📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

📄 মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ


কবরের উপরে ঘর বা ইমারাত নির্মাণ করা, কবরকে উঁচু করা, কবরের উপর বসা এবং কবরের উপর জুতা পায়ে দিয়ে চলা-ফেরা করা, কবরকে আলোক সজ্জিত করা, তার উপরে কোন লিখন লেখা ও অংকন করা। কবর গুলোকে মসজিদ বানানো, কবরকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করা, তবে সেস্থানে জানাজা নামাজ আদায়ে কোন ক্ষতি নাই।
মেয়ে লোকের স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা। তবে সে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। বিধবা মেয়ে লোকের জন্য সুগন্ধি, সুরমা, মেহদী এবং রূপ চর্চা করা। যেমন: গহনা, সাজ- সজ্জার জন্য নির্দিষ্ট শাড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা।
মৃত ব্যক্তির জন্য (নিয়াহা) উচ্চ স্বরে কান্না কাটি করা ও অতিরিক্ত বিলাপ করা, কোন মেয়ে লোকের মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনকে কাঁদার ব্যাপারে সাহায্য করা; কেননা এ ধরনের কান্না আল্লাহ্র জন্য হয় না। তদুপরি এই উচ্চ স্বরে কান্না কাটির জন্য একত্রিত হওয়াও নিয়াহার অন্তর্ভুক্ত। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়াহা বা উচ্চ স্বরে বিলাপ করে কাঁদার জন্য মহিলাকে ভাড়া করা। (অতিরিক্ত শোকের বহিঃ প্রকাশ হিসাবে) কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মাথা পিটিয়ে চুল এলো মেলো করা। জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তির খবর ফলাও করে প্রচার করা। তবে সাধারন ভাবে মৃতের খবর দেয়ার মধ্যে কোন ক্ষতি নেই।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 রোযা বিষয়ক নিষিদ্ধ কাজসমূহ

📄 রোযা বিষয়ক নিষিদ্ধ কাজসমূহ


ঈদুল ফিত্র, কোরবানীর ঈদ, কোরবানীর পর তাশরীকের তিন দিন ও সন্দেহ পূর্ণ দিনে রোজা পালন করা। শুক্রবার ও শনিবারের জন্য কোন রোজাকে নির্দিষ্ট করে নেয়া। সারা জীবন রোজা রাখা, রমজান মাসের আগমন উপলক্ষে একদিন বা দুদিন রোজা রাখা, পূর্ব নির্ধারিত অভ্যস্ত রোজা ব্যতীত শাবান মাসের পনের তারিখে রোজা পালন করা। (এই রোজাকে বিভিন্ন দেশে শবেবরাতের রোজা বলা হয়)। মাঝে মধ্যে রোজা ভঙ্গ না করে একাধারে নিয়মিত রোজা রাখা। আরাফাতের দিনের রোজা আরাফাতের ময়দানেই পালন করা(১)। তবে যে সব হাজী সাহেবদের সঙ্গে কোরবানীর পশু নেই তাদের জন্য আরাফাতের দিন রোজা রাখা নিষেধ নয়। রোজা থাকা অবস্থায় কুলী ও নাকের ভিতরে পানি নেয়ার সময় অতিরঞ্জিত করা। স্বামীর উপস্থিতে তার বিনানুমতিতে মেয়ে লোকের জন্য নফল রোজা রাখা। রোজাদার ব্যক্তির সেহরী না খাওয়া। এমন কি এক ঢোক পানি পান করে হলেও সেহরী খাওয়া উচিত। রোজাদার ব্যক্তির অশ্লীল কাজ কর্ম; গালি গালাজ ও ঝগড়া - বিবাদে লিপ্ত হওয়া।

টিকাঃ
(১) তবে যারা হাজী নন তাদের জন্য ঐ দিন রোজা রাখা সুন্নাত।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 হজ্ব ও কোরবানী বিষয়ক নিষেধাবলী

📄 হজ্ব ও কোরবানী বিষয়ক নিষেধাবলী


বিনা ওজরে দেরীতে হজ্জ করা। হজ্জের সময় অশ্লীল কথা- বার্তা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া। পুরুষ ইহরাম কারীর জন্য জামা, পাগড়ী, পাজামা, টুপি বা মোজা পরিধান করা। আর মহিলা ইহরাম কারীনীর জন্য নেকাব ও হাত মোজা ব্যবহার করা। হেরেম(১) শরীফের সীমানার মধ্যে কোন গাছ উপড়ানো, কেটে ফেলা বা নষ্ট করা। হেরেমের সীমানার মধ্যে অস্ত্র বহন করা অথবা শিকার করা বা শিকারকে তাড়িয়ে বেড়ানো অথবা কোন পড়ে থাকা বস্তু কুড়িয়ে নেয়া। তবে তা যদি কোন পরিচিত ব্যক্তির জন্য হয় তাহলে দোষ নেই। ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে সুগন্ধি লাগানো এবং তার মাথা ঢেকে দেয়া ও কর্পূর বা এ জাতীয় কোন সুগন্ধি লাগিয়ে দেয়া। বরং তাকে তার ইহরামের কাপড়সহ দাফন করবে, আর সে তালবিয়া(২) পাঠরত অবস্থায় হাশরের মাঠে উঠবে।
হাজী সাহেবদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ ব্যতীত কাবা ঘর থেকে প্রস্থান করা। তবে মেয়েদের মাসিক ও নেফাস অবস্থায় এই তাওয়াফ না করার অনুমতি রয়েছে।
ঈদের নামাজের পূর্বেই কোরবানী করা। ত্রুটি যুক্ত পশু কোরবানী করা, কসাইকে কোরবানীর গোশত থেকে মজুরী দেয়া। যে ব্যক্তি কোরবানী করার ইচ্ছা করেছে তার জন্য জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন থেকে নিয়ে ১০ তারিখে কোরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় মাথার চুল, হাতের নখ বা চামড়া কাটা।

টিকাঃ
(১) পবিত্র কাবা ঘর ও তার চার দিকের শরীয়ত সম্মত সীমানা।
(২) ইহরামের দোয়া, লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা...।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 কেনা-বেচা ও উপার্জন বিষয়ক নিষেধাবলী

📄 কেনা-বেচা ও উপার্জন বিষয়ক নিষেধাবলী


সূদ খাওয়া, ঐ সব কেনা-বেচা যাতে অজ্ঞতা, ধোকা ও প্রবঞ্চনা রয়েছে। গোশতের বিনিময় ছাগল বিক্রয় করা, পানির অতিরিক্ত হিস্যা বিক্রি করা, কুকুর বিড়াল, রক্ত, মাদক দ্রব্য, শুকর, (শুয়ার) মূর্তি, পুরুষ পশুর বীর্য্য - যা প্রজননের জন্য ব্যবহার করা হয় - বিক্রি করা। কুকুরের মূল্য গ্রহন করা এবং আল্লাহ কর্তৃক যে সব জিনিসকে হারাম ঘোষনা করা হয়েছে, বেচা কেনার ভিত্তিতে সেগুলোর মূল্যও হারাম।
নাজাশ করা, অর্থাৎ ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং চমক ও আকর্ষণ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রব্য সামগ্রীর অতিরিক্ত মূল্য বলা। যেমন ডাক ধরে বেচা-কেনার স্থান গুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে।
বিক্রির সময় দ্রব্যের দোষ ত্রুটি গোপন করা, জুমআ'র দিনে দ্বিতীয় আজানের পরও ক্রয় বিক্রয় করা, মালিকানা ব্যতীত কোন বস্তু বিক্রয় করা, কোন খাদ্য দ্রব্য পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার আগেই বিক্রয় করা, নগদ আদান প্রদান ও সমপরিমান ব্যতীত স্বর্নের বিনিময়ে স্বর্ণ এবং রৌপ্যের পরিবর্তে রৌপ্য বিক্রয় করা, একজনের বিক্রির উপর অন্য জনের বিক্রয় করা, তেমনি ভাবে একজনের খরিদ করার উপর আরেক জনের খরিদ করা এবং এক জনের দর দামের উপর অন্য জনের দাম করা, গাছের ফল পরিপক্ক ও নষ্ট হওয়ার ভয় থেকে মুক্ত হওয়ার পূর্বেই বিক্রয় করা।
ওজন ও পরিমাপের সময় "তাতফীফ” (১) করা, কৃত্রিম উপায়ে ঘাটতি সৃষ্টির মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দ্রব্য সামগ্রী মজুদ করা, বাজারগামী ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে বা তাকে ক্রয় করে দেবার লক্ষ্যে বাজারে পৌঁছার পূর্বে পথেই তাকে থামিয়ে দেয়া, বরং সর্ব সাধারণের কল্যাণ চিন্তা করে তাকে শহরের বাজারে আসার সুযোগ দেয়া।
শহরের ব্যক্তি কোন গ্রামীন ব্যক্তির দ্রব্য বিক্রি করা, যেমন: শহর বাসী কোন লোক গ্রাম থেকে আসা লোকের দালালী করা। বরং তার জিনিস তাকে বিক্রি করার সুযোগ দেয়া উচিৎ।
কোরবানীর পশুর চামড়া (নিজে খাবার উদ্দেশ্যে) বিক্রি করা, জমি, খেজুর গাছ বা এই জাতীয় কোন জিনিসের মালিকানায় অংশীদার ব্যক্তির জন্য স্বীয় অংশ তার অপর অংশীদারের (Partner) নিকট পেশ না করেই তৃতীয় কোন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করা।
কুরআন দ্বারা উপার্জন করে খাওয়া এবং অধিক পাবার আশায় কুরআন ব্যবহার করা। অর্থাৎ ঐ সকল লোকদের মতো যারা কুরআন পাঠ করে এবং এর সাহয্যে লোকদের নিকট সওয়াল বা ভিক্ষা বৃত্তি করে।
অন্যায় ও জুলুম করে ইয়াতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করা। জুয়া হাউজি ও লুটের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ খাওয়া, সুদ দেয়া ও নেয়া, চুরি করা, গনিমতের মাল থেকে কিছু লুকিয়ে রাখা। মানুষের সম্পদ লুট করা ও অন্যায় ভাবে তা খাওয়া, এমনি ভাবে তাদের সম্পদ গুলোকে নষ্ট করার উদ্দেশে ছিনিয়ে নেয়া, পরিশোধ না করার উদ্দেশ্য নিয়ে কারো নিকট অর্থ গ্রহন করা এবং মানুষের দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য কম দেয়া।
পথে পাওয়া কোন বস্তু গোপন ও আড়াল করা এবং এ রূপ পড়ে থাকা কোন বস্তুকে উঠিয়ে নেয়া। তবে এই বস্তুর মালিকের পরিচয় জানা থাকলে পৌঁছিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে নেয়া যেতে পারে এবং সকল প্রকার ধোকার আশ্রয় গ্রহন করা।
কোন মুসলমান তার অপর কোন মুসলমান ভাইয়ের সম্পদ হতে তার অসন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করা। লজ্জা ও কষ্ট দিয়ে যা নেয়া হবে তা হারাম বলে গন্য হবে। সুপারিশ বা মধ্যস্থতার সুবাদে কোন হাদিয়া গ্রহন করা, প্রচুর সম্পদ গড়ে তোলা এবং সম্পদ বিস্তার লাভের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন খাতে পুঁজি বিনিয়োগ করা, যার দরুন মালিকের অন্তর ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহর স্মরন থেকে উদাসিন হয়।

টিকাঃ
(১) ক্রয়ের সময় বেশী নেয়া, বিক্রির সময় কম দেয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00