📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 মসজিদ সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

📄 মসজিদ সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ


মসজিদের ভিতর ক্রয় বিক্রয় করা এবং হারানো বিজ্ঞপ্তি দেয়া, দোয়া পাঠ করা, নামাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর মাধ্যম হিসাবে গ্রহন করা এবং মসজিদের ভিতরে শরীয়তী দণ্ড বিধি কায়েম করা।
মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পথে এক হাতের আঙ্গুলীর ভিতরে অন্য হাতের আঙ্গুলী প্রবেশ করানো। কেননা নামাজের ইচ্ছা করা মাত্র সে নামাজরত অবস্থায় থাকে। আযান হবার পর নামাজ আদায় না করেই মসজিদ থেকে বের হওয়া। মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় না করেই বসে পড়া। নামাজের ইকামা শুনে দ্রুতগতিতে (মসজিদের দিকে) রওনা হওয়া, বরং ধীর স্থির ও শান্তভাবে চলবে। আর বিনা প্রয়োজনে মসজিদের খুঁটি ও পিলার সমূহের মাঝে (নামাজের জন্য) কাঁতার বদ্ধ হওয়া। পিঁয়াজ, রসূন ও সকল প্রকার গন্ধ যুক্ত খাবার খেয়ে মসজিদে আসা। মুসল্লীদের জন্য কষ্ট দায়ক কোন বস্তু বহন করে মসজিদের ভিতর চলা-ফেরা করা।
শরীয়ত সম্মত শর্তাদির ভিত্তিতে কোন মহিলাকে মসজীদে যাওয়া থেকে বাধা দেয়া। মেয়েদের মসজিদে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা। ই'তেকাফ অবস্থায় স্ত্রীর সহিত অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত হওয়া। মসজিদের ভিতরে গর্ব ও অহংকার প্রদর্শন করা। লাল, হলুদ এবং আকর্ষনীয় সাজ - সজ্জা দ্বারা মসজিদকে কারুকার্য খচিত করা যা মুসল্লীদেরকে নামাজের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

📄 মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ


কবরের উপরে ঘর বা ইমারাত নির্মাণ করা, কবরকে উঁচু করা, কবরের উপর বসা এবং কবরের উপর জুতা পায়ে দিয়ে চলা-ফেরা করা, কবরকে আলোক সজ্জিত করা, তার উপরে কোন লিখন লেখা ও অংকন করা। কবর গুলোকে মসজিদ বানানো, কবরকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করা, তবে সেস্থানে জানাজা নামাজ আদায়ে কোন ক্ষতি নাই।
মেয়ে লোকের স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা। তবে সে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। বিধবা মেয়ে লোকের জন্য সুগন্ধি, সুরমা, মেহদী এবং রূপ চর্চা করা। যেমন: গহনা, সাজ- সজ্জার জন্য নির্দিষ্ট শাড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা।
মৃত ব্যক্তির জন্য (নিয়াহা) উচ্চ স্বরে কান্না কাটি করা ও অতিরিক্ত বিলাপ করা, কোন মেয়ে লোকের মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনকে কাঁদার ব্যাপারে সাহায্য করা; কেননা এ ধরনের কান্না আল্লাহ্র জন্য হয় না। তদুপরি এই উচ্চ স্বরে কান্না কাটির জন্য একত্রিত হওয়াও নিয়াহার অন্তর্ভুক্ত। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়াহা বা উচ্চ স্বরে বিলাপ করে কাঁদার জন্য মহিলাকে ভাড়া করা। (অতিরিক্ত শোকের বহিঃ প্রকাশ হিসাবে) কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মাথা পিটিয়ে চুল এলো মেলো করা। জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তির খবর ফলাও করে প্রচার করা। তবে সাধারন ভাবে মৃতের খবর দেয়ার মধ্যে কোন ক্ষতি নেই।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 রোযা বিষয়ক নিষিদ্ধ কাজসমূহ

📄 রোযা বিষয়ক নিষিদ্ধ কাজসমূহ


ঈদুল ফিত্র, কোরবানীর ঈদ, কোরবানীর পর তাশরীকের তিন দিন ও সন্দেহ পূর্ণ দিনে রোজা পালন করা। শুক্রবার ও শনিবারের জন্য কোন রোজাকে নির্দিষ্ট করে নেয়া। সারা জীবন রোজা রাখা, রমজান মাসের আগমন উপলক্ষে একদিন বা দুদিন রোজা রাখা, পূর্ব নির্ধারিত অভ্যস্ত রোজা ব্যতীত শাবান মাসের পনের তারিখে রোজা পালন করা। (এই রোজাকে বিভিন্ন দেশে শবেবরাতের রোজা বলা হয়)। মাঝে মধ্যে রোজা ভঙ্গ না করে একাধারে নিয়মিত রোজা রাখা। আরাফাতের দিনের রোজা আরাফাতের ময়দানেই পালন করা(১)। তবে যে সব হাজী সাহেবদের সঙ্গে কোরবানীর পশু নেই তাদের জন্য আরাফাতের দিন রোজা রাখা নিষেধ নয়। রোজা থাকা অবস্থায় কুলী ও নাকের ভিতরে পানি নেয়ার সময় অতিরঞ্জিত করা। স্বামীর উপস্থিতে তার বিনানুমতিতে মেয়ে লোকের জন্য নফল রোজা রাখা। রোজাদার ব্যক্তির সেহরী না খাওয়া। এমন কি এক ঢোক পানি পান করে হলেও সেহরী খাওয়া উচিত। রোজাদার ব্যক্তির অশ্লীল কাজ কর্ম; গালি গালাজ ও ঝগড়া - বিবাদে লিপ্ত হওয়া।

টিকাঃ
(১) তবে যারা হাজী নন তাদের জন্য ঐ দিন রোজা রাখা সুন্নাত।

📘 শরীয়তে নিষিদ্ধ কাজ হতে সাবধান > 📄 হজ্ব ও কোরবানী বিষয়ক নিষেধাবলী

📄 হজ্ব ও কোরবানী বিষয়ক নিষেধাবলী


বিনা ওজরে দেরীতে হজ্জ করা। হজ্জের সময় অশ্লীল কথা- বার্তা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হওয়া। পুরুষ ইহরাম কারীর জন্য জামা, পাগড়ী, পাজামা, টুপি বা মোজা পরিধান করা। আর মহিলা ইহরাম কারীনীর জন্য নেকাব ও হাত মোজা ব্যবহার করা। হেরেম(১) শরীফের সীমানার মধ্যে কোন গাছ উপড়ানো, কেটে ফেলা বা নষ্ট করা। হেরেমের সীমানার মধ্যে অস্ত্র বহন করা অথবা শিকার করা বা শিকারকে তাড়িয়ে বেড়ানো অথবা কোন পড়ে থাকা বস্তু কুড়িয়ে নেয়া। তবে তা যদি কোন পরিচিত ব্যক্তির জন্য হয় তাহলে দোষ নেই। ইহরাম অবস্থায় মৃত ব্যক্তিকে সুগন্ধি লাগানো এবং তার মাথা ঢেকে দেয়া ও কর্পূর বা এ জাতীয় কোন সুগন্ধি লাগিয়ে দেয়া। বরং তাকে তার ইহরামের কাপড়সহ দাফন করবে, আর সে তালবিয়া(২) পাঠরত অবস্থায় হাশরের মাঠে উঠবে।
হাজী সাহেবদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ ব্যতীত কাবা ঘর থেকে প্রস্থান করা। তবে মেয়েদের মাসিক ও নেফাস অবস্থায় এই তাওয়াফ না করার অনুমতি রয়েছে।
ঈদের নামাজের পূর্বেই কোরবানী করা। ত্রুটি যুক্ত পশু কোরবানী করা, কসাইকে কোরবানীর গোশত থেকে মজুরী দেয়া। যে ব্যক্তি কোরবানী করার ইচ্ছা করেছে তার জন্য জিলহজ্জ মাসের প্রথম দিন থেকে নিয়ে ১০ তারিখে কোরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত স্বীয় মাথার চুল, হাতের নখ বা চামড়া কাটা।

টিকাঃ
(১) পবিত্র কাবা ঘর ও তার চার দিকের শরীয়ত সম্মত সীমানা।
(২) ইহরামের দোয়া, লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা...।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00