানো যে, "তোমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, তোমরা পুত্র সন্তান লাভ কর”। কেননা ইহা জাহেলী যুগের শুভেচ্ছা বাণী। আর জাহেলী যুগের লোকেরা কন্যা সন্তানকে ঘৃনার চোখে দেখত।
কোন স্ত্রী অবৈধ পন্থায় গর্ভবতী হলে স্বামীর জন্য ঐ স্ত্রী সহবাস করা, কোন স্বামী তার স্বাধীন স্ত্রীর (ক্রীত-দাসী নয়) সঙ্গে তার বিনা অনুমতিতে আজল(১) করা, ভ্রমন শেষে রাত্রি বেলায় আকস্মিক ভাবে পরিবার পরিজনদের কাছে উপস্থিত হওয়া, তবে তার আগমনের সময় পরিবারের লোকজনকে অবহিত করে থাকলে হঠাৎ রাত্রি বেলায় উপস্থিত হওয়া দোষণীয় নয়। স্ত্রীর অসন্তোষ্টি চিত্তে তার মোহরের কোন অংশ স্বামীর গ্রহন করা। অনুরূপ ভাবে এ উদ্দেশ্যে স্ত্রীর ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত হওয়া, যাতে স্ত্রী স্বীয় মালের বিনিময়ে নিজকে স্বামী থেকে মুক্ত করাতে বাধ্য হয়। স্ত্রীর সঙ্গে জেহার(২) করা।
একাধিক স্ত্রীর মধ্যে যে কোন এক জনের প্রতি প্রকাশ্যে বেশী ঝুঁকে পড়া এবং স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ কায়েম না করা।
নিকাহে তাহলীল করা, অর্থাৎ তিন তালাক প্রাপ্তা কোন স্ত্রীলোককে এই উদ্দেশ্যে বিয়ে করা যাতে করে এই স্ত্রীলোকটি তার প্রথম স্বামীর জন্য (পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে) হালাল হতে পারে।
টিকাঃ
(১) আজল হচ্ছে সহবাসের সময় বীর্য্য স্ত্রী অঙ্গের বাইরে ফেলা।
(২) জেহার হচ্ছে কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে স্বীয় মায়ের পিঠ বা অন্য কোন অঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা। এরূপ করলে স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে, তবে স্বামী কাফ্ফারা আদায় করার পর সে পুনরায় হালাল হবে।
📄 নারী সম্বন্ধীয় নিষেধাবলী
মাহারেম (১) ছাড়া অন্য পুরুষদের সামনে কোন স্ত্রী লোকের সৌন্দর্য্য প্রকাশ করা, মেয়েরা নিজেদেরকে জাহেলী যুগের ন্যায় প্রদর্শন করে বেড়ানো এবং সুকপোল মিথ্যা অপবাদ দেয়া।
মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করা অথবা যার সন্তান তাকেও সন্তানের কারনে ক্ষতির সম্মুখীন করা। মা ও তার সন্তানের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করা এবং মেয়েদের খাত্নার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত করা।
মাহরাম পুরুষ ছাড়া মেয়েদের সফরে বের হওয়া, অপরিচিত মহিলার (২) সঙ্গে করমর্দন করা। মেয়েদের সুগন্ধি ব্যবহার করে বাড়ীর বের হওয়া এবং আতর মেখে পুরুষদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা। দাইয়ূছ হওয়া অর্থাৎ বাড়ীতে যে কোন ধরনের অশ্লিলতাকে প্রশ্রয় দেয়া। অপরিচিত মহিলার দিকে তাকানো এবং হঠাৎ নজর পড়ার পর দ্বিতীয়বার ইচ্ছা পূর্বক তার দিকে তাকানো।
টিকাঃ
(১) যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম তাদেরকে মাহারেম বলা হয়।
(২) এখানে অপরিচিত মহিলা বলতে মাহরামাত বা স্ত্রী নয় এমন মহিলাকে বুঝানো হয়েছে।
📄 যবেহ ও খাদ্য বিষয়ক নিষেধাবলী
মৃত জন্তুর গোশত খাওয়া, এই মৃত্যু যে কোন কারনে হোকনা কেন? যেমনঃ পানিতে ডুবে বা ফাঁসিতে আটকিয়ে, অজ্ঞান হয়ে, উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে অথবা অন্য কোন জানওয়ারের ঘুতো খেয়ে অথবা কোন হিংস্র প্রানীর আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে ইত্যাদি কারনে মৃত্যুবরণ করলে। তবে আঘাত প্রাপ্ত জন্তুটিকে জীবন্ত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর তাকে যদি শরীয়ত সম্মত উপায়ে জবেহ করা হয়ে থাকে তাহলে তা খাওয়া নিষেধ নয়। রক্ত খাওয়া, শুকরের গোশত খাওয়া। আল্লাহ্র নাম ব্যতিত অন্য কোন নামের উপরে জবেহ করা এবং ঐ সকল পশুর গোশত খাওয়া যে গুলোকে ভূত বা শয়তানের নামে জবেহ করা হয় এবং যেগুলোকে জবেহ করার সময় ইচ্ছা পূর্বক বিসমিল্লাহ্ বলা হয় না।
ঐ সব চতুষ্পদ জন্তুর গোশত খাওয়া যারা সর্বদা নাজাসাত ও কদর্য্য বস্তু আহার করে। অনুরূপ ভাবে এই সকল জীব জন্তুর দুধ পান করা। তাছাড়াও দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী এবং থাবা বিশিষ্ট পাখির গোশত খাওয়া(১) গৃহ পালিত গাধার গোশত খাওয়া। ঔষধ হিসাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বেঙ নিধন করা, কেননা এই গুলো অপবিত্র, সর্ব সম্মত ওলামাদের মতে ইহা খাওয়া জায়েজ নয়। জন্তু জানোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেঁধে রেখে কোন কিছুর সাহায্যে প্রহার করা অথবা বিনা দানা পানিতে আটকিয়ে রাখা আর যে পশুকে আঘাতে আঘাতে হত্যা করা হয় তা স্বাভাবিক মৃত পশুর মত, এরূপ পশুর গোশত খাওয়াকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন। যেহেতু ইহা শরিয়ত সম্মত উপায়ে জবেহ করা হয় না।
শিকারী নয় এমন কুকুরের শিকার করা পশু খাওয়া, অথবা শিকারী কুকুরের সঙ্গে যদি অন্যান্য কুকুর থাকে তাহলে সে পশু খাওয়াও নিষেধ; কেননা শিকার করা পশুটি কোন কুকুরে শিকার করেছে তা নিশ্চিত ভাবে জানা নেই।
অনুরূপ ভাবে ঐ শিকার করা পশুও খাওয়া বৈধ নয় যাকে কোন অস্ত্রের সাহায্যে শিকার করা হয়েছে আর পশুটি উক্ত অস্ত্রটির ভার বা আঘাতের চোটে নিহিত হয়েছে, যেমন: এমন তীর যার মাথায় ধারাল ফলক নেই। তবে ধারাল কোন অস্ত্র দ্বারা আঘাত পাওয়ার পর পশুটি যদি ক্ষত বিক্ষত হয়ে মারা যায় এবং অস্ত্র নিক্ষেপ করার সময় যদি বিস্মিল্লাহ্ বলা হয়ে থাকে তাহলে সে পশুটি খাওয়া জায়েজ আছে। দাঁত এবং হাতের নখ দ্বারা জবেহ করা, এক পশুর সামনে অন্য পশু জবেহ করা, অনুরূপ ভাবে পশুর সামনে ছুরি ধারাল করা।
দুজন প্রতিযোগীর প্রতিযোগিতা মূলক তৈরী খাবার খাওয়া। অর্থাৎ এমন দুজন পাচকের তৈরী খাবার খাওয়া যারা গর্ব, লোক দেখানো এবং এ বিষয়ে প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে খাবার তৈরী করে; কেননা এই ধরনের কার্যকলাপ অন্যায় ও অবৈধ ভাবে সম্পদ ভক্ষনের শামিল।
টিকাঃ
(১) অর্থাৎ যে সব হিংস্র প্রাণী দাঁত দিয়ে শিকার করে আহার করে যেমন: শিয়াল, কুকুর, বাঘ ইত্যাদি। অনুরূপ ভাবে যে সব পাখী থাবার সাহায্যে আহার করে, যেমন: চিল, শকুন।