📄 ভিকটিমবিহীন অপরাধ?
মানুষ অনেক সময় মজা করে বলে—গাড়ি চালাতে লাইসেন্স লাগে, কিন্তু সন্তানের অভিভাবক হতে লাইসেন্স লাগে না, এটা কেমন কথা?
হালকা চালে বলা হলেও কথাটার পেছনে যুক্তি আছে। ভেবে দেখুন, স্কুলে পড়ানো, ডাক্তার কিংবা আইনজীবী হওয়া, এমনকি মেকানিক হতে হলেও সার্টিফিকেট লাগে। এগুলোর তুলনায় একটা শিশুকে লালনপালন করা অনেক বেশি নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু এটার জন্য কোনো সার্টিফিকেট, লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ নেই কেন?
শিশুরা সমাজের ভবিষ্যৎ। তাদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, চরিত্র আমাদের সমাজের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। যেসব শিশু উপযুক্ত অভিভাবকত্ব পায় না, তাদের বেকারত্ব, মাদক এবং অপরাধে জড়ানোর আশঙ্কা বেশি থাকে। সমাজের কর্মক্ষম সদস্য এবং ন্যায়নিষ্ঠ মানুষ হবার ক্ষেত্রেও ব্যর্থতার আশঙ্কা থাকে সাধারণের চেয়ে বেশি।
কাজেই শিশুর সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা যেন যোগ্য অভিভাবক এবং যথাযথ পরিচর্যা পায় তা নিশ্চিত করার কোনো-না-কোনো ব্যবস্থা সভ্য জাতিগুলোর মধ্যে থাকা উচিত। অযোগ্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন লোকেরা যেন শিশুদের ভবিষ্যৎ অগ্রাহ্য করে যা ইচ্ছে তা-ই করতে না পারে, তাদের সন্তানেরা যেন সমাজের বোঝায় পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা কি সামাজিক দায়িত্ব না?
এ ধরনের একটা লাইসেন্সের বিধান ইসলামে আছে—নিকাহ। যথাযথভাবে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ পালন করে বাস্তবায়ন করা হলে নিকাহ একটি স্থিতিশীল পরিবারের নিশ্চয়তা দেয়, যেখানে পিতা ও মাতা সন্তানের লালনপালন করবে। আর তাদের সমর্থন দেয়ার জন্য থাকবে বৃহত্তর পরিবার এবং সার্বিক সমাজ। অথচ দশকের পর দশক ধরে লিবারেল এবং মডার্নিস্টরা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর নিরন্তর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের মতে বিবাহ-পূর্ব যৌনতাকে নিষিদ্ধ করে ইসলাম যৌন স্বাধীনতার গলা চেপে ধরেছে। অথচ বাস্তবতা হলো যিনার নিষেধাজ্ঞার বিধান মানুষের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। কারণ, এই নিষেধাজ্ঞা ডিভোর্সি, অবিবাহিত নারী এবং সন্তান পালনের অনুপযুক্ত নারী-পুরুষের সন্তানের সংখ্যা সীমিত রাখে। এতে করে শিশুর এবং সমাজের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। বিষয়টা এতই স্পষ্ট যে বিবাহ-পূর্ব যৌনতা নিষিদ্ধের যৌক্তিকতা বোঝার জন্য ধার্মিক হওয়াও জরুরি না। সব ধরনের সমাজ-বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এই বিধানকে সমর্থন করে।
কাজেই বিবাহ-পূর্ব যৌনতায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এটা একটা ভ্রান্ত বিশ্বাস। বিবাহ-পূর্ব যৌনতাকে ভিকটিমহীন অপরাধ বলা যায় না।[৯৭]
যিনা একটা বড় ধরনের অপরাধ। আধুনিক রাষ্ট্র এই অপরাধের লাগামহীন বৈধতা দিয়েছে। ফলে অপরাধের হার বেড়েছে। একইসাথে বেড়েছে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা। যিনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হবার আরেকটা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল হলো, রাষ্ট্রের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা বাড়া। আর রাষ্ট্রের ওপর জনগণের নির্ভরতা যত বাড়ে ততই জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে রাষ্ট্রের ক্ষমতা। এতে দিনশেষে লাভ হয় রাষ্ট্র, ক্ষমতাসীন আর কর্পোরেশানগুলোর। এ কারণেই হাজার হাজার বছর ধরে যৌনতার ব্যাপারে চলে আসা অনুশাসন ও মূল্যবোধ নিয়ে আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের কোনো মাথাব্যথা নেই।
যৌনতার ব্যাপার ইসলামী মূল্যবোধ কেন যৌক্তিক এবং সেক্যুলার লিবারেল অবস্থানের চেয়ে নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠতর তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব। ডেইটিং কিংবা যিনার ব্যাপার ধর্মীয় যুক্তি কারও মনঃপূত না হলে, এই যৌক্তিক প্রমাণগুলো এই বিধানগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে যথেষ্ট।
টিকাঃ
[৯৭] অবধারিতভাবে এখানে কেউ-না-কেউ জন্মনিয়ন্ত্রণের কথা তুলবে-যদি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে গর্ভধারণই না হয়, তাহলে এখানে ভিকটিম কে? এ প্রশ্নের জবাব দুইভাবে দেয়া যায়।
১। আমরা লাইসেন্সের কথা বলছিলাম। অন্যান্য লাইসেন্স এবং সার্টিফিকেটের সাথে বিষয়টার তুলনা করা যায়। অনেক বছর ধরে বিমানগুলোতে অটো-পাইলট সুবিধা আছে। কিন্তু তার মানে এই না যে বিমান চালাতে হলে পাইলটদের লাইসেন্স লাগবে না।
২। জন্মনিয়ন্ত্রণ আর যৌন শিক্ষা যদি অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ প্রতিবোধে সফল হতো, তাহলে গত ৫০ বছরে এমন গর্ভধারণ এবং গর্ভপাতের হার কমার কথা। কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। গত পঞ্চাশ বছরের প্রতি দশকে সিঙ্গেল মাদার-দের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে অ্যামেরিকার প্রায় অর্ধেক শিশু শুধু মায়ের কাছে বড় হচ্ছে। আর সব ধরনের পরিসংখ্যান সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে এভাবে বড় হওয়া শিশুরা সুস্থ পরিবাবে বড় হওয়া শিশুদের তুলনায় অনেক দিক থেকে পিছিয়ে থাকে।
📄 ‘যৌন শিক্ষা’র উদ্দেশ্য
যৌন শিক্ষা ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বয়স দিন দিন কমছে। আমি যখন স্কুলে ছিলাম তখন যৌন শিক্ষা শুরু হতো ক্লাস টেন থেকে। এখন শুরু হয় হাইস্কুল থেকে, অনেক ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুলেও। শিশুর মানসিকতা এবং গঠনের ওপর এ ধরনের ক্লাসের প্রভাব কেমন হতে পারে? বৃহত্তর সমাজের ওপর এর কেমন প্রভাব পড়তে পারে?
মুসলিম সংস্কৃতিতে বয়ঃসন্ধির আগে বাবা-মা সন্তানের সাথে যৌনতার ব্যাপারে কথা বলে না। আর যখন বলে তখনো সেটা বলা হয় ইঙ্গিতে। কারণ, মানুষের কৌতূহলের ক্ষমতা অনেক। শিশুকে যখন এ ব্যাপারগুলো নিয়ে বলা হবে তখন সে কৌতূহলী হবে। তার নিজে নিজে অনুসন্ধানের সম্ভাবনা বাড়বে। আর আধুনিক মনোবিজ্ঞান আমাদের যতই 'সেক্স পসিটিভ' হবার কথা বলুক না কেন, এর ফলাফল নেতিবাচক। যৌন শিক্ষা ক্লাসে কী পড়ানো হচ্ছে, তাও খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের এখন সমকামিতা, সেক্সুয়াল ফ্লুয়িডিটি, সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন, জেন্ডার আইডেন্টিটির মতো বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। শিশুদের প্রশ্ন করা হচ্ছে, তুমি ছেলেদের পছন্দ করো নাকি মেয়েদের? নাকি ছেলে-মেয়ে দুটোকেই? নাকি কোনোটাকেই না? তুমি কি নিজেকে ছেলে মনে করো নাকি মেয়ে? নাকি কোনোটাই না?
শিশুদের ওপর এবং আমাদের ভবিষ্যতের ওপর এ ধরনের শিক্ষা এবং চিন্তা-ভাবনার প্রভাব কেমন হবে তা বোঝার জন্য জ্যোতিষী হতে হয় না।
তবে সবচেয়ে বিচিত্র জিনিস হলো যৌন শিক্ষার পেছনের লিবারেল দর্শন। লিবারেল দর্শন অনুযায়ী-
যৌনতা আমাদের জীবনের একটা স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক অংশ। তাই শিশুরা যৌনতা নিয়ে জানবে এটাই স্বাভাবিক। মানবদেহ নিয়ে জানতে লজ্জার কী আছে? শিশুদের এসব না জানানোর কারণ কী? তারা তো এমনিতেই টিভি থেকে কোনো-না-কোনো সময় এগুলো জানবে।
কথাগুলোর সাথে ইবলিসের কথাবার্তার মিল আছে। আদম আর হাওয়া (আলাইহিমুস সালাম)-কে প্রতারিত করে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল খাইয়েছিল ইবলিস। এই ফল খাবার পর তাঁদের লজ্জাস্থান তাঁদের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
শিশুরা কথা বলতে শেখামাত্র তাদের যৌনতা শেখানো—একে ইতিবাচক, স্বাস্থ্যকর, প্রগতিশীল কিছু একটা হিসেবে উপস্থাপন করার এই পুরো ব্যাপারটা ইবলিসের বেশ পছন্দ হবার কথা।
বাস্তবতা হলো যৌনতা মূলত লজ্জাজনক। এটা শুধু তখনই ইতিবাচক, স্বাস্থ্যকর এবং গ্রহণযোগ্য যখন এটা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী সংঘটিত হয়। কিন্তু শিশুদের শেখানো হচ্ছে উল্টোটা। সমাজে যে ধর্মকে অপ্রাসঙ্গিক এবং সেকেলে মনে করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, এতে অবাক হবার কিছু নেই। কাউকে যদি স্কুলে শেখানো হয়, যৌনতা সব সময় স্বাস্থ্যকর, তাহলে যে জিনিস যৌনতার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় তা নিঃসন্দেহে অবাস্তব, অযৌক্তিক এবং খারাপ বলেই মনে হবে।
টিকাঃ
📄 ইখতিলাত
নারীপুরুষের অবাধ মেলামেশার ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান নিয়ে আপাতভাবে দ্বীনের জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমদেরও অভিযোগ-অনুযোগ করতে দেখা দুঃখজনক। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অর্থাৎ ইখতিলাত থেকে বিরত থাকা ইসলামের প্রাথমিক একটি শিক্ষা। নারী ও পুরুষের মেলামেশা থেকে শুরু হয় ফ্লার্ট করা। ফ্লার্ট করা থেকে ব্যাপারটা গড়ায় একে অপরেরকে স্পর্শ করার দিকে। আর তারপর ব্যাপারটা যায় যিনায়। যিনা বিয়ে আর পরিবারকে ধ্বংস করে। আর পরিবারের ধ্বংস মানবতার পতন ঢেকে আনে।
এটা কি অতিরঞ্জন? আমি কি বাড়িয়ে বলছি? একেবারেই না। যার চোখ আছে, বোধবুদ্ধি আছে, যে নিজের সাথে সৎ-সে জানে যে নারী-পুরুষের মেলামেশা শুধু এসব পরিণতি ডেকে আনে না; বরং মানুষকে এর চেয়েও খারাপ এক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়-জাহান্নাম।
লিবারেল-ফেমিনিস্টরা এসব কথা মানবে না, আমি জানি। কিন্তু আজ এমন অনেক লোক আছে, যারা বাহ্যিকভাবে আলিমের পোশাক পরলেও ভেতরে ভেতরে লিবারেল-ফেমিনিস্টদের মতো ধ্যানধারণা পোষণ করে। পাবলিক স্পেইসে নারী ও পুরুষের পৃথক অবস্থানের যে ইসলামী বিধান, তারা সেটার বিরোধিতা করে। এমন-সব নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ কথাবার্তা বলে, যেগুলো তাদের অজ্ঞতা এবং চিন্তার সংকীর্ণতা প্রকাশ করে। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পরিণতির ব্যাপারে আমার বক্তব্য নিয়ে যদি আপত্তি থাকে তাহলে দয়া করে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন-
• বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নামে নারী-পুরুষের যে ধরনের অবাধ মেলামেশা আজ আমরা মুসলিম এবং অমুসলিম সমাজে দেখি, সেখানে কি ফ্লার্ট করা হয় নাকি হয় না?
• এ ধরনের মেলামেশা কি মানুষকে বিপরীত লিঙ্গের দিকে তাকানো এবং স্পর্শ করার মতো হারামের দিকে নিয়ে যায় না?
• সমাজে যিনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়ে গেলে বিয়ে কি কঠিন হয়ে যায় না?
• যিনা কি বিয়েকে ধ্বংস করে না?
• পশ্চিমা বিশ্বে ৫০% শিশুর জন্ম হয় ডিভোর্সী, অবিবাহিত কিংবা সেপারেটেড মায়ের গর্ভে। এ ধরনের শিশুদের বেকারত্ব, ডিপ্রেশনে ভোগা, অপরাধ কিংবা মাদকে জড়ানোর হার অনেক বেশি। এগুলোর জন্য কি যিনার ব্যাপক প্রচলন দায়ী না?
• ৫০% এর দম্পতির ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। ২৫% এর বেশি বিবাহিত পুরুষ, এবং ১৫% নারী পরকীয়া করার কথা স্বীকার করছে। অ্যাশলিম্যাডিসন এর মতো সাইটগুলো কোটি কোটি নিবন্ধিত সদস্যদের ব্যভিচারের সঙ্গী বেছে নিতে সাহায্য করছে। বিয়ে আর পরিবার কি পশ্চিমা সমাজে আজ ধ্বংসের মুখোমুখি না?
এত কিছু জানার পরও একজন মুসলিম কীভাবে এ ব্যাপারগুলো নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে তা আমার বোধগম্য না। আমরা জানি কিয়ামতের একটি লক্ষণ হলো যিনা বেড়ে যাওয়া। কিয়ামতের আগে রাস্তায় প্রকাশ্যে যিনা করা হবে। আজ আমরা চারপাশে কী দেখছি? তারপরও কীভাবে মুসলিম হিসেবে নিশ্চিন্ত থাকা যায়? আধুনিক সমাজে যিনার এই বৃদ্ধির জন্য কি নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা দায়ী না? যদি আপনি মনে করেন অবাধ মেলামেশার কোনো ভূমিকা এখানে নেই তাহলে দয়া করে ব্যাখ্যা করুন, কেন আমরা এমন অবস্থা দেখছি?
এ বাস্তবতাগুলোকে উপেক্ষা করে অনেকে কেবল বলে, 'মুসলিমদের তাকওয়া থাকা দরকার।' দেখুন, নারী-পুরুষের মেলামেশার সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং সীমারেখা শরীয়াহতে ঠিক করা আছে। এই সীমারেখাগুলো মেনে চলাই হলো তাকওয়ার দাবি। তাকওয়ার কথা বলে এগুলো উঠিয়ে দেয়ার কথা কীভাবে বলা যায়? আপনার যত তাকওয়াই থাক না কেন, বিপরীত লিঙ্গের কারও সাথে একাকী অবস্থান করা হারাম। এটা নারী ও পুরুষ, উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। শুধু মজা করা, কিংবা সোশ্যালাইযিং এর জন্য বিপরীত লিঙ্গের কারও সাথে মেলামেশা করা জায়েজ না। নারীপুরুষের যে ধরনের মেলামেশাকে পশ্চিমা লিবারেল সমাজে স্বাভাবিক মনে করা হয় সেটা ইসলামে জায়েজ না।
মসজিদে নারী ও পুরুষের সালাত আদায়ের জায়গার মধ্যে পার্টিশন থাকা নিয়েও অনেকে আপত্তি তোলে। তারা জানে পার্টিশানকে হারাম বা বিদআত বলা সম্ভব না। তাই তারা বলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় মাসজিদে নববীতে নারী ও পুরুষের সালাতের স্থানের মধ্যে কোনো পার্টিশন ছিল না। এটা তারা খুব জোর দিয়ে বলে। কিন্তু সাহাবিয়্যাতদের (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুন্না) পোশাক কেমন ছিল, মসজিদে যাবার সময় তাঁরা কীভাবে যেতেন, মসজিদে কোথায় কীভাবে দাঁড়াতেন, কোন কোন ক্ষেত্রে তাঁদের মাসজিদে যেতে মানা করা হয়েছিল-সেই হাদীসগুলো নিয়ে তারা কথা বলে না। সেগুলো তারা এড়িয়ে যায়।
নারী ও পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ হবার শর'ঈ বিধান নিয়ে মুসলিমদের হীনম্মন্যতায় ভোগার কোনো কারণ নেই। নারী-পুরুষের মেলামেশাকে সীমিত করা শুধু তাকওয়া এবং আল্লাহর বিধান সম্পর্কে সচেতন হবার চিহ্ন না; বরং সভ্য এবং পরিশীলিত হবার বৈশিষ্ট্য হলো অবিবাহিত নারী ও পুরুষ অবাধে একে অপরের সাথে মেলামেশা করবে না। ফ্লার্ট করবে না, পশুর মতো একে অপরের সাথে গড়াগড়ি করবে না।
বি.দ্র.-ইমাম আল-গাযযালি বলেছেন- 'অন্তরের প্রথম ভাবনাকে দূর না করলে কামনা তৈরি হবে। কামনা থেকে তৈরি হবে আকাঙ্ক্ষা, আকাঙ্ক্ষা থেকে নিয়্যাত আর নিয়ত থেকে কাজ। আর সেই কাজ বান্দাকে ধ্বংস করবে, আল্লাহর ক্রোধের উদ্রেক করবে। তাই মন্দকে শেকড়েই কেটে ফেলতে হবে। যখন অন্তরে ভাবনা আসবে, তখনই থামিয়ে দিতে হবে। কারণ, বাকি সবকিছুর উৎপত্তি এই ভাবনা থেকেই'।[৯৮]
টিকাঃ
[৯৮] আল-গাযযালি
📄 Sex sells...
আজকের মিডিয়া যৌনতাকেন্দ্রিক কেন?
কারণ, যৌনতার মার্কেট আছে। জনগণ যৌনতা চায়। তারা যৌনতা দেখতে চায়, ভোগ করতে চায়। চাহিদা আছে, তাই ইন্ডাস্ট্রিগুলো সেই চাহিদার যোগান দিচ্ছে। ব্যস। তবে জনগণের মধ্যে এ চাহিদা তৈরি করছে এই একই ইন্ডাস্ট্রিগুলো। মানুষের মাথার ভেতরে তারা ক্রমাগত বিষ ঢোকাচ্ছে। একসময় মানুষ বিষে আসক্ত হয়ে পড়ছে।
ঠিক একই কারণে আজ পৃথিবীজুড়ে মাদকাসক্তি বাড়ছে। কোনো স্বাভাবিক মানুষ বুকের ভেতরে ধোঁয়া ঢোকাতে চায় না। কোনো স্বাভাবিক মানুষ ঘুম থেকে উঠে নিজের শিরার মধ্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল প্রবেশ করাতে চায় না। স্বাভাবিক অবস্থায় কেউ ভাত, ফল-সবজি পচানো, কড়া গন্ধের, গা গোলানো তরল গিলতে চায় না। এগুলোর চাহিদা তৈরি করতে হয়। মানুষের মধ্যে এসব চাহিদা তৈরির জন্য এই ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে। বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কারিগরির মাধ্যমে মানুষকে ভাবতে শেখায় যে চাহিদাগুলো সহজাতভাবে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, আর তাই এগুলো পূরণ করতে হবে।
মানুষের প্রাকৃতিক অধিকার আর প্রাকৃতিক চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাই সবচেয়ে নৈতিক-লিবারেল মানবাধিকার এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু এই 'অধিকার' আর 'চাহিদা'-গুলো আসলে কতটা প্রাকৃতিক, সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করে না। আর কোনো কিছু যদি প্রাকৃতিক হয়ও, তাহলে সেটা অনুযায়ী কাজ করতে আমরা নৈতিকভাবে কেন বাধ্য হব সেটাও প্রশ্ন।
টিকাঃ