📄 ‘কমিউনিস্ট ইসলামের’ ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
বিংশ শতাব্দীর অনেক অ্যাকাডেমিক মুসলিমদের মধ্যে সমাজতন্ত্র একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল। এসব মুসলিমদের চোখে কমিউনিসম ছিল ন্যায়বিচার আর পার্থিব সভ্যতার শিখর। সোভিয়েত ইউনিয়নও এ সময় অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। মুসলিমদের কেন কমিউনিসমের আদর্শ গ্রহণ করা উচিত তা নিয়ে অ্যাকাডেমিক মুসলিমরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে লেখালেখি শুরু করল। ইসলামের মূল শিক্ষা যে আসলে সমাজতান্ত্রিক, তা প্রমাণে উঠেপড়ে লেগে গেল। কুরআন-হাদীসের মধ্যেও তারা কমিউনিসম খুঁজে পেল। যাকাত, আর সাদাকাহর বিধান দেখিয়ে বলল, 'এই যে দেখো প্রমাণ! ইসলাম ব্যক্তি-মালিকানার বিরোধী!'
ইসলামী আইনের এমন অনেক দিক আছে, যেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তি-মালিকানার ধারণা মেনে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলো কমিউনিসমের সাথে সাংঘর্ষিক হবার কারণে মুসলিম কমিউনিস্টরা ফিকহশাস্ত্রকে আক্রমণ করে বসল। বলল- ফিকহ সেকেলে, ফিকহের অবস্থান অন্যায্য এবং ফিকহ আসলে আল্লাহর দেয়া দ্বীনের পুঁজিবাদী বিকৃতি। ক্লাসিকাল আলিমরা সবাই সম্পদের মালিক ছিল। নিজেদের বুর্জোয়া এজেন্ডা রক্ষার জন্যে আর শ্রমিক-শ্রেণিকে শোষণের লক্ষ্যে তারা ফিকহের আইন-কানুন বানিয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই সে সময়কার অনেক মুসলিম এসব কথাবার্তার বিরোধিতা করল। মুসলিম কমিউনিস্টদের যুক্তির নানা ফাঁকফোকর তুলে ধরল। প্রতিবাদ করল আলিমগণের ওপর দেয়া অপবাদের বিরুদ্ধে। এভাবে বারবার বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সামাজিক বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হতে এই মুসলিম কমিউনিস্টরা আরও উগ্র হতে থাকল। একসময় তারা ইসলাম থেকে বেরই হয়ে গেল।
মার্ক্স কি বলেননি, ধর্ম জনগণের আফিম? আর এই ট্র্যাডিশানাল মুসলিমরাই না কমিউনিসমের সুস্পষ্ট ন্যায়বিচার আর ঐতিহাসিক বস্তুবাদের গভীর অন্তর্দৃষ্টিকে অস্বীকার করছে! মূল সমস্যা তাহলে ইসলামেই!
তাদের চোখে মুসলিমরা ছিল ধর্মান্ধ ভেড়া। তাই ইসলাম ত্যাগ করে তারা মুরতাদ হয়ে গেল। তাদের আশা ছিল, অদূর ভবিষ্যতে কমিউনিসমের উজ্জ্বল আলো ইসলামী টট্র্যাডিশানের গাঢ় অন্ধকারকে দূর করে দেবে। পুরো মুসলিম-বিশ্ব তাদের অনুসরণ করে তখন প্রবেশ করবে এনলাইটেনমেন্টের এক নতুন পর্যায়ে।
কিন্তু তারপর কী হলো? সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটল। কমিউনিসমের বাজার পড়ে গেল। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এসে দেখা গেল, এই অ্যাকাডেমিকদের লেখাজোখা আর বক্তব্য, কারও মনে নেই। তারা এবং তাদের কাজ বিস্মৃত। তাদের পুরো আন্দোলনের স্থান হলো ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।
আজ যারা অশালীনতা আর অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করছে, যারা আলিমদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ওপর অপবাদ দিচ্ছে, যারা মুসলিমদের অন্তরে বিভ্রান্তি আর সংশয় তৈরি করছে, যারা শরীয়াহ পরিবর্তনের দাবি আর চক্রান্ত করছে সেই মডার্নিস্ট লিবারেল মুসলিমরা, নিকট অতীতের কমিউনিস্ট মুসলিমদের মতো ঠিক সেই একই পথে, একই পরিণতির দিকে এগোচ্ছে।
আল্লাহ তাদের পরিণতিকে ত্বরান্বিত করুন।
টিকাঃ
📄 ‘ইসলামী সংস্কার’ নামক হাইড্রা
তথাকথিত প্রগতিশীল কিংবা সংস্কারবাদী মুসলিমদের ধ্যানধারণার খণ্ডন করা কি জরুরি?
না। এদের সাথে বিতর্ক করা অর্থহীন, কারণ তাদের কোনো উসুল নেই। কোনো স্থায়ী মূলনীতি নেই। তারা যেসব বিচিত্র, আজগুবি মত নিয়ে হাজির হয়, সেগুলোর পেছনে কোনো স্পষ্ট কাঠামো নেই। তাদের অবস্থানকে যখন একদিক থেকে আক্রমণ করবেন সাথে সাথে তারা সুর পাল্টে অন্য দিকে চলে যাবে। ক্রমাগত গোলপোস্ট সরাবে। শেষ পর্যন্ত আলোচনা কোনোদিকেই আগাবে না। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো বলছি।
এসব প্রগতিশীল কিংবা সংস্কারবাদীদের অবস্থানকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণের জন্য তাদের সাথে বিতর্ক করা জরুরি না; বরং ওই আদর্শগুলোকে আক্রমণ করুন, যেগুলো তাদের অবস্থানের মূল ভিত্তি-অর্থাৎ লিবারেল-মডার্নিস্ট চিন্তা।
নিচের উদাহরণটা দেখুন, হিজাব আর পাবলিক প্লেইসে নারী-পুরুষের পৃথক অবস্থান নিয়ে কথিত মুসলিম সংস্কারবাদীরা অনেক চেঁচামেচি করে। এসব বিধান পুরুষতান্ত্রিক, এগুলো যুলুম, ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের মধ্যে যারা একটু সূক্ষ্মবুদ্ধির, তারা ইসলামী ইতিহাস থেকে বেছে বেছে এমন কিছু উদাহরণ বের করে নিয়ে আসে, যেগুলো তাদের বক্তব্যের পক্ষে যায়। তারপর এর সাথে 'মাকাসিদ-ভিত্তিক বিশ্লেষণ' এর খিচুড়ি বানিয়ে উপস্থাপন করে।
অনেকে এদের সবগুলো ভুল ধরে ধরে দেখাতে চান। কুরআন, সুন্নাহ, মাকাসিদুশ শরীয়াহ, মাসলাহাসহ ফিকহের বিভিন্ন নীতির বিকৃতি ও অপপ্রয়োগ-প্রতিটা পয়েন্ট তারা দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত আলোচনা করে দেখান। নিঃসন্দেহে এটা প্রশংসনীয়। কিন্তু দিনশেষে এটাতে তেমন একটা কাজ হয় না, কারণ ভুল ধরিয়ে দেয়া মাত্র সংস্কারবাদী তার বক্তব্য বদলে ফেলে। একইরকমের জোড়াতালি দিয়ে অন্য যুক্তি নিয়ে আসে। এদের অবস্থা গ্রীক পুরানের হাইড্রা দানবের[৯৪] মতো। একটা মাথা কাটা হলে সেই জায়গায় নতুন দুটো মাথা উদিত হয়।
এ দানবকে মারার কার্যকরী উপায় হলো সোজা এর হৃৎপিণ্ডে আঘাত করা। সংস্কারবাদীদের পালের হাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে যখন পোশাক, অত্যাচার, শোষণ, পুরুষতন্ত্র, নারী-পুরুষের ভূমিকার মতো বিষয়গুলোর ব্যাপারে মডার্নিস্ট, লিবারেল ধারণাগুলোকে আক্রমণ করা হবে এবং এগুলোকে ভুল প্রমাণ করা হবে। সংস্কারবাদীদের অধিকাংশই আসলে ভাসাভাসা চিন্তা করতে অভ্যন্ত। নিজেদের আদর্শের শেকড় নিয়ে এরা কখনো গভীরভাবে চিন্তা করেনি। কখনো ক্রিটিক করার চেষ্টা করেনি। কাজেই মূলে আঘাত করলে এদের বালুর প্রাসাদ খুব দ্রুত ধসে পড়ে।
ব্যাপারটা আসলে একদিক থেকে দুঃখজনক। নিজেদের ঈমানকে এরা এত নড়বড়ে কিছু ধারণার ওপর ভিত্তি করে ধ্বংস করছে যেগুলোর কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক এবং নৈতিক শক্তি নেই। এগুলো প্রাসঙ্গিক হবার একমাত্র কারণ হলো এগুলো সময়ের ট্রেন্ড হওয়া।
টিকাঃ
[৯৪] হাইড্রা-গ্রিক পুরাণে বর্ণিত জলদানবী। গ্রিক পুরাণ অনুসারে: হাইড্রা দানবীর ৯টি মাথা ছিল, যার মধ্যে একটি ছিল অমর। বাকি মাথাগুলোর একটিকে কেটে ফেলা হলে কাটা জায়গা থেকে দুটো নতুন মাথা গজাত। হারকিউলিস হাইড্রাকে হত্যা করে। অনুবাদক
📄 মডার্নিস্ট গাইডবুক
লিবারেল মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক এমন যেকোনো ইসলামী অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নিচের গাইডটি ব্যবহার করুন! আমাদের শিখিয়ে দেয়া পদ্ধতিতে তর্ক করে আপনি জায়েজ বানাতে পারবেন যেকোনো কিছু। একইসাথে প্রমাণ করতে পারবেন ইসলামী ইতিহাসের আলিমরা আপনার পক্ষেই আছেন।
আমাদের এই গাইড আপনাকে শেখাবে কিংবা বিরক্তিকর ট্র্যাডিশানাল মুসলিমদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হয়। সেই সাথে আপনি শিখবেন কীভাবে সূক্ষ্মদর্শী, মনীষী, আলিম এবং সংস্কারবাদী ইসলামের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। আমাদের এই গাইড একবার ব্যবহার করেই দেখুন না, বিফলে মূল্য ফেরত!!
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই ব্যাপারে ইজমা আছে।
মডার্নিস্ট যুক্তি-আসলে ইজমার ধারণা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই বর্ণনাগুলো মুতওয়াতির।
মডার্নিস্ট যুক্তি-আসলে তাওয়াতুর নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এটা চার মাযহাবের মত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-চার মাযহাবের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত না, কারণ আজ আমরা এক ভিন্ন বাস্তবতায়, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বেঁচে আছি।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এটা অমুক মাযহাবের প্রতিষ্ঠিত মত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-হ্যাঁ, কিন্তু জুমহুর আলিম এখানে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাই সংখ্যালঘু অবস্থান বাদ দাও।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এটা জুমহুরের মত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-হ্যাঁ, কিন্তু অল্প কিছু আলিম এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, তাই আমরা অধিকাংশের মত বাদ দিতে পারি।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই আয়াত কাত'ই।
মডার্নিস্ট যুক্তি-না।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই হাদীসের বক্তব্য স্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন।
মডার্নিস্ট যুক্তি-কিন্তু এটা আহাদ হাদীস। আমরা এটা বাদ দিতে পারি।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এটা এই মাযহাবের সবচেয়ে শক্তিশালী মত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-কিন্তু একজন বর্ণনাকারীর সূত্রে একজন সাহাবী থেকে একটা বর্ণনা আছে, যা এই মতের বিরুদ্ধে যায়। তাই আমরা এই মত বাদ দিতে পারি।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-অধিকাংশ তাফসিরে এই আয়াতের ব্যাপারে একই ব্যাখ্যা এসেছে।
মডার্নিস্ট যুক্তি-হ্যাঁ, কিন্তু একটা তাফসিরে একটু আলাদা ব্যাখ্যা এসেছে, যা প্রমাণ করে বাকি সব তাফসির আসলে মুফাসসিরদের কালচারাল বায়াসের ফল।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই ব্যাপারে ফকীহগণ একমত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-ফকীহদের হাদীসের জ্ঞান সীমিত। এই ব্যাপারে মুহাদ্দিসিনের বক্তব্য কী, সেটা দেখতে হবে।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-এই ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ একমত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-কিন্তু মুহাদ্দিসদের ফিকহের জ্ঞান সীমিত। তাই ফকীহগণ কী বলেছেন সেটা দেখতে হবে।
ট্র্যাডিশানালিস্ট-ফকীহগণ এবং মুহাদ্দিসগণ এই ব্যাপারে একমত।
মডার্নিস্ট যুক্তি-কিন্তু আমরা একটা ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাস করি। তাই আমাদের ইজতিহাদ করতে হবে। ইসলাম জীবন্ত, ইসলাম সব যুগে আধুনিক, ইসলাম...।
দেখলেন তো! কত সহজে যেকোনো চিপা থেকে বের হওয়া সম্ভব? যখন আপনার বিন্দুমাত্র সততা থাকবে না, কনসিসটেন্সির কোনো স্ট্যান্ডার্ড থাকবে না, তখন যেকোনো কিছুকে জায়েজ বানানো সম্ভব।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই কিনুন এবং যাচাই করে দেখুন আমাদের মডার্নিস্ট গাইডবুক। বিফলে মূল্য ফেরত!!
টিকাঃ
📄 জ্ঞান বনাম জ্ঞানের ভান
মহান আল্লাহ বলেছেন, আর যখন তাদের বলা হয়, 'তোমরা ঈমান আনো যেমন লোকেরা ঈমান এনেছে', তারা বলে, 'আমরা কি ঈমান আনব যেমন নির্বোধরা ঈমান এনেছে?' জেনে রাখো, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না। [তরজমা, সূরা আল-বাকারাহ, ১৩]
আজও এমন মানুষ আছে, যারা মুমিনদের নির্বোধ বলে। নিশ্চিতভাবে এই লোকগুলোই হলো প্রকৃত নির্বোধ। তারা সত্য জানে না এবং তারা যে জানে না সেটাও তারা জানে না।
আফসোসের বিষয় হলো, অনেক মুসলিমও এ ব্যাপারটা জানে না। সত্য প্রত্যাখ্যান করা লোকদের নির্বোধ হিসেবে দেখার বদলে তাদের দেখা হয় বিশেষজ্ঞ, পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী হিসেবে। তাদের ধ্যানধারণা, তত্ত্ব, দর্শন মুসলিমদের মধ্যে এমনভাবে প্রচার করা হয় যে একসময় এসব চিন্তা আর তত্ত্বের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মুসলিমরা নিজেদের বিশ্বাসকে বদলাতে শুরু করে। অথচ এগুলো আসছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যারা কঠোরভাবে ঈমানকে অস্বীকার করে। এমন আচরণের পরস্পরবিরোধিতা মুসলিমদের চোখে ধরা পড়ে না।
সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এসব লোকদের মুসলিমরা সম্মানের এমন আসনে বসায়, তাদের প্রতি এতই শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস মুসলিমদের মধ্যে কাজ করে, যে তারা আলিমদের নিন্দা করা শুরু করে-আলিমরা কিছু জানে না, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৌড় সীমিত, তারা আসলে খেয়ালখুশি অনুযায়ী কথা বলে, কুরআন-সুন্নাহর সঠিক অর্থ তারা বোঝেনি, ইত্যাদি।
এমন হবার কারণ কী? অন্যতম প্রধান কারণ হলো, মুসলিমরা এমন কিছু ধ্যানধারণা নিয়ে মুগ্ধ হয়ে আছে, যেগুলো তারা পুরোপুরিভাবে বোঝে না। আপনি যখন কোনো কিছু ঠিকমতো বুঝবেন না তখন আপনার হাতে দুটো অপশান থাকে।
আপনি সেটা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করবেন (যদিও কেন প্রত্যাখ্যান করছেন সেটা আপনি জানেন না)। অথবা আপনি বাহ্যিক অবস্থা থেকে সেই জিনিসের মূল্য বিচার করার চেষ্টা করবেন।
এটা কি দেখে ঠিকঠাক মনে হচ্ছে? ভালো মনে হচ্ছে? কথাগুলো শুনতে কি জ্ঞানী জ্ঞানী মনে হচ্ছে? নামিদামি লোকেরা কি এই কথাকে সমর্থন করছে? জনগণ কি এটা গ্রহণ করেছে? এটা কি জনপ্রিয়?
অর্থাৎ, কোনো কিছু আপাতভাবে 'জ্ঞান' মনে হওয়াই যথেষ্ট। মুসলিমরা আজ যেসব মডার্নিস্ট আদর্শ গ্রহণ করেছে, তার অধিকাংশই গ্রহণ করা হয়েছে এ মূলনীতির ভিত্তিতে।
খুব অল্প কিছু মানুষ পাবেন, যারা কোনো কিছু পুরোপুরি না বুঝতে পারলে, নিশ্চিত না হতে না পারলে প্রত্যাখ্যান করে। যদিও এটা নিরাপদ রাস্তা কিন্তু এতে করে বৃহত্তর উম্মাহ লাভবান হয় না। তাই এই আদর্শগুলোকে আমাদের পুরোপুরি বুঝতে হবে। আমার অভিজ্ঞতা এবং দাবি হলো, এই আদর্শগুলো পুরোপুরি বুঝলে এগুলো আসলে কতটা ঘৃণ্য এবং মূর্খতাপূর্ণ তা মানুষের সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর আপনি অবধারিতভাবে তখন অনুধাবন করবেন সত্যিকারের নির্বোধ কারা।
টিকাঃ