📄 পবিত্রতার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বিষয় সমূহ
যেমনঃ বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা, রাস্তার উপর, ছায়া বিশিষ্ট স্থানে যেখানে মানুষ ছায়া গ্রহন করে এবং পানির উৎস স্থলে পায়খানা করা, প্রস্রাব পায়খানার সময় কেবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেয়া, এ ক্ষেত্রে কোন কোন আলেমগণ ঘরে বা চার দেয়ালের ভিতর কেবলামুখী হয়ে বা কেবলার দিকে পিঠ দিয়ে প্রস্রাব-পায়খানা করাকে নিষেধের আওতায় মনে করেন না। ডান হাত দিয়ে গুপ্তাংগ মুছে নেয়া ও শৌচ কার্য করা। হাড় হাড্ডি ও গোবরের সাহায্যে কুলুখ করা; কেননা উহা আমাদের জ্বিন ভাইদের খাদ্য, আর গোবর হচ্ছে জ্বিনদের আওতাভূক্ত চতুষ্পদ জন্তুর অন্ন। প্রস্রাব করা অবস্থায় কোন পুরুষ ডান হাত দিয়ে তার লিংগ ধরে রাখা, প্রস্রাব পায়খানারত কোন ব্যক্তিকে সালাম দেয়া। ঘুম থেকে জেগে উঠা মাত্র হাত ধৌত না করেই কোন পাত্রে প্রবেশ করানো।
📄 নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
সূর্য্য উদয়, দ্বিপ্রহর ও সূর্যাস্তের সময় নফল নামাজ পড়া, কেননা সূর্য্য শয়তানের শিং দ্বয়ের মাঝে উদয় হয় ও অস্ত যায়। নক্ষত্র পূজারী কাফেরগণ যখন ইহা প্রত্যক্ষ করে তখন তারা সেজদা করে। ফজর নামাজের পর সূর্য্য না উঠা পর্যন্ত তেমনি ভাবে বাদ আছর সূর্যাস্ত না যাওয়া পর্যন্ত কোন কারণ ব্যতীত নামাজ পড়া। তবে যদি কোন কারন বশতঃ নামাজ আদায় করতে হয় সেটা ভিন্ন কথা। যেমন তাহিয়্যাতুল মাসজিদের নামাজ - যা কিনা মসজিদে প্রবেশ করার কারনে পড়তে হয়।
নিজেদের ঘর গুলোকে সুন্নাত ও নফল নামাজ সেখানে আদায় না করার কারনে কবর বানিয়ে রাখা। ফরজ ও সুন্নাত নামাজের মাঝে কোন কথাবার্তা যিকির আযকার অথবা স্থান ত্যাগের মাধ্যমে ব্যবধান সৃষ্টি না করা। ফজরের আজানের পর ফজরের দু' রাকাত সুন্নাত ব্যতীত অন্য কোন নামাজ আদায় করা।
নামাজের ভিতরে ঈমামের আগে আগেই কোন কাজ সম্পাদন করা, জামায়াতের সহিত নামাজ আদায়ের সময় একাই পিছনের কাতারে নামাজ পড়া। নামাজের ভিতরে ডানে বামে ও আকাশের দিকে তাকানো। রুকু ও সেজদায় গিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করা। কিন্তু সেজদায় গিয়ে কুরআন থেকে যদি দোয়া করে তাহলে ক্ষতি নেই।
দুই কাঁধকে বিবস্ত্র রেখে শুধু মাত্র এক কাপড়ে নামাজ আদায় করা। খাবারের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও খাবার রেখে নামাজ আদায় করা।
পেশাব, পায়খানা ও বায়ু আটকিয়ে রেখে নামাজ পড়া; কেননা এ কাজগুলো নামাজীকে নামাজে গভীর মনোযোগী ও বিনয়ী হতে বাধা প্রদান করে। গোসল খানা ও কবর স্থানে নামাজ আদায় করা।
নামাজের ভিতর কাকের ঠোকর দেবার মতো করে রুকু সেজদা করা, শৃগালের মতো এদিক ওদিক তাকানো, হিংস্র প্রাণীর ন্যায় বসা, কুকুরের মতো হাতের কনুই মাটির সঙ্গে বিছিয়ে সেজদা করা এবং উটের মতো নির্দিষ্ট কোন স্থান বেছে নেয়া অর্থাৎ মসজিদের ভিতর কোন স্থানকে নির্দিষ্ট করে নেয়া যে, ঐ স্থান ব্যতীত অন্য কোন স্থানে নামাজ আদায় না করা।
তাছাড়াও উট রাখার স্থানে নামাজ পড়া, কেননা শায়তানদের মধ্য থেকে উহার সৃষ্টি।
নামাজরত অবস্থায় জমিন পরিস্কার করা, তবে প্রয়োজনে পাথর বা এই জাতীয় কোন কিছুকে সমান করার উদ্দেশ্যে শুধু মাত্র এক বার সে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, নামাজের মধ্যে মুখ ঢেঁকে রাখা, নামাজের ভিতর উচ্চ শব্দ করা যার ফলে মুমেনগণ কষ্ট পায়, তন্দ্রা আসা সত্ত্বেও বিরতিহীন ভাবে রাত্রে নফল নামাজ আদায় করা, বরং ঘুমিয়ে নিয়ে তার পর নামাজের জন্য উঠা উচিৎ, এ ছাড়াও সারা রাত জেগে নামাজ পড়ার অভ্যাস করা।
নামাজের ভিতর হাইতোলা ও ফুঁ-দেয়া, মানুষের কাঁধের উপর দিয়ে চলা-ফেরা করা, নামাজের ভিতরে কাপড় এবং চুল নিয়ে খেলা করা।
শুদ্ধ নামাজকে পুনরায় পড়া আর এই নিষেধাজ্ঞাটি ধোকা প্রাপ্তদের জন্য খুবই উপকারী। ওজু ভেঙ্গে গেছে এমন সন্দীহান হয়ে নামাজ ছেড়ে দেয়া। তবে যদি বায়ু নির্গত হওয়ার কোন শব্দ বা গন্ধ পাওয়া যায় তাহলে অন্য কথা। জুমআর দিনে নামাজের পূর্বে দাঁড়ী কামানো, খোৎবার সময় পাথর স্পর্শ করা, খেলনা করা ও কথাবার্তা বলা। ইহতেবা অবস্থায় খোতবাহ শোনা অর্থাৎ দুই উরু পেটের সাথে মিলিয়ে কাপড় বা দুই হাত দিয়ে বেঁধে বসা।
ফরজ নামাজের একামাত হয়ে গেলে এই সময় অন্য কোন নামাজ পড়া। বিনা প্রয়োজনে ইমাম মোক্তাদীদের আসন হতে উচ্চ আসনে দাঁড়ানো, নামাজের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা এবং নামাজী ব্যক্তি সামনে দিয়ে বা ছোতরার(১) মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে কাউকে যাতায়াত করার সুযোগ দেয়া।
নামাজের ভিতরে কেবলা এবং ডান দিকে থুথু ফেলা, তবে মুসল্লী তার বাম দিকে বা বাম পায়ের নীচে থুথু ফেলবে। মুসল্লী তার জুতা দুটোকে না ডান পাশে রাখবে না বাম পাশে, কেননা তাহলে তা অন্য মুসল্লীর ডান পাশে হলো, তবে হ্যাঁ যদি তার বামে কেহ না থাকে তাহলে দোষ নেই। অবশ্য জুতা দুটোকে দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থানে রাখা উচিৎ।
এশার নামাজ সময় মতো পড়তে না পারার ভয় থাকলে এর পূর্বে ঘুমানোও নিষেধ। শরীয়ত সম্পর্কিত আলোচনা ছাড়া এশার নামাজের পর কথাবার্তায় মগ্ন হওয়া। কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রভাবাধীন স্থানে গিয়ে তার বিনা অনুমতিতে নামাজের ইমামতি করা যেমন :- কোন অতিথী বাড়ী ওয়ালাদের অনুমতি ছাড়াই তাদের ইমামতি শুরু করে দেয়া। কোন ব্যক্তির এমন লোকদের ইমামতি করা যারা তাকে কোন শরীয়ত সম্মত কারনে অপছন্দ করে।
টিকাঃ
(১) যে স্থানে লোকজন বেশী চলাচল করে সেখানে মুসল্লী তার সামনে কোন কিছু রেখে তার আড়ালে নামাজ পড়া।
📄 মসজিদ সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
মসজিদের ভিতর ক্রয় বিক্রয় করা এবং হারানো বিজ্ঞপ্তি দেয়া, দোয়া পাঠ করা, নামাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর মাধ্যম হিসাবে গ্রহন করা এবং মসজিদের ভিতরে শরীয়তী দণ্ড বিধি কায়েম করা।
মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পথে এক হাতের আঙ্গুলীর ভিতরে অন্য হাতের আঙ্গুলী প্রবেশ করানো। কেননা নামাজের ইচ্ছা করা মাত্র সে নামাজরত অবস্থায় থাকে। আযান হবার পর নামাজ আদায় না করেই মসজিদ থেকে বের হওয়া। মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় না করেই বসে পড়া। নামাজের ইকামা শুনে দ্রুতগতিতে (মসজিদের দিকে) রওনা হওয়া, বরং ধীর স্থির ও শান্তভাবে চলবে। আর বিনা প্রয়োজনে মসজিদের খুঁটি ও পিলার সমূহের মাঝে (নামাজের জন্য) কাঁতার বদ্ধ হওয়া। পিঁয়াজ, রসূন ও সকল প্রকার গন্ধ যুক্ত খাবার খেয়ে মসজিদে আসা। মুসল্লীদের জন্য কষ্ট দায়ক কোন বস্তু বহন করে মসজিদের ভিতর চলা-ফেরা করা।
শরীয়ত সম্মত শর্তাদির ভিত্তিতে কোন মহিলাকে মসজীদে যাওয়া থেকে বাধা দেয়া। মেয়েদের মসজিদে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা। ই'তেকাফ অবস্থায় স্ত্রীর সহিত অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত হওয়া। মসজিদের ভিতরে গর্ব ও অহংকার প্রদর্শন করা। লাল, হলুদ এবং আকর্ষনীয় সাজ - সজ্জা দ্বারা মসজিদকে কারুকার্য খচিত করা যা মুসল্লীদেরকে নামাজের প্রতি অমনোযোগী করে তোলে।
📄 মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ
কবরের উপরে ঘর বা ইমারাত নির্মাণ করা, কবরকে উঁচু করা, কবরের উপর বসা এবং কবরের উপর জুতা পায়ে দিয়ে চলা-ফেরা করা, কবরকে আলোক সজ্জিত করা, তার উপরে কোন লিখন লেখা ও অংকন করা। কবর গুলোকে মসজিদ বানানো, কবরকে সামনে রেখে নামাজ আদায় করা, তবে সেস্থানে জানাজা নামাজ আদায়ে কোন ক্ষতি নাই।
মেয়ে লোকের স্বামী ব্যতীত অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করা। তবে সে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। বিধবা মেয়ে লোকের জন্য সুগন্ধি, সুরমা, মেহদী এবং রূপ চর্চা করা। যেমন: গহনা, সাজ- সজ্জার জন্য নির্দিষ্ট শাড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা।
মৃত ব্যক্তির জন্য (নিয়াহা) উচ্চ স্বরে কান্না কাটি করা ও অতিরিক্ত বিলাপ করা, কোন মেয়ে লোকের মৃত ব্যক্তির আত্মীয় স্বজনকে কাঁদার ব্যাপারে সাহায্য করা; কেননা এ ধরনের কান্না আল্লাহ্র জন্য হয় না। তদুপরি এই উচ্চ স্বরে কান্না কাটির জন্য একত্রিত হওয়াও নিয়াহার অন্তর্ভুক্ত। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিয়াহা বা উচ্চ স্বরে বিলাপ করে কাঁদার জন্য মহিলাকে ভাড়া করা। (অতিরিক্ত শোকের বহিঃ প্রকাশ হিসাবে) কাপড় ছিঁড়ে ফেলা, মাথা পিটিয়ে চুল এলো মেলো করা। জাহেলী যুগের লোকদের ন্যায় মৃত ব্যক্তির খবর ফলাও করে প্রচার করা। তবে সাধারন ভাবে মৃতের খবর দেয়ার মধ্যে কোন ক্ষতি নেই।