📄 মুসলিম-বিশ্বে সমকামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের নীলনকশা
পৃথিবীতে সমকামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথে শেষ বাধা হলো মুসলিম-বিশ্ব। কীভাবে মুসলিম-বিশ্বকে সমকামিতা আর ট্র্যান্সজেন্ডারবাদ মেনে নেয়ানো যায়, তা নিয়ে পশ্চিমা ক্ষমতাধররা এখন নিজেদের প্রশ্ন করছে। এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট। সমকামিতাসহ অন্যান্য যৌনবিকৃতির স্বাভাবিকীকরণের একটি কৌশল অত্যন্ত সফলতার সাথে ইউরোপ এবং অ্যামেরিকাতে বাস্তবায়িত হয়েছে। এ একই কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে মুসলিম-বিশ্বেও।
সমকামিতার ব্যাপারে মার্কিন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর জন্য মার্শাল কার্ক এবং হান্ডার ম্যাডসেন নামে দুজন সমকামী মিডিয়া স্ট্র্যাটিজিস্ট ছয় ধাপের এক পরিকল্পনা বানিয়েছিল। ১৯৮৭ সালে 'ওভারহলিং অফ স্ট্রেইট অ্যামেরিকা' নামের একটি প্রবন্ধে প্রথমবারের মতো তারা এই কৌশলগুলো তুলে ধরে। তারপর এটি প্রকাশিত হয় 'অ্যাফটার দা বল' নামে একটি বই হিসেবে।[৯৯]
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো সমকামিতাকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসা। সমাজে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা। এই কৌশল অত্যন্ত সফল হয়। মাত্র বিশ বছরের মধ্যে আমেরিকার মতো গভীরভাবে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান সমাজে সমকামিতা চলে আসে সমাজের মূলধারার। শুধু তা-ই না, সমকামিতাকে এখন অ্যামেরিকান সমাজে সেলিব্রেটও করা হয়। এই কৌশলকে অল্প কিছু পরিবর্তন করে এখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা যদি এ কৌশলকে নির্বিঘ্নে বাস্তবায়িত হতে দিই, তাহলে হয়তো খুব দ্রুত মুসলিম-বিশ্বেও সমকামিতা সমাজের মূলধারায় গ্রহণযোগ্যতা পাবে। পশ্চিমে যা অর্জন করতে ২০ বছর লেগেছে, হয়তো মুসলিম-বিশ্বে তা অর্জিত হবে আরও কম সময়ে।
আসুন দেখা যাক এই ছয়টি ধাপ কী কী?
প্রথম ধাপ—সমকামিতা নিয়ে যত বেশি সম্ভব এবং যত জোরে সম্ভব কথা বলা। এর উদ্দেশ্য সমকামিতার ব্যাপারে মানুষের সংবেদনশীলতা নষ্ট করে দেয়া। মানুষ যাতে একসময় সমকামিতাকে স্বাভাবিক কিছু একটা হিসেবে দেখতে শুরু করে। সমকামিতা নিয়ে বারবার কথা বলা হলে মানুষের মনে আর আগের মতো ধাক্কা লাগবে না। সমকামী এজেন্ডার পেছনের লোকেরা চায় মুসলিমরা সমকামিতাকে আইসক্রিমের ফ্লেভার কিংবা পছন্দের খেলার মতো আরেকটা অর্থহীন 'চয়েস' হিসেবে দেখুক। কেউ ভ্যানিলা আইসক্রিম খেতে পছন্দ করে, কেউ চকোলেট। কেউ ক্রিকেট পছন্দ করে, কেউ ফুটবল। ঠিক একইভাবে, কেউ সমকামী আর কেউ সমকামী না। এভাবে তারা সমাজের মূলধারায় সমকামিতার স্বাভাবিকীকরণ চায়।
মানুষের সংবেদনশীলতা নষ্ট করার মূল চাবিকাঠি মিডিয়া। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যেমন টিভি সিনেমা, গান, নাটক, বই ইত্যাদি মাধ্যমে সমকামিতাকে উপস্থাপন করতে হবে। এভাবে পুরো প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হবে।
দ্বিতীয় ধাপ—সমকামীদের ভিকটিম হিসেবে দেখাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সমকামীদের আগ্রাসী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখানো যাবে না। মানুষকে বোঝাতে হবে সমকামীরা আসলে ভিকটিম, তাদের সুরক্ষা প্রয়োজন। এতে মানুষের মধ্যে সহানুভূতি তৈরি হবে। সবচেয়ে ভালো হয় সমকামিতার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তরুণ এবং আকর্ষণীয় চেহারার কাউকে বেছে নিতে পারলে। এমন কেউ, বাহ্যিকভাবে দেখতে যে বাকি দশটা সাধারণ মানুষের মতোই। তারপর তাকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। এভাবে সমকামিতার ব্যাপারে মুসলিমদের চিন্তা বদলাতে শুরু করবে।
একজন মুসলিম এখন যখন সমকামিতার কথা ভাবে তখন সে কওম লূতের কথা চিন্তা করে। কওম লূত কোনো অর্থেই নিষ্পাপ ছিল না। ভিকটিম ছিল না; বরং কওম লূত ছিল আগ্রাসী, অপরাধী, ঘৃণ্য। কিন্তু অ্যান্টি-বুলিয়িং মেসেজের মাধ্যমে সমকামীদের অপরাধীর বদলে এমন নিষ্পাপ ভিকটিম হিসেবে দেখানো হবে যাদের সুরক্ষা আর সাহায্য প্রয়োজন।
তৃতীয় ধাপ—যারা সমকামীদের পক্ষে অবস্থান নেয় তাদের একটা আদর্শিক ভিত্তি দিতে হবে। যেমন বৈচিত্র্য। সমকামিতা ভালো-মন্দের প্রশ্ন না; বরং বৈচিত্র্যের প্রশ্ন। বৈচিত্র্য ভালো জিনিস। মুসলিমরা বৈচিত্র্য পছন্দ করে, কারণ ইসলাম বলে সাদা-কালো, আরব-অনারবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাই সমকামিতাকে বৈচিত্র্যের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে হবে।
সমকামিতার সমর্থনকে অধিকারের প্রশ্ন হিসেবেও উপস্থাপন করা যেতে পারে। ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো আর যুলুমের বিরোধিতা করা ইসলামের শিক্ষা। কাজেই এই সেন্টিমেন্টকেও কাজে লাগাতে হবে। মুসলিমরা সরাসরি সমকামী যৌন আচরণকে সমর্থন করবে না। তাই ফোকাসটা ওখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে হবে অধিকারের প্রশ্নে।
তুমি কি নিষ্পাপ, অসহায় ভিকটিমদের নির্যাতন আর বুলিয়িং এর পক্ষে? নাকি তুমি সমকামী অধিকারের পক্ষে? সমকামিতা নিয়ে আলোচনাকে এভাবে ফ্রেইম করা হবে।
দুজন পুরুষ পায়ুসংগম করছে-এমন জঘন্য বিকৃত আচরণ মুসলিমরা মেনে নেবে না। কোনো স্বাভাবিক মানুষই মেনে নেবে না। কিন্তু আলোচনা যদি অধিকারের হয়, ব্যাপারটাকে যদি মানবাধিকার আর ব্যক্তি-স্বাধীনতার লড়াই হিসেবে দেখানো হয় তাহলে অনেক মুসলিম বিষয়টার ব্যাপারে ইতিবাচক বোধ করবে এবং সমর্থনের সম্ভাবনা থাকবে।
চতুর্থ ধাপ-এই পয়েন্টের কারচুপিটা সূক্ষ্ম। বলতে হবে, সমকামী আচরণ হারাম। প্রথম শোনায় এটা বেশ অদ্ভুত লাগতে পারে। সমকামী আচরণ হারাম বলা হলে মানুষ সমকামিতা মেনে নেয়া থেকে পিছিয়ে যাবে না?
আসলে এখানে একধরনের রিভার্স সাইকোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে। সমকামী আচরণ হারাম বলার মাধ্যমে একজন লোক প্রথমে নিজেকে ইসলামী মূল্যবোধের সমর্থক আর অনুসারী হিসেবে উপস্থাপন করবে। তারপর সেই একই লোক, অধিকারে আর নির্যাতিতকে সহায়তা করার অজুহাত দেখিয়ে সমকামী অধিকারের কথা বলবে।
এখানে যুক্তি হবে এমন- হ্যাঁ, সমকামী আচরণ তো অবশ্যই হারাম। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু সমকামীরা ভিকটিম। তারা নির্যাতিত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, তাই তাদের অধিকারের দাবি আমাদের সমর্থন করত হবে।
এভাবে মুখে হারামের কথা বলে আড়ালে সমকামিতার পক্ষে ক্যাম্পেইন চলবে। এটা একধরনের ট্রোজান হর্সের মতো। মুসলিমদের বোঝানো হবে, সমকামী আচরণ হারাম কিন্তু সমকামী অধিকারকে সমর্থন করা হালাল। শুধু হালাল না; বরং প্রশংসনীয়! অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। সমকামী আচরণে লিপ্ত হওয়া যেমন হারাম তেমনিভাবে সমকামী আচরণকে সমর্থন করাও হারাম। কিন্তু ইসলামের ব্যাপারে যারা ভালোভাবে জানে না, এ ধরনের সূক্ষ্ম জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের বোকা বানিয়ে, সমকামী অধিকার মেনে নেয়ানো হবে।
গত প্রায় দশ বছর ধরে পশ্চিমের বিভিন্ন সেলিব্রিটি বক্তা এবং অ্যাকাডেমিক এই কৌশল বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ফলে পশ্চিমা বিশ্বে থাকা মুসলিমদের মধ্যে, বিশেষ করে অ্যামেরিকান মুসলিমদের অনেকে মনে করছে সমকামী অধিকার সমর্থন করা এবং সমকামী অধিকার আন্দোলনের সাথে রাজনৈতিক ঐক্য করা জায়েজ। এই একই কৌশল এখন পশ্চিম থেকে রপ্তানি করা হচ্ছে পূর্বে। মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ মুসলিম-বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আগে সমকামিতার ব্যাপারে আলিমদের ক্লিয়ার-কাট শক্ত অবস্থান ছিল। ধীরে ধীরে এই অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সমকামী আচরণ হারাম, কিন্তু সমকামী অধিকারকে সমর্থন দিতে হবে-এই ধরনের ধ্যানধারণা মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
পঞ্চম ধাপ-সমকামী এজেন্ডার বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তাদের আক্রমণ করতে হবে। তাদের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে দিতে হবে।
ওরা সেকেলে, বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন, ওরা অসহিষ্ণু, কাঠমোল্লা-ইতিহাসের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়া মানুষ।
এভাবে একদিকে সমকামীদের ভিকটিম হিসেবে দেখানো হবে, অন্যদিকে যারা সমকামী এজেন্ডার বিরোধিতা করছে তাদের দেখানো হবে আগ্রাসী, অপরাধী, অত্যাচারী হিসেবে। সমকামিতার স্বাভাবিকীকরণের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য পুরো ব্যাপারটাকে এভাবে ফ্রেইম করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের এই চেষ্টা সফল হলে সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলা মানুষদের সাধারণ মুসলিমরা এড়িয়ে চলতে শুরু করবে। ফলে প্রথম প্রথম একটা নীরবতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। সাধারণ মুসলিমরা সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলতে চাইবে না। কারণ, কেউই চায় না যে, তাকে অসহিষ্ণু, সেকেল, বর্বর, কাঠমোল্লা বলা হক। নীরবতার কারণে পুরোদমে সমকামী প্রপাগান্ডা চালানো একসময় সহজ হয়ে যাবে।
ষষ্ঠ ধাপ-পর্যায়ক্রমিক আইনি সংস্কার। সমকামিতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে আইন আছে, যেগুলো অনুযায়ী সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের আইন একসময় পশ্চিমা বিশ্বেও ছিল। ধাপে ধাপে এসব আইন বাতিল করা হয়েছে। তারপর পুরো আইনি কাঠামোকে বদলানো হয়েছে। ফলে সমকামিতা এখন শুধু বৈধ না; বরং এর বিরুদ্ধে কথা বলাও বেআইনি। এ একই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে মুসলিম-বিশ্বে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
আমরা এটাকে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণের সাথে তুলনা করতে পারি। অনেক মুসলিম দেশে এখনো কাগজে-কলমে সমকামিতার ব্যাপারে হদ্দ বা শর'ঈ শাস্তির বিধান আছে। এটা রাতারাতি বদলানো যাবে না। ধাপে ধাপে আগাতে হবে। করতে হবে কম বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে।
প্রথম পর্যায়, যেসব মুসলিম দেশে হুদুদ আছে, সেগুলো বাতিল করা। এ ব্যাপারে পশ্চিমা শক্তি এবং এনজিওগুলো এরইমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। দশকের পর দশক ধরে চলা লিবারেল আর সেক্যুলার মগজধোলাইয়ের কল্যাণে অনেক মুসলিমই আজ হুদুদের ব্যাপারে অস্বস্তি বোধ করে। তারা পশ্চিমা লেন্সের ভেতর দিয়ে হুদুদকে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। হুদুদ তাদের কাছে বর্বর মনে হয়। হুদুদ বাতিল করার পদক্ষেপের জন্য সাধারণ মানুষ এক অর্থে প্রস্তুত। আর অনেক মুসলিম দেশে হুদুদ বাতিল অনেকে আগেই হয়ে গেছে। সেসব দেশ আগাগোড়া সেক্যুলার আইনে চলে। যেসব দেশে সেক্যুলার আইনে সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করা হয়, সেসব দেশের ক্ষেত্রে লক্ষ্য হবে এই আইনগুলো বাতিল করা।
সমকামিতার হদ্দ বাতিল করার পরের পর্যায় হলো সমকামী আচরণকে বৈধতা দেয়া। এই পর্যায়ে, যেসব দেশ সমকামিতাকে বৈধতা দেবে না তাদের ওপর অ্যামেরিকা এবং ইউরোপের সরকারগুলো চাপ প্রয়োগ করবে।
তৃতীয় পর্যায় হবে সমকামী ক্লাব আর বারের মতো জায়গাগুলোকে বৈধতা দেয়া। আইনিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হলে সরকার আর এগুলো বন্ধ করতে পারবে না।
চতুর্থ পর্যায় হবে, সমকামীদের জন্য 'সংরক্ষিত স্ট্যাটাস' তৈরি করা। অর্থাৎ যে নিজেকে সমকামী হিসেবে যে পরিচয় দেবে সে আইন অনুসারে বিশেষ কিছু সুরক্ষা পাবে। যেমন তাকে সমকামিতার বিরুদ্ধে কিছু বলা হলে সেটা হয়রানি বা নিগ্রহ হিসেবে দেখানো যাবে।
পঞ্চম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো সমকামী বিয়েকে আইনি বৈধতা দেয়া। এটা করার জন্য আইনি কাঠামোতে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। কিন্তু এরই মধ্যে সমকামিতার স্বাভাবিকীকরণের কাজ অ্যাক্টিভিস্টরা অনেক দূর এগিয়ে নেবে। ততদিনে একধরনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়ে যাবে। যুক্তি দেয়া হবে- সমকামী আচরণ হারাম। কিন্তু ইচ্ছেমতো বিয়ে করার অধিকার মানুষের থাকা উচিত। এই অধিকার কারও কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া একধরনের বৈষম্য।
এ ধরনের কথা একেবারেই অযৌক্তিক, এর কোনো আইনি ভিত্তিও নেই। তবু মুসলিম-বিশ্বে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার জন্য এটা প্রচার করা হবে। পশ্চিমা দেশগুলোকে আবারও মুসলিম দেশের সরকারগুলোর ওপর চাপ দেবে।
পরবর্তী পর্যায়ে 'হেইট স্পিচ' আইন বানানো হবে। সমকামী এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলাকে বেআইনি করা হবে। ইতিমধ্যে ক্যানাডা, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশে এ ধরনের আইন হয়েছে। যেসব দেশে এ ধরনের আইন পাশ হয়েছে, সেখানে সমকামিতা বা সমকামী এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা কিছু শেখানো বেআইনি।
এভাবে আইনি কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসবে। তারপর সমকামিতার কথা ঢোকানো হবে পাঠ্যসূচিতে। প্রাইমারি স্কুলে শিশুদের শেখানো হবে সমকামিতা একদম স্বাভাবিক। একজন ছেলে চাইলে মেয়ে হতে পারে, মেয়ে চাইলে ছেলে হতে পারে ইত্যাদি। তারপর অভিভাবকদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হবে। স্কুলে সমকামিতাকে স্বাভাবিক শেখানো হচ্ছে কিন্তু অভিভাবক চাইলে বাচ্চাকে ক্লাস থেকে সরিয়ে নিতে পারবে না। যৌন শিক্ষা ক্লাসের মগজধোলাইয়ের কারণে কোনো শিশু যদি তার লিঙ্গ পরিবর্তন করতে চায় তাহলে অভিভাবক বাধা দিতে পারবে না। অভিভাবক বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে সেটাকে শিশু নির্যাতন বলা হবে।
এভাবে একসময় সব আইনি বাধা সরিয়ে দেয়া হবে। কোনোভাবেই আর সমকামিতার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। অফিস, স্কুল কিংবা মসজিদে সমকামী কর্মচারীকে রাখতে না চাইলে সেটা আইনের চোখে 'অপরাধ' হবে। এভাবে সম্পন্ন হবে আইনি কাঠামোর আমূল পরিবর্তন।
এই ছয়টি ধাপ অনুসরণ এবং বাস্তবায়ন করা হলে সর্বোচ্চ ১০-২০ বছরের মধ্যে মুসলিম-বিশ্বকে বদলে ফেলা যাবে।
আপনার দেশেও এমন হচ্ছে। চিন্তা করে দেখুন তো কোন কোন রাজনীতিবিদ সমকামিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বা বক্তব্য দিয়েছে? কোন প্রতিষ্ঠানগুলো নানাভাবে সমকামিতাকে প্রমোট করেছে? কোন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কোন পত্রিকা, কোন অভিনেতা, আর তারকারা সমকামী এজেন্ডাকে সমর্থন দিচ্ছে? কোন ধর্মীয় নেতারা একে সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে?
সমকামী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা জানা সমকামী এজেন্ডা মোকাবিলার প্রথম ধাপ হলো।
তারা চক্রান্ত করে এবং আল্লাহও পরিকল্পনা করেন এবং আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী।
টিকাঃ
[৯৯] Kirk, Marshall; Madsen, Hunter (November 1987), "The Overhauling of Straight America", Guide Kirk, Marshall; Madsen, Hunter (November 1989), After the Ball: How America Will Conquer its Fear and Hatred of Gays in the 90s, Doubleday